ফুটবল

  • ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    ‘দলের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করে নেইমার’

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গতকাল কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেই ব্রাজিল।

    ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর দেশটির তারকা ফুটবলার নেইমারের কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস।

    স্কাই জার্মানিতে প্রকাশিত নিজের কলামে ম্যাথাউস লিখেছেন, ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি খুশি। তার ভাষায়, ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, এতে আমি আনন্দিত। তাদের এই অবিরাম অভিযোগ আর অঙ্গভঙ্গি আমি আর সহ্য করতে পারি না।

    নেইমারের আচরণকে লক্ষ্য করে জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস বলেন, শেষ দিকে পাওয়া পেনাল্টির সময় ব্রাজিল তারকার আচরণ দলের বড় একটি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

    ম্যাথাউস লিখেছেন, পেনাল্টিটি দ্রুত নেওয়ার পরিবর্তে নেইমার শট নেওয়ার আগে ও পরে গোলরক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল। এই আচরণ থেকেই বোঝা যায়, সে দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহংকারকেই বড় মনে করে।

    ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করছেন নেইমার। দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেও ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দিতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।

  • ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে লিওনেল মেসিদেরই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিশর।

    রাউন্ড অফ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মিশর। তাদের হয়ে শেষ শট নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ্‌। তিনি জানেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সালাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচ ফাইনাল ধরে খেলছি। এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সেটা ভেবেই খেলতে নামব।’

    সালাহর উপর ভরসা রয়েছে দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা, চার বার সোনার বুট জেতা সালাহ্‌কে হালকা ভাবে নিলে প্রতিপক্ষ ভুগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলো। দেখিয়ে দাও ওরা কাদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে।’

    তবে শুধু সালাহ্ নন, পুরো দলের উপরেই ভরসা দেখিয়েছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে মেসি থাকতে পারে। আমাদের দলে সালাহ্‌ আছে। যে কোনও প্রতিপক্ষকে ও একাই শেষ করে দিতে পারে। আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।’

    মিশরকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি কোনও দিনই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নেন না। এই ম্যাচেও নেবেন না। খেলার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি বলেন, ‘মিশর বেশ কঠিন দল। ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই এত দূর এসেছে। আরও একটা কঠিন লড়াই আমাদের সামনে। একটা কথা মাথায় রেখেই নামব। জিততে হবে।’

    মিশরের বিপক্ষে খেলার ধরন না বদলালেও দলে বদল করতে পারেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কাদের দলে রাখব সেটা আমি জানি। এখন তা বলব না। তবে যারা আগে বেশি খেলার সুযোগ পায়নি, তেমন কয়েক জনকে খেলাতে পারি। ওরা তরতাজা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে।’

    স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চারটে ম্যাচই জিতেছি। তাতে আমি খুশি। কিন্তু আগের দিন রক্ষণের সময় গতির অভাব হচ্ছিল। তাই কেপ ভার্দে বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়েও গতিশীল ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। সেটা মিশরেরর বিরুদ্ধে খেলতে হবে।’

  • ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে গতকাল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে নরওয়ে ফুটবল দল।

    ‘ভাইকিং রো’ এমন একটি উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সমর্থকরা এই উদযাপনে অংশ নেন।

    একজন ড্রামার তালে তালে গতি ঠিক করে দেন। প্রতি দুই বিট পরপর দর্শকরা একসঙ্গে ‘রো’ বলে স্লোগান দেন এবং সমবেত উদযাপন চলতে থাকে।

    এই উদযাপন মূলত নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চালু হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি ছিল নরওয়ে। ইতিহাসের সেই ‘ভাইকিং যুগ’ আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ‘ভাইকিং রো’-এর প্রবর্তক কে?

    নরওয়ের সুপরিচিত সমর্থক ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের প্রবর্তক। ২০২৬ সালের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম এই উদযাপনের সূচনা করেন তিনি। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরই ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। যা তাকে খ্যাতিও এনে দেয়। যে কারণে তাকে ডাকা হয় ‘মিস্টার রো রো’।

    এখন শুধু সমর্থকরাই নন, নরওয়ের ফুটবলাররাও এই উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেন।

    সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ জানান, ‘মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটা ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাইকিং রো। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    ফুটবল বিশ্বে এর আগে এসেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলে। কেউ বল নিয়ন্ত্রণে, কেউ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কেউ গতিতে, আবার কেউ শারীরিক সামর্থ্যে ছিলেন অনন্য। তবে প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা।

    কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—হালান্ড কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ অ্যাথলেট?

    ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বিস্ফোরক গতি, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং গোল করার প্রায় যান্ত্রিক দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। তবে কেবল জন্মগত প্রতিভা নয়, বরং নিজের শরীর ও জীবনযাপনকে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে তোলার কারণেই তিনি আজ অন্যদের থেকে আলাদা।

    ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফুটবলারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রোটিন শেক ও নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে গরুর হৃদপিণ্ড, কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাংসে।

    নিজের প্রামাণ্যচিত্র Haaland: The Big Decision-এ তিনি বলেন, অনেকেই এসব খাবার খায় না। কিন্তু আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন।

    পানির ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সাধারণ পানি না খেয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিশোধিত পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি একটি পানীয় পান করেন, যাকে তিনি মজার ছলে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বলে উল্লেখ করেন।

    ঘুমই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    হালান্ডের বিশ্বাস, একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ঘুম। তাই প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত দুপুরেও কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

    মেন্স হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি কমলা রঙের বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমিয়ে শরীরে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

    এছাড়া ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। এতে অক্সিজেন গ্রহণ আরও কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বন্ধ করে দেন তিনি।

    হালান্ডের অনুশীলনের মূল ভিত্তি শক্তি, গতি ও নমনীয়তা। তার সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের সাবেক কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের প্রতিদিনের রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ ও এক হাজার সিট-আপ। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামও করেন তিনি।

    শুধু অনুশীলন নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই স্ট্রাইকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রায়োথেরাপি চেম্বার স্থাপন করেছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে রাখার মাধ্যমে ল্যাকটিক অ্যাসিড কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন হালান্ড, যাতে টানা উচ্চগতির খেলায়ও শরীর সতেজ থাকে।

    মাঠের বাইরেও ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব

    শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে আলাদা করেছেন হালান্ড। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সবসময় সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই ভাবলাম, অতিরিক্ত সময় খেলতে পারব না। আমাদের এখনই গোল করতে হবে।

    জ্লাতানের পরামর্শেই লম্বা চুল

    মাঠে হালান্ডের আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ দিকে চুলের বাঁধন খুলে দেওয়া। তার লম্বা চুল নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প।

    টেলিভিশন অনুষ্ঠান জেমস কর্ডেনের স্পেশাল শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাকে বলেছিলেন, ‘কখনো চুল কাটবে না। শক্তি লুকিয়ে আছে চুলেই।’

    হালান্ড হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, জ্লাতান আমাকে এ কথা বলেছেন। এখন আমি আর কী করতে পারি? তার কথা তো শুনতেই হবে।

    মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কঠোর অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। এসব কিছুর সমন্বয়েই তিনি আজকের ফুটবলে একজন আদর্শ অ্যাথলেটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    লতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডেরা।

    আজ রোববার ভোরে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়েছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি।

    সমান সংখ্যক গোল রয়েছে আরও দুই ফুটবলারের। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এমবাপ্পে। মেসি চার ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। অর্থাৎ, তিন ফুটবলারই সাতটি করে গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন।

    এই প্রথমবার বিশ্বকাপে তিন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেছেন। চার বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দুই। কাতার বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে সাত বা তার বেশি করেছিলেন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে তিন জন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেননি।

    একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতের। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাচে ছয় ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরির সাভর কোসিস।

    মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত গেলে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

  • পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।

    একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।

    শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

    স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।

    অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।

    ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

    সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

    স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্বপ্ন ছিল ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। নরওয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর শুধু টুর্নামেন্টকেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায় জানানোর ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র।

    শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিউ জার্সির মাঠে ভেঙে পড়েন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করেননি। সতীর্থরা ঘিরে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে কমেনি বিদায়ের বেদনা। কারণ, এটি ছিল শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, শেষ হয়ে গেল ব্রাজিলের জার্সিতে তার দীর্ঘ এক অধ্যায়ও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। কিন্তু সেই গোলও পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী জিই টিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, “চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।”।এরপরই তিনি স্পষ্ট করে জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে তার পথচলার সমাপ্তি ঘটেছে।

    বিদায়ের মুহূর্তে স্মৃতির পাতাও উল্টে দেখেন নেইমার। ২০১০ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলা।

    এটি ছিল নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—চারটি আসর খেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হলো না তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কনফেডারেশনস কাপ ও অলিম্পিকে সোনা জিতলেও অধরাই রয়ে গেল ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই হতে পারে তার শেষ আসর। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিল। তাই নরওয়ের বিপক্ষে শেষ বাঁশির পর নেইমারের কান্না ছিল শুধু একটি ম্যাচ হারের হতাশা নয়; ছিল অপূর্ণ স্বপ্নের, হারিয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর বেদনা।

    ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, এক প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ের নায়ক নেইমার জুনিয়র। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেলেসাওদের ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।

  • ব্রাজিলের বিদায়!

    ব্রাজিলের বিদায়!

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    শেষ বাঁশি বাজতেই মনে হলো, যেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রাসাদের শেষ ইটটাও খসে পড়েছে। নিউ জার্সির গ্যালারিতে হাজারো হলুদ জার্সি তখন আর ফুটবল দেখছিল না, তারা দেখছিল এক স্বপ্নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কেউ দুই হাতে মুখ ঢেকেছেন, কেউ চোখের জল লুকাতে ব্যর্থ। শূন্য দৃষ্টিতে মাঠের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। কষ্টের কান্নায় শেষ হলো তাদের বিশ্বকাপ মিশন। মাঠের মাঝখানে ব্রাজিলের ফুটবলাররা স্থির দাঁড়িয়ে, আর দূরে লাল জার্সিতে উল্লাসে মেতে উঠেছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের আগে যাদের নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, সেই নরওয়েই বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি হয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। আর হেক্সার স্বপ্ন—সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে রইল আর্লিং হালান্ডের মাথা আর বাঁ পায়ের নিচে।

    ২-১ গোলের এই হারেই শেষ হলো ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন। ৭৯ মিনিটে হালান্ডের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এরপর বাঁ পায়ের দুর্বার এক ভলিতে দ্বিতীয়বার আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেছে। টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে যে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ব্রাজিল, এবারও সেই গল্পই পুনরাবৃত্তি হলো।

    ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কথা ছিল, এবার লেখা হবে নতুন গল্প। যে গল্পে থাকবে নরওয়েকে প্রথমবার হারানোর গৌরব। কারণ, এর আগে দুই দলের দেখায় ব্রাজিল কখনোই জিততে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করার বদলে পুরোনো অভিশাপকেই আরও গাঢ় করল সেলেসাওরা। নরওয়ে আবারও ব্রাজিলের কাছে অজেয় রইল, আর বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    ব্রাজিলের পতনের বীজ অবশ্য বোনা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত। ১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ওরিয়ান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় নরওয়ে। এরপর ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেলি—একজনের পর একজন সুযোগ নষ্ট করেছেন। বিরতির আগেই অন্তত দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেও গোলশূন্য থেকে যায় ব্রাজিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভুলগুলোর মাশুল আরও স্পষ্টভাবে দিতে হয় সেলেসাওদের। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ দুটি পাস থেকে একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়েও এনদ্রিক গোল করতে পারেননি। প্রথমবার দুর্বল শটে, দ্বিতীয়বার ভারী টাচে নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। বড় ম্যাচে এমন ভুলের মূল্য যে কতটা নির্মম হতে পারে, সেটাই পরে বুঝেছে ব্রাজিল।

    কেবল ফিনিশিং নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোও ডুবিয়েছে সেলেসাওদের। বল দখলে এগিয়ে থেকেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তারা। ভুল পাস, ধীর বিল্ড-আপ আর রক্ষণে ট্রানজিশনের সময় বারবার ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়েছে নরওয়ে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের পেছনে তৈরি হওয়া সেই শূন্যস্থানেই বারবার ছুটে এসেছেন হালান্ড, নুসা ও সোরলোথ। নরওয়ের পরিকল্পনা ছিল সহজ—বল জিতো, দ্রুত সামনে যাও, আর গতির লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে দাও। সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে তারা।

    যাকে নিয়ে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য। প্রথমার্ধে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকা হালান্ড ধৈর্য হারাননি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে গ্যাব্রিয়েলকে হারিয়ে হেডে প্রথম গোল করেন। ঠিক ১১ মিনিট পর সেই শেলদেরুপের আরেকটি নিখুঁত পাসে বাঁ পায়ের ভলিতে দ্বিতীয় গোল করে হালান্ড জানিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। সেই এক ভলিতেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন।

    এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন সমানতালে আছেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। তিনজনের ঝুলিতেই এখন সাতটি করে গোল। তবে এই রাত শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়, এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেরও এক নতুন অধ্যায়।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ড। নরওয়ের নাম সেখানে খুব কমই উচ্চারিত হয়েছে। অথচ মাঠের ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, নাম নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই ইতিহাস লেখে। শৃঙ্খলা, গতি আর বিশ্বাস—এই তিন অস্ত্র নিয়ে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

    ব্রাজিলের জন্য এই বিদায় শুধু আরেকটি পরাজয় নয়। এটি টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে জমে থাকা অপূর্ণতার আরেকটি দীর্ঘশ্বাস। প্রতিভা ছিল, সুযোগ ছিল, তারকার অভাব ছিল না—অভাব ছিল চাপের মুহূর্তে নির্মম হয়ে ওঠার। ফুটবল বারবার একই শিক্ষা দেয়—ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে মাঠে নামা যায়, কিন্তু নতুন ইতিহাস লিখতে হলে সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতেই হয়। ব্রাজিল সেই পরীক্ষায় আবারও ব্যর্থ হলো।

    আর ভাইকিং রোরের বুক কাঁপানো স্লোগান দিতে দিতে নরওয়ে লিখে ফেলল এমন এক গল্প, যা বিশ্ব ফুটবল বহুদিন মনে রাখবে।

  • রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষটা যেন ধীরে ধীরে সামনে চলে এলো। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েই ফেলেছি।’

    রোনালদোর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে ছড়িয়ে থাকা এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

    আবেগঘন ঘোষণার পাশাপাশি নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতাও তুলে ধরেন রোনালদো। একটি বিমানের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটে আমি বুঝতে পারলাম একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আর্জেন্টিনার। ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বললাম- দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার।’

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড তাঁর দখলেই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর দেখা যাবে না রোনালদোকে—এমন ঘোষণা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে আবেগঘন এক মুহূর্ত। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি বড় অধ্যায়।

  • গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড,

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড,

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় বর্তমানে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তিনজনেরই গোলসংখ্যা ৭।

    মেসি এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি, জর্ডানের বিপক্ষে একটি এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি গোল করে নিজের গোলসংখ্যা সাতে উন্নীত করেন।

    অন্যদিকে এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল করেন। এছাড়া ইরাক, নরওয়ে ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি করে এবং সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনিও সাত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

    নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড ইরাকের বিপক্ষে দুটি, সেনেগাল, ফ্রান্স ও জাপানের বিপক্ষে একটি করে এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে যান।

    গোলসংখ্যা সমান হলেও ফিফার টাইব্রেকিং নিয়ম অনুযায়ী আপাতত এগিয়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কারণ গোল সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। এমবাপ্পের ঝুলিতে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট, যেখানে মেসি ও হালান্ড এখনো কোনো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান হলে কম সময় মাঠে থেকে বেশি গোল করা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হবে।

    এদিকে গোল্ডেন বুটের দৌড় থেকে এখনো ছিটকে যাননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। তার গোলসংখ্যা ৬। কোয়ার্টার ফাইনালসহ সামনে আরও ম্যাচ থাকায় একটি গোল করলেই তিনি আবারও শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারবেন।

    বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসে গোল্ডেন বুটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একদিকে শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামা মেসির সম্ভাব্য রূপকথা, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট জয়ের লক্ষ্যে এমবাপ্পে এবং প্রথম বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে হালান্ড। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার কার হাতে উঠবে, তা নির্ধারণ হবে নকআউট পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড ফ্রান্স কোচের

    ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও রয়েছে দিদিয়ের দেশমের। ১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচেই কোনও না কোনও নজির গড়ছেন। রোববার কোচ হিসেবে জোড়া নজির গড়েছেন ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। যা বিশ্বে আর কারও নেই।

    প্যারাগুয়কে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ফ্রান্স। কঠিন লড়াই করে জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। তাদের এই জয়েই নজির গড়েছেন কোচ দেশম। বলা যায়, ছাত্রদের সাফল্যে কোচের নজির। বিশ্বের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ১০টি ম্যাচ জিতলেন দেশম।

    পাশাপাশি আরও একটি নজির গড়েছেন দেশম। ভেঙে দিয়েছেন জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শনের রেকর্ড। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচ জিতেছেন ফ্র্যান্সের কোচ দেশম। শনের কোচিংয়ে জার্মানি বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল। অর্থাৎ রোববার থেকে ম্যাচ জয়ের নিরিখে দেশম হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম কোচ। একসঙ্গে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।

  • নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সব কটি ম্যাচে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু। আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ই দেখছে মিলু।

    ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের আগুয়ানিল পৌর শহরে মিলুর বসবাস। তার মালিক নাথান পিনেইরো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলের ম্যাচ নিয়ে মিলু ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ভিডিওতে এরই মধ্যে ৫৫ লাখ ভিউ হয়েছে।

    এমন তুমুল সাড়া মেলার পর মিলুর মালিক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে পর্দার পেছনের গল্প এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে কীভাবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা তুলে ধরেছেন পিনেইরো।

