ক্যাটাগরি চলচ্চিত্র

  • সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি রুবেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা অনেকবারই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় ৪০ বছর আগের একটি ইচ্ছের কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। সেই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন সোহেল রানা।

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রায় চার দশক আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল।

    সোহেল রানা লেখেন, “প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। চিকিৎসার জন্য আমাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বললেন, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ।” মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে উঠলাম। বিকেলে বেরিয়ে গেলাম।”

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    অভিনেতা জানান, দামি ঘড়ি কেনার প্রতি তার বরাবরই আগ্রহ ছিল। তখন তার হাতে রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি অত্যন্ত টেকসই হওয়া সত্ত্বেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার।

    সোহেল রানা বলেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’

    দোকানের বিশাল শোরুমে সবচেয়ে দামি একটি ঘড়ি তার সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান সোহেল রানা। তার কাছে তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়িটি না কিনেই ফিরতে হয় তাঁকে। তবে ঘড়িটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা রুবেলের চোখ এড়ায়নি।

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    প্রায় ৪০ বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতিই আবার ফিরিয়ে আনলেন রুবেল। সেই একই ঘড়ি না হলেও রুবেল যে ঘড়িটি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি।

    সোহেল রানা লেখেছেন, “গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল বলল, ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলবো না।”

    তিনি লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো।’

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে তাকে সব সময় সেটি পরে থাকার কথাও বলেন। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’

    প্রায় চার দশক আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছেকে মনে রেখে ছোট ভাইয়ের এমন উপহার যে সোহেল রানার কাছে শুধু দামি ঘড়ি নয়, বরং ভালোবাসার স্মারক—তাঁর আবেগঘন লেখাতেই সেটি স্পষ্ট।

  • হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘জলপবন’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা রাজন তালুকদার। আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ থেকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় শুরু হয়েছে দৃশ্যধারণ।

    এতে ‘নিরালা’ নামে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

    চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে রুনা খান সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‌‘জলপবন’ মূলত অপেক্ষার গল্প। এতে তিনি অভিনয় করছেন ‌নিরালা চরিত্রে। হাওর এলাকার মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসবে এ চলচ্চিত্রে। দর্শকরা একটি ভালো মানের ছবি উপহার পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

    চলচ্চিত্রটিতে রুনা খানের পাশাপাশি প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রাচ্যনাটের সদস্য সুশান্ত পৃথ্বীরাজ ও জাবির নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষার্থী সামিউল হক। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও যুক্ত হয়েছেন সিনেমাটিতে, তাদের অনেকেই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত।

    জানা যায়, রুনা খান অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘লীলা মন্থন’ ও মাসুদ পথিকের ‘বক’ অন্যতম।

    উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে জনপ্রিয় শিশুতোষ ধারাবাহিক সিসিমপুর-এ ‘সুমনা’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুনা খান অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটপর্দায়ও সফলভাবে কাজ করে চলেছেন। ২০১৭ সালে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি।

  • আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তার সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগেছেন। এমনকি আতঙ্কের সময় শরীর কাঁপা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খাওয়ার পর বমি, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাকে। একপর্যায়ে চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।

    সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনুপমা এসব কথা বলেন। তার ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

    অনুপমা বলেন, আগে কখনো এমন সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি সুখী শিশু ছিলাম। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতাম। এর আগে এমন কিছুই ঘটেনি।’

    আতঙ্কে কাঁপত শরীর
    অনুপমার দাবি, ওই সময়ে নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক ও তীব্র উদ্বেগে আক্রান্ত হতেন তিনি। তখন নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণও থাকত না।

    তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের পা কাঁপতে শুরু করত, হাত কাঁপত, এমনকি আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারতাম না।’ এ সময় কয়েকবার জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

    মানসিক চাপের প্রভাব পড়েছিল তার খাওয়ার অভ্যাসেও। সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনেক কিছু তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। অনুপমা বলেন, কিছু খাওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কথা বা ঘটনা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুললে তিনি বমি করে ফেলতেন।

