খুলনা মহানগর

  • খুলনার জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জসিম চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

    খুলনার জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জসিম চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

    খুলনা মহানগরীর আলোচিত জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. জসিমকে (৫০) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. জসিম খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার হাজী তমিজউদ্দীন সড়ক বাইলেন এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। ২০০৯ সালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৭-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল। অভিযানে জসিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

    এসআরবি-৬ জানিয়েছে, নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    গ্রেপ্তারের পর মো. জসিমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬।

  • খুলনায় কোম্পানি প্রতিনিধিকে গুলি করে ল্যাপটপ ছিনতাই

    খুলনায় কোম্পানি প্রতিনিধিকে গুলি করে ল্যাপটপ ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা নগরীতে সালমান (২৩) নামে এক কোম্পানির বিক্রয়কর্মীকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর রোডে তামান্না টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে নাসিম ট্রেডার্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত সালমান নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর রোডের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি একটি সিগারেট কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে চার দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে এসে সালমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    এ ঘটনায় খুলনা সদর থানার ওসি মো: লোকমান হোসেন রিপনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ওসি বলেন, ‘কী কারণে সালমানকে গুলি করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।’ এ,আর

  • খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় কেসিসির ট্রাকচালকের মৃত্যু

    খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় কেসিসির ট্রাকচালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ট্রাকচালক কামরুল ইসলামের (৪০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর জয় বাংলা মোড়ে দু’টি ট্রাকের সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।

    নিহত কামরুল ইসলাম নগরীর শিববাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলীর ছেলে।

    হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হেলাল উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কেসিসির ময়লার কনটেইনারবাহী একটি ট্রাক নিয়ে জয় বাংলা মোড় থেকে জিরো পয়েন্টের দিকে যাচ্ছিলেন চালক কামরুল ইসলাম। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা খায়। এতে কামরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    সড়ক দুর্ঘটনায় কামরুল ইসলামের আহত হওয়া এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেসিসির যান্ত্রিক শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মো: সেলিমুল আজাদ।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ অক্টোবর কেসিসির গ্যারেজে বর্জ্য কনটেইনারবাহী গাড়ির চাপায় আব্দুস সালাম (৪৮) নামে আরেক চালক নিহত হন। এ,আর

  • খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দলিল লেখক, নকল নবিশ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সদর দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বাহাউদ্দীন বলেন, তন্ময় কুমার মণ্ডল প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লাঞ্চে যান। আজও একই সময়ে লাঞ্চে যাওয়ার পর রেজিস্ট্রি অফিসের গেটের সামনে থেকে কে বা কারা তাকে রিকশায় করে তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা শুনতে পান। পরপরই দলিল লেখক ও নকল নবিশরা পেছনে ছুটে যান। পরে জানতে পারেন রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্বপাশের রাস্তা দিয়ে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নদীর ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

    বাহাউদ্দীন জানান, পথে এক নারী তাদের বলেন, দুইটি রিকশায় করে তন্ময়কে নিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে উঠানো হয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ওই নারীকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও তিনি জানান। তবে কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে এবং পরে কিভাবে তিনি ফিরে এসেছেন, তা তারা জানেন না।

    সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। লাঞ্চের জন্য বাসায় যাওয়ার আগে ওয়াশরুমে গেলে বাইরে চেঁচামেচি শুনতে পান ‘স্যারকে নিয়ে গেছে, স্যার চলে গেছে।’ পরে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লোকমান হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, সদর সাব-রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হওয়ার পর কে বা কারা নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলা এবং তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফিরে আসেন। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি ডকুমেন্ট দেখার জন্য তাকে আশপাশের একটি জায়গায় যেতে হয়েছিল। তিনি লাঞ্চের জন্য রিকশায় করে বের হওয়ার পর কয়েকজন তাকে সাথে করে নিয়ে যায়। পরে কোনো আঘাত না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।

    ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, তিনি কোনো অস্ত্র দেখেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অস্ত্র দেখতে পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাটি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, কিংবা আসলে কী ঘটেছে, তদন্তের পর তা বের করা হবে।

    সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সুস্থ শরীরে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি। কোনো রিকমেন্ডেশন বা নির্দিষ্ট কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। আমাকে বলা হয়েছিল, একটি ডকুমেন্ট দেখে দিতে, কেন বিষয়টি হচ্ছে না। ডকুমেন্টটি অন্য কোনো অফিসেরও হতে পারে। প্রথমে বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ,আর

  • খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

    পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিল।

    তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন আজমল তার বাবাকে জানায় যে, তিনি সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না। এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়।

    এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের বাবার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পর ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

    হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী সা:-এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন।

    কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় খুলনা সিটি করপোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মো: মুসফিকুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উপলক্ষে জেলার সব মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। এছাড়া কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবী সা:-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

  • এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে  দুইটি হত্যা

    এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠের কাছে পরপর এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। নগরীর টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেফতারের পর র‌্যারেব কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

    এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলার মাঝিগাতী বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদ নামে সাইফির আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নগরীর টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির হয়ে কাজ করে। অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদকের কারবার করে। এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।’

    তিনি বলেন, “গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো: নাজমুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। তদন্তের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী আলমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নাজমুল তার দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সাথে ছিল।”

    তিনি জানান, ‘সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন প্রতিশোধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তাকে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিরাদেরকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

  • খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে নগরীর বৈকালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়

    গ্রেফতার হওয়া রাকিব বৈকালী এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাকির শেখের ছেলে

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আহাদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। দেড়-দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। তার সেই সহযোগীকে গ্রেফতার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রাকিব ও তার বাবা জাকির শেখ নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী, বয়রা ও মুজগুন্নী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। অনেক দিন ধরে বাবা ও ছেলে মিলে কিশোর গ্যাং নিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাকিব ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপরও হামলা করেছে। ছেলে-বাবার ভয়ে এলকার মানুষ মুখ খুলতে পারে না। রাকিব ও তার বাবা জাকিরের বিরুদ্ধে খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

    জানা যায়, জাকির শেখ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধ চালাতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাকির শেখ ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    ওই বছরের ৩ অক্টোবর জাকির শেখকে যৌথবাহিনী আটক করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে জাকির শেখ নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে এলাকায় আবারো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।

  • খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

    খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

    খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশের একটি মাছের ঘের থেকে ইমন (২১) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেখানকার বাসিন্দাদের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    নিহত ইমন আড়ংঘাটা এলাকার বাসিন্দা সোবহান শেখের ছেলে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কারা তাকে হত্যার পর লাশ সেখানে ফেলে রেখে যায়।

    আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হালিমুর ইসলাম জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সম্ভাব্য সব সূত্রে যাচাই করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

  • চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘ চার দিনের অচলাবস্থার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ায় রোববার (২৬ জুলাই) থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

    শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেন। রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান তদন্ত ও জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যৌন হয়রানি এবং বিজয়-২৪ হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আগে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাশ বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন জানান, ২২ জুলাই রাতে বিজয়-২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনে বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এসব সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির প্রতি শিক্ষকরা সমর্থন জানান।

    পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।

    পরবর্তীতে ওই আলোচনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    উল্লেখ্য, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়-২৪ হলের ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা