ক্যাটাগরি বাংলাদেশের অর্থনীতি

  • ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

    প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ পরিবহণ ও মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

    নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

    মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়ন এবং প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একইসাথে এ সময় ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও বাজারজাত ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরো জোরদার করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইলিশের হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেয়া হবে।’

    অবৈধভাবে ধরা ইলিশ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ৎ ও বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেয়া যাবে না।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।’

    ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।’

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, ‘বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।’

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • ফের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    ফের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    ঋণখেলাপিদের একের পর এক সুবিধা দেওয়ার পরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবারও ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন ২০২৬ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

    গত মার্চ শেষে ২০২৬ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

    আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খেলাপি বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।

  • দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে স্পট মার্কেট থেকে সরকার প্রতি মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি ১০-১২ ডলারে কিনত। কিন্তু বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ২৪ ডলারেরও বেশি দরে। ফলে ৪১০-৪৯০ কোটি টাকার প্রতি কার্গো এলএনজির দাম এখন পড়ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানি করতেই সরকারের ব্যয় ৯০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে বাড়তি দামে দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খোলাবাজার থেকে এই এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে কেনা হচ্ছে এক কার্গো এলএনজি । এজন্য দাম চূড়ান্ত হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ ডলার। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে কেনা হচ্ছে আরো এক কার্গো এলএনজি। এই এলএনজির দাম পড়ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ ডলার। এতে প্রতি কার্গোর পেছনে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর স্বাভাবিক দাম ছিল ৪১০-৪৯০ কোটি টাকা। এ দুই কার্গো এলএনজি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগস্টের শুরুতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং থেকে ২১.৫৫ ডলার দরে এক কার্গো, বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে ২১.৮৭৮ ও ২১.৭৭৮ ডলার দরে দুই কার্গো এবং ১৯ আগস্ট আরামকো ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে ২৩.৯৩ ডলার দরে আরো এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছিল।

    বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথম এলএনজি আমদানি শুরু করে। তার আগে দেশে উৎপাদিত গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন

    করা হতো। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ কার্গো এলএনজি আমদানি বাবদ ব্যয় হয় ১৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এলএনজি বাবদ সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২,৫০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ৪০ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ এক কার্গো কমলেও ব্যয় হয় আগের বছরের দ্বিগুণ, তথা ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমদানি করা হয় ৪৪ কার্গো এলএনজি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয় ৩৯ কার্গো এবং ব্যয় হয় ৩৫ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০ কার্গো এলএনজির আমদানি ব্যয় পড়ে ৪২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায় এলএনজি আমদানি। সে বছর ৮৬ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয় ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। আর সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০৯-১১৩ কার্গো এলএনজির আমদানিতে ব্যয় হয় ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এ বছর এলএনজির পেছনে সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হয় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

    ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে মোট ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল জাতীয় বাজেটে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এলএনজি আমদানির জন্য প্রাথমিক ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ৬,৫০০ কোটি টাকা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই বার্ষিক ভর্তুকি বরাদ্দের ৪৩ শতাংশ অর্থ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় শীর্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ কমিয়ে দেয় । জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার থেকে আটটি কার্গো এসেছিল। এরপর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ব্যাহত হওয়ায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো কেনা শুরু করে। যেমন—চলতি আগস্ট মাসেই গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৯টি কার্গো আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম আট মাসে ৪০-৫০টির মতো এলএনজিভর্তি কার্গো দেশে এসে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান গতকাল আমার দেশকে বলেন, চলতি বছর ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত আমদানি কিছুটা কম হতে পারে। কারণ, ভাসমান টার্মিনালগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে নানাবিধ কারণে সেগুলোর উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যখন যে অর্থের প্রয়োজন হবে, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় সে অর্থ ছাড় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে মতপ্রকাশ করেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

    গত ১৭ বছরে জ্বালানি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে মন্তব্য করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম আমার দেশকে বলেন, আমরা যদি নিজস্ব গ্যাসকূপ থেকে পর্যাপ্ত উত্তোলন করতাম, তবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে এত এলএনজি আমদানি করতে হতো না।

    ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের মাটির নিচে প্রচুর তেল-গ্যাস মজুত আছে। কিন্তু বিদায়ী সরকার সেগুলো অনুসন্ধান বা উত্তোলন না করে আমদানির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। দেশের বিজ্ঞানীদের বসিয়ে রেখে তেল-গ্যাস আমদানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা নষ্ট করেছে।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে না চাইলে এখনই তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সমতলে অনুসন্ধানে দেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে যেহেতু আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে অনুসন্ধানের জন্য বিদেশিদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

  • নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন, বাড়ছে ১০০–১৪২%

    নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন, বাড়ছে ১০০–১৪২%

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। আজ বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

    এখন শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ, যার জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।

    বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

    কিন্তু নাসিমুল গনি কমিটি বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি সুপারিশ করেনি বলে সূত্রগুলো জানায়। এ কমিটি মাঝখানে দুই বছরে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ছিল চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার সঙ্গে আগের সুপারিশের পার্থক্য আছে। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে মূল বেতন ঠিকই দেওয়া হবে। তবে তা দেওয়া হবে ভেঙে ভেঙে।

    সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় যা ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

  • মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন, বাস্তবায়ন হবে ৩ ধাপে

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন, বাস্তবায়ন হবে ৩ ধাপে

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। এর আগে বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনুমোদন পাওয়া নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে আজ সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হতে পারে।

  • কাল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

    কাল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতিক্ষীত নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের জন্য আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। ওইদিন অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে এ সপ্তাহের মধ্যেই। ইতোমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।এর

    আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে।

    ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বলেন, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

    ওই বইয়ে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি।

    বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    এদিকে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

    বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ

    প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

    এর আগে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

  • চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হবে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে পে কমিশন নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, পে-কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে। সবগুলো বিবেচনা করছি আমরা। আজ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে আমরা পরে আবার বসব।

    এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বছরই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে এটি হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার কী পদ্ধতি অবলম্বন করবে, তা পে স্কেল ঘোষণার পর জানানো হবে।

    একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার সক্ষম হয়েছে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে। ১৮০ দিনের মধ্যে সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ও শুরু করেছে, সেগুলো প্রশংসিত হয়েছে। দুই-একটি সংকটময় পরিস্থিতিও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সারা পৃথিবী থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও হবে। মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালীতে আরেকটি এফএসআরইউ’র জায়গা নির্ধারণ করতে জরিপ চলছে।

    গ্যাস খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ দিয়েই গ্যাসের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

  • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • কাটছাঁট হচ্ছে নবম পে স্কেল

    কাটছাঁট হচ্ছে নবম পে স্কেল

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আর্থিক সংকটের কারণে নবম পে স্কেলের আগের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কমে গেছে। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় কাটছাঁটের পথে এগোচ্ছে সরকার।

    অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ কয়েকটি সুযোগ সুবিধা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।

    সূত্র আরও জানায়, বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ থেকে ১০ম গ্রেডের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার সুপারিশ করতে পারে সচিব কমিটি।যদিও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সফটওয়্যার, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়ের মতো কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও কাজ করছে সচিব কমিটি। এরই মধ্যে সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে পে স্কেলের বিষয়টি তড়িঘড়ি নয়; বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সবশেষে গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই কার্যকর হবে নবম পে স্কেল।