    ওজন কমে যাচ্ছিল, শুটিংয়েও সমস্যা
    অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে তার ওজনও দ্রুত কমে যাচ্ছিল। আশপাশের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন নিজের ভেতরের পরিস্থিতি কাউকে বোঝাতে পারছিলেন না বলে জানান অনুপমা।

    শুটিংয়ের সময়ও এর প্রভাব পড়েছিল। তার ডান চোখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপত। এতে কখনো কখনো শুটিং বন্ধ করে দিতে হতো।

    অনুপমা বলেন, ‘আমার ডান চোখে সমস্যা শুরু হতো। চোখ এমনভাবে কাঁপত যে শুটিং বন্ধ করতে হতো। এটা থামানোর কোনো উপায় ছিল না।’

    দীর্ঘক্ষণ কান্না, শেষে অস্ত্রোপচার
    অনুপমার ভাষ্য, ওই সময় তিনি প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। এর প্রভাব পড়ে তার চোখের অশ্রুগ্রন্থিতে। একপর্যায়ে অশ্রুগ্রন্থিটি স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ফুলে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো। হঠাৎ আমার অশ্রুগ্রন্থি নিচের দিকে নেমে আসে। সেটি ফুলে গিয়েছিল। আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।’

    ‘পর্দা’ সিনেমার প্রচারের সময় তার চোখের এক পাশ ফুলে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনুপমা। তিনি জানান, অশ্রুগ্রন্থিটি পুরোপুরি নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করে সেটিকে আবার সেলাই করে ঠিক জায়গায় বসাতে হয়।

    অনুপমা আরও বলেন, ওই সম্পর্কের প্রভাব শুধু চোখের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার শরীর ও মনে এমন কিছু ক্ষত তৈরি হয়েছে, যেগুলো হয়তো কখনো পুরোপুরি সেরে উঠবে না।

    ‘নার্সিসিস্টিক নির্যাতন’ বলছেন অনুপমা
    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টেও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা নার্সিসিস্টিক নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন অনুপমা।

    তার দাবি, সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তাকে এমনভাবে আবেগগতভাবে জড়িয়ে ফেলা হতো যে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হতো। পরে আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসত এবং সম্পর্কটি হয়ে উঠত অত্যন্ত কঠিন।

    অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, কান্নাকাটি ও আর এমন হবে না-এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এরপর আবার আগের মতোই ভালোবাসা ও নির্যাতনের চক্র চলত।

    সাবেক সঙ্গী কে, জানাননি
    অনুপমা তার বক্তব্যে সাবেক সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তার সঙ্গে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সম্পর্ক নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল। ২০২৫ সালে মারি সেলভারাজের বাইসন কালামাদান ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ে।

    তবে অনুপমা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধ্রুব বিক্রমের নাম উল্লেখ করেননি। ধ্রুবও এমন কোনো সম্পর্ক বা অনুপমার অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা মন্তব্য করেননি। সূত্র: এনডিটিভি

  • সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    অমর নায়ক সালমান শাহর জীবনী নয়, তাঁর মৃত্যুরহস্যও নয়। বরং নব্বইয়ের দশকে এই নায়ককে ঘিরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ আর ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    নির্মাতা জানান, সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দুদিন আগে মুক্তি দেওয়া হবে সিনেমাটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর ভক্তদের মধ্যে যে গভীর শোক ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, সেই সময়কেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এ।

    গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। নির্মাতা ইভান মল্লিক বলেন, ‘সিনেমাটি যেহেতু সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।’

    সিনেমটির গল্পে উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের সেই চেনা সময়। ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা দেখা, ভিউকার্ড সংগ্রহ, ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা রেডিওতে পছন্দের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা—সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এসব স্মৃতির আবহেই এগিয়েছে গল্প।

    সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে সালমান শাহর। অভিনয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিক উপস্থিতিতে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় নায়ক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। প্রিয় নায়ককে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন।

    সেই সময়ের আবেগ, সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এবং এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।

    রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।

    ইভান মল্লিক বলেন, ‘অডিশনের মাধ্যমে একেবারে নতুন দুজনকে নির্বাচন করেছি। অডিশনের ক্ষেত্রে পরিচালক সমিতিও সহযোগিতা করেছে। “লাভ ৯৬” পুরোপুরি রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা। দর্শকরা টানটান উত্তেজনা পাবেন। আমি মনে করি, এই চলচ্চিত্রটি দেখলে প্রত্যেক সালমান শাহ ভক্তই নিজের কোনো না কোনো অনুভূতিকে খুঁজে পাবেন।’

  • রজনীকান্ত ও বিজয়ের পথে কি হাঁটবেন ধানুশ?

