মেডিকেল-লাইফ

  • আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা

    আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তার কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে বেলা ১১টায় মহাখালীতে আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানকে সদস্য এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১ শাখা) ইমতিয়াজ হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

    বুধবার মারধরের ঘটনার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাজী আহমেদ জাকি তার কার্যালয়ে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে বৈঠক করছেন, এমন সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে মারধর শুরু করেন এবং ধাক্কা দিতে দিতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা আগন্তুকদের বাধা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে অধ্যাপক জাকি আবার গিয়ে তার চেয়ারে বসেন।

    এ ব্যাপারে আইইডিসিআর পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না, মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি।

    সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে পরিচালক নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ড্যাবের কয়েকজন এসে পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপরই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

    মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই আমাদের লোক। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং এ ধরনের কোনো আচরণ সমর্থন করি না। যদি কেউ ড্যাবের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে, তবে আমরা কড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। ড্যাব মহাসচিব আরও নিশ্চিত করেন, ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি ড্যাবের সদস্য বলে তারা তথ্য পেয়েছেন।

    অন্যদিকে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বলেন, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুজনই আমাদের সংগঠনের সদস্য। তবে অভিযুক্ত ছেলেটি আইইডিসিআরের একটি প্রজেক্টে কাজ করত, সম্প্রতি তার চাকরি চলে গেছে। এটা নাকি অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে এ সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে আগের সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করেন, তা-ও দেখার বিষয়ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, বুধবার সকালে আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহিদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—এ বিষয়ে ডা. জাহিদকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাব সভাপতি ও মহাসচিব বরাবর উপযুক্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে।উল্লেখ, আইইডিসিআর হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, যা রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা জারির দায়িত্ব পালন করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন।

  • রামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক সাইদুর রহমান

    রামেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক সাইদুর রহমান

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান। তিনি এর আগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়।

    অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলামকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নিতে তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তমকেও সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

  • টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট

    টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট

    গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় অতিরিক্ত ইউনিট পাঠানো হয়।

    পাশাপাশি আগুন নেভাতে সহায়তায় করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনীর দমকলকর্মীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পুরো কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তড়িঘড়ি করে বের হতে গিয়ে দুইজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আহতদের মধ্যে কারখানার শ্রমিক সাদেক হোসেনের (৩৮) নাম জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আহত সাদেককে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানার (ইউনিট -২) চতুর্থ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও কারখানার আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে দুইজন আহত হন। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ঢাকার উত্তরা, কুর্মিটোলা ও গাজীপুরের আরও ১০টি ইউনিট তাদের সাথে যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

    এরপর আরো ৭ ইউনিট কাজে যোগ দেয়।এ ব্যাপারে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানার চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামালে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটসহ মোট ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পাশাপাশি গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনীর দমকলকর্মীরাও কাজ করছেন। এ ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

    বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

    দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনা ও মামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের আট মাসে রেকর্ড হয়েছে ৪,৬৫৪টি ধর্ষণ মামলা, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তদন্তে অধিকাংশ ঘটনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের মামলা ভালোভাবে তদন্ত এবং দ্রুত প্রতিবেদন দিয়ে বিচার ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের সব ইউনিটকে।

    বিশ্লেষকরা বলেছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের বেপরোয়া মনোভাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছুটা নমনীয়তা, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতার অভাব এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।

    তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, মামলার বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয় না। ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারছেন। এতে পরিসংখ্যানগতভাবে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে।

    তারা আরো বলেছন, দলীয় পরিচয় বিবেচনা করে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলও তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ৪,৬৫৪টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। জানুয়ারি-জুন ছয় মাসে ৩,২৫২টি মামলা হয়। এর মধ্যে মার্চ-জুন পর্যন্ত হয়েছে ১,৯৪০টি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ১,৩১২টি মামলা। এছাড়া জুলাইয়ে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়েছে ৭০৭ এবং আগস্টে ৬৯৫টি।

    গত বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা হয় ১,৫২৮টি। বছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে পরবর্তী তিন মাসে (মার্চ-জুন) ধর্ষণের মামলা বেশি হয়েছে ৬২৮টি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৪১২টি। মার্চ-জুন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ মামলা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায়।

    এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬৪টি, গোপালগঞ্জে ৬২, কক্সবাজারে ৬২, ঢাকা জেলায় ৫৮, টাঙ্গাইলে ৫৭, কুমিল্লায় ৫৩, চট্টগ্রাম জেলায় ৫০ এবং বগুড়ায় ৪৭টি মামলা হয়েছে।

    সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সভায় ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলা বৃদ্ধির হার খুবই উদ্বেগজনক। তিনি পুলিশের সব ইউনিটকে ধর্ষণ মামলাগুলো খুব ভালোভাবে তদন্ত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলার দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেন।

    ধর্ষণের মামলা তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ তুলে ধরে সম্প্রতি বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহ্মদ। তিনি বলেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে ভুক্তভোগী মামলা করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না। এখন থানায় গেলেই এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যে কারণে মামলা বেড়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ধর্ষণ যেখানেই হোক; গ্রেপ্তার, চার্জশিট, সাক্ষী উপস্থাপনসহ বিচারের সব ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। পল্লবীতে শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫-১৭ দিনের মধ্যে, এটা বাংলাদেশের রেকর্ড।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশকিছু ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এর মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা এবং ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশু ফারিয়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে লাশ টুকরা টুকরা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদরাসাছাত্রী জামিলা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বাধা দিতে গেলে জামিলার নানি সুফিয়া খাতুনকেও হত্যা করে দুবৃত্তরা। ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।এদি

    কে, ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে অভিযুক্তদের সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গত ৪ আগস্ট ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৩ জুন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা হোসাইন আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গত ২৬ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিএনপি নেতা শক্র মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৪ আগস্ট নওগাঁর বদলগাছীতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে

    জামায়াত নেতা শফিউল হাসানের বিরুদ্ধে। গত ১৭ জুলাই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মাহবুবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিভাগের দুটি জেলার পুলিশ সুপার আমার দেশ-কে বলেন, ধর্ষণের যেসব অভিযোগ পাচ্ছি, তদন্তে অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নাম পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে।

    পুলিশের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন আমার দেশ-কে বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ যারাই করুক, ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। মামলা গ্রহণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপ না থাকা এবং ভুক্তভোগীরা নির্বিঘ্নে থানায় অভিযোগকরতে পারায় প্রকৃত ঘটনার একটি বড় অংশ এখন মামলা হিসেবে রেকর্ড হচ্ছে। এটা ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যান বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের ওপর পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে।

    অপরাধ বিশ্লেষক মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক আমার দেশ-কে বলেন, ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বাড়ছে, এটা আমরা পরিসংখ্যানগতভাবে দেখছি। ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আংশিক সত্য। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটাচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় কিছুটা নমনীয়তা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারে প্রযুক্তিগত অপশিক্ষা। এর ফলে এক শ্রেণির মানুষ ধর্ষণের মতো অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। ধর্ষকদের বয়স ২৫-৪৫ বছরের মধ্যে বেশি। এখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি সম্পত্তিগত শত্রুতা, নানা কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব এবং অস্থিতিশীল সামাজিক পরিবেশও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। ধর্ষণের ঘটনার নির্মোহ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি হলো, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

  • বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়   পরিদর্শন করেছে চীনের  প্রতিনিধিদল

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে চীনের প্রতিনিধিদল

    চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ও কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিদর্শন করেছে। রোববার তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সভা ও কর্মশালার অংশ হিসেবে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনা প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বক্তব্য দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। তিনি চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    ঝাও জুনমিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে এবং এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    কুনমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ কিয়াং তাঁর বক্তব্যে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এর আওতায় চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং দেশের সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।

    উপস্থাপনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীরা এখানে আসেন। পাশাপাশি পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বলেন, জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি ও উন্নত চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে।

    কিডনি প্রতিস্থাপনের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা ও পরিধি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। উন্নত সার্জিক্যাল পদ্ধতি, মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ার, আধুনিক ইমিউনোসাপ্রেশন এবং অপারেশন-পূর্ব ও পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টের পাশাপাশি ইউরোলজিতে মিনিমালি ইনভেসিভ প্রোসিডিউর, এন্ডোইউরোলজি, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ও আধুনিক সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশনের ব্যবহারও দেশে বাড়ছে। দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম। চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, কিডনি প্রতিস্থাপন, আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তি, চিকিৎসা গবেষণা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম।বৈঠকে উভয় পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

  • এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর

    এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর

    রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট চালানোর পর সেটি গুঁড়িয়ে দেয়।

    এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে রহস্যজনক একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, কোথায় প্রশাসন, কোথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আর মোটেই অস্পষ্ট নয়। তাদের পেটের ক্ষুধা কোনোভাবেই নিবারণ হচ্ছে না। তারাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এই সুযোগটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।

    জামায়াত আমির বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। অন্যদিকে চলছে এই খেলা।আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে? দুষ্কৃতিকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে একসময় জনগণের হাতেই তাদের শাস্তি পেতে হবে।

  • বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস আজ

    বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস আজ

    ওষুধের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফার্মাসিস্টদের অবদান স্মরণ করে আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস।

    এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’। পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা, স্বীকৃতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (এফআইপি) প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালন করা হয়। ১৯১২ সালের এই দিনে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে এফআইপির পরিষদ ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

    ২০২০ সাল থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহও পালন করা হচ্ছে। এতে ফার্মাসিস্টের পাশাপাশি ওষুধবিজ্ঞানী, ফার্মেসি প্রযুক্তিবিদসহ ফার্মেসি খাতের বিভিন্ন পেশাজীবীর অবদান তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া। রোগীদের ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখেন।

    এফআইপি বলছে, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং জলবায়ুজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। ফার্মাসিস্টদের কাজ কেবল ওষুধ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জনসচেতনতা তৈরি এবং নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণার মতো কাজেও তারা যুক্ত রয়েছেন।

    এফআইপির সভাপতি পল সিনক্লেয়ার বলেন, পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।

    দিবসটি উপলক্ষে ফার্মাসিস্টদের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়ন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

    সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কমিয়ে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

    মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের জন্য অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। সেই হিসাবে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ এখনো পূরণ হয়নি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জনবলসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২০২৬ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড—প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক—ধরা হলে ওই বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে মোট কতজন চিকিৎসক রয়েছেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কতজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন—দুটি বিষয় এক নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে।

    এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একাধিক নিয়োগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগও থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস বেলা ১১টার দিকে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    আহত উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে বাসটি সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা;

    হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা;

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এসবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দূর করে জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা ও খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। গত এক মাসে তিনি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও সেবার মান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

    হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বয়সসীমা, তথ্যের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে হাম দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। চলতি মাসের শেষদিকে পুনরায় বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ নজর দিয়ে মূল ক্যাম্পেইনের আগেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত লেবার রুম নেই, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। অবৈধ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাস হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। ’

    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতাসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফিলিপাইন দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ করে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। হেলথকেয়ার, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপক্ষীয় বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত।

    এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক ও দেশের শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পরস্পরের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৮তম বিসিএসে (বিশেষ) আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন ও ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (নবনিয়োগ শাখা) সাবিহা ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর মাধ্যমে ১৮৪ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে প্রবেশপদে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের শর্তের মধ্যে রয়েছে— নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল আরও সর্বোচ্চ দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

    এর আগে ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত ২২ জানুয়ারি। ওই প্রজ্ঞাপনে ৩ হাজার ২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এতে সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার ৮২০ ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

