ক্যাটাগরি মেডিকেল-লাইফ

  • সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

    সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কমিয়ে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

    মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের জন্য অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। সেই হিসাবে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ এখনো পূরণ হয়নি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জনবলসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২০২৬ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড—প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক—ধরা হলে ওই বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে মোট কতজন চিকিৎসক রয়েছেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কতজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন—দুটি বিষয় এক নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে।

    এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একাধিক নিয়োগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগও থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস বেলা ১১টার দিকে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    আহত উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে বাসটি সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা;

    হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা;

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এসবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দূর করে জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা ও খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। গত এক মাসে তিনি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও সেবার মান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

    হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বয়সসীমা, তথ্যের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে হাম দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। চলতি মাসের শেষদিকে পুনরায় বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ নজর দিয়ে মূল ক্যাম্পেইনের আগেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত লেবার রুম নেই, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। অবৈধ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাস হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। ’

    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতাসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফিলিপাইন দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ করে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। হেলথকেয়ার, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপক্ষীয় বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত।

    এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক ও দেশের শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পরস্পরের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৮তম বিসিএসে (বিশেষ) আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন ও ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (নবনিয়োগ শাখা) সাবিহা ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর মাধ্যমে ১৮৪ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে প্রবেশপদে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের শর্তের মধ্যে রয়েছে— নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল আরও সর্বোচ্চ দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

    এর আগে ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত ২২ জানুয়ারি। ওই প্রজ্ঞাপনে ৩ হাজার ২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এতে সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার ৮২০ ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

  • ওষুধের দামে চাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

    ওষুধের দামে চাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

    ওষুধের মূল্য যতটা সম্ভব কম রাখাই ওষুধনীতির একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না; বরং এমন একটি নীতিকাঠামো প্রয়োজন, যেখানে রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ সামর্থ্যের মধ্যে পাবেন এবং একই সঙ্গে উৎপাদক মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ টেকসইভাবে অব্যাহত রাখতে পারবেন। এজন্য বিজ্ঞানভিত্তিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য মূল্য নির্ধারণ, নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং রোগীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তাদের মতে, রোগীর নাগালে ওষুধের দাম রাখতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকে থাকার সুযোগ দিতে হবে। শুধু দাম কমিয়ে রাখলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে ওষুধের সংকট তৈরি হতে পারে। আবার দাম বেশি হলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে। তাই দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রোগীর নাগালে ওষুধ, উৎপাদকের টেকসইতা: ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতির সন্ধানে’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব কথা ওঠে আসে। পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক ফর এভিডেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি (পাইনেট) আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন বিভিন্ন জনস্বাস্থ্যবিদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সংসদ সদস্য, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

    সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে ১১৭টি ওষুধের দাম যে ফর্মুলায় নির্ধারণ হচ্ছে, তা ১৯৮২ সালের বাস্তবতায় তৈরি। উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন ও গবেষণার খরচ বাড়লেও ফর্মুলার মার্কআপ বদলায়নি। ২০১৬ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৮৫টি করা হলেও নতুন যুক্ত হওয়া ওষুধগুলো আগের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ২০১৬ সালে তালিকায় ২৮৫ ও ২০২৬ সালে ২৯৫টি হলেও সব ওষুধ আগে মূল্য নির্ধারণের আওতায় ছিল না। তাই ধাপে ধাপে দাম সমন্বয় ও প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।

    অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, রোগীর জন্য ওষুধ সাশ্রয়ী রাখা এবং ওষুধশিল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়; বরং একই জনস্বাস্থ্যনীতির দুটি অপরিহার্য উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, ওষুধনীতির লক্ষ্য সর্বনিম্ন সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি টেকসই মূল্য, যা রোগী বহন করতে পারেন এবং উৎপাদকও টেকসইভাবে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করতে পারেন।

    বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এপিআইয়ের জন্য বিদেশিনির্ভরতা উল্লেখ করে অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ভারত ও চীন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা হলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। তাই জ্বালানি, পরিবহন, শিপিং ও আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। এসব বাস্তবতা মূল্যনীতিতে বিবেচনায় নিতে হবে।