    রজনীকান্ত ও বিজয়ের পথে কি হাঁটবেন ধানুশ?

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ধানুশ রাজনীতিতে আসছেন, এমন গুঞ্জন আলোচনায় এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি অভিনেতা। তবে তাঁর ফ্যান ক্লাবগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

    ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ধানুশ তাঁদের সামাজিক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা সবাই এখানে একত্র হয়েছেন। এভাবে একসঙ্গে হতে পারাটাই আমাদের শক্তি। এই শক্তিকে একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগান এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান। আরও জনকল্যাণমূলক কাজ করুন। প্রতিবেশীদের সমস্যাগুলো জানুন, তাঁদের একজন হয়ে পাশে দাঁড়ান এবং সাহায্য করুন।’

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রবেশ নতুন নয়। রজনীকান্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি ‘আধ্যাত্মিক রাজনীতি’র কথা বললেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অন্যদিকে অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক দল গঠনের পর দক্ষিণের আরেক বড় তারকা হিসেবে ধানুশকে নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

    ধানুশের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক বক্তব্যের শেষে তিনি ‘ওম নমঃ শিবায়’ উচ্চারণ করায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    রজনীকান্ত ও ধানুশ

    রজনীকান্ত ও ধানুশছবি: এক্স

    ধানুশের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নিয়ে ৯ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধানুশের বাবা নির্মাতা কস্তুরি রাজাকে তাঁর ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এর আগে কস্তুরি রাজা মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসতে পারেন। তবে ধানুশকে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

    কস্তুরি রাজা বলেন, ‘আগেও বলেছি, এই প্রশ্ন ধানুশকেই করা উচিত।’

    একই প্রতিবেদনে ধানুশের ফ্যান ক্লাবের নেতা ও পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবার বক্তব্যও উঠে আসে। ধানুশের ফ্যান ক্লাবের পতাকা ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক পতাকা নয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে বিয়ে, কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠান, সিনেমার মুক্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই পতাকা ব্যবহার করে আসছেন ভক্তরা। চলতি বছরের ফ্যান ক্লাব সভার জন্য গাড়িতে ব্যবহারের সুবিধার্থে পতাকার আকার ছোট করে তৈরি করায় অনেকে এটিকে নতুন রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছেন।

    তামিলনাড়ু রাজ্যের বিধানসভায় বক্তৃতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

    তামিলনাড়ু রাজ্যের বিধানসভায় বক্তৃতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ছবি: এএনআই

    ধানুশের রাজনীতিতে প্রবেশের গুঞ্জন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে বলেছে, ‘যে কেউ রাজনীতিতে আসতে চাইলে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবাই অংশ নিতে পারেন।’

    তবে আপাতত ধানুশের মূল মনোযোগ সিনেমাতেই। আগামী কয়েক বছরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প। ফলে ফ্যান ক্লাবের তৎপরতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ালেও ধানুশ নিজে এখনো রাজনীতিতে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি।

  • স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এই সপ্তাহান্তে থাকছে একসঙ্গে চারটি ভিন্নধর্মী আন্তর্জাতিক ছবি। শুক্রবার থেকে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাবে হরর, মনস্তাত্ত্বিক সাসপেন্স, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর অ্যানিমেশন ও কনসার্ট চলচ্চিত্র চার ঘরানার চার সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘এভিল ডেড বার্ন’, ‘প্যাসেঞ্জার’, ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’ এবং বিলি আইলিশ অভিনীত কনসার্ট চলচ্চিত্র ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’।