    মিলুর মালিক নাথান পিনেইরো দুটি একই রকম প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার রাখেন। সেখানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দুটি দেশের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর নাথান বাটি দুটির মাঝে মিলুকে ছেড়ে দেন। মিলু তখন সেই বাটিটিই বেছে নেয়, যেটির পতাকাবাহী দেশ ম্যাচটিতে জিতবে বলে সে মনে করে।

    মিলু যেন সব সময় ব্রাজিলের বাটিই বেছে নেয়, সে জন্য পাত্রগুলো নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে নাথান গোটা প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখানো হয়।

    বাটিগুলোয় খাবার দেওয়ার পর মিলুর মালিক নাথান সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন, ক্যামেরা ঠিক করেন এবং মিলুকে তার পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য ডাকেন। দৃশ্যটি প্রস্তুত করার সময় রেকর্ডিংয়ের শুরুতেই নাথানকে বলতে শোনা যায়, ‘যেন সবাই দেখতে পারে, এটা কীভাবে কাজ করে।’

    ভিডিওতে মিলুর মালিক উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এই বিড়ালের সাফল্যের হার শতভাগ। জাপান ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের ব্যাপারে মিলুর করা সব কটি ভবিষ্যদ্বাণীই মাঠে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

    ভিডিওর শেষে তিনি জানান, তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কাটছাঁট না করা (আনকাট) সংস্করণ প্রকাশ করবেন, যাতে অনুসারীরা পাত্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে প্রাণীটির বাটি বেছে নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    গুরুতর চোটের কারণে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত বদলে দেয় তাঁর সব ভাবনা। কন্যাসন্তান জন্মের পর নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি খুঁজে পান আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেস। অথচ মাত্র এক বছর আগেও হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অকপটে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এমনকি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম।’

    কন্যাসন্তানের জন্ম যেন মার্তিনেসের অন্ধকার সময়ে আলোর দিশা হয়ে আসে। এই প্রসঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘তারপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, আর সবকিছুই ভারসাম্যে ফিরে এল।’

    স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা মার্তিনেসের মানসিকতাই বদলে দেয়, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি এবং এর জন্য তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা দেখেছি। তখনই আমি নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি কীভাবে লড়াই চালিয়ে না যেতে পারি?’

    চোট কাটিয়ে যে দারুণভাবেই ফিরেছেন, চলমান বিশ্বকাপের সেটার প্রমাণ দিচ্ছেন মার্তিনেস। রক্ষণভাগে নিজের স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।

  • বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত, এক নজরে পুরো সূচি

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত, এক নজরে পুরো সূচি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশ পর্ব শেষে চূড়ান্ত হয়েছে শেষ ষোলোর লাইনআপ। কলম্বিয়ার জয়, আর্জেন্টিনা ও মিসরের নাটকীয় অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে নকআউটের পরবর্তী ধাপের সূচি। এবার শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকা ১৬টি দল মুখোমুখি হবে আরও কঠিন পরীক্ষায়।

    প্রথম ম্যাচেই কানাডার সামনে থাকবে মরক্কোর চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল লড়বে নরওয়ের বিপক্ষে, আর যৌথ আয়োজক মেক্সিকোর সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

    বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন মুখোমুখি হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটিতে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে আফ্রিকার প্রতিনিধি মিসরের বিপক্ষে, আর শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া।শেষ ষোলোর সূচি (বাংলাদেশ সময়)

    কানাডা বনাম মরক্কো
    হিউস্টন স্টেডিয়াম
    ৪ জুলাই, রাত ১১:০০

    প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স
    ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
    ৫ জুলাই, রাত ৩:০০

    ব্রাজিল বনাম নরওয়ে
    নিউইয়র্ক
    ৬ জুলাই, রাত ২:০০

    মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড
    মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
    ৬ জুলাই, সকাল ৬:০০
    পর্তুগাল বনাম স্পেন
    ডালাস স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, রাত ১:০০

    যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম
    সিয়াটল স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, সকাল ৬:০০

    আর্জেন্টিনা বনাম মিসর
    আটলান্টা স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, রাত ১০:০০
    ইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া
    বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার
    ৮ জুলাই, রাত ২:০০

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। একবার হারলেই বিদায়, আর জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে টানা কয়েকটি হাইভোল্টেজ লড়াই।

  • আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম্যাচে যত রেকর্ড

    আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম্যাচে যত রেকর্ড

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    নকআউট পর্বে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখলো বিশ্ব। কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দেকে বিদায় করার রাতে একের পর এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন ফুটবল জাদুকর। হয়েছে আরও অনেক রেকর্ড।২০: ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন তিনি।১২: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন মেসির মোট গোল অবদান ১২টি (৬ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট)। পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেকে টপকে গত ৬০ বছরের ইতিহাসে নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়লেন তিনি।

    ৮: বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৮টি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি।

    ৭+: প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ৭ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি (২০২২ এবং ২০২৬)। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৬।৭: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে গুইলারমো স্ট্যাবিলির এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (১৯৩০ সালে ৮ গোল) ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ১ গোল। আর দক্ষিণ আমেরিকান পুরুষ হিসেবে আদেমিরের রেকর্ড (১৯৫০ সালে ৯ গোল) ভাঙতে লাগবে ২ গোল।৫: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার মাইলফলক ছুঁলেন মেসি। হাঙ্গেরির গিয়র্গি সারোসি (১৯৩৪-৩৮) এবং ব্রাজিলের ভাভার (১৯৫৮-৬২) পর পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই নজির গড়লেন তিনি।

    ১০: নিজের শেষ ৬টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে সরাসরি ১০টি গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি (৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)।

    ১৪: বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর বিশ্বকাপে ১৪টি গোল করলেন মেসি। এই তালিকায় ৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। বাকি সব ৩৫+ বছর বয়সী ফুটবলাররা মিলে বিশ্বকাপে করেছেন মোট ২৫ গোল।

    ১৪: বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া ২২টি দলের মধ্যে ১৪টি দলের বিপক্ষেই গোল করার রেকর্ড গড়লেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

    ৩: ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে তৃতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা হলেন মেসি। তার আগে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর ১৪৭ দিন) এবং পেপে (৩৯ বছর ২৮৩ দিন)।

    ১: মেসির প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসিস্টের খাতা খুললেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ১০ম আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে মেসিকে অ্যাসিস্ট করলেন তিনি। ৪২.৫ মিটার দূর থেকে দেয়া এই পাসটি গত ৬০ বছরে কোনো আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের দীর্ঘতম অ্যাসিস্ট।

    ১: ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট- উভয় কীর্তি গড়লেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।

    ৩০ ও ১৩: বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ালেন মেসি। পুরুষ ফুটবলে প্রথম হিসেবে ৩০টি ম্যাচ খেললেন তিনি। পাশাপাশি নকআউটে এটি তার ১৩তম ম্যাচ।

    ১: নিজের ২৭তম জন্মদিনের আগের দিন কেপ ভার্দের হয়ে প্রথম নকআউট গোল করলেন ডেরয় দুয়ার্তে। প্রথম আফ্রিকান হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করলেন তিনি।

    ১০০: আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচ পূর্ণ করলেন লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে দলের রেকর্ড ৭৩ জয়, ১৮ ড্র ও ৯ হার, জিতেছেন ৪টি বড় ট্রফি।৫: ৪০ বছর ৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে ভোজিনহা চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে খেলা পঞ্চম ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় হলেন। ২০২৬ সালের আগে ইতিহাসে মাত্র দুজন এমন বয়সে নকআউট খেলেছিলেন।

    ১৮: ম্যাচে ৮টি সেভ করে মোট ১৮টি সেভ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে গোলকিপারদের তালিকায় তিনে আছেন ভোজিনহা।

    ৮: ২০১৪ সালে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর ভোজিনহার ৮টি সেভ কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের সর্বোচ্চ সেভ (এর মধ্যে ৫টি সেভ ছিল মেসির শট থেকে)।

    ৩: ম্যাচের ১১১ মিনিটে ডিনে বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার ৩য় লেটেস্ট (সবচেয়ে দেরিতে) গোল। ২০১৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ডি মারিয়ার (১১৮ মিনিট) গোলের পর এটিই তাদের সবচেয়ে দেরিতে পাওয়া গোল।

    ৫৩: ২০২৬ বিশ্বকাপে সেট পিস থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩টি গোল হয়েছে, যা ১৯৬৬ সালের পর একক কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

    ১২: বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে এ নিয়ে ১২টি ম্যাচ জিতলো আর্জেন্টিনা। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে এটিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত সময় জয়ের রেকর্ড।

  • বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে একটি খেলাকে ঘিরে এতো আলোচনা আর কখনও হয়েছে—এমনটা জানা নেই। এটা এমনই এক লড়াই যা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ বা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। একদিকে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলের অবিসংবাদিত পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। যারা এই প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখে ইতিহাস গড়েছে। ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি হলো অভিজ্ঞতা আর এক নতুন স্বপ্নের রোমাঞ্চকর লড়াই। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এটি আকাশ-পাতাল তফাৎ। দুই দলের অভিজ্ঞতা যোগ করলে মনে হবে—একপাশে রয়েছে হিমালয় পর্বত, আর অন্যপাশে ছোট মাটির ঢিবি। আর্জেন্টিনার এটা ১৮তম বিশ্বকাপ। মোট তিনবার তারা বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে একশটিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের। অনেকেই কেপ ভার্দেকে পুঁচকে বলে বর্ণনা করছেন। তারাই এখন বলছেন, এই লড়াই হতে যাচ্ছে মহাশক্তি বনাম এক রূপকথার। মায়ামি স্টেডিয়ামে কী হবে তা নিয়েই যত হিসেব-নিকেশ। পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তারা কয়েকবার চমক দেখিয়েছে বটে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের একেবারেই নেই। পরিসংখ্যানের এই বিশাল ব্যবধান আর্জেন্টিনাকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। তাই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মানসিক দিক থেকে তারা বেশ চাঙ্গা। আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের এই লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ভৌগোলিক ও ফুটবলীয় ইতিহাস।

    আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ধর্ম মনে করে। ম্যারাডোনা ও মেসির মতো কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের ফুটবল মূলত পর্তুগালের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। একসময় কেপ ভার্দের সেরা ফুটবলাররা পর্তুগালের হয়ে খেলতেন। পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার নানির (Nani) জন্ম এই কেপ ভার্দেতেই। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একজন সেরা ফরওয়ার্ড ছিলেন। গত এক দশকে নিজেদের ফুটবলকে নতুন করে সাজিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। প্রবাসে থাকা প্রতিভাদের একত্র করেছে। কেটেছে বিশ্বকাপের টিকিট। আর্জেন্টিনার আভিজাত্যের বিপরীতে কেপ ভার্দের এই উঠে আসার গল্প ফুটবল ভক্তদের চোখে পানি এনে দেয়। কেপ ভার্দে- আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো হিসেবেই মিল নেই। আর্জেন্টাইন শিবিরের মোট বাজার মূল্য বিলিয়ন ডলারের ওপরে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের পুরো দলের মূল্য যে কোনো একজন বেঞ্চের খেলোয়াড়ের মূল্যের চেয়েও কম। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে রয়েছেন বিশ্বসেরা তারকারা। যারা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। সেখানে কেপ ভার্দের ভরসা তাদের অধিনায়ক রেকর্ড গোলদাতা রায়ান মেন্দেসের মতো সৈনিক। এছাড়া ইউরোপের মাঝারি সারির ক্লাবে খেলা কিছু লড়াকু ফুটবলার।

    গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বাড়তি শক্তি কেপ ভার্দের। ভোজিনিয়াকে চীনের গ্রেটওয়ালের সঙ্গে তুলনা করা হয়। চল্লিশ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক মেসিদের গোলার মতো শটগুলো কীভাবে রুখে দেন, তাই দেখার বিষয়। তাদের অবশ্য হারাবার কিছু নেই। জয়ের আকাঙ্ক্ষা আছে। রয়েছে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। আমরা সবাই জানি, ফুটবলের নিষ্ঠুর সত্য হচ্ছে—আবেগ দিয়ে জয় পাওয়া যায় না। আর্জেন্টিনার মতো দলের রক্ষণভাগ তছনছ করা প্রায় অসম্ভব। আর সেখানে যদি মেসির পায়ে বল থাকে—তাহলে তো কথাই নেই। আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে পরিষ্কার হট ফেভারিট। কেপ ভার্দেকে নিয়ে আবার অনেকেই আত্মবিশ্বাসী। মঙ্গলবার ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ভিয়েতনামী সাংবাদিক ত্রুং-এর সঙ্গে কথা হয়। যিনি ছয়টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। তার মতে, কেপ ভার্দে যদি প্রথম ২০ মিনিট গোল না খেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাতেই একটি মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হবে বিশ্ব ফুটবল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ  ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ইরানি অধিনায়কের, কেউ আমাদের সাহায্য করছে না

    ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি তার দেশের বিশ্বকাপ অভিযানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় ড্রয়ের পরও ইরানকে এখন শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। ম্যাচ শেষে তারেমি বিশ্বকাপের ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে একটি বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন। শুক্রবারের ম্যাচ শেষে তারেমি ও তার সতীর্থদের যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে উড়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। প্রথমে টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটির বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাঅঙ্গরাজ্যের টুকসনে হওয়ার কথা থাকলেও, মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে তারা বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য আটলান্টিক।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। ইরান দল এবং তাদের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বারবার জটিলতার মুখে পড়েছেন। তারেমির অভিযোগ, পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রতিশ্রুতি ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

    তারেমি সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি বিপর্যয়কর বিশ্বকাপ; পুরোপুরি একটি বিপর্যয়। ফিফার এখানে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা শুরু থেকেই কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর মি. ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটা তো কেবল শুরু…’।

    তারেমি আরও বলেন, আমাদের লজিস্টিক কর্মীরা এখানে নেই। তারা ভিসা পাননি। এটা কীভাবে সম্ভব যে আমাদের প্রতিবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। আমরা মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। কিন্তু একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে, একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় এভাবে খেলাটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের মতে, এটা মোটেও ন্যায়সংগত নয়। ফিফার কাছে যদি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের কাছে নয়। আসলে আমাদেরকে কে সাহায্য করতে চায়? যদি তারা চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিই, তাহলে ঠিক আছে, আমরা বিদায় নেব। কিন্তু এটা ন্যায়সংগত নয়। আমাদের পুনর্বাসন (রিকভারি) বিশেষজ্ঞ নেই, লজিস্টিক কর্মীও নেই, যারা আমাদের সাহায্য করবে। আমরা সব সময় এসব বিষয়ে অভিযোগ করি, কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করে না, কেউই না।

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকো সিটিতে দেয়া বক্তব্যে গিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে নিজেই বাস চালিয়ে দলটিকে বিশ্বকাপে নিয়ে আসতেন। মিশরের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করা তারেমিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার কি মনে হয় ইরানকে এই টুর্নামেন্টে স্বাগত জানানো হয়নি? জবাবে তিনি বলেন, এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ আসলে কী চায়, আমি জানি না। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, তারা সম্ভবত এটাই চায়। ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে, এটা কীভাবে সম্ভব?

    মিশরের বিপক্ষে শুক্রবারের ড্রয়ের ফলে ইরান গ্রুপ জি’তে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য শনিবারের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর ফল তাদের অনুকূলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। যদি গ্রুপ জে’তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ড্র করে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। ক্রোয়েশিয়া হারিয়েছে ঘানা’কে। ফলে ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

  • দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    কিছু মানুষের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল মানে পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখা। নিজের জীবনের সঙ্গে কিছু মুহূর্তকে চিরস্থায়ী করে রাখার নাম। তপন চৌধুরীর গল্প তেমনই।

    ব্যবসায়িক পরিচয়ে তিনি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘ পথচলা। গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসবের বাইরে আরেকটি দিক আছে, যা তাকে আলাদা করে। তপন চৌধুরী বিশ্বকাপ ফুটবলের এক নিবেদিত পথিক।

    তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকো থেকে। সেই সময় মেক্সিকো নিয়ে নানা আতঙ্ক ছিল। পরিচিতরা বলেছিলেন, সাবধানে থাকতে, পরিস্থিতি নাকি খুব ভালো নয়। চারদিকে ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। ভয় তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধু ফকির মাহবুব আনামকে (বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ) উড়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ দেখতে।

    সেই সময়ের হিসাবেই একেকজনের খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮শ মার্কিন ডলার। থাকা, খাওয়া, খেলা দেখা সব মিলিয়ে। তারা দেখেছিলেন সাতটি ম্যাচ। কিন্তু খেলার ফলের চেয়ে বেশি মনে গেঁথে আছে স্টেডিয়ামের বাইরের পৃথিবী।

    তপন চৌধুরী এখনও মনে করতে পারেন সেই দিনটির কথা, যেদিন দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    তিনি বলছিলেন, সেদিন পুরো মেক্সিকো যেন উৎসবে ভেঙে পড়েছিল। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন। তিনি আর তার বন্ধুও সেই জনসমুদ্রে মিশে গিয়েছিলেন।

    তারপর হোটেলে ফিরে টেলিভিশনে দেখলেন আরেক গল্প, ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হাতের গোল। মাঠে বসে তারা কেউই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে।

    তারপর শুরু হয় এক দীর্ঘ বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৯৯০–এ দেখেছেন রোমের সেই রাত। যেখানে ফুটবলের রাজা ম্যারাডোনা কাঁদলেন, আর জার্মানি ট্রফি তুলল।

    ১৯৯৪–এ দেখেছেন আমেরিকার গরমে বদলে যাওয়া ফুটবলের ভাষা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে ইতালির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য।