  • ওষুধের দামে চাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

    ওষুধের দামে চাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

    ওষুধের মূল্য যতটা সম্ভব কম রাখাই ওষুধনীতির একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না; বরং এমন একটি নীতিকাঠামো প্রয়োজন, যেখানে রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ সামর্থ্যের মধ্যে পাবেন এবং একই সঙ্গে উৎপাদক মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ টেকসইভাবে অব্যাহত রাখতে পারবেন। এজন্য বিজ্ঞানভিত্তিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য মূল্য নির্ধারণ, নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং রোগীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তাদের মতে, রোগীর নাগালে ওষুধের দাম রাখতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকে থাকার সুযোগ দিতে হবে। শুধু দাম কমিয়ে রাখলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে ওষুধের সংকট তৈরি হতে পারে। আবার দাম বেশি হলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে। তাই দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রোগীর নাগালে ওষুধ, উৎপাদকের টেকসইতা: ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতির সন্ধানে’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব কথা ওঠে আসে। পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক ফর এভিডেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি (পাইনেট) আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন বিভিন্ন জনস্বাস্থ্যবিদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সংসদ সদস্য, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

    সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে ১১৭টি ওষুধের দাম যে ফর্মুলায় নির্ধারণ হচ্ছে, তা ১৯৮২ সালের বাস্তবতায় তৈরি। উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন ও গবেষণার খরচ বাড়লেও ফর্মুলার মার্কআপ বদলায়নি। ২০১৬ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৮৫টি করা হলেও নতুন যুক্ত হওয়া ওষুধগুলো আগের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ২০১৬ সালে তালিকায় ২৮৫ ও ২০২৬ সালে ২৯৫টি হলেও সব ওষুধ আগে মূল্য নির্ধারণের আওতায় ছিল না। তাই ধাপে ধাপে দাম সমন্বয় ও প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।

    অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, রোগীর জন্য ওষুধ সাশ্রয়ী রাখা এবং ওষুধশিল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়; বরং একই জনস্বাস্থ্যনীতির দুটি অপরিহার্য উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, ওষুধনীতির লক্ষ্য সর্বনিম্ন সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি টেকসই মূল্য, যা রোগী বহন করতে পারেন এবং উৎপাদকও টেকসইভাবে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করতে পারেন।

    বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এপিআইয়ের জন্য বিদেশিনির্ভরতা উল্লেখ করে অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ভারত ও চীন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা হলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। তাই জ্বালানি, পরিবহন, শিপিং ও আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। এসব বাস্তবতা মূল্যনীতিতে বিবেচনায় নিতে হবে।

    দেশে মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি নিজস্ব পকেট থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের পেছনে যায়। তবে ওষুধের ব্যয় কমাতে শুধু দাম কমালেই হবে না। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া ওষুধ বিক্রি, স্ব-চিকিৎসা ও অযৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালেও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, রোগীর আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু ওষুধ কোম্পানির নয়। সরকারকেও দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ওষুধের মান, নিরাপত্তা ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    ওষুধনীতির লক্ষ্য শুধু দাম কমানো হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর নাগালে ওষুধ, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের টেকসইতা এই তিনটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ওষুধের দাম ও সংকট নিয়ে শুধু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের (ব্লেম গেইম) সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতেই কোম্পানিগুলোকে বিভিন্নভাবে কাজ করতে হয়। সরকারের দায়িত্ব ওষুধের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে ওষুধ প্রশাসনকে আরও পেশাদার ও শক্তিশালী হতে হবে। ওষুধের মান ও দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার মতো বিপণন বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হবে। ২০৩০ সালের পর মেধাস্বত্বের কারণে দেশে ওষুধের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও সরবরাহ নিয়ে সরকার, ওষুধশিল্প ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ ও নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

    ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারকে তাড়াহুড়া না করে ২০২৬ সালের মূল্য নির্ধারণ নীতিও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, পুরোনো তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক এখন বাতিল হয়েছে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতি পর্যালোচনা প্রয়োজন। ওষুধের দাম এমন হওয়া দরকার, যাতে উৎপাদন খরচ উঠে আসে এবং কোম্পানিগুলো যুক্তিসংগত মুনাফা করতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও দেখতে হবে।

    নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনা মূল্যে এবং মধ্যবিত্তকে ভর্তুকিতে ওষুধ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুশতাক হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।

    বিজ্ঞান ও চিকিৎসায় নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও মিশনপ্রধান মামুনুর রহমান মালিক বলেন, ওষুধের সহজলভ্যতা, সাশ্রয়ী দাম, নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ফার্মাকোভিজিল্যান্স, যৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা পূর্বাভাস জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বাতিল না করে, আপত্তির অংশ সংশোধন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

    ওষুধের দাম সামান্য কমিয়ে দরিদ্র মানুষের বড় সাশ্রয় করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সহসভাপতি ও রেনাটা পিএলসির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও ক্যানসারের চিকিৎসায় দরিদ্রদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া বেশি কার্যকর। জোর করে দাম কমালে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধের দাম আন্তর্জাতিকভাবে তুলনামূলক কম। তাই বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে দরিদ্রদের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো উচিত।

    স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওষুধের দাম কমাতে গিয়ে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। দেশের ওষুধের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে পূরণ হচ্ছে। মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হলেও মাথাপিছু খরচ ২০০ টাকার কম। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্তের আগে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি।

    ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের বদলে বাজারে প্রতিযোগিতা ও মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান। ১৯৯৪ সালে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সুফলেই দেশের ওষুধশিল্প এগিয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অযৌক্তিক দাম কমানোর চাপ না দিয়ে দরিদ্রদের সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানির অনৈতিক বিপণন, চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা ও অযৌক্তিক ওষুধ ব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে। এপিআই উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানান তিনি।

    অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, মানুষের নাগালে ওষুধ নিশ্চিত করতে দাম, মান ও ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনৈতিক বিপণনও বন্ধ করতে হবে।

    সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক শাদরুল আলম, সাবেক স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব জহিরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিসিএস হেলথ ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত কনিকা মন্ডলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কনিকা মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আমি এখানে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং সরকার থাকবে। ’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবেন।

    এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কনিকা মন্ডলের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার ওসি আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)।

    অপারেশনের পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।

    দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডলের মৃত্যু হয়।

  • ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিক্যাল কলেজে ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ১০টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে এবং দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগাতে দেশের মহাসড়কে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে।

    পাইলট প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ—উপযুক্ত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেবাটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহতদের সহায়তায় মহাসড়কের পাশে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাদের ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

    মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়ক এ সেবার আওতায় আনা হবে।

  • চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    ভালো কাজের পুরস্কার

    হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

    ডিজিটাল হবে হাসপাতালের ফি আদায়

    হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে।

  • বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দুই বছর

    বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দুই বছর

    বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুই বছরের লাইসেন্স ফি ও ভ্যাট একসঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (HSM) ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র/পরিবেশ ছাড়পত্র অনলাইনে গ্রহণ করতে হবে। নতুন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার পর যেসব প্রতিষ্ঠান নারকোটিকস বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নারকোটিকস লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সও দুই বছরের জন্য কার্যকর করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনে অনিয়ম বা শর্তের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে।

  • অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

    অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

    করোনা ভাইরাসের টিকার পর এবার ফ্লু সারাতেও আশার আলো দেখাচ্ছে আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার এমআরএনএ টিকা।

    বিশ্বে প্রথম জিনগত উপাদান মেসেঞ্জার আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে এমন টিকা তৈরি করেছেন গবেষকেরা, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়ার মতো যে কোনও ধরনের ফ্লু ঠেকাতে কাজে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জিনগত উপাদান আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছিল কোভিডের প্রতিষেধকও। তখনই আশার আলো দেখেছিলেন গবেষকরা।

    তারা জানিয়েছিলেন, এই এমআরএনএ টিকা ভবিষ্যতে ক্যানসারের বিরুদ্ধেও কাজে আসতে পারে। সেই আশা যে খুব একটা ভিত্তিহীন ছিল না, তেমনই ইঙ্গিত মিলল আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার নতুন একটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফলে।

    মডার্নার তৈরি নতুন ফ্লু টিকায় এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। এই টিকা তৈরি হয়েছে প্রবীণদের জন্য। মডার্না জানিয়েছে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যই এই টিকা।

    বয়সকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাধারণ ফ্লু টিকায় সংক্রমণ ঠেকানো যায় না অনেক সময়। তাই মেসেঞ্জার আরএনএ দিয়েই টিকা তৈরি করা হয়েছে, যা শরীরকে আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্দীপিত করে।

    বিশ্বে প্রথমবার ফ্লুয়ের টিকা তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে। এখন যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরি করা হচ্ছে। টিকাটির নাম ‘এমফ্লুসিভা’।

    প্রাথমিক ভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের জন্য টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যেও টিকাটির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

    টিকাটির ট্রায়াল করে দেখা গিয়েছে, সাধারণ ফ্লু টিকার চেয়ে নতুন টিকাটি ভাইরাস ঠেকাতে অনেক বেশি সক্ষম। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক প্রজাতির সংক্রমণও এই টিকা ঠেকাতে পারবে বলে দাবি।

    ভারতের দিল্লির এমসের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বিশ্বে নিউমোনিয়ায় সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পাঁচ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষজন।

    তাদের মধ্যেই এই রোগে মৃত্যুর হার বেশি। দেশের যে-কোনও হাসপাতালে আইসিইউয়ের রোগীদের হিসেব নিলে দেখা যাবে, ৬৫-৭০ শতাংশ শয্যায় রয়েছেন নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত বয়স্কেরা।

    তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই ‘ইনভেসিভ নিউমোনিয়া’র রোগী। এতে রোগের জীবাণু রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে শরীরে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর সেপসিস হয়ে যায়।

    তাই বয়সকালে নিউমোনিয়া বিপজ্জনক। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই টিকাটি কার্যকর হলে প্রবীণদের ভাইরাসঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

  • জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

    জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

    দেশে গত জুলাই মাসে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

    বুধবার প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংস্থাটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০৬ জন পথচারী এবং ৫১ জন চালক ও পরিবহন সহকারী ছিলেন। একই সময়ে দেশে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন।

    সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৬৬টি শহরের সড়কে ঘটেছে। সংস্থাটি দুর্ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, সড়কের দুর্বল অবকাঠামো, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ব্যবহার এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৪৭ জন।

    সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১২ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি।

    সংস্থাটির মতে, সময়োপযোগী নীতিমালা, উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়েই দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কী পরিমাণ আর্থিক ভার বইতে হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

    পৌনে তিন হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত এই মূল্যায়ন জরিপে দেখা গেছে, হামের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে।

    পাশাপাশি প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টিকেই (প্রায় ৬১ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ চালিয়েছে।

    সোমবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

    জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৪ বছরের নিচে। এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী রয়েছে ৬ শতাংশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে ব্যয় করেছে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই বলেছে, ধকল সামলে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

    এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে ওষুধের কথা বলেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।

    পেশাগত তথ্য দেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

    অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে অনেকে আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।

    রংপুরের হাজেরা খাতুন গত জুন মাসে তার ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। মেয়ের হামের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তাদের ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

    হাজেরা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও এর বাইরে অনেক খরচ থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

    প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে, সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।

    “আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে,” বলেন হাজেরা।

    জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা) দেওয়ার জন্য নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, “এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।

    “আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

    বাংলাদেশে আইএফআরসি এর হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, “হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে।

    “এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা–দুটোই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।”

    আইএফআরসি ও অংশীজনদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে বিডিআরসিএস।

    পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

    মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

    প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করা, বোতলজাত পানি পান, রাস্তায় ধুলাবালির মধ্যে চলাফেরা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা খাবার খাওয়া—এসব স্বাভাবিক অভ্যাসের মাধ্যমেই অজান্তে শরীরে প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। খালি চোখে দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত, প্লাসেন্টা এমনকি মস্তিষ্কের টিস্যুতেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টুথপেস্ট এই দূষণের একমাত্র উৎস নয়। প্রতিদিনের খাবার, পানি, বাতাস, প্রসাধনী, পোশাক এবং বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্যের মাধ্যমেও এই ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে বোঝায়। এর একটি অংশ শিল্পকারখানায় ছোট আকারেই তৈরি হয়, অন্য অংশ তৈরি হয় প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাদ্য মোড়ক, টায়ার ও সিনথেটিক কাপড়সহ বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্য সময়ের সঙ্গে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ার মাধ্যমে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশে একবার ছড়িয়ে পড়লে এসব কণা সহজে নষ্ট হয় না। বরং নদী, সমুদ্র, মাটি ও বাতাসে দীর্ঘদিন থেকে খাদ্যচক্রের অংশ হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, ঝিনুক, লবণ, বোতলজাত পানি, কলের পানি, চা-ব্যাগ এবং কিছু টুথপেস্ট ও প্রসাধনীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। আবার গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা বা দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের বোতলে পানি সংরক্ষণ করলেও খাবার ও পানীয়তে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কয়েক বছর আগেও বিষয়টি মূলত পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থও শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া প্রদাহ, কোষের ক্ষতি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, প্রজননস্বাস্থ্যের জটিলতা, অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্যহীনতা এবং হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের শরীর বিকাশমান হওয়ায় দূষণের প্রভাব তাদের ওপর বেশি পড়তে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো যায়। প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার, গরম খাবার প্লাস্টিকে না রাখা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, নিরাপদ পানি পান, ঘরের ধুলাবালি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক ব্যবহার এবং টুথপেস্ট ও প্রসাধনী কেনার আগে উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

    পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারে কার্যকর নীতিমালা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্পকারখানার ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিরাপদ বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রকৃত মাত্রা ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

  • রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১,৩৮৪

    রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১,৩৮৪

    গত ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৪ জন (৭৪.৭১ শতাংশ), নারী ২১৯ জন (১৫.৮২ শতাংশ) এবং শিশু ১৩১ জন (৯.৪৬ শতাংশ)।

    আজ (শনিবার, ১ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন পথচারী। মোট নিহতের ৫৯২ জন (৪২.৭৭ শতাংশ) পথচারী, ৫৩৬ জন (৩৮.৭২ শতাংশ) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ২৫৬ জন (১৮.৪৯ শতাংশ) বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-যাত্রী।

    দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। মোট নিহতের ৫১৯ জন (৩৭.৫ শতাংশ) রাতের সময়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এছাড়া সকালে ২৫৮ জন (১৮.৬৪ শতাংশ), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪.০৮ শতাংশ), বিকেলে ১৭৪ জন (১২.৫৭ শতাংশ), ভোরে ১৪২ জন (১০.২৬ শতাংশ) এবং সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬.৯৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.২৫ শতাংশ। এছাড়া মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১.৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২.৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ ৬.২৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

    দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাত ও সকাল সময়ে দুর্ঘটনার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীতে বাইপাস সড়কের অভাবে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত মালবাহী ভারী যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে, ফলে রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে দ্রুত ও ধীরগতির বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ না থাকা বা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়া এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক বর্তমানে রাজধানীর দুর্ঘটনাপ্রবণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর পাশাপাশি বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে টেস্ট করানো ও বাণিজ্যিক চিকিৎসা বন্ধে কঠোর নজরদারি করা হবে। টেন্ডারে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট সরবরাহ করা হবে।

    অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন ও অনিয়মে পরিচালিত প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  • ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অভিনেত্রী মেঘলা

    ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অভিনেত্রী মেঘলা

    আইসিইউতে অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে তার। খবরটি মেঘলার ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) মেঘলার ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে মেঘলা মুক্তা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

    বর্তমানে তিনি আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আছেন এবং তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। এই কঠিন সময়ে সবাই তাকে প্রার্থনায় রাখুন। আমরা তার সফল অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

    অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও লেখা হয়, ‘দয়া করে কোনো যাচাইহীন তথ্য বা গুজব ছড়াবেন না। আমরা নতুন কোনো আপডেট পাওয়ামাত্রই তা অফিশিয়াল পেজে জানিয়ে দেব।’

    খবরটি শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেঘলা মুক্তার অনুসারীরা। মন্তব্যের ঘরে অনেকে সুস্থতা কামনা করেছেন অভিনেত্রীর।

    র‍্যাম্পে কাজ করতেন মেঘলা। ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’ নামের একটি তেলেগু ছবিতেও অভিনয় করেছেন। দেশের ‘পায়ের ছাপ’, ‘কাঠগোলাপ’ ও ‘আগুনের পাখি’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে তাকে।

    সবশেষে ‘চক্র ২’ ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে আলোচিত হন মেঘলা।

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    দেশের বাজারে ২৬টি টুথপেস্টে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা।

  • সাড়ে সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

    সাড়ে সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি চলছেই। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এ তথ্য সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের।

    প্রতিষ্ঠানটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, নিহতের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশই ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী। এই বয়সী নিহত শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৮। তারা স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬ জন, অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কম বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায়–চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে।অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।

    বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও মালবাহী অনিরাপদ যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছেন। অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার মতো ব্যক্তিগত অসতর্কতার কারণেও প্রাণহানি ঘটেছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দেশের অমিত সম্ভাবনাময় গোষ্ঠী হচ্ছে শিক্ষার্থী। আর কর্মক্ষম গোষ্ঠী হচ্ছেন যুবকেরা। এ দুই শ্রেণির মানুষই সড়কে বেশি মারা যাচ্ছেন। এটা রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।তিনি বলেন, বক্তৃতা করে এর সমাধান করা যাবে না। এর জন্য দরকার টেকসই পরিবহন কৌশল এবং এর কঠোর বাস্তবায়ন। স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। তাদের চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারকে কাজ করতে হবে।

    শিক্ষার্থী মৃত্যুর চিত্র
    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন।

    যে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ৬৯৩ জন ২০১৯ সালে, ৭১৯ জন ২০২০ সালে ও ৯৩৬ জন ২০২১ সালে নিহত হন। গত সাড়ে সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী মারা গেছেন ২০২২ সালে। ২০২৩ সালে শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৫৩ জন।২০২৪ ও ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৭৩ ও ১ হাজার ১৪ জন। গত ছয় মাসে ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

    এর বাইরে অসাবধানে রেললাইন পারাপারের সময় ও হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ
    সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিকারে সাতটি সুপারিশও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ সম্পর্কে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং অনিরাপদ যানবাহন; সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা; সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা; শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া বাইক চালানোর মানসিকতা; ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।এগুলো দূর করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সুপারিশ হচ্ছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং ক্লাস–পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন থাকতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অনিরাপদ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্তবয়স্করা বাইক চালাতে না পারে, সে জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ দরকার।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়দি কোনো টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তা অনেকটা অবৈজ্ঞানিক ও সমন্বয়হীন।প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, সড়ক পরিবহন আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। মাঝেমধ্যে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো সুপারিশই আলোর মুখ দেখে না। মূলত কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরির মধ্যেই সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।

  • ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন

    ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। একই সঙ্গে ৩টি শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখা থেকে সোমবার (২৭ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে সই করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে ১৯ জুলাই জারি করা এক নির্দেশনায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালটির জন্য কয়েকটি শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982–এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    এর আগে গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা জারি করেছিল। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হলো।

  • লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    প্রতিদিন রান্নার কাজে অনেকে লোহার কড়াই ব্যবহার করেন। সব ধরনের রান্না এ কড়াইতে করা ঠিক নয়। কারণ লোহা দিয়ে তৈরি পাত্রে বিশেষ কিছু খাবার রান্না করলে প্রকৃত খাবারের স্বাদ নষ্ট হতে পারে। এমনকি এ ধরনের পাত্রে রান্না খাবার খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে।

    যেসব খাবার লোহার কড়াইয়ে রান্না করবেন না

    টমেটো
    প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো রান্নায় টমেটো দেওয়া হয়। শুধু টমেটো দিয়ে নানা পদও রান্না করা হয়। টমেটো প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয় স্বাদের। তাই লোহার কড়াইয়ে এটি রান্না না করা ভালো। রান্না করলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং এর থেকে ধাতব পদার্থ খাবারে মিশে যেতে পারে। খাবারে ধাতব মিশলে আসল স্বাদ নষ্ট হবে। লেবু ও ভিনেগারের মতো অন্যান্য অম্লীয় খাবারও লোহার কড়াইয়ে রান্না ঠিক নয়।

    ডিম
    আপনি যদি প্রায়ই ডিম রান্নার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করে থাকেন, তবে এখন থেকে বন্ধ করুন। ডিমে থাকা সালফার লোহার সাথে বিক্রিয়া করে ডিমকে ধূসর করে দিতে পারে এবং এর স্বাদ নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয়, লোহা ও সালফারের এই বিক্রিয়ার ফলে আপনার কড়াইতে মরিচা পড়তে পারে। কড়াইয়ের রঙও পাল্টে যেতে পারে, যা এর স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়। তাই, ডিম রান্নায় নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার করা উচিত।

    মাছ
    লোহার কড়াইতে মাছ রান্না করা এড়িয়ে চলা উচিত। মাছে থাকা অ্যাসিড লোহার সাথে বিক্রিয়া করে। যার ফলে মাছ কড়াইয়ের তলায় লেগে যায় এবং এর স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। নন-স্টিক প্যান বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে মাছ রান্না করা সবচেয়ে ভালো।

    ভাত
    লোহার পাত্রে ভাত রান্না করাও ঠিক নয়। চালের উচ্চ অম্লতা লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করে চালের রঙ পাল্টে দিতে পারে। এছাড়া ভাতে ধাতব স্বাদ যুক্ত হতে পারে। আবার লোহা চালে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে চাল কড়াইয়ের তলায় লেগে যেতে পারে। তাই, ভাত রান্নার সময় লোহার পাত্র ব্যবহার না করে স্টেইনলেস স্টিল বা অন্য কোনো নন-স্টিক ভারী তলার পাত্র ব্যবহার করাই শ্রেয়।

  • স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    সম্পাদকীয়

    আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শেষ পর্যন্ত ভাঙারির দোকানে কেজি দরে বিক্রয় হইতেছে—ইহার চাইতে হতাশাজনক খবর আর কী হইতে পারে? ইহা কেবল অদূরদর্শিতা নহে, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের এক জীবন্ত দলিল। সংসদে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাইয়াছেন যে, বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমদানিকৃত এই সকল যন্ত্রপাতির সুরক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

    আসলে তাহা অপরিকল্পিত উপায়ে কেবল কমিশনভোগীদের পকেট ভারী করিবার হীন উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়। খুলনা ও ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘকাল পড়িয়া থাকা ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি রেডিওথেরাপি মেশিনের করুণ পরিণতি তাহারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইহা ছাড়া দেশের অসংখ্য হাসপাতালে এক্সরে মেশিন আছে অথচ তাহা চালাইবার মতো কোনো টেকনিশিয়ান নাই।