    একই দিনে এত ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকদের সামনে পছন্দের সুযোগও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি। যারা ভৌতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য রয়েছে ‘এভিল ডেড বার্ন’। রহস্য ও সাসপেন্স পছন্দ করা দর্শকদের জন্য ‘প্যাসেঞ্জার’। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে চাইলে বেছে নেওয়া যেতে পারে অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। আর বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য রয়েছে বিশেষ কনসার্ট অভিজ্ঞতা।

    ‘এভিল ডেড বার্ন’: ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন

    জনপ্রিয় ‘এভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘এভিল ডেড বার্ন’ পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক। ছবির সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট। গল্পে দেখা যায়, স্বামীকে হারানোর পর এক তরুণী আশ্রয়ের সন্ধানে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি প্রত্যন্ত বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবহ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রহস্যময় ও অভিশপ্ত ‘বুক অব দ্য ডেড’ সক্রিয় হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা একে একে ভয়ংকর শক্তির প্রভাবে বদলে যেতে থাকেন।সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন অভিনীত ছবিটিতে রক্তাক্ত দৃশ্য, অন্ধকার পরিবেশ ও ভৌতিক আতঙ্কের সমন্বয় দেখা যাবে।

    ‘প্যাসেঞ্জার’: গাড়ির ভেতরেই শুরু অশুভ আতঙ্ক

    আন্দ্রে ওভ্রেডাল পরিচালিত ‘প্যাসেঞ্জার’ এক তরুণ দম্পতির গল্প। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকতে তারা ভ্যান নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা তাদের পুরো যাত্রাকে বদলে দেয়। একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর তারা আহত এক ব্যক্তিকে সাহায্য করেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মনে হতে থাকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে শুধু ওই মানুষটিকেই তারা সঙ্গে আনেননি তাদের গাড়িতে যেন আরও কিছু উঠে এসেছে। অদৃশ্য সেই অশুভ উপস্থিতিকে ঘিরেই শুরু হয় আতঙ্ক, সন্দেহ ও বাঁচার লড়াই। ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও।

    ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’: ইতিহাস বাঁচানোর অভিযানে চার শিক্ষার্থী

    শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সবার জন্য উপযোগী অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। গল্পের শুরু ভবিষ্যতের ২০৫০ সালে। চার মেধাবী শিক্ষার্থী একটি সময়ভ্রমণ যন্ত্রের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যায় অতীতের ৮২৫ খ্রিষ্টাব্দের বাগদাদে।

    সেখানে তারা জানতে পারে, এক দুষ্ট রসায়নবিদ সময়ভ্রমণের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো মুছে ফেলার পরিকল্পনা করছে। এরপর চার শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে পড়তে হয় এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। মানবসভ্যতার জ্ঞান ও ইতিহাস রক্ষাই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    বিলি আইলিশের কনসার্ট এবার বড় পর্দায়

    বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’। এটি প্রচলিত অর্থে শুধু একটি কনসার্ট রেকর্ডিং নয়। ছবিটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে জেমস ক্যামেরনের ত্রিমাত্রিক ধারণপ্রযুক্তি।

    চলচ্চিত্রটিতে বিলি আইলিশের বিশ্বভ্রমণ কনসার্টের ম্যানচেস্টার পর্বের পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও ডলবি সাউন্ডের কারণে দর্শকেরা বড় পর্দায় কনসার্টের আবহ আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। ছবিতে থাকছে ‘বার্ডস অব আ ফেদার’ ও ‘লাঞ্চ’-এর মতো জনপ্রিয় গানও। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নতুন সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা সব সময়ই থাকে তাদের। একই দিনে চার ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। হরর, রহস্য, অ্যানিমেশন কিংবা সংগীত এই চার ভিন্ন স্বাদের ছবির মধ্যে শুক্রবার বড় পরয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের গান শোনাবেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

  • ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোনার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার অভিনীত তেমনই একটি সিনেমা ‘মাস্তুল’। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে এটি। সেই উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