    ১৯৯৮–এ প্যারিসে দেখেছেন তরুণ এক ফরাসি দলের উত্থান। যখন পুরো স্টেডিয়াম জিদানের নামে কাঁপছিল।

    ২০০২–এ এশিয়ার আকাশের নিচে দেখেছেন ব্রাজিলের পুনর্জন্ম। রোনালদো যেন হারানো সময় ফিরে পেয়েছিলেন।

    ২০০৬–এ দেখেছেন বার্লিনের ফাইনাল। এক মহাতারকার বিদায় ফুটবলকে বিষণ্ন করেছিল।

    ২০১০–এ দক্ষিণ আফ্রিকার রাতজাগা ভুভুজেলা আর স্পেনের ধৈর্যের ফুটবল তাকে নতুন এক সৌন্দর্য চিনিয়েছিল।

    ২০১৪–তে রিওর উৎসব আর তার মাঝেই দেখেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ভাঙনের একটি। ব্রাজিল–জার্মানির সেই ম্যাচ। তিনি বলছিলেন, প্রথম গোল খাওয়ার পরই তার মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঠিক নেই। ব্রাজিল যেন নিজের ছায়াকেও চিনতে পারছিল না। বিরক্ত হয়ে পাশে বসা মানুষদের বলে ফেলেছিলেন, “আজ ব্রাজিল সাত গোল খাবে।” মিনিটের পর মিনিট যেন সময় থেমে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ড বদলাচ্ছিল, মানুষ বদলাচ্ছিল। একসময় আর গোল গোনা হচ্ছিল না, গোনা হচ্ছিল স্তব্ধতা। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের চোখে পানি, মুখে অবিশ্বাস। কেউ পতাকা দিয়ে মুখ ঢেকেছে, কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে।

    তিনি বলছিলেন, জীবনে এত খেলা দেখেও কোনো দেশের ফুটবল হৃদয়কে এভাবে ভেঙে যেতে দেখেননি। যখন সপ্তম গোল হলো, পাশে বসা এক ইতালিয়ান ভদ্রলোক বারবার তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, এ মানুষটা কি সত্যিই আগেই জানত।

    তপন চৌধুরী হাসতে হাসতে বলেন, “আমি জ্যোতিষী ছিলাম না। শুধু মনে হয়েছিল ব্রাজিল সেদিন আর মাঠে ছিল না।”

    ২০১৮–তে দেখেছেন নতুন প্রজন্মের উত্থান।

    আর ২০২২–এ কাতারের সেই রাত, যেখানে ফুটবল যেন এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে লিওনেল মেসি ট্রফি তুললেন, আর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু একটা ম্যাচ দেখেনি। দেখেছিল সময়কে পূর্ণ হতে।

    বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক এরপরও থামেনি। এবারও তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। এটা হবে তার দশম বিশ্বকাপ। একসময় প্রায় প্রতি আসরেই তার সঙ্গে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা পরিবারের কেউ না কেউ থাকত। বিশ্বকাপ ছিল পরিবারেরও উৎসব।

    এবার যাত্রার আগে একটি অনুপস্থিতি তাকে অন্যরকমভাবে স্পর্শ করছে। তার ছেলে ড্যানি আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তাকে। কথা বলতে বলতে থেমে যান তপন চৌধুরী। বলেন, ছেলেটাকে খুব মিস করেন।

    হয়তো এবারও যাওয়ার কথা ছিল। বাবা–ছেলে একসঙ্গে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতেন। গোল হলে উঠে দাঁড়াতেন, ছবি তুলতেন, তর্ক করতেন, ফিরে এসে রাতভর আলোচনা করতেন। এখন সেই আসন খালি।

    বিশ্বকাপ থেমে থাকে না। জীবনও না। তপন চৌধুরী আবার যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে। এবার তার ব্যাগে থাকবে শুধু টিকিট আর পাসপোর্ট নয়, থাকবে ১৯৮৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অসংখ্য ফাইনালের আলো, হাজারো গ্যালারির শব্দ, আর এক না–ফেরা সঙ্গীর জন্য গভীর, নীরব এক অপেক্ষা।

  • নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্র। এসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরই মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে তারা। পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। এ দুই জয়ে সর্বোচ্চ ছয় পয়েন্ট তুলে নকআউটে উঠেছে মেক্সিকো। তাই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ভার হয়ে খেলবে তারা। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে ম্যাচটি জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে দলটি।
    অপরদিকে এখনো নকআউটে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় তাদের। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট অর্জন করে তারা। নকআউট পর্বে খেলতে হলে মেক্সিকোকে হারানোর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। এর আগে ২০০০ মেক্সিকো এবং চেক প্রজাতন্ত্র একটি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। ওই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। এবার জয়ের ছন্দ ধরে রাখবে চেক প্রজাতন্ত্র, নাকি প্রতিশোধ নেবে মেক্সিকোÑসেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও হাইতি। এ ম্যাচে নকআউট পর্বের খেলার সমীকরণ মেলাতে চাইবে মরক্কো। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে তারা (১-০ গোলে)। গ্রুপে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (ব্রাজিলের কাছে ৩-০ আর স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির। কোনো কিছু হারানোর নেই বলেই মরক্কোর সামনে নির্ভার থাকবে হাইতি।
    গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ম্যাচে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তারা, সেটি বার্তা দিল- আরো শক্তিশালী হয়ে এসেছে তারা। তাই হাইতির জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষারই হতে যাচ্ছে। তাদের রক্ষণভাগের জন্য মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি বড় আতঙ্কের নাম হতে পারেন। কেননা ব্রাজিল ম্যাচে ২১ মিনিটে সাইবারির গোলেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ৭০ মিনিটে গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই তরুণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০১টি পাস আদান-প্রদান করে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের রেকর্ড গড়েছে মরক্কো। হাইতি ম্যাচেও যে তারা দাপট দেখাতে চাইবে, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আগের দুই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে হাইতি। কোনো কিছু না হারানোর মানসিকতা নিয়েই মরক্কোর ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলটি। শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার লক্ষ থাকবে তাদের। এর আগে মরক্কো ও হাইতি কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম দেখা হচ্ছে দুদলের। দুরন্ত মরক্কোর চেনা ছন্দের জয় নাকি হাইতির শেষ চমক- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফিফা!

    মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফিফা!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)। ফিফা ও রেফারিদের সৌজন্যে নাকি একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার সুপারস্টার। এমন অভিযোগ অনেকের।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেও মেসিকে নিয়ে বতর্ক চলছেই। তার গোল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এবার আঙুল উঠছে ফিফার দিকেও।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেও গোল করেন মেসি। সেই গোলে মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভাঙেন মেসি। কিন্তু সেই গোল নাকি এক ফাউলের ফসল, এমনটাই অভিযোগ অনেকের।

    তাদের দাবি, অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার জাভের শ্লাগারকে ফাউল করে তার কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার। তিনি পাস বাড়ান মেসিকে। লিওনেল বল বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনাকে। প্রান্ত থেকে বক্সে বল বাড়ান মেদিনা। চলতি বলে গোল করেন মেসি।

    অভিযোগ, অস্ট্রিয়ার ফুটবলাররা ফাউলের আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।

    এ প্রসঙ্গে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ও ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক পিটার স্কিমিশেল বলেন, ‘ম্যাকঅ্য়ালিস্টার পরিষ্কার ফাউল করেছিল। মেসি বল পাওয়ার আগেই রেফারির বাঁশি বাজানো উচিত ছিল। কিন্তু চোখ বন্ধ করে থাকছে রেফারি। মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’

    স্কিমিশেলের এই অভিযোগের পরে অনেকেই তাকে সমর্থন করেছেন। তাদের অভিযোগ, এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মেসির সঙ্গে পক্ষপাত করা হচ্ছে। ফিফা যেন ঠিক করে নিয়েছে, আবার মেসিকে বিশ্বকাপ দেওয়া হবে।

    এর আগে আলজেরিয়া ম্যাচে মেসির একটি ফাউল নিয়ে বিতর্ক হয়। আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্ডিকে পেছন থেকে ফাউল করেন মেসি। রেফারি ফাউল দিলেও মেসিকে কোনও কার্ড দেখাননি। অনেকের দাবি, মেসিকে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল। এই বিষয়ে ফিফায় অভিযোগও করেছে আলজেরিয়া। পরের ম্যাচে আরও একটি ফাউল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও একটি ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার কনরাড লাইমারকে পিছন থেকে মারেন মার্তিনেজ। লাল কার্ডের আবেদন করে অস্ট্রিয়া। কিন্তু রেফারি কোনও কার্ড দেখাননি। ফলে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। তবে এই বিষয়ে ফিফা কোনও মন্তব্য় করেনি।

  • বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।

    মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা। একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।

  • মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু হবে; প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু হবে; প্রধানমন্ত্রী

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি চাই শুধু প্রাইমারি স্কুল না এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আমরা সেকেন্ডারি স্কুলে শুরু করবো। কাজেই তোমাদের ওয়েল প্রিপেয়ার্ড হতে হবে।

    শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেলাধুলা নয় এর পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই কিন্তু আমরা সুন্দর ও স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারবো।

    তিনি বলেন, আজকে ফুটবল ওর্য়াল্ডকাপ হচ্ছে। এখানে মেসি, রোনালদো ও এমবাপ্পে খেলছে, তোমাদের মধ্য থেকে এমন খেলোয়াড় তৈরি হতে হবে। আমরা এইম করছি, অলিম্পিকে আমাদের রেজাল্ট যেনো ভালো হয়।

    খেলা ছাড়লে হবে না। যে যে খেলা পছন্দ করবে সে সেই খেলা করতে হবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশকে একটা স্ট্রং বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি ফেমাস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের বলছি, তোমাদের শুধু খেললে চলবে না, তোমাদের মধ্যে অনেকেই আছো অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যত

    আগামীর বাংলাদেশ তোমাদেরকেই চালাতে হবে। আমরা তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের চেয়ে ভালোভাবে তোমাদের বাংলাদেশ চালাতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজকদের আমি বলবো আপনার গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এই খেলাকে যেনো তারা গিনেসবুকে দিতে পারেন।

    তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বে আমাদের ক্রিকেট টিমকে চেনে। তেমনি ফুটবল দিয়েও সারা বিশ্বের মানুষ আমাদের চিনবে। অন্যান্য খেলা দিয়েও চিনবে ইনশআল্লাহ। সারা বিশ্বের অ্যাম্বাসেডর হবে তোমরা। সবকিছু দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে। আমরা যারা বড় আছি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি আমাদের থেকে ডাবল, ত্রিপল এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে দেশকে। আমরা যখন ছোট ছিলাম এতো সুন্দর খেলতে পারতাম না। এখন কাজ হলো লেখাপড়া করতে হবে। শুধু লেখাপড়া করলেও হবে না। শুধু খেললেও হবে না একই সঙ্গে কালচারাল অ্যাক্টিভিসসহ সব চর্চা করতে হবে।

    আজকে এখানে যারা জিতেছে, রানার্সআপ হয়েছে তাদের আমাকে কনগ্রাচুলেট জানাতে হবে। আমি কনগ্রাচেলেট করতে চাই পুরো ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে। একই সঙ্গে শিক্ষক-অভিভাবকে কনগ্রাচেলেশন জানাই।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’‘মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’

    প্রশ্নটা করা হয়েছিল আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজাকে। এই প্রশ্ন শুনে মাজা স্বভাবসুলভ হাসিটাই দিলেন। সাধারণ কীভাবে অসাধারণ হয়ে ওঠে সেটাকে না হয় ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু অসাধারণকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে সে? মেসির পক্ষ-প্রতিপক্ষ যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। সেই প্রশ্নের উত্তর মাজাও দিলেন একইভাবে, “মেসি-জাদু। এর ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। ম্যাচটা দেখলেই বুঝবেন ‘মেসি-জাদু’ বলতে কী বোঝায়। আজ যেমন দেখলেন, সে একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।”

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে কয়েকটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। যার মধ্যে একটি হলো- বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসানো। মেসির গোল ১৫টি, আর একটি হলেই এককভাবে বসবেন সিংহাসনে। তবে মেসির এসব নিয়ে আগ্রহ নেই। সেটা জানিয়ে গেলেন ম্যাচ শেষে হাতে ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ট্রফি নিয়ে, ‘সত্যি বলতে, এই রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবছি না। ক্লোসের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সম্মানের। ব্রাজিলের রোনালদোও আছেন সেখানে। এমবাপ্পেও আছে, সে আজ দুটি গোল করেছে। শেষ পর্যন্ত এগুলো কেবল পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’

    এ কথা যেন মুহূর্তেই বিস্ময় জাগিয়ে দিল ভরা মজলিসে! বিস্ময়ের সমুদ্রে ডুবে থাকা সাংবাদিকের প্রশ্ন তাই ছুটে গেল মেসির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলের দিকে, ‘মেসি কি আসলেই এসব রেকর্ড নিয়ে ভাবেন না?’ ডি পল জবাব দিলেন হাস্যরসে, ‘সে এসব নিয়ে মাথাই ঘামায় না। তার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এসব মনে করিয়ে দিলেও সে এসব নিয়ে ভাবে না। এটা কীভাবে সম্ভব, আমি জানি না।’

    মেসি বলেই তো সম্ভব। রেকর্ড তো মেসির পায়ে লুটিয়ে পড়েছে যুগ-যুগান্তর। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে খুদে জাদুকরের কীর্তিগাথা জেনেছে, তিনি কেন এসব নিয়ে ভাববেন? তিনি তো শুধু উপভোগ করতে চান ফুটবলটাই আর বিস্মিত করতে চান সতীর্থ-প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বকে। যে কারণে ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে উল্লাসধ্বনি তোলেন কিংবদন্তির নামে। ভালোবাসায় আপ্লুত মেসির দুই হাতও জবাবী হয়ে ওঠে অভিবাদনে!

    মেসি, যার কীর্তিগাথায় ডুবে থাকেন সাইডলাইনে দাঁড়ানো স্কালোনি। আবেগে ভেসে যায় দুকূল! অবলীলায় স্বীকার করে নেন সাধারণ অথচ অসাধারণত্বের চিরন্তন বাণী, ‘এ নিয়ে বলার মতো কোনো ভাষা নেই। আমি যা-ই বলি, তা কম হয়ে যাবে। সে ২০ বছর ধরে এমনই করে আসছে। ফুটবলপ্রেমীরা ঠিক এটাই দেখতে চায়।’আর কতদিন এ জাদুতে ফুটবলপ্রেমীদের মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারবেন মেসি? প্রশ্নের উত্তর তোলা থাক জাদুকরের মহাকাব্যের শেষ উপাখ্যানের জন্যেই।

  • এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    মঙ্গলবার রাতটা (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের অন্য রাতের মতো ছিল না। এ রাতে পৃথক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নতুন প্রজন্মের দুই তারকা- কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ড। নিউইয়র্ক, বোস্টন থেকে তারা যখন ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রান্তে কানসাস সিটিতে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসির দিকে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুনদের উদ্দেশে মেসি যেন সেই চিরাচরিত বার্তাটিই দিলেন- ‘সেরা হতে চাইলে আগে সেরাকে হারাতে হবে।’

    কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এম্বাপে। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন হলান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার আসনটি দখল করতে নতুন প্রজন্মের এই দুই নক্ষত্র প্রায় প্রস্তুত।

    গোলের পর এম্বাপের উদযাপন। ছবি: এএফপি

    কয়েকদিনের মধ্যে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি কিংবা ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনেকেই অতীতের অধ্যায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। এমন সময়ে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিক করে মেসি যেন নিজের দাপটের কথা আরেকবার জানান দিলেন।

    প্রথমে তিনি বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার তালিকায় এম্বাপেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ১৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে ওঠেন। সেখানে তাঁর সঙ্গী জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে। আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। তিনিই এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।

    ম্যাচে লিওনেলের প্রথম গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেই গোলটি ছিল অসাধারণ এক শট, যা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেবে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বাড়ানো একটি থ্রু বল পেয়ে মেসি বক্সের দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে ঘিরে ধরতে এগিয়ে আসেন পাঁচজন আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার। ঠিক তখনই তিনি বাম দিকে এক পা সরিয়ে জোরালো শট নেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই শট গোলরক্ষক লুকা জিদানের আঙুল ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

    গোলটির পর অনেক দর্শকের মনেই দোলা দেয়- ‘এটাই যেন সেই চিরচেনা মেসি। সেই জাদুকর মেসি’।

    দ্বিতীয় গোলের শট নিচ্ছেন মেসি। ছবি: এএফপি

    মেসি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১৫ মিনিট পর। তখন তাঁকে দেখা যায় বার্সেলোনার সেই ‘সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার’ রূপে। বক্সের প্রায় ৩০ গজ বাইরে থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জোরালো শট নেন। বলটি সোজা আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের দিকে গেলেও শটের গতি সামলাতে পারেননি। বল ছিটকে বেরিয়ে আসতেই তা লুফে নেন মেসি। আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারের অসতর্কতার কারণে অনসাইডে থাকা মেসি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল এমন এক কিংবদন্তির গোল, যিনি এখনো পায়ের মতোই মস্তিষ্ক দিয়ে খেলেন।

    তৃতীয় গোলটি যেন প্রথম দুই গোলেরই আরেক রূপ। ততক্ষণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চাপে বিধ্বস্ত। ফলে ওই সময় বক্সের কিনারায় কেউই আর মেসিকে মার্ক করতে যাননি। উইং থেকে নিকো গনজালেসের বাড়ানো পাসটি মেসির পেছনের দিকে ছিল। কিন্তু ক্লান্ত আলজেরিয়ান ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করার কোনো তাড়াহুড়োই দেখাননি। সে সুযোগে মেসি পা বাড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, অর্ধেক ঘুরে নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণে। সেখানেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