    কোটি টাকা মূল্যের ল্যাবরেটরি মেশিন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়িয়া আছে অথচ তাহা পরিচালনার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। বৎসরের পর বৎসর এই মূল্যবান যন্ত্রপাতিসমূহ কাঠের বাক্সে বন্ধ অবস্থায় পড়িয়া থাকিয়া একসময় তাহা ব্যবহারের অনুপযোগী ও অকেজো হইয়া যায়।মূলত সরকারি হাসপাতালে টেকনিশিয়ানের কৃত্রিম সংকট ও অচল যন্ত্রের পরিস্থিতি এই জন্য তৈরি করা হয়, যাহাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাহা হইতে সুবিধা পাইতে পারে। কেননা সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান ঐসব বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করিয়া থাকেন। তাহারা যোগসাজশ করিয়া এইখানে জনগণকে উচ্চমূল্যে পরীক্ষানিরীক্ষা করাইতে বাধ্য করেন। এই অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ হইতে পারে, যদি সরকারি হাসপাতালেরডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানদের বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করা হয়। প্রয়োজনে তাহারা বিকালে সরকারি হাসপাতালেই যৌক্তিক হারে অর্থবিনিময়ের মাধ্যমে বাড়তি দায়িত্ব পালন করিবেন; কিন্তু তাহাদের প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করিতে দেওয়া যাইবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাহারা পারে না। কেননা সরকারি চাকুরিতে প্রবেশে বেসরকারি এমনকি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করিতে হয়। আর প্রাইভেট এই সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পার্টটাইম নহে, বরং নিজস্ব ফুলটাইম ও স্থায়ী জনবলনিয়োগ দিতে হইবে, নতুবা তাহাদের লাইসেন্স বাতিল করিতে হইবে। সরকারি হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেটর মেশিন ইত্যাদি আনা হয়; কিন্তু তাহা বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া সিন্দুকবন্দি রাখা অতীব দুঃখজনক। ইহার পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনাহীন কেনাকাটা বন্ধ করিতে হইবে। যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ-সংযোগের পর্যাপ্ত ভোল্টেজ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নাই, সেইখানে উচ্চ প্রযুক্তির আইসিইউ ও স্ক্যানার মেশিন পাঠাইয়া দেওয়া হয়, যাহা অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হইতে বাধ্য। কোনো কোনো গ্রামীণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কোনো সার্জন নাই, অথচ সেইখানে বহু দিন ধরিয়া আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের দামি সরঞ্জামাদি বাক্সবন্দি পড়িয়া আছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত চাহিদার চাইতেও আমদানিকারক, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক ফায়দা ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক কমিশনের লোভও ইহার জন্য দায়ী। তাহা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা শাখা ও মাঠপর্যায়ের হাসপাতালগুলির মধ্যে কোনো বাস্তবসম্মত সমন্বয় নাই। জনবল না থাকিলেও কেবল বাজেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অপচয় করিবার জন্য যন্ত্র ক্রয় করা হয় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে।এই দিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র অবহেলায় বিনষ্ট করিবার অপরাধে এযাবৎ কোনো আমলা, ঠিকাদার বা পরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় নাই। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়াছে। এই জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করিতে হইবে। হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সঠিক পরিসংখ্যান ব্যতিরেকে কোনো নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া যাইবে না। ইহা ছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডেটাবেজ তৈরি করিতে হইবে, যাহাতে কোন যন্ত্র সচল আর কোনটি অচল—তাহা জনগণের সম্মুখে দৃশ্যমান থাকে। মোট কথা, জনগণের করের টাকায় ক্রয়কৃত সামগ্রী ভাঙারির দোকানে নিঃশেষ হইতে দেওয়া যায় না।

  • আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

    আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আগে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অবস্থা আবারও পরিদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “পরিদর্শনে পরিস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেলে এরপর সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”

    সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তাই ঘটনার পরপরই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।”

    তিনি জানান, হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে বা চলমান রয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। পরিদর্শনে সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া গেলে সরকার পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।ভুক্তভোগী পরিবারের বিষয়ে তিনি বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালত ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।”

    মন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো হাসপাতালটিকে কোনো চূড়ান্ত ছাড় দেয়নি। পুনঃপরিদর্শনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৬২ প্রাণ, আহত ৭৫০

    জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৬২ প্রাণ, আহত ৭৫০

    চলতি বছরের জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫০ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষর করা প্রতিবেদনটি গত ১২ জুলাই অনুমোদন করা হয় এবং ১৩ জুলাই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সারাদেশের বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ১৭১টি দুর্ঘটনায় ১৪৩ জন নিহত এবং ২৬৪ জন আহত হয়েছেন।

    ঢাকা বিভাগে ১১৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০৩ জন, আহত হয়েছেন ১৭৬ জন। রাজশাহী বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। বরিশালে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন। সিলেটে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। রংপুরে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৮২৭টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২১ জন নিহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৭১ জন, অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৯৪ জন, বাস ও মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪১ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
    বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ১২ জন, মাইক্রোবাসে ৬ জন, অ্যাম্বুলেন্সে ৪ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১১ জন, ট্রাক্টরে ২ জন এবং ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে উপজেলার খাজুরা ফুয়েল স্টেশন-সংলগ্ন ওয়ে স্কেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত রুবেল হোসেন (৩৮) বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুড়া গ্রামের মৃত মুনতাজ ঢালীর ছেলে। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে রাব্বি ধারাল অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অভিযুক্ত রাব্বি নিহত রুবেলের ছোট বোনের দেবর। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহ জালাল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রাব্বিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

  • বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    টানা কয়েকদিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা ছাড়াও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।

  • ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতী গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে ৩২০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ১১ জুলাই শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব এ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামুলক কোন কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝড়ছে দাবি করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবন রক্ষায় ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭শিক্ষার্থী নিহত ও ১১আহত হয়েছে। মার্চ মাসে

    ৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭শিক্ষার্থী নিহত ও ০১ জন আহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫১টি সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে। জুন মাসে ৫৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।

    সড়কে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

    ১.পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচতেনতামূলক পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করা।

    ২.প্রতিমাসে কমপক্ষে ০১ বার কমন রুমে ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

    ৩.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি সড়ক পারপারের স্পটে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীদের পারাপার স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাঁটানো।

    ৪.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে “রোড সেইফটি গার্ড” লাল পতাকা হাতে নিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।

    ৫.প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

  • আস্থা ফেরাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে; প্রধানমন্ত্রী

    আস্থা ফেরাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে; প্রধানমন্ত্রী

    চিকিৎসকদের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

    শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে রোগীরা চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা ফিরে পান। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান। এ নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে সকালে ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢামেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে ঢামেক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে বাড়ছে শঙ্কা

    অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে বাড়ছে শঙ্কা

    ফার্মেসিতে মোট অ্যান্টিবায়োটিকের অর্ধেকই বিক্রি হয় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া। ফলে কমে আসছে জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর ওষুধ। এখনই অপারেশনের রোগীদের সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ করছে না, ব্যবহার করতে হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক, তাও পরিমাণে আগের চেয়ে বেশি।

    বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নির্দেশনা ছিল কোনো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট (ব্যাকটিরিয়ার বিরুদ্ধে অকার্যকর) হয়ে যাওয়ার জন্য অন্য কিছু কারণের সাথে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রিকেও দায়ী করা হচ্ছে। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে ওষুধটির কোর্স শেষ করেন না বেশির ভাগ ব্যবহারকারী। এ ব্যাপারে বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ‘লেনসেট’-এ প্রেসক্রিপশনবিহীন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বেশি বিক্রি হয়, সেসব দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও রেজিস্ট্যান্টের হার তুলনামূলক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্বন্ধে বলেছে, ‘প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার কমাতে না পারলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট কমানো সম্ভব নয়।’

    চিকিৎসকরা বলছেন, জীবাণু সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে অ্যান্টিবায়োটিক। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ওষুধ কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিক্রেতাকে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শিখিয়ে ওষুধটির বেশি বিক্রি নিশ্চিত করে। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি বেড়েছে ঠিকই; কিন্তু এই ওষুধের বিক্রেতাদের ৯৯ শতাংশই তৃতীয় ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট হওয়ায় তারা ওষুধটির সঠিক ব্যবহার জানেন না। তারা শুধু বেশি মুনাফার স্বার্থে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করছেন। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিককে রেজিস্ট্যান্ট হতে সহায়তা করে মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধগুলোর বেশির ভাগেরই এখন ব্যাকটিরিয়ার প্রতি সংবেদনশীলতা কমে গেছে। আগে যে অ্যান্টিবায়োটিক পাঁচ দিনের অথবা সাত দিনের ডোজ সম্পন্ন করলে রোগ ভালো হয়ে যেত, এখন সেটি আর পাঁচ অথবা সাত দিনে সুস্থ হচ্ছে না। এখন পরিমাণে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে এবং বেশিদিন সেবন করতে হচ্ছে। এ মতামত দিয়েছেন বিশিষ্ট জেনারেল সার্জন অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুল ওহাব।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাওয়ায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন নানা রোগে অ্যান্টিবায়োটিক আগের মতো কাজ করছে না।

    বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক আগের মতো কাজ করছে না। ফলে টাইফয়েডের মতো রোগ সারাতে অনেক বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। যক্ষ্মা রোগ তো সুপার পাউয়ারফুল হয়ে গেছে। অন্য দিকে সাধারণ ডায়েরিয়া, আমাশয় রোগকে আগের মতো কম অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে সুস্থ করে তোলা যাচ্ছে না।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিনতে পাওয়া যায় বলে শুধু বিক্রির জন্য ভাইরাল জ্বর হলেও হাতুড়ে ডাক্তাররা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছে রোগীদের। যেখানে শুধু সাধারণ প্যারাসিটামলে সুস্থ করে তোলা সম্ভব সেখানে কমপক্ষে একটি ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক থাকছে।অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মফস্বল শহর ও গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। গ্রামের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় অসুখ হলে তারা স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতার ওপরই বেশি নির্ভর করছে। ওষুধ বিক্রেতাই তাদের কাছে ‘ডাক্তার’। গ্রামের ওষুধ বিক্রেতারা তৃতীয় ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্টও না। ওষুধ সম্বন্ধে তাদের কোনো বেসিক ট্রেনিংও নেই। অন্য কোনো ওষুধের দোকানে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাদের ভরসা। আর তাদের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শিখিয়ে ওষুধ বিক্রি করে থাকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ ব্যাপারে ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বাংলাদেশে আইন থাকলেও তার কঠোর প্রয়োগ না থাকায় জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধটি অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় আসবে, জীবাণু সংক্রমণে অথবা অপারেশন করার পর মানুষকে সুস্থ করার জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই পাওয়া যাবে না। কারণ পুরনো ও বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে এমন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট (প্রতিরোধী) অর্থাৎ অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারও হচ্ছে না।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডে-শনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এ মন্তব্য করেন

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।জুবাইদা রহমান বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও মানুষের সেবাপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবেস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
    সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপগুলো সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন জুবাইদা রহমান।তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অপুষ্টির মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
    ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করা কখনোই যথেষ্ট নয়। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সেই প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তিপ্রস্তর বা গাঁথুনি আমরা স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি করতে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার খাত আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উভয়পক্ষ যদি যার যার নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে এ খাত সামগ্রিক ভাবে উপকৃত হবে না। তাই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • ক্লিনিকে লেবার রুম বাধ্যতামূলক

    ক্লিনিকে লেবার রুম বাধ্যতামূলক

    অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমাতে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে আগামী শনিবারের মধ্যে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসবকক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

    তিনি আরও জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।

    মন্ত্রী বলেন, মাতৃ ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসূতিসেবায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    কর্মশালায় বক্তারা মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ এবং স্বাভাবিক প্রসবের পরিবেশ তৈরিতে মিডওয়াইফদের ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।