ক্যাটাগরি লালমনিরহাট

Lalmonirhat district

  • দম্পতির ছোট উদ্যোগে বদলেছে শতাধিক নারীর জীবন

    দম্পতির ছোট উদ্যোগে বদলেছে শতাধিক নারীর জীবন

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী পাগলার চওড়া এলাকায় বসতবাড়িতে কারখানাটি গড়ে তুলেছেন আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে পোশাক তৈরির নানা কাজ। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ রং করছেন, আবার কেউ কাপড়ে আঁকছেন নকশা। স্থানীয় নারীদের কেউ কারখানায় এসে কাজ করেন, আবার কেউ বাড়িতে বসেই বুটিক ও চুমকির কাজ করে তা কারখানায় জমা দেন। তৈরি পোশাক বিভিন্ন শহরের মার্কেটে সরবরাহ করা হয়।

    ক্ষুদ্র কারখানার উদ্যোক্তা আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি জানান, বিগত ৪-৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান তারা। সেখানেই পোশাক তৈরির কাজ করে আয় করেন কিন্তু এলাকার টানে বেশি দিন ঢাকায় থাকতে পারেননি তারা। নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে এসে হাতে নেন নতুন উদ্যোগ।

    নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি এলাকার বেকার নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে নেন বড় চ্যালেঞ্জ। অল্প পুঁজিতে শুরু করা উদ্যোগটি এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার আরও বেকার নারীদের কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    উদ্যোক্তা আসাদুল-শিউলি দম্পতি আরও বলেন, প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে এখন আমাদের কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। আমাদের কারখানায় তৈরি হয় জামা, ওড়না, থ্রি পিসসহ নারীদের নানা ধরনের পোশাক। এগুলো বিভিন্ন শহরের মার্কেট থেকে অর্ডার আসে। সেখানে সাপ্লাই দেওয়া হয়।

    কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক আনিছা খাতুন বলেন, আগে কাজের জন্য রোদে পুড়তে হয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। কখনও কাজ পেয়েছি, কখনও পাইনি। এখন নিজের এলাকার এই কারখানায় কাজ করে আমার সংসার অনেক ভালো চলছে।

    নারীশ্রমিক রিয়া আক্তার বলেন, আগে আমরা ঘরেই বসে থাকতাম। এখন আমরা এই কারখানার কাপড়ে বুটিকের কাজ করে দেই, চুমকি লাগাই। এই কাজে আমাদের কারখানাতেও আসতে হয় না। নিজের ঘরে বসে কাজ করি। কাপড়ে বুটিক লাগানো হলে এসে জমা দিয়ে যাই। নিজ এলাকায় থেকে ঘরে বসে আয় করার একটি ভাল মাধ্যম পেয়েছি।

    ভেলাবাড়ী ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, আমাদের অবহেলিত অঞ্চলে এরকম ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা চালু হয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এই কারখানায় কাজ করে অনেক বেকার নারীরা তাদের পরিবারে অর্থ যোগান দিতে পারবে। আমরা চাই সরকার এই সকল ক্ষুদ্র কারখানায় নজর দিয়ে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

    আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা গড়ে তুলে বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এই ধরনের কারখানার উদ্যোক্তাগণ আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

  • ‘আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব’

    ‘আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব’

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। আগামী ২০২৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা যাবে। তিস্তা নদী ও এর আশপাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এই মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এ সময় তিনি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে ১১টি সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইনুল হক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনোনিতা দাসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

  • সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা পৃথকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

    এর মধ্যে কালীগঞ্জের কাকিনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ বস্তা সারসহ একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়রা। পরে এক ডিলারকে আটক করে তার গোডাউন সিলগালা করে প্রশাসন।

    সদর উপজেলার বাফা গুদামের সামনে সকালে সার নিতে আসা কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

    কৃষকরা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কারসাজির কারণে বাজারে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আমন ধানের জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

    অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৃষকরা কৃষি বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে ধাওয়া করেন। পরে তারা একটি পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিলে কৃষকরা সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সাথে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় একটি ভ্যানগাড়িতে করে ১০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা সেটি আটক করেন। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তারা ভ্যানটি আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন মিয়াকে আটক করা হয়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির সার রাখার গোডাউন সিলগালা করা হয়।

    ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে রহমান ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক বলেন, লালমনিরহাটে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার বিতরণে অনিয়ম, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দুই উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে চাহিদা মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ।

  • লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।

    মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো: আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

    তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

    এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

    রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসাথে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই দু’টি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।

    অপর আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

    রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

    সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কৃষকদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথরবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

    খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা দর থাকলেও তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করলেন।

    কাশীরাম এলাকার আইয়ুব আলী জানান, আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকেরা আরও সঙ্কটে পড়বেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ডিলারদের কাছে পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক, মো: সাইফুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কী কারণে কালীগঞ্জের ওই এলাকায় সার সঙ্কট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বারবার এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সতি নদী থেকে শিশু বর্মন (৫০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হররাম এলাকার তারক নাথ চন্দ্রের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধানের চারা রোপণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শিশু বর্মন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে হররাম পূর্বপাড়া গ্রামের সতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শিশু বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জলিল ওই এলাকার আলগেস আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আলগেস আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির দুই পাশে দুই পক্ষ কাজ করতে যান। এক পাশে আলগেস আলীর ছেলে জলিল ও অন্য পাশে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম কাজ করছিলেন।

    কাজের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় চাচা আব্দুর রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে ভাতিজা জলিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে জলিল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আনারুল হক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সরকারি মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই হাতীবান্ধা থানার ওসিকে দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ভুমি অফিস মাঠে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: মিলন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসন এ কে এম মমিনুল হক, বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো: আফজাল হোসেন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী সহ সংস্থার সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় দু’শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

  • লালমনিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

    লালমনিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

    লালমনিরহাট জেলা পর্যায়ের বালক-বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে।

    আজ জেলা স্টেডিয়াম মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীত দাস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

    উদ্বোধনী খেলায় কালিগঞ্জ এবং পাটগ্রাম উপজেলা বালক দল ০ গোলের ড্র করে, পরে ট্রাইবেকারে পাটগ্রাম উপজেলা ৪-২ গোলে কালিগঞ্জে উপজেলা কে পরাজিত করে ।

    টুর্নামেন্টে জেলার পাঁচটি উপজেলার বালক ও বালিকা মোট দশটি দল অংশগ্রহণ করবেন। আগামী দুই মে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হবে।

  • বুড়িমারী সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার

    বুড়িমারী সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত থেকে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল এলাকার ৮৩৭/১ এস সীমান্ত পিলারের নিকটবর্তী একটি ফসলি জমি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বামনদল গ্রামের মৃত করিমের ছেলে সাজু বাড়ির পাশের ফসলি জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় তিনি মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন মর্টার শেল দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বুড়িমারী বিওপির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাটগ্রাম থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশে মর্টার শেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মর্টার শেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এটি ধ্বংস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।