    আগের ম্যাচগুলোতে কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মহাতারকা লিওনেল মেসির কাছে থেকেও একই মানের কিছু দেখার প্রত্যাশা ছিল সবার। ফ্রান্সের হয়ে এম্বাপের জোড়া গোল সামর্থ্যের পুরো ঝলক দেখিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় গোলটিতে ফুটে ওঠে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

    প্রথম ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ছবি: এএফপি

    অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন হলান্ড। প্রথমে নিখুঁত এক ক্রসে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়ের হয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর ইরাকের এক ডিফেন্ডারের ঢিলেঢালা ব্যাকপাসে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের আগে বল দখলে নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জেতে।

    বিশ্বকাপের এমন এক রাতে যখন একের পর এক তারকা আলো ছড়াচ্ছিলেন, তখন অনেকেরই মনে হচ্ছিল বিশ্ব ফুটবলে নেতৃত্ব বদলের সময় বোধহয় এসে গেছে। মেসি ও রোনালদো এত দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছেন যে, নিজেরাই তাদের উত্তরসূরির উত্থান-পতন দেখেছেন। এবার তারা দুজনই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন।

    তবে এম্বাপেকে অনেকেই মেসি-রোনালদোর প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে দেখেন। অপরদিকে হলান্ড নিজেকে বিশ্বের সেরা ও নিখুঁত স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

    কিন্তু কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে যখন মেসি মাঠ ছাড়েন এবং দর্শকদের বজ্রধ্বনির মতো করতালিতে বিদায় নেন, তখন তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন- এম্বাপে, হলান্ড কিংবা অন্যরা হয়তো তারকা, কিন্তু ফুটবল নামের এই মহাবিশ্ব এখনো সেই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যে সূর্যের নাম লিওনেল মেসি।

  • যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।

    অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

    এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড় ফ্যাশন কোলাবোরেশনে।

    ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে।

    পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লোয়েভে’ (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘বোগি মিলানো’ (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া।

    ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র‍্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

    একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাপ’ (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে ‘আর্বান আউটফিটার্স’-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে।

    স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

    স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

    জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

    এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ।

    একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা।

    এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।

  • যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    নারী ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের জন্য স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দেশটি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে একটি চুম্বন—যে চুম্বন শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করেনি, বরং স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে এক অভূতপূর্ব সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

    সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্র ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’। কী আছে এই তথ্যচিত্রে

    বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ থেকে বিতর্কের ঝড়
    ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সেই সময় তিনি স্পেনের তারকা ফুটবলার হেনি হেরমোসোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনাটি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে হেনি হেরমোসো জানান, ওই চুম্বন তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তিনি সেটি পছন্দ করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি।

    ‘সে আকাবো’—এক আন্দোলনের জন্ম
    স্প্যানিশ ভাষায় ‘সে আকাবো’ অর্থ—‘এবার শেষ’ বা ‘আর নয়’। স্পেন দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা ঘোষণা দেন, ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে তাঁরা জাতীয় দলে ফিরবেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ‘সে আকাবো’ হ্যাশট্যাগ। কেবল ফুটবলার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ, জাতিসংঘ, স্পেন সরকার এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

    একটি চুম্বনের ঘটনা ধীরে ধীরে নারীদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

    ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

    কী দেখায় তথ্যচিত্রটি?
    তথ্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেনি হেরমোসো, অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস, আইতানা বোনমাতি, ওলগা কারমোনা, ইভানা আন্দ্রেস প্রমুখ। তথ্যচিত্রে শুধু বিতর্ক নয়, বিশ্বকাপ জয়ের আগের অস্থির সময়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, বিশ্বকাপ অভিযানের সংগ্রাম এবং পরবর্তী আন্দোলনের নেপথ্যের গল্পও উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রে ফুটবলারদের অনেকেই বলেছেন, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছিল।
    দলের অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেস বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করেছি, এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের গল্পটা অন্য কেউ দখল করে নিল।’

    পরিচালকের ভাষ্য
    তথ্যচিত্রটির পরিচালক হোন্না পারডোস বলেছেন, খেলোয়াড়েরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয় বরং এমন এক সময়ের দলিল, যা স্পেনের ক্রীড়া ও সামাজিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

    রুবিয়ালেসের পতন
    চুম্বন-কাণ্ডের পর রুবিয়ালেস প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
    ঘটনাকে ঘিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন তাঁর মা স্থানীয় একটি গির্জায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে রুবিয়ালেস তাঁর পদ হারান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও নিষিদ্ধ হন।

    শুধু ফুটবল নয়, সমাজের গল্প
    তথ্যচিত্রটি মূলত একটি ফুটবল নিয়ে হলেও এর পরিধি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
    এটি এমন এক ঘটনার গল্প, যেখানে বিশ্বকাপজয়ী নারীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যও লড়াই করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন কীভাবে গোটা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাসই তুলে ধরবে নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্র।

  • ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    গত বছরের অক্টোবরে কানাডার টরন্টোতে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রিমিয়ার হয় ‘শেকড়’ সিনেমার। সে সময় নির্মাতা প্রসূন রহমান জানিয়েছিলেন, কোনো এক ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এই কোরবানির ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। শুরু করেছিলেন প্রচার। দুটি গান ও ট্রেলার প্রকাশ করেও সরে আসেন প্রসূন রহমান।

    শিগগির শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলবে এ উন্মাদনা। এ সময়টিকেও সিনেমা মুক্তির জন্য ভালো সময় মনে করছেন না প্রসূন। তাই এই নির্মাতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেবেন তিনি। প্রসূন রহমান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল, এই ঈদে শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। কিন্তু একসঙ্গে অনেক সিনেমার সমারোহ দেখে নিজেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। সুস্থ প্রতিযোগিতায় আমার অস্বস্তি নেই, কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ে আমার অস্বস্তি হয়। পাশাপাশি মনে হয়েছে, শেকড়ের মতো পারিবারিক আবেগনির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য একটু নিরিবিলি সময়ই বেশি উপযুক্ত। আমরা চাই, দর্শক তাড়াহুড়া বা কোলাহলের মধ্যে নয়, একটু স্থির হয়ে সিনেমাটি দেখবেন।’

    নির্মাতা প্রসূন আরও বলেন, ‘ঈদে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর আবেদন শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে যাচ্ছে।‌ ঈদের আমেজ এবং বিশ্বকাপ ফুটবলের এই দারুণ মৌসুমটি শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আমরা শেকড় নিয়ে আসব।’

    শেকড় সিনেমায় উঠে এসেছে মানুষ ও মাটির চিরন্তন সম্পর্কের গল্প। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও আবার সেই শেকড়ের সন্ধান, পেছনে ফেলে আসা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের প্রাণান্তকর চেষ্টার গল্প থাকছে এই সিনেমায়।

    শেকড় সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম ও আইশা খান। আরও আছেন দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা, শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়াসহ অনেকে।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে। এতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগেরবারের চেয়ে এবার খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রথমে বিষয়টির নীতিগত অনুমোদন হয়। এরপর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় বৈঠকেই সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এ আসর। এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, বিটিভিতে বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর জন্য সব ধরনের স্বত্ব কেনা হচ্ছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে হিসাব করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ঠিক করেছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), করসহ এতে মোট খরচ হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ফলে কোনো ধরনের কেব্‌ল নেটওয়ার্ক বা স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিটিভিতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আগের বারের অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচারস্বত্ব কিনতে বিটিভি অনেক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। সেবার এ স্বত্ব কেনা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকায়। বিটিভির কাছে তা বিক্রি করেছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি।

  • সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা

    সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা

    চলমান যুদ্ধ ও চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলার মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

    হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ জানিয়েছিলেন, স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা তখনও মার্কিন ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতেই এই ভিসা মঞ্জুর করা হয়।

    তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই খবর নিশ্চিত করে আঙ্কারার মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

    তবে ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হলেও দলটির কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মীদের কিছু সদস্যের ভিসা এখনও মার্কিন প্রশাসন ইস্যু করেনি। এই বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এইবারের ফুটবল বিশ্বকাপকে একটি ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত করেছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছে যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত। ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান যথাসম্ভব সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে তেহরান শেষ মুহূর্তে তাদের ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তরিত করেছে।

    রোববার (৭ জুন) ভোরে দলটির টিজুয়ানাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের খেলা শুরু করবে। একই গ্রুপে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং মিশর।

    মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ জানান, যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা ইরানি দলকে তাদের মাটিতে চায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বকাপের প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেবে না ওয়াশিংটন। এই কড়াকড়ির কারণে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি পাননি।

    যুদ্ধে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে শান্তির বার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান। রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ মন্তব্য করেছেন, শত্রুর মাটিতে গিয়েও বিশ্বকাপে ইরানের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারা শান্তি চায়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বিটিভি সরাসরি খেলা সম্প্রচার করবে। ফলে বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটেছে।

    আজ বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।

    জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাবলিক মানি (জনগণের টাকা) খরচ না করে পাবলিককে খেলা দেখানোর জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।’

    ১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বাংলাদেশে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করার কথা ছিল।

    প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ বিটিভির কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছিল। করসহ তা দাঁড়াত ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছিতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি হয়নি।

    এদিকে বিক্রি করতে না পারায় স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান।

    এরপর বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, বিনা মূল্যে সম্প্রচারস্বত্ব পেতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বিটিভির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, আশা করা যায়, দর্শকেরা খেলা দেখতে পারবেন। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিটিভি বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব নেবে। বেসরকারি পর্যায়ে যারা খেলা দেখাবে, তারা বিটিভি থেকে স্বত্ব নেবে। দুই–এক দিনের মধ্যে হয়তো আলোচনা চূড়ান্ত হবে।

    এদিকে খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফিও। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম আলোকে জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলের ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে বাংলালিংক ও টফি। বাংলালিংকসহ সব ফুটবলপ্রেমীরা টফিতে খেলা দেখতে পারবেন।

    বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকও সম্প্রচারস্বত্ব জটিলতার কারণে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি নিশ্চিত করেছে।

    আর ভারতের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা।

    বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’–এর (যারা সম্প্রচারস্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি।

    তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল তারা।

  • বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ফুটবলার মুসলিম ইয়ামাল?

    বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ফুটবলার মুসলিম ইয়ামাল?

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ দিন পর মাঠে গড়াবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। আসন্ন এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে দামি ফুটবলার কে, তার পারিশ্রমিক কত?

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে—বিশ্ব ফুটবলের নতুন তারকারা বয়সে যত তরুণ হচ্ছেন, দামের দিক দিয়ে ততটাই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন সবাইকে।

    এর সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ উদাহরণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ২০ বছর না পেরোতেই এই বার্সেলোনা উইঙ্গারের বাজারমূল্য এখন ৪০১ মিলিয়ন (৪০ কোটি ১০ লাখ) ডলারেরও বেশি! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি এখন সবার ওপরে। সমবয়সী অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে তার দাম প্রায় তিন গুণ।

    ইয়ামালের ঠিক পরেই আছেন নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটির ‘গোলমেশিন’ আরলিং হালান্ড। তবে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের বয়স ২৭ পেরিয়ে গেলেও এই তালিকার শীর্ষ তিনে ঠিকই নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

    আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া শীর্ষ ১০ দামি ফুটবলারের তালিকাটি দেখলে ইউরোপের বড় পরাশক্তিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যই চোখে পড়বে। এই তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদের তিনজন, বার্সেলোনার দুজন এবং ফরাসি ক্লাব পিএসজির দুজনের জায়গা হয়েছে।

    তবে তালিকায় ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের নাম নেই! অথচ পিএসজির হয়ে সম্প্রতি সব শিরোপাই জিতেছেন তিনি, এমনকি ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরও উঠেছে তার হাতে।

    ব্যক্তিগত এত বড় অর্জনের পরও দেম্বেলের না থাকার কারণটা বেশ পরিষ্কার। বর্তমান ফুটবল বাজার খেলোয়াড়দের অতীত বা বর্তমানের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে তাদের বয়স, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে। আর সে কারণেই সেরাদের এই তালিকায় রাজত্ব করছেন তরুণেরাই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ১০ ফুটবলার

    ১. লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা) – ৪০১.৩১ মিলিয়ন ডলার

    ২. আরলিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি) – ২৯৮.৩৭ মিলিয়ন ডলার

    ৩. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ) – ২৩৫.২৩ মিলিয়ন ডলার

    ৪. জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ) – ১৭৯.০৮ মিলিয়ন ডলার

    ৫. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ) – ১৬০.১০ মিলিয়ন ডলার

    ৬. ফ্লোরিয়ান ভাইর্টস (লিভারপুল) – ১৫৮.৭৬ মিলিয়ন ডলার

    ৭. দেজিরে দুয়ে (পিএসজি) – ১৫৭.৩৪ মিলিয়ন ডলার

    ৮. জোয়াও নেভেস (পিএসজি) – ১৫২.৭৮ মিলিয়ন ডলার

    ৯. আরদা গুলের (রিয়াল মাদ্রিদ) – ১৫২.৪৩ মিলিয়ন ডলার

    ১০. পেদ্রি (বার্সেলোনা) – ১৫২.০৫ মিলিয়ন ডলার।

  • লালমনিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

    লালমনিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

    লালমনিরহাট জেলা পর্যায়ের বালক-বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে।

    আজ জেলা স্টেডিয়াম মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীত দাস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

    উদ্বোধনী খেলায় কালিগঞ্জ এবং পাটগ্রাম উপজেলা বালক দল ০ গোলের ড্র করে, পরে ট্রাইবেকারে পাটগ্রাম উপজেলা ৪-২ গোলে কালিগঞ্জে উপজেলা কে পরাজিত করে ।

    টুর্নামেন্টে জেলার পাঁচটি উপজেলার বালক ও বালিকা মোট দশটি দল অংশগ্রহণ করবেন। আগামী দুই মে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হবে।

  • কুরুকপাতা বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন উপলক্ষে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

    কুরুকপাতা বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন উপলক্ষে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

    আলীকদমের দুর্গম এলাকায় কুরুকপাতা বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট/২০২৫-এর ফাইনাল খেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আলীকদম সেনা জোনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় কুরুকপাড়া যুব একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং কালিয়ারছড়া একাদশ রানার্সআপ হিসেবে নির্বাচিত হয়। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ মুরতাসিম ফুয়াদ।

    আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫ হাজার টাকা ও একটি ফুটবল এবং রানার্সআপ দলকে ৩ হাজার টাকা ও একটি ফুটবল পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়। টুর্নামেন্টটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

    এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

  • কালীগঞ্জে আন্তঃকলেজ ফুটবলে শহীদ নুর আলী কলেজ চ্যাম্পিয়ন

    কালীগঞ্জে আন্তঃকলেজ ফুটবলে শহীদ নুর আলী কলেজ চ্যাম্পিয়ন

    কালীগঞ্জে উষা আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে শহীদ নুর আলী কলেজ ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্র

    ধান অতিথি হিসেবে শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত নলডাঙ্গা ভূষণ স্কুল মাঠে সকালে পায়রা উড়িয়ে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-৪ কালীগঞ্জ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। উদ্বোধনের আগে তিনি মাঠে উপস্থিত ৪ দলের খেলোয়াড়দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট উষার আয়োজনে ও উষা কেন্দ্রিয় নির্বাহী সংসদের পরিচালনায় ৪ কলেজ ফুটবল দলের অংশগ্রহণে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আনোয়ার মকলেজ কলেজকে ২-০ গোলে হারিয়ে শহীদ নুর আলী কলেজ জয়ী হয়। ২য় ম্যাচে ট্রাইবেকারে ৪ -১ গোলের ব্যবধানে আবুবকর মকছেদ আলী কলেজ দলকে হারিয়ে সরকারি এম ইউ কলেজ জয়ী হয়। এরপর বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে এমইউ কলেজ ফুটবল একাদশকে ১ – ০ গোলে হারিয়ে নুর আলী কলেজ ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়। বিজয়ী একাদশের আল জাসির ম্যান অব দি টুর্নামেন্ট বিবেচিত হয়।

    খেলার রেফারির দায়িত্বে ছিলেন, আব্দুর রাজ্জাক, মোমেনুল হক ও মারুফ হোসেন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় আলমগীর হোসেন ও নেপালে সাফ গেমসে ২০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত আল জাসির নামে কালীগঞ্জের দুই কৃতী সন্তান ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখায় তাদেরকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    এছাড়াও প্রাক্তন খেলোয়াড় নুরুল ইসলাম ও আমামুল হক খোকাকে মেডেল প্রদান করা হয়। এ সময়ে মাঠে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম সাইদুল ইসলাম, ইলিয়াস রহমান মিঠু, আনোয়ার হোসেন, অহেদ লস্কার, জবেদ আলী, উষা কেন্দ্রিয় সংসদের সভাপতি শিবলী রহমান পাভেল, সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আল মাহমুদ, ইবি শাখার সম্পাদক আশিকুর রহমান, উপদেষ্টা আশরাফ মন্ডল, সাধন দাদা, মোস্তফা মোর্শেদ তোতা, ক্রীড়া সংগঠক অজিত কুমার ভট্রাচার্য্য, আসাদুজ্জামান মুকুল প্রমুখ।

  • মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে  ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    খেলায় জেলার ছয়টি উপজেলার দল অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধনী খেলা ফেনী সদর ও ফুলগাজী উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

    আয়োজক সূত্রে জানায়, টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে এক লাখ টাকা। রানার্স-আপ দল পাবেন ৫০ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ২০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের ক গ্রুপে রয়েছে পরশুরাম, সদর ও ফুলগাজী উপজেলা, আর খ গ্রুপে আছে ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা। টুর্নামেন্টের প্রতিটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে লীগ পর্ব খেলবে। লীগ পর্ব শেষ করে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচন করা হবে এবং দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা গোলকিপারকে যথাক্রমে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।