ক্যাটাগরি গোপালগঞ্জ

Gopalganj district

  • গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় বেদভিটা গ্রামে নিখোঁজের তিনদিন পর পরি রানী হাজরা নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    সোমবার সকালে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, পরি রানী হাজরা তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই খুন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামীর হাতেই খুন হয়েছেন মিম আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূ। স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্বামী তরিক সিকদার।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় শাকপাইলদিয়া গ্রামের হিন্দুধর্মীয় সিদাম মাঝির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ভাবড়াশুর গ্রামের ছরোয়ার সিকদারের ছেলে তরিক সিকদার। পরে তাকে ধর্মান্তরিত মুসলিম করে মিম আক্তার নাম দিয়ে বিয়ে করেন।

    কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

    রোববার সকালে দাম্পত্য কলহে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তরিক সিকদার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে করে হত্যা করে।

    মুকসুদপুর সার্কেল এসপি নাফিজুর ইসলাম বলেন, ‘মিম আক্তার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

  • গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস বেলা ১১টার দিকে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    আহত উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে বাসটি সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০

    গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গোপালগঞ্জে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার বৌলতলী এলাকায় গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, টেকেরহাট থেকে গোপালগঞ্জগামী একটি বাস বৌলতলী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

    এতে ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ তিনজন নিহত হন। আহত হন আরো ২০ জন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করেন।

    পুলিশ জানায়, নিহতদের লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

    গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

    এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • টুঙ্গিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    টুঙ্গিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩০ নম্বর পাটগাতি মুন্সিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎকান্তি রায়ের (৫৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২১ জুন) ভোরে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের দাড়িয়ারকুল গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত বিদ্যুৎকান্তি রায় দাড়িয়ারকুল গ্রামের মৃত গঙ্গাপ্রসাদ রায়ের ছেলে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও নীতিবান শিক্ষক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকাল ৬টার দিকে তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুসলিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    এসআই মুসলিম উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিদ্যুৎকান্তি রায় বিভিন্ন ব্যাংক ও স্থানীয় উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঋণের চাপে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী, শিক্ষক সমাজ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সজ্জন ব্যক্তি এবং শিক্ষাবান্ধব মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে আনা হবে এবং নিজ বাড়িতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

  • গোপালগঞ্জে বিএনপির রেকর্ড

    গোপালগঞ্জে বিএনপির রেকর্ড

    সাড়ে পাঁচ দশক ধরে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য চলে আসলেও সেখানে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি ভিআইপি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি রেকর্ড গড়েছে। এ তিনটি আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। এ তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তিনটি আসনে মোট ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে।

    গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান মোল া জয়ী হয়েছেন। তিনি ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ছয়বার নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. ফারুক খান।

    গোপালগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. কে এম বাবর আলী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসন থেকে টানা নয়বার নির্বাচিত হয়েছেন আরেক হেভিওয়েট নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিম।

    গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছেন। এ আসনটিও ছিল ভিভিআইপি আসন। এ আসন থেকে শেখ হাসিনা টানা সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন।

    গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসুম বলেন, প্রথমবার আমি ভোট দিয়েছি। পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি খুশি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবু সালেহ যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়েছে এটি তারই প্রতিফলন।

  • নিখোঁজের ৩ মাস পর পুকুরে মিলল যুবকের মরদেহ

    নিখোঁজের ৩ মাস পর পুকুরে মিলল যুবকের মরদেহ

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ তিন মাস পর মো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যা নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ভাকুড়ি গ্রামের একটি কচুরিপানা ভর্তি পুকুর থেকে তার গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তৌহিদুল মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের আকতার আলী মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তৌহিদুল ইসলাম হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ছেলের কোনো হদিস না পেয়ে তৌহিদুলের বাবা মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ দায়ের করেন।

    সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী ভাকুড়ি গ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে যান স্থানীয় কয়েকজন। এসময় তারা পানির নিচে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা জড়ো হয় এবং পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    মরদেহটি উদ্ধার করার পর নিখোঁজ তৌহিদুলের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের পোশাক ও অন্যান্য চিহ্ন দেখে তাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিন মাস আগে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় মরদেহটি প্রায় গলে গেছে।

  • বাবা-মাকে জীবিত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার

    বাবা-মাকে জীবিত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় জমি বিক্রির টাকা না দেওয়ায় জীবিত বাবা-মাকে মারধর করে উঠানে কবর খুঁড়ে কবর দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্তরা হলেন, রাসেল মোল্লা ও রানা মোল্লা। তারা ওই গ্রামের বাসিন্দা সত্তার মোল্লার ছেলে।ভুক্তভোগী সত্তার মোল্লা জানান, জমি বিক্রির টাকা ছেলেদের দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রোববার রাসেল ও রানা তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। এক পর্যায়ে উঠানে কবর খুঁড়ে তাদের জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।

    মা আসমা বেগম বলেন, ‘যে সন্তানদের কষ্ট করে বড় করেছি, তারাই আজ আমাদের খেতে দেয় না। সরকারের দেওয়া একটি ঘরে আমরা থাকি। জমি বিক্রির টাকার জন্য তারা আমাদের মারধর করে জ্যান্ত কবর দিতে চেয়েছিল।’

    প্রতিবেশী আক্কাস ভুঁইয়া বলেন, সত্তার মোল্লা ও আসমা বেগমের ছয় সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বড় ছেলে রাসেল ও মেজো ছেলে রানা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির লোভে বাবা-মাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। শুনতে পাই ছেলেরা উঠানে কবর খুঁড়ছে। বাবা-মাকে মাটি দেবে। দ্রুত গিয়ে দেখি সত্যিই কবর খোঁড়া হয়েছে।

    সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে কাশিয়ানী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সত্তার মোল্লা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাসেল মোল্লা ও রানা মোল্লাকে গ্রেফতার করে।

    কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের ভেতরে ঢুকে কবর জিয়ারত করতে পারেননি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে সমাধিসৌধের গেটে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন এই প্রার্থী।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শেখ মুজিবের সমাধিসৌধের ৩ নম্বর গেটে এমন ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই তার নির্বাচনি প্রতীক ফুটবল মার্কার প্রচার শুরু করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিব। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে গণসংযোগ এবং প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান।

    এর আগে গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন হাবিব।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছি। আর প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করতে পারিনি। তাই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।’

    হাবিব বলেন, ‘একসময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই। ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেফতারের আতঙ্কে রয়েছেন। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না। কেবল নিজের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেন। আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই।’