বাংলাদেশের অর্থনীতি

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে  সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে-বাজুস

    স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে-বাজুস

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা।

    স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে নকশা অনুযায়ী মজুরি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটি আরো বলেছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে অলঙ্কার বদলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। তবে অলঙ্কার বদল বা কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

    এর আগে, গতকাল বুধবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১২৮ বার সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

  • অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বড় বিপর্যয়, বেড়েছে শিল্পের

    অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বড় বিপর্যয়, বেড়েছে শিল্পের

    স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। তবে অর্থনীতির এই কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি সরকারের রাজস্ব আহরণ। অর্থনীতির আকার বাড়লেও কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৬ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও করজালের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ‘অর্থনীতির পথ পরিক্রমা’য় অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বড় বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে জিডিপিতে একক খাত হিসেবে কৃষির অবদান ৪৯.৮ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১২ শতাংশের কাছাকাছি। সে হিসাবে পাঁচ দশকে জিডিপিতে কৃষির অবদান ৭৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। তবে একই সময়ে শিল্পখাতের অবদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশের ব্যাল্যান্স শিট (১৯৭২-২০২৫) : পাঁচ দশকে অর্থনীতির পথ পরিক্রমা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সাবেক সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

    প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ৪৯.৮ শতাংশ। ১৯৮০ সালে তা কমে ৪৪.২ শতাংশে, ২০০০ সালে ২৪.১ শতাংশে এবং ২০২০ সালে ১২.৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণে কৃষির অবদান দেখানো হয়েছে ১১.৪২ শতাংশ।

    একই সময়ে বেড়েছে শিল্প খাতের অবদান । ১৯৭২ সালে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৯ শতাংশ। ২০০০ সালে তা বেড়ে ২৫.২ শতাংশে এবং ২০২৫ সালে ৩৪.০৩ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদন শিল্পের অবদানও বেড়েছে। ১৯৭২ সালে উৎপাদন শিল্পের অবদান ছিল ৩.১ শতাংশ, ২০২১ সালে তা ২১.৮৯ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণে ৩৭.৬৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

    এশিয়াটিক সোসাইটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কৃষির জিডিপি অংশ কমে এলেও খাতটির গুরুত্ব কমেনি। দেশের মোট ভূমির বড় অংশ কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কৃষকের জন্য সহজ শর্তে মূলধন, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

    অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ২০২৫ সালের জন্য কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৬ শতাংশ দেখানো হয়েছে। বিপরীতে, অনেক দেশে জিডিপির অন্তত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ কর হিসেবে আহরণ করা হয়। এর কারণ করজালের সীমাবদ্ধতা, কর ফাঁকি, ব্যাপক কর অব্যাহতি, রাজস্ব আদায়ে জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতি। এছাড়া অটোমেশনে ধীরগতি এবং আদায় করা কর যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার মতো সমস্যাও রয়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়লেও সব যোগ্য করদাতা ও প্রযোজ্য খাত করের আওতায় না আসায় রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারায়ও ওঠানামা দেখা গেছে উল্লেখ করে এনবিআরের সাবেক এই চেয়ারম্যান জানান, ১৯৭২-১৯৮০ সময়ে বাংলাদেশের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৯৬ শতাংশ। ১৯৮১-১৯৯০ দশকে তা বেড়ে ৩.৮৪ শতাংশ, ১৯৯১-২০০০ দশকে ৪.৭৯ শতাংশ, ২০০১-২০১০ দশকে ৫.৫৮ শতাংশ এবং ২০১১-২০২০ দশকে ৬.৪৩ শতাংশে পৌঁছায়। তবে করোনা মহামারির পর ২০২১ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকেও প্রবৃদ্ধির পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.১০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা ৩.৪৯ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। একই সময়ে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ২,১৩৮ ডলার থেকে বেড়ে ২,৯১১ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল হয়েছে।

    বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শুধু জিডিপি বা মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি দিয়ে বিচার না করে আয়বণ্টন, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং জীবনযাত্রার মানের দিকেও নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়বৈষম্য বেশি হলে প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না; ফলে দারিদ্র্য হ্রাসের গতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    প্রবন্ধের উপস্থাপক ড. আবদুল মজিদ তার সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই অগ্রগতির জন্য উৎপাদনশীল খাতের বিকাশের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, আর্থিক খাতের দুর্বলতা কমানো এবং নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। অর্থনীতির আকার বাড়ার সুফল উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজে লাগাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

