লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিবাগ এলাকার ইব্রাহিম পাটওয়ারী বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- ওই বাড়ির আবু সিদ্দিক (৭০) এবং তার ছেলে আব্দুল আজিজের শিশুপুত্র পিয়াস (৭) ও মেয়ে সুমি আক্তারের শিশুকন্যা পপি আক্তার (৮)।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। তিনি পানিতে নেমে ডুব দিলেও পানির নিচ থেকে আর উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তাকে পানির নিচে খুঁজতে গিয়ে পিয়াস ও পপিও ডুবে মারা যায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুরের পানিতে তাদের ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
স্বজনদের ধারণা, আবু সিদ্দিক পানিতে ডুব দিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাকে খুঁজতে গিয়ে নাতি-নাতনিও পানিতে ডুবে মারা গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিবাগ এলাকার ইব্রাহিম পাটওয়ারী বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- ওই বাড়ির আবু সিদ্দিক (৭০) এবং তার ছেলে আব্দুল আজিজের শিশুপুত্র পিয়াস (৭) ও মেয়ে সুমি আক্তারের শিশুকন্যা পপি আক্তার (৮)।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। তিনি পানিতে নেমে ডুব দিলেও পানির নিচ থেকে আর উঠতে পারেননি। একপর্যায়ে তাকে পানির নিচে খুঁজতে গিয়ে পিয়াস ও পপিও ডুবে মারা যায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুরের পানিতে তাদের ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
স্বজনদের ধারণা, আবু সিদ্দিক পানিতে ডুব দিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাকে খুঁজতে গিয়ে নাতি-নাতনিও পানিতে ডুবে মারা গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ক্বারী ইব্রাহীম নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মধ্য সাগরদী এলাকার হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আরো জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম প্রায় ২০ বছর ধরে মধ্য সাগরদী হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কোরআন শিক্ষাদানেও যুক্ত ছিলেন।
সোমবার জোহরের নামাজের পর মধ্য সাগরদী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাপুরের চর লরেঞ্চ এলাকায় নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মাদরাসার সুপার মাওলানা ইমরান বিন নাজির বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই মাদরাসায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে শিক্ষকতা করেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ভালো মানুষকে হারালাম। তার মৃত্যুতে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’
মাদরাসার সহ-সভাপতি ও রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক। কর্মস্থলে ক্লাস নেয়ার সময় তার এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তৌফিক দেন।’
মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মাটি খুঁড়তেই পাওয়া গেল রকেট সাদৃশ্য বস্তু (রকেট লঞ্চার)। বুধবার সকালে উপজেলার আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজের রাস্তার পাশে পানির লাইন স্থাপনের গর্ত খুঁড়তেই এগুলো দেখা যায়। উপ-প্রকৌশলী রিফাত হাসান বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবগত করেন। এগুলো দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
রামগতি থানার কর্মকর্তা লিটন দেওয়ান জানান, পৌর সভার পানির লাইনের কাজ করতে গিয়ে মাটি খুঁড়তেই তিনটি রকেট লঞ্চার পাওয়া যায়।
এগুলো দেখতে রকেট সাদৃশ্য বস্তু হলেও ভিতরে কী আছে বুঝা যাচ্ছে না। রকেট লঞ্চারগুলো উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। রকেট লঞ্চার একধরনের সাময়িক আগ্নেয়াস্ত্র যা অনির্দেশিত বস্তু হিসেবে কাজ করে।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল। সৌদি আরবের দাম্মামে প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই ভাইকে ফিরতে হলো দুটি কফিনে। তাঁদের একসঙ্গে দাফনের মধ্য দিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষবিদায়ে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
কাঁদতে কাঁদতে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা আবদুল মালেক বলেন, ‘ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব ঘুচাবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ এখনো শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নাই। এমন হবে, আমি কল্পনাও করি নাই।’
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। আজ জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আজ দুই ভায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের লোকজন অংশ নেন। আজ সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের কামারহাট মসজিদ মাঠেছবি: প্রথম আলো
নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে সজল চোখে দুই ভাইকে শেষবিদায় জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব- মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার শুধু এই কথাটিই বলছেন জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তার পৃথিবী। যে ঘরে ছিল মায়ের স্নেহ, তিন বোনের হাসি আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ঘরে এখন একা।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় ঘরে ঢুকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হন প্রধান সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার (২৫)। একদিনে পাঁচ প্রাণহানির এই ঘটনা শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো রায়পুরকে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগমের (৩৮) স্বামী কামাল ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তারপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সন্তানদের মানুষ করাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই শাহিনুর, সায়মা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার।