    সিনেমায় বাবুর কোনো সংলাপ নেই, তবে নিখুঁত অভিনয় আর ভাব-অভিব্যক্তিতে পর্দায় চরিত্রটি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন এই অভিনেতা।

    সিনেমাটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের সমীকরণে পর্দায় উঠে এসেছে নদী বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বেঁচে থাকার লড়াই।

    ‘মকবুল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমাদের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা স্ক্রিপ্ট পেলে কয়টা সংলাপ আছে তা মার্ক করে। কিন্তু থিয়েটার থেকে আমরা যারা এসেছি, আমরা কখনও এটা করিনি। অভিনয় আসলে শুধু সংলাপ না, এটি অ্যাকশন ও রিঅ্যাকশন। আমার চরিত্রটির জার্নি বা গ্রাফটা কেমন, সেটাই মূল বিষয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার।’

    ‘মাস্তুল’ দেখার আহ্বান জানিয়ে বাবু বলেন, ‘আপনারা সিনেমাটি দেখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখার। সিনেমাটি দেখে একটা গল্প নিয়ে ফিরবেন।’

    এ সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।

    সিনেমার জন্য অভিনেতা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাস্টিং ফিলোসফি খুবই সিম্পল। আমার কল্পনার চরিত্রটির সাথে সামনে থাকা একজন রক্ত-মাংসের মানুষের অবয়ব যখন মিলে যায়, তখন তাকেই কাস্ট করি। এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অডিশন দিতে হয়েছে “সুকানি” চরিত্রটির জন্য। অনেক নামী অভিনেতা এই চরিত্রের দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা দীপক সুমনকে বেছে নিয়েছি, তার কাজের কোনো তুলনা নেই।’

    নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মতো একটি দর্শকশ্রেণী বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।’

    বিশেষ এই প্রদর্শনীতে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে ‘মাস্তুল’র মেকিং ও থিমের প্রশংসা করেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’খ্যাত পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের। তিনি বলেন, ‘পুরো সিনেমাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটি দেখতে অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো মনে হলেও ভেতরে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় যে জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই বেশ অচেনা। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও সুন্দর থিম নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।’

    উল্লেখ্য, গত বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার পায় মাস্তুল। এরপর একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

  • কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। পাঞ্জাবের অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরা। এরপর তাঁকে আর কখনো জীবিত বা মৃত—কোনো অবস্থাতেই দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, জনমতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। তবু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও ঘটনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসলে কী হয়েছিল খালরার? তিনি কি হঠাৎ করেই পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি পুলিশের দাবি অনুযায়ী ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় দিনমজুরের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন? নাকি তিনিও সেই হাজারো তরুণের একজন, যাঁদের ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছিল—যাঁদের ন্যায়বিচারের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খালরা?

    একনজরে
    সিনেমা: ‘সাতলুজ’
    ধরন: ড্রামা
    পরিচালনা: হানি ত্রেহান
    অভিনয়: দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুবিন্দর ভিকি, গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান, কানওয়ালজিৎ সিং, জগজিৎ সান্ধু, এস এম জহির
    ভাষা: হিন্দি ও পাঞ্জাবি
    স্ট্রিমিং: জি৫
    দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট

    খালরার আত্মা যে অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল, হানি ত্রেহানের ছবির যাত্রাপথও যেন তেমনই। প্রথমে ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। ২০২৩ সালে এটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডে (সিবিএফসি) টানা তিন বছর আটকে থাকে ছবিটি। কারণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিক আন্দোলনের মূল্য নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে বোর্ড প্রায় ১২০টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল। কাস্টিং পরিচালক হানি ত্রেহান এ সময় ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, সাক্ষাৎকার দেন এবং সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

    সন্ধ্যা সুরির ‘সন্তোষ’ ছবির মতোই—যেখানে উত্তর ভারতের পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে—নতুন নাম পাওয়া ‘সাতলুজ’ও ভারতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সুযোগ পায়নি। বরং নীরবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো এটিই সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি নয়। বরং জি৫–এর ‘বার্লিন’, ‘কেনেডি’ এবং ‘সাতলুজ’—তিনটি ছবিই উদ্বিগ্ন নাগরিকদের জন্য একসঙ্গে দেখার মতো অসাধারণ একটি ত্রয়ী। কিন্তু মুক্তির পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৪ জুলাই মুক্তির ৪৮ ঘণ্টা পরেই সরকারি চাপে সিনেমাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্ল্যাটফর্মটি। এত আলোচিত, প্রশংসিত আর নিষিদ্ধ এই সিনেমায় কী আছে?