  • ঝুঁকিতে সামষ্টিক অর্থনীতি

    ঝুঁকিতে সামষ্টিক অর্থনীতি

    নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও এখনো ঝুঁকিমুক্ত হয়নি সামষ্টিক অর্থনীতি। জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে আমদানির চাপ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উচ্চ। বিনিয়োগে কোনো সুখবর নেই। রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি। কর্মসংস্থানেও উন্নতি নেই।

    ফলে সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করে অর্থ বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আহ্বান করেছে অর্থ বিভাগ। সভায় অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনু বিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল হক সভাপতিত্ব করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারের ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর বিবেচনা করে জুলাই-মার্চ মেয়াদি ৯ মাসের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব করা হবে।

    বিবিএসের তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এলেও তা এখনো আট শতাংশের ওপরে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরে ৪.১৪ শতাংশে আটকে আছে। চলতি বছরও প্রবৃদ্ধির ধারা শ্লথ। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ নেমেছে নিম্নতম স্তরে। ফলে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্থিতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমন বাস্তবতায় বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থনীতির বর্তমান ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগামী দিনে কোন খাতে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজনÑসে বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

    বাড়ছে জ্বালানি আমদানির চাপ

    গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয়ের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি খাত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিল রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে, যা আগের অর্থবছরের ৫.১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে বাড়তি ডলারের চাহিদা, রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে আমদানি ব্যয় এখন সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

    সবশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩২ শতাংশে উঠেছে। আগস্টে ছিল ৮.২৬ শতাংশ।

    প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা

    অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা প্রবৃদ্ধিতে। বিবিএসের সবশেষ সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধি এখনো আগের দশকের ছয় শতাংশের বেশি গড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারেনি। প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধির এই ধারা শ্লথ।

    এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬.৫০ শতাংশ। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭.৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ থেকে এক অর্থবছরে প্রায় আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর বড় লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

    তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। আইএমএফ চলতি সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আর্থিক, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চাপের কথা বলেছে। বিশ্বব্যাংকও অর্থনীতিতে ধীর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের চাপ ও দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    বিনিয়োগে স্থবিরতা

    অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাগুলোর একটি এখন বেসরকারি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪.৯৮ শতাংশ। এর আগে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    কর্মসংস্থানে বাড়ছে চাপ

    অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। সবশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে মোট শ্রমশক্তির আকার সাত কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার এবং নারী দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। আর প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অর্থাৎ, প্রতিবছর প্রায় ১৩-১৪ লাখ নতুন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান এখন অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক

    ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানি নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রূপান্তরের সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

    বুধবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।
    ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো বুয়েট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ মেলার আয়োজন হয়। একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট), জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) ও বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।এবারের উৎসব থেকে ১২-দফা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। ঘোষণাপত্রে একটি স্বতন্ত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, সৌরশক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও অ্যাগ্রিভোল্টেইক্স উন্নয়ন, স্মার্ট অবকাঠামো ও ব্যাটারি স্টোরেজের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং রেয়াতি ঋণ, গ্রিন বন্ড ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রিন ফাইন্যান্স সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়। একইসাথে, দেশিয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল শিল্পখাতগুলোয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের পাশাপাশি, ঘোষণাপত্রে সামাজিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এতে একটি ন্যায়সংগত, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন জ্বালানি রূপান্তরের দাবি জানানো হয়েছে; যেখানে নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে, এতে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, স্বাধীন পরিবেশগত ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ, শ্রমিকদের সুরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ দিন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলায় দেশিয় উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণা প্রদর্শন করেন। প্রযুক্তি মেলায় কর্পোরেট খাতের প্রতিষ্ঠিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হয়।উৎসবের শেষ দিনের প্রথম অংশে জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্যারালাল সংলাপ ও প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত। এসব অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি এসব অভিজ্ঞতা থেকে কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ বিকশিত হতে পারে সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়।তরুণদের নেতৃত্বে ‘ফ্রম কমিউটমেন্ট টু কমিউনিটিঃ অ্যাডভান্সিং এ জাস্ট এনার্জি ট্রান্সজিশন থ্রু বাংলাদেশ এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক সংলাপ আয়োজন করা হয়।
    শায়লা শবনম রিচির সঞ্চালনায় এই প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ ও ধুলাবালি কমাতে কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়াও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    আগামী ১২ মাসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং সবুজায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি বলে দাবি জানান তারা। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিকল্প নেই উল্লেখ করে আলোচকরা এ খাতে প্রযুক্তি ও উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান বক্তারা।

    এছাড়া, ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ’ শীর্ষক আরও একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানে। একশনএইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড এনগেজমেন্ট কাজী মোর্শেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে এই প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি তানজিনা দিলশাদ, গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়াটিভের (জিজিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুননবী প্রমুখ।

    প্যানেল আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, কার্যকর ট্যারিফ ব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, গবেষণায় অর্থায়ন, দেশিয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

    এছাড়াও, শেষদিনে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, ‘সোশ্যাল-ইনভায়রনমেন্টাল সেফগার্ড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব রিনিউয়েবল এনার্জি’ এবং ‘এনার্জি পলিসি অ্যান্ড গভরন্যান্স ফর এ জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক আরও তিনটি আলাদা প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনা থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করতে দেশিয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, গবেষক, শিক্ষক, তরুণ উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যৌথ সমন্বয়ের আহ্বান করা হয়। একইসাথে, সরকারি নীতিমালা, বিশেষ সোলার প্যানেল স্থাপন অধ্যাদেশের মতো বিষয়গুলো কীভাবে জাস্ট এনার্জির আলোকে তুলে ধরা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে।

    অনুষ্ঠানে ন্যায়সংগত জ্বালানি ভবিষ্যতের গল্প তুলে ধরেন কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার। এই উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির সুযোগ, সম্ভাবনা ও উপকারিতা তুলে ধরা হয়।

    শেষ দিনের এই আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্ভাবক, তরুণ নেতৃত্ব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার লাভ করে ফেলাইট প্রকল্প। দ্বিতীয় কার্বন ক্রেডিট বিডি প্রকল্প এবং তৃতীয় হিসেবে পুরস্কার পায় আইইউবি ফর্মুলা-ই প্রকল্প। তাদেরকে স্বীকৃতি সনদ ও সিডমানি প্রদান করা হয়। এছাড়াও, সেরা তিনটি পোস্টার হিসেবে আইইউবি, বুয়েট ও ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টার গৃহীত হয়।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এবং স্টান্ডিং কমিটি অন মিনিস্ট্রি অব ফরেইন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারপার্সন জাহরাত আদিব চৌধুরী। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির (এএআইবিএস) বোর্ড চেয়ার ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এমএএ শওকত চৌধুরী, একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার (জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন) ও জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। সমাপনী বক্তব্য রাখেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিসের (বিআইআইএসএস) প্রতিনিধি ড. বেনুকা ফেরদৌসী, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের প্রতিনিধি কুদরত ই খুদা, একশনএইড বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শাব্বীর রহমান প্রমুখ।

    দেশে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস), বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), গ্রিনারি এনার্জি সল্যুশন লিমিটেড, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি।

  • বৃহস্পতিবার যে এলাকায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    বৃহস্পতিবার যে এলাকায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
    বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সাধারণ ছুটির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনি এলাকার তফসিলি ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব শাখা ও উপশাখা বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

    রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

    আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা।

    সোমবার পবিত্র রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

    তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    আমদানিকারকদের হিসাবে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাদের দাবি, উচ্চ শুল্কায়নমূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খেজুর আমদানির খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    আমদানিকারকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে পণ্য পরিবহন জটিল হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে জটিলতা অব্যাহত থাকলে পণ্য সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব খেজুরের ক্ষেত্রে একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

    আমদানিকারকেরা নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান। তাদের মতে, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করায় শুল্কের পরিমাণ ও সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা। আমদানিকারকদের যুক্তি, উচ্চ শুল্কের কারণে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

    আমদানি শুল্ক নির্ধারণের দায়িত্ব এনবিআরের হলেও এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, এ-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    আমদানিকারকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    রমজান সামনে রেখে আমদানি বেড়েছে

    পবিত্র রমজান সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

    এ সময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের ৭ লাখ ৫ হাজার টনের তুলনায় ১ লাখ ১৮ হাজার টন বেশি।

    ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।

    চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। এ সময়ে চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের।

    রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার টন। এ সময়ে ছোলা আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের।

    অন্যদিকে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। মসুর ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।

    এ সময়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার টন।

    বৈঠকে ব্যবসায়ীদের সময়মতো পণ্য আমদানি ও বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, এ জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের আমদানির প্রস্তুতি ও কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সংকটে ছোট ডাল মিলগুলো

    ব্যবসায়ীরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে ছোট ডাল মিলগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় নানা সমস্যার কথাও বৈঠকে উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চায় রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক থাকুক। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। দেশে ছোলার চাহিদা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। আর ডালের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ডাল মিলগুলো এখন আর ব্যবসা করতে পারছে না। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বুঝতে হবে।

    হাজী নেসার উদ্দিন আরও জানান, বৈঠকে খেজুর ব্যবসায়ীরা আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

    রমজানে ডিম-মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা

    বৈঠকে পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারগুলোতে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানান তারা।

    প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তন আসায় ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়তে পারে, যার প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে।

    তারা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না।

    আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

    বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে।

    এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহের ওপর নজর রাখা প্রয়োজন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

  • আগামী ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    আগামী ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে ব্যাংক

    আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল ২৬ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে।

    সার্কুলার লেটারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সরকার ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ কারণে ওই দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

  • বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

    বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

    বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) চার দিনের সরকারি সফরে সকালে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে জাপান। এ উদ্যোগের আওতায় গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশে জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি পক্ষ বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে।

    এ অঞ্চলে জাপানি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়লে দেশে উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও শিল্পদক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে বিনিয়োগ উদ্যোগটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামীকাল ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।

    দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। বুধবার তিনি ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।

    বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য শিল্প খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে।

  • অক্টোবরে ২৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    অক্টোবরে ২৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ২৪ অক্টোবর দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

    এদিকে চলতি অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

  • দেশের  পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এর দর পতন

    দেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এর দর পতন

    সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি কোম্পানির ১৪ কোটি ছয় লাখ ২০ হাজার ৮২টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬০২ টাকা।

    ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩৩ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৯০ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক সাত দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫৩ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ৭৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৫২টির কমেছে এবং ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো প্রাইম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, সিটি ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মিতন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও মালেক স্পিনিং।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো সাইফ পাওয়ারটেক, খুলনা পাওয়ার, আরামিট সিমেন্ট, লিব্রা ইনফিউশনস, মিথুন নিটিং, জেএমআই সিরিঞ্জেস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সায়হাম টেক্সটাইল, প্রিমিয়ার লিজিং ও দেশ গার্মেন্টস।

    অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো পিপলস লিজিং, ফু-ওয়াং ফুডস, বিআইএফসি, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং, মালেক স্পিনিং, আনলিমা ইয়ার্ন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার কেমিক্যাল অ্যান্ড টেক্সটাইল ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল।

  • ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে

    ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল।

    আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। সরকারিভাবে বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করেই গত রাতে বৈঠক স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • সবজি ও ডিমের দাম কমললে ও, স্থিতিশীল মুরগির দাম

    সবজি ও ডিমের দাম কমললে ও, স্থিতিশীল মুরগির দাম

    পূজার ছুটি শেষ হওয়ার পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লাল ও সাদা ডিমের দাম। মাছের বাজারেও কিছু প্রজাতির দাম কমেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পটল ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা।

    গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি বেগুনের দাম ৫০ টাকা, টমেটোর দাম ৩০ টাকা এবং পটলের দাম ২০ টাকা কমেছে।

    বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি কমেছে। ফলে কিছু সবজি আগের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতা রহমান বলেন, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। বিক্রি কমে যাওয়ায় বেগুন, পটল ও টমেটোর দাম কমাতে হয়েছে।

    বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, কয়েক ধরনের সবজির দাম কমায় স্বস্তি মিলেছে। তবে মাছ, মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের খরচ বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

    মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় দামের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এক ক্রেতা বলেন, মুরগির দাম না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হওয়ায় সব মিলিয়ে খরচের হিসাব মেলাতে হচ্ছে।