ঘটনার সময় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসে একসঙ্গে মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিফাত।
শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত হয়। পরে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রায়পুরে তাদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের মরদেহ নেওয়ার কথা তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।
অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বজনের খবর দেওয়া হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে বলছেন, একই সময়ে চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একজন মানুষের পক্ষে কঠিন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।
রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ধারণা, একজনের পক্ষে একই সঙ্গে চারজনকে হত্যা করা কঠিন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামানও ঘটনাস্থল ঘুরে তদন্তে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বিশেষ তদন্ত দলও ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।
নিহতদের স্বজন রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছেন। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা গেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় থাকা সবাই একে একে মারা যান।
নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।
আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত অন্তরকে গণপিটুনি দেয়।
অন্যদিকে, আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়।
ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কা অবস্থায় সদর হাসপাতাল নিলে সেও মারা যায়৷ এদিকে ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও (সিফাত) কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারও সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেও মারা যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে সেও মারা গেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।’
বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়। হয়তো পূর্বপরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়ন। তখন অন্তর বলেন, তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্ঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার চরলরেন্স বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত সূত্র জানা যায়, চরলরেন্স বাজার এলাকার ব্যবসায়ী নুরনবী ও নুরউদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রি করে আসছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঘটনার সত্যতায় মেয়াদোত্তীর্ণ দইসহ হাতেনাতে আটক করার পর তাদের এই জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী বাবুল দধি বিতানের মালিক নুর উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা ও অপর ব্যবসায়ী নুরনবীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। একইসাথে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ দই। পরে জনস্বার্থে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয় সেগুলো।
অভিযান চলাকালে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: রিয়াজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন জানান, ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। আগামীতেও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান থাকবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভুঁইয়ার পক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এতে দিনব্যাপী ৫ শতাধিক মেডিসিন, শিশু, চর্ম ও যৌন, চক্ষু ও ডায়াবেটিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
শনিবার সকালে সদর উপজেলার রসুলগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়েছে।
চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভুঁইয়া।
রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত ইসলাম মানবিক সেবায় নিয়োজিত একটি আদর্শ ইসলামী সংগঠন। আমাদের ভিশনের শুরুর লাইনটি হলো মানবতার সেবা। মানবতার সেবা, দেশ পরিচালনায় যোগ্যতা অর্জন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এই তিনটি কথা নিয়েই জামায়াত ইসলামীর ভিশন। এরমধ্যে শুরুটাই হলো মানবতার সেবা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল রাসেল, আলিফ মীম হাসপাতালের চেয়ারম্যান আমির হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা কমিটির সহ সেক্রেটারি আবুল বাশার, চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহমেদ, রসুলগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামছুল আলম রিটু প্রমুখ।
নোয়াখালীর একটি কবরস্থান থেকে নতুন ৫টি রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার করেছে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল অভিযান চালায় চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। এসময় একটি কবরস্থান থেকে কাগজে মোড়ানো ৬টি প্যাকেটে উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটে ৫টি রাইফেল ও ১টি এলজি ছিল।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্রগুলো জব্দ দেখানো হয়েছে। এই অস্ত্র কার তা জানা যায়নি। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।গত ১ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের পশ্চিম চন্দ্রগঞ্জ বাজারে একটি ওয়ার্কসপে অস্ত্র তৈরির সন্ধান মিলে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করে।