    দেশে মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি নিজস্ব পকেট থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের পেছনে যায়। তবে ওষুধের ব্যয় কমাতে শুধু দাম কমালেই হবে না। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া ওষুধ বিক্রি, স্ব-চিকিৎসা ও অযৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালেও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, রোগীর আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু ওষুধ কোম্পানির নয়। সরকারকেও দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ওষুধের মান, নিরাপত্তা ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    ওষুধনীতির লক্ষ্য শুধু দাম কমানো হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর নাগালে ওষুধ, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের টেকসইতা এই তিনটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ওষুধের দাম ও সংকট নিয়ে শুধু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের (ব্লেম গেইম) সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতেই কোম্পানিগুলোকে বিভিন্নভাবে কাজ করতে হয়। সরকারের দায়িত্ব ওষুধের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে ওষুধ প্রশাসনকে আরও পেশাদার ও শক্তিশালী হতে হবে। ওষুধের মান ও দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার মতো বিপণন বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হবে। ২০৩০ সালের পর মেধাস্বত্বের কারণে দেশে ওষুধের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও সরবরাহ নিয়ে সরকার, ওষুধশিল্প ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ ও নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

    ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারকে তাড়াহুড়া না করে ২০২৬ সালের মূল্য নির্ধারণ নীতিও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, পুরোনো তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক এখন বাতিল হয়েছে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতি পর্যালোচনা প্রয়োজন। ওষুধের দাম এমন হওয়া দরকার, যাতে উৎপাদন খরচ উঠে আসে এবং কোম্পানিগুলো যুক্তিসংগত মুনাফা করতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও দেখতে হবে।

    নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনা মূল্যে এবং মধ্যবিত্তকে ভর্তুকিতে ওষুধ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুশতাক হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।

    বিজ্ঞান ও চিকিৎসায় নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও মিশনপ্রধান মামুনুর রহমান মালিক বলেন, ওষুধের সহজলভ্যতা, সাশ্রয়ী দাম, নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ফার্মাকোভিজিল্যান্স, যৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা পূর্বাভাস জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বাতিল না করে, আপত্তির অংশ সংশোধন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

    ওষুধের দাম সামান্য কমিয়ে দরিদ্র মানুষের বড় সাশ্রয় করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সহসভাপতি ও রেনাটা পিএলসির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও ক্যানসারের চিকিৎসায় দরিদ্রদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া বেশি কার্যকর। জোর করে দাম কমালে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধের দাম আন্তর্জাতিকভাবে তুলনামূলক কম। তাই বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে দরিদ্রদের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো উচিত।

    স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওষুধের দাম কমাতে গিয়ে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। দেশের ওষুধের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে পূরণ হচ্ছে। মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হলেও মাথাপিছু খরচ ২০০ টাকার কম। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্তের আগে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি।

    ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের বদলে বাজারে প্রতিযোগিতা ও মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান। ১৯৯৪ সালে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সুফলেই দেশের ওষুধশিল্প এগিয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অযৌক্তিক দাম কমানোর চাপ না দিয়ে দরিদ্রদের সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানির অনৈতিক বিপণন, চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা ও অযৌক্তিক ওষুধ ব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে। এপিআই উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানান তিনি।

    অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, মানুষের নাগালে ওষুধ নিশ্চিত করতে দাম, মান ও ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনৈতিক বিপণনও বন্ধ করতে হবে।

    সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক শাদরুল আলম, সাবেক স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব জহিরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিসিএস হেলথ ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত কনিকা মন্ডলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কনিকা মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আমি এখানে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং সরকার থাকবে। ’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবেন।

    এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কনিকা মন্ডলের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার ওসি আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)।

    অপারেশনের পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।

    দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডলের মৃত্যু হয়।

  • ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিক্যাল কলেজে ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ১০টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে এবং দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগাতে দেশের মহাসড়কে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে।

    পাইলট প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ—উপযুক্ত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেবাটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহতদের সহায়তায় মহাসড়কের পাশে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাদের ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

    মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়ক এ সেবার আওতায় আনা হবে।