    ডিমের বাজারে লাল ও সাদা—দুই ধরনের ডিমের দামই কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় লাল ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা এবং সাদা ডিমের দাম ২০ টাকা কমেছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বিশেষ করে সাদা ডিমের দাম কমায় ক্রেতারা আগের তুলনায় কম খরচে ডিম কিনতে পারছেন।

    মাছের বাজারে তেলাপিয়া ও কাতলার দাম কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং কাতলা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় উভয় মাছের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে।

    এ ছাড়া প্রতি কেজি রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, কৈ মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ মাছ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এক মাছ বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় তেলাপিয়া ও কাতলার দাম কমেছে। তবে সব ধরনের মাছের দাম কমেনি; মাছের ধরন অনুযায়ী দামে পার্থক্য রয়েছে।

  • আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক বাজারের মতো দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রতি ভরিতে কমেছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

    এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবারও স্বর্ণের দাম কমেছিল ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা। তার মানে দুই দিনে ধাতুটির দাম কমল ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ সকালে স্বর্ণের দাম কমার বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমেছে। তাই স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    তবে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দরপতনই হচ্ছে মূল কারণ। আজ সকাল ১০টায় স্বর্ণের নতুন দর কার্যকর হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী, আজ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ভরিতে ২ হাজার ১০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।

    এদিকে ১৮ ক্যারটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। স্বর্ণ ও রুপার দামের সাথে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত রয়েছে।

  • ১৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

    ১৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

    দেশের অর্থনীতিতে বিরাজমান চাপ মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্বব্যাংকের কাছে মোট ১৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অর্থায়ন এবং অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আগামী তিন বছরে ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামক একটি প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো—সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশের নাজুক ব্যাংক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, রাজস্ব আহরণে গতি ফেরানো এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সভায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আরআরআইপি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সম্মেলনে, বিভিন্ন প্রকল্পের রূপরেখাসহ এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা-২০২৬ এর বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কৌশলগত অংশীদারত্বকে চূড়ান্ত রূপ দিতে—আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুপক্ষ। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

    ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে ১২ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    জানা গেছে, সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বিয়ার্ড এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোয়েল বার্লির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন। এসব সভায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের ১০টি পাইপলাইনভুক্ত প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) গ্যারান্টি হিসেবে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে সরকার। এছাড়া ব্যাংকিংসহ আর্থিক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রাম-২’-এর অধীনে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের জন্য আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্পগুলো হলো—ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন (রেল) স্থাপন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড। এর পাশাপাশি, ঢাকার চারপাশে নদী ও খাল পুনরুদ্ধার ও দূষণ সংক্রান্ত আমব্রেলা ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টে (ইউআইপি) অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত আরআরআইপি কাঠামোর অধীনে, বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার বাইরে তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের যে অর্থায়ন চাওয়া হয়েছে, তা চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    এর মধ্যে সরকার জ্বালানি তেল ও সারসহ জরুরি আমদানির অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে (এমএসএমই) সহায়তা করতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যয় করা হবে ৩ বিলিয়ন ডলার, আর বাকি ১.৫ বিলিয়ন ডলার আপৎকালীন ও কো-ফাইন্যান্সিং ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পরবর্তী ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’ (সিপিএফ)-এর মধ্যে এই আরআরআইপি রূপরেখাকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। জানা গেছে, ব্যাংককে অবস্থানকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন। আইএমএফ বিশেষ করে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের তীব্র মূলধন ঘাটতি দূর করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে—অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, আইএমএফের ঋণের ক্ষেত্রে বেশকিছু কঠোর শর্ত বা ‘পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া’ বহাল থাকবে। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে কিছু সমস্যা সমাধান করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, পরবর্তী আলোচনার জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আইএমএফের কারিগরি দল ঢাকা সফরে আসছে।

    অন্যদিকে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সংস্থাটির সঙ্গে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সংস্কার, পুনর্মূলধনীকরণ, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকগুলোয় ব্যাংকিং সংস্কার, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫০১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন বা প্রায় ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৯৩ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।

    সে সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

    সেই হিসাবে গত ১৪ অক্টোবরের তুলনায় দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ১১৬ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলার।