    ‘সাতলুজ’ এমন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা কোনো ধরনের আপস করে না। রাষ্ট্র এবং তার পুলিশ বাহিনী যখন জনগণের অধিকার রক্ষার বদলে সেই অধিকারই পদদলিত করে, তখন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়—ছবিটি নির্ভীকভাবে সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। ফলাফল, এটি হয়ে ওঠে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেওয়া এক সিনেমা। এটি সহজে দেখার মতো ছবি নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের হলেও ‘সাতলুজ’ কখনো দর্শককে চোখ ফেরানোর সুযোগ দেয় না। ছবিটি দর্শকের পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে এবং নির্মাতার বক্তব্যের ভার বহন করতেও যে প্রস্তুত থাকতে বলে, সে কথা বলাই বাহুল্য। হানি ত্রেহান আমাদের নিয়ে যান আশি ও নব্বইয়ের দশকের সেই পাঞ্জাবে, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায় সমাজকে গ্রাস করেছিল। রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পুলিশের লাগামহীন ক্ষমতার যে নির্মম চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং শিহরণ জাগানো।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিব

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিব

    যদিও গল্পটি ভারতের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সময়কে ঘিরে, ‘সাতলুজ’ আসলে সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন এক সর্বজনীন দলিল, যা যেকোনো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। আইনহীনতা যখন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করে, তখন তার পরিণতি কেমন হয়—ছবিটি সেটিই দেখায়। ছবির শুরুতে একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা জানিয়ে দেওয়া হয়—এটি তথ্যচিত্র নয়; মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ঘটনাগুলো অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়া মানুষ, বিচারবহির্ভূত আটক এবং গণদাহের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে জসওয়ন্ত সিং খালরাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, ছবিটি সেই ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত। আরএসভিপি এবং ম্যাকগাফিন পিকচার্স প্রযোজিত এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন হানি ত্রেহান, নিরেন ভাট ও উৎসব মৈত্র। বাস্তব ঘটনা থেকে ছবির বিচ্যুতি বলতে মূলত কয়েকটি চরিত্রের নাম পরিবর্তন করা।

    ডিজিপি আইপিএস বিট্টা (কানওয়ালজিৎ সিং) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী অনন্ত সিং—যিনি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন, তার এক সপ্তাহ পর অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন জসওয়ন্ত সিং—এসব চরিত্রের বাস্তব প্রেরণা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা জসওয়ন্ত সিং খালরা (দিলজিৎ দোসাঞ্জ) প্রথম সন্দেহ করেন, যখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বন্ধুর মা নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে পদোন্নতির চিন্তায় ব্যস্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা (বংশ ভরদ্বাজ) অভিযোগ নিতেই অস্বীকৃতি জানান।

    ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হয়ে বিয়ে করার স্বপ্নেই তিনি মশগুল। এরপর খালরা মর্গে যান। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক (গীতা আগরওয়াল শর্মা) তাঁকে এমন তথ্য দেন, যা তাঁকে স্তম্ভিত করে। কিন্তু আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল শ্মশানে। সেখানে তিনি এমন একটি রেজিস্টার খুঁজে পান, যেখানে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের তালিকা সংরক্ষিত। এরপর গল্প ক্রমে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

    হুমকি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে খালরা সত্য অনুসন্ধান চালিয়ে যান। স্থানীয় এক বিধায়ক তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য তিরস্কার করেন। কিন্তু তিনি দমে যান না। স্ত্রী পরমজিৎ (গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান) জানেন, এই পথ তাঁদের দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পুরো পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলছে। তবু তিনি স্বামীর পাশে থাকেন। স্থানীয় থানায় জসওয়ন্তের শৈশবের বন্ধু কনস্টেবল সতনাম সিং (সৌরভ সচদেবা) কর্মরত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই জসওয়ন্তকে জানাতে থাকেন তিনি। এই সাহসের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সতনাম একসময় বলেন, ‘কালো পাতায় লেখা কালো সত্য, যা দেখা যায় না, পড়াও যায় না।’ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি খালরাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।
    ছবির প্রায় এক ঘণ্টা পর সতনামের বাড়িতে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য পুরো চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এই দৃশ্যে সুবিন্দর ভিকি (এসএসপি সুরজিৎ সিং সুগ্গা) এবং সৌরভ সচদেবা অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। ক্ষমতা ও অহংকারে উন্মত্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি পরিবারকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। অন্যদিকে নিচের সারির এক অসহায় পুলিশ সদস্য অপরাধবোধ আর ভয়ে কাঁপতে থাকেন। ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে এবং সেই ক্ষমতার সামনে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে—কে ইউ মোহাননের ক্যামেরা আর এ শ্রীকর প্রসাদের সম্পাদনা মিলিয়ে দৃশ্যটি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

    ‘সাতলুজ’ মূলত পুলিশ ও জঙ্গিদের সংঘাতের গল্প হলেও ছবিটি দেখায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশই কীভাবে সবচেয়ে ভয়ংকর সহিংস শক্তিতে পরিণত হয় এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে আইন ভঙ্গ করতে থাকে। এটি গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নির্মিত এক সতর্কবার্তা।

    খালরা নিখোঁজ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পাঞ্জাবে আসেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পরিচালক সমুদ্র সিং (অর্জুন রামপাল)। চরিত্রটি ছবির বর্ণনাকারীর ভূমিকাও পালন করে। অন্যদিকে একজন আইনজীবী (বরুণ বাদোলা) অবৈধভাবে হত্যা করা নারী-পুরুষদের পরিবারের পক্ষে আদালতে মামলা করেন। ছবির কিছু অংশ হয়তো একটু দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব এবং গল্প বলার ধারালো ভঙ্গির কারণে ‘সাতলুজ’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখে। এটি একই সঙ্গে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্বস্তিতে ফেলে।

    অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি অসাধারণ। সবার আগে বলতে হয় দিলজিৎ দোসাঞ্জের কথা। অতিরঞ্জন ছাড়াই তিনি ক্ষোভ, দৃঢ়তা এবং অদৃশ্য বিপদের আশঙ্কা দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন। চরিত্রটির গুরুত্ব এবং ছবির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি যে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন, তা অভিনয়ের প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তারকাসুলভ উপস্থিতিকে সামনে না এনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চরিত্র ও সময়ের ভেতর মিশিয়ে দিয়েছেন।

    ছবিতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত খালরা চরিত্রটিকে প্রথমে দেখা যায় একেবারেই সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে। তিনি একটি ব্যাংকের কর্মী, শান্ত স্বভাবের পারিবারিক মানুষ। ছয় মাস আগে তাঁর বন্ধু কিরপালকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় মৃত পাওয়া গিয়েছিল। এবার নিখোঁজ হয়ে যান শোকে পাগল হয়ে যাওয়া কিরপালের মা। তাঁকে খুঁজতে জসওয়ন্ত ছুটে বেড়ান হাসপাতাল, মর্গ ও শ্মশানে। ব্যাংকার হিসেবে সংখ্যার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কই হয়তো তাঁকে একটি অসংগতি ধরতে সাহায্য করে। সরকারি নথিতে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে নিবন্ধিত মৃতদেহগুলোর তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

    মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া ‘সাতলুজ’। কোলাজ

    মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া ‘সাতলুজ’। কোলাজ

    হানি ত্রেহান দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশিব্যবস্থার নৃশংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে কখনোই ক্যামেরা সরিয়ে নেন না। তবে তিনি এটাও দেখান, এই পচন পুরো ব্যবস্থার নয়; বরং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ত্রেহান এই ভয়াবহ গল্পটি বলেছেন অসাধারণ সংযম ও স্থিরতার সঙ্গে। খালরা কোনো আবেগপ্রবণ বিপ্লবী নন। তিনি এই মাটিরই মানুষ। নিজের সমাজকে রক্ষা করার দায় থেকেই তিনি সত্যের খোঁজে নামেন।

    শুরু থেকেই কে ইউ মোহাননের রাতের দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ দৃষ্টিনন্দন ও পরিশীলিত। মাঝেমধ্যে কিছু নান্দনিক দৃশ্য—যেমন ওপর থেকে ধারণ করা সাদা-কালো মুদ্রা ছোড়ার দৃশ্য—পাঞ্জাব নোয়ার ঘরানার বাস্তবতাকে ভেঙে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ছবির মাঝামাঝি এসে এটি রহস্য–থ্রিলারে রূপ নেয়। আর সেখানে অর্জুন রামপালকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ সুবিন্দর ভিকির চরিত্রের কাছে যিনি কার্যত হার মেনেছিলেন, এখানে যেন তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সুবিন্দর ভিকি অভিনয় করেছেন এসএসপি সুগ্গা চরিত্রে। দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘৃণ্য ও নির্মম এই পুলিশ কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ দীর্ঘায়িত করে মানসিক নির্যাতন চালাতে ভালোবাসে। চরিত্রটি অনেকটা ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’–এর হান্স লান্ডার কথা মনে করিয়ে দেয়।

    ‘সাতলুজ’ দেখিয়ে দেয়, বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সত্য উদ্‌ঘাটনকারীদের অপদস্থ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে। এটি শুধু ভুলে যাওয়া মানুষদের স্মৃতির দলিল নয়; এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে ধরা এক জরুরি আয়না। তাই ছবিটি শুধু সিনেমা হিসেবে নয়, সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।

    সিনেমার কিছু সংলাপ শেষ হওয়ার পরও মনে থাকে। খালরা বলেন, ‘আমরা পুলিশবিরোধী নই, সরকারবিরোধীও নই।’ ছবির শেষ হয় খালরার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, ‘আমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাই।’ তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে খালরার বলা সবচেয়ে সহজ কথাটিই—‘কাউকে না কাউকে তো সামনে আসতেই হবে।’

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।

  • বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন উঠে আসছে বড় পর্দায়। এখন পুরোদমে চলছে সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’-এর শুটিং। গতকাল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় সিনেমার ফার্স্ট লুক পোস্টার। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মুক্তির তারিখ। ২০২৭ সালের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত সিনেমাটি।

    ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি উড়িয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর সেই উদ্‌যাপন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। পোস্টারে লর্ডসের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার রাও। সেই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজকুমার রাওকে উদ্দেশ করে সৌরভ গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘জন্মদিনের সেরা উপহার। পর্দায় তোমাকে আমার রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

    নিজের বায়োপিকের ফার্স্ট লুক দেখে সৌরভ উচ্ছ্বসিত হলেও, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক ও মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পোস্টার দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারকে একেবারে মানায়নি বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এর আগে শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পরেও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন রাজকুমার। সে সময় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন পর্দায় মহেন্দ্র সিং ধোনি চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত সিংয়ের কথা।

    সৌরভের ভাষ্য, ‘রাজকুমার দারুণ অভিনেতা। কিন্তু একই রকম দেখতে লোক তো আর পাওয়া যাবে না। ও অভিনয় করছে। আমার জীবনকে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানেই মানুষ ভুল করে ফেলে যে, একই দেখতে হবে! কীভাবে হবে? সুশান্ত সিং রাজপুত কি এম এস ধোনির মতো দেখতে? কিন্তু ধোনির চরিত্রে ও চমৎকার কাজ করেছে।’

    টি-সিরিজ এবং লাভ ফিল্মসের ব্যানারে তৈরি এই সিনেমায় শুধু সৌরভের ক্রিকেটিং ক্যারিয়ার বা লড়াকু অধিনায়কত্বই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্ব পাবে। সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য।