    নিট রিজার্ভ কীভাবে হিসাব করা হয়?
    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

    সাধারণত মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা ও দেশের আন্তর্জাতিক দায় মেটানোর সামর্থ্য মূল্যায়নে রিজার্ভের এ হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

  • স্বর্ণালঙ্কারের দাম  ভরিতে  ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে-বাজুস

    স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে-বাজুস

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে, সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা।

  • নগদ লেনদেনে ব্যয় ২৮ গুণ বেশি : বাংলাদেশ ব্যাংক

    নগদ লেনদেনে ব্যয় ২৮ গুণ বেশি : বাংলাদেশ ব্যাংক

    নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে যে ব্যয় হয়, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৮ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ২৮ গুণ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডি ইন বাংলাদেশ : আ কম্পারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা ওই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিন দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার বার্ষিক ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মাথাপিছু হিসাবে বছরে নগদ লেনদেনের ব্যয় নয় হাজার ৯৩৮ টাকা। বিপরীতে ডিজিটাল লেনদেনে এ ব্যয় মাত্র ৩৪৮ টাকা। এই ব্যবধান নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে স্পষ্ট করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার সাথে উল্লেখযোগ্য ব্যয় জড়িত। ব্যাংক নোট ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে নোট ছাপানো, পরিবহন ও বাজারে এর প্রচলন বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়।

    তিনি বলেন, নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ব্যাংক নোট পুরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত ও ছেঁড়া হয়ে যায়। সেগুলোর পরিবর্তে নতুন নোট ছাপাতে হয়। ফলে অর্থনীতিতে এ-সংক্রান্ত ব্যয় বারবার তৈরি হয়।

    সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়লে এসব ব্যয় কমানো সম্ভব। পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকায় দুর্নীতি, চুরি ও অর্থের অপব্যবহার কমাতেও তা সহায়তা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেনের কারণে ব্যাংকগুলোকে বছরে প্রায় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ভোক্তাদের এ-সংক্রান্ত বার্ষিক ব্যয় ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নগদ ব্যবস্থাপনা ব্যয় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

    নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার এসব ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা ছাপানো ও বিতরণ, অর্থ পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথ পরিচালনা এবং টাকা তোলা, বহন ও ব্যবহারে মানুষের ব্যয় করা সময়ের মূল্য।

    গবেষণায় ছায়া অর্থনীতির কারণে সরকারের রাজস্ব হারানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছায়া অর্থনীতির কারণে বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির এক দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং নগদ লেনদেনের মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

    রাজস্ব হারানোর এ ব্যয় হিসাবের বাইরে রাখলেও নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    নগদ লেনদেনের তুলনায় ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় অনেক কম হলেও এ ব্যবস্থার আর্থিক ও পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে আনুমানিক ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে, এ ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় প্রায় পাঁচ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে প্রায় তিন হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।

    ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া বেশি মাশুল, লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং ইন্টারনেট সংযোগের অনির্ভরযোগ্যতা।

    এছাড়া প্রতারণা, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া, ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়া এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতার কারণে অনেক গ্রাহক ও ব্যবসায়ী ইলেকট্রনিক লেনদেনে আগ্রহী হচ্ছেন না।

    নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নে ডেস্কভিত্তিক গবেষণা, পেমেন্ট ব্যবস্থার তথ্য ও নীতিমালা পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে ২১টি সাক্ষাৎকার এবং পাঁচটি দলভিত্তিক আলোচনা পরিচালনা করা হয়েছে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তরের প্রসার ঘটলেও দেশের লেনদেন ব্যবস্থায় নগদ অর্থের আধিপত্য এখনো রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের মোট সংখ্যার ৮০ শতাংশের বেশি এখনো নগদে সম্পন্ন হয়।

    গবেষণায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচের সংবেদনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মুনাফার পরিমাণ এমনিতেই কম। এর মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের অতিরিক্ত মাশুল মুনাফা আরো কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি লেনদেনের পদ্ধতি, অর্থ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগবে এবং কী পরিমাণ খরচ হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।

    ভোক্তাদের জন্য ডিজিটাল লেনদেন সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা দেয়। তবে এ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য সেবা, সহজে অভিযোগ জানানোর ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুললেই হবে না। সাশ্রয়ী সেবা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎসাহিত করা সম্ভব।

    এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তসংযোগযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে জাতীয় মানদণ্ড হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এ ব্যবস্থাকে আরো আকর্ষণীয় করতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    এ উদ্যোগের লক্ষ্য কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনের পথে বাধা কমানো। তবে এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের কাছে ব্যবস্থাটি কতটা সাশ্রয়ী, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে তার ওপর।

    গবেষণার ফলাফল বলছে, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানো গেলে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে লেনদেনের ব্যয় কমানো সম্ভব। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক রেকর্ড সংরক্ষিত হয়, যা আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরো কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়লে ব্যাংক নোট ছাপানো, পরিবহন, পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত পুনরাবৃত্ত ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

    তবে নগদনির্ভরতা থেকে ডিজিটাল লেনদেনে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার করা, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগ বাড়ানো, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব দূর করা এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে মানুষের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

    গবেষণায় ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে।

    গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে আয়ের স্তর ও ব্যবসার ধরন নির্বিশেষে সবার জন্য ডিজিটাল লেনদেনকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে হবে।

  • সোনা ও রুপার আজকের বাজার দর

    সোনা ও রুপার আজকের বাজার দর

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক দিন বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার থেকে দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

    গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণ ও রুপার এই দর কার্যকর করেছে বাজুস। নতুন করে দাম নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ দরেই স্বর্ণ ও রুপার গহনা বিক্রি হবে।

    বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা।

    ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ৬২৪ টাকা।

    উল্লেখ্য, স্বর্ণ ও রুপার গহনা কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের বাইরে প্রযোজ্য মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হতে পারে। তাই কেনার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চূড়ান্ত মূল্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

  • মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান

    মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান

    বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য তথা সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে চায় জাপান। মূলত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রসার বাড়াতে এ পরিকল্পনা করছে টোকিও।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর সামনে রেখে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এতে মাতারবাড়ী বন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্ব পেতে পারে।

    দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, “মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রাখে। ”

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ।

    এর মধ্যে মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনায় গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহণে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে বড় জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বোসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে।

    জাপানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে এমন একটি শিল্প ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এ উদ্যোগের সুফল ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারও পেতে পারে।

    এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক করিডরকে উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান।

    দেশটির এক কূটনীতিকের মতে, বন্দর ও সাউদার্ন ইকোনমিক করিডরের মাধ্যমে ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মাতারবাড়ীকেও একই ধরনের আঞ্চলিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জাপান।

    তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মিত হয়, যা ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে দুই দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি।

    জাপানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

    দ্য হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সফরের আলোচ্যসূচিতে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগও রয়েছে।

  • রূপালী ব্যাংকের  বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

    রূপালী ব্যাংকের বিভাগীয় ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

    রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে বিভাগাধীন শাখাগুলোর ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার খুলনা শহরের সিএসএস আভা সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

    সভায় তিনি ‘ঋণ বিতরণ বর্ষ ২০২৬’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন, ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ব্যাংকের সার্বিক ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ আদায় এবং বাংলা কিউআর মার্চেন্ট অন্তর্ভুক্তি ও লেনদেনে খুলনা বিভাগের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মইনুদ্দিন মাসুদ।

    এ ছাড়া সভায় বিভাগাধীন তিনটি জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক ও জোনাল ম্যানেজার মো. সাহাদ আলী, মুজিব আলম ও শেখ আলাউদ্দিন হোসেনসহ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সব শাখা ও উপশাখার ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মূলধন সংকটের কারণে  জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের  চারটি শাখা বন্ধের পথে

    মূলধন সংকটের কারণে জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের চারটি শাখা বন্ধের পথে

    মূলধন সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএইচ) চারটি শাখা বন্ধের পথে। স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে মূলধন ঘাটতি পূরণের ৮১.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেল-ইন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ব্যাংকটির আমিরাতভিত্তিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউ ইউএই’কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে পরিচালিত এই শাখাগুলোর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার (৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন টাকা) রেমিট্যান্স দেশে আসত, যা বন্ধের উপক্রম হওয়ায় বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) ই-মেইলে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় জনতা ব্যাংকের ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম, যা প্রায় ৮১.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতির কারণ দেখিয়ে সিবিইউএই এ অর্থ মূলধন সহায়তা হিসেবে গ্রহণে সম্মতি দেয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে ইউএইতে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

    জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য পাঠানো অর্থ ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় নিউ ইয়র্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে জনতা ব্যাংকের নস্ট্রো হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অর্থটি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ট্রেজারি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএইতে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া এবং ক্রো ইউএইকে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) তাদের কাছে থাকা জনতা ব্যাংকের এই শাখাগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ওপর (ডেবিট লেনদেন) নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহক হিসাব খোলা বন্ধ রাখতে বলেছে এবং বিদ্যমান ব্যবসা ধাপে ধাপে গুটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

    পরবর্তী সময়ে ইউএইতে ব্যাংকটির কার্যক্রম সচল রাখতে অর্থ বিভাগের কাছে ২ বিলিয়ন দিরহাম সমপরিমাণ মূলধন জোগানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল জনতা ব্যাংক। তবে মূলধন সহায়তা এবং ঘাটতি পূরণে জনতা ব্যাংকের উদ্যোগ সত্ত্বেও ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। প্রশাসক নিয়োগের ফলে ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়েছে। এ প্রক্রিয়ার ব্যয়ও জনতা ব্যাংককে বহন করতে হবে।

    এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মূলধন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও তারা আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

    জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে দেশটিতে ব্যাংকটির চারটি শাখা ও একটি প্রধান নির্বাহী কার্যালয় রয়েছে। শাখার সংখ্যার হিসাবে এটি ইউএইতে পরিচালিত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ব্যাংকটির ইউএই কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার আমানতকারী, ৩,৮০০ ঋণ ও অগ্রিম গ্রহীতা এবং প্রায় ১০ লাখ রেমিট্যান্স প্রেরক যুক্ত রয়েছেন। ফলে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    জানা গেছে, জনতা ব্যাংক বর্তমানে ইউএই থেকে বছরে আনুমানিক ৮,০০০ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়। তবে কার্যক্রম বন্ধের পর এসব গ্রাহকের হিসাব, আমানত ও রেমিট্যান্স সেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো জানা যায়নি।

    জানা গেছে, ২০২১ সালে ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশি ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম মূলধনের শর্ত ৪০ মিলিয়ন দিরহাম থেকে বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম করে। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ইউএই ইউনিটের পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। এর সঙ্গে ৮৩ মিলিয়ন দিরহাম অবণ্টিত মুনাফা থাকলেও নতুন নির্ধারিত সীমার তুলনায় বড় ঘাটতি থেকে যায়।

    এ ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই ২০২৬ থেকে জনতা ব্যাংকের ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত রিজার্ভ হিসাব থেকে ডেবিট লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর, ১৫ জুলাই, ব্যাংকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে তিন বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় ইউএইর নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ ও কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু না করলে ১৪ সেপ্টেম্বরের পর ব্যাংকটির রিজার্ভ হিসাব স্থায়ীভাবে স্থগিত করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

    পরিস্থিতি সমাধানের লক্ষ্যে গত ১৮ আগস্ট ইউএইতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জনতা ব্যাংকের জন্য ২ বিলিয়ন দিরহাম মূলধন সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিটি শাখার জন্য ন্যূনতম ১০০ মিলিয়ন দিরহাম মূলধন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    এরপর ১ সেপ্টেম্বর জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। পাশাপাশি প্রশাসক নিয়োগ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পরিপালনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়।

    সব মিলিয়ে মূলধন ঘাটতি, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতা এবং মূলধন বাড়ানোর উদ্যোগে সাড়া না পাওয়ায় ইউএইতে জনতা ব্যাংকের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম এখন বন্ধের মুখে। এর প্রভাব ব্যাংকটির গ্রাহক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তার ওপর।

  • বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার আশ্বাসঃওয়াং চুনইং

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার আশ্বাসঃওয়াং চুনইং

    বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং।

    বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ। তিনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্মাণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন দ্রুত করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে স্মার্ট গ্রিড গড়ে তুলতে জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী পর্যায়ের সম্প্রসারণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    তিনি সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক শুল্ক ও কর হ্রাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

    ওয়াং চুনইং সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ভূমিতে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ জিটুজি গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে একমত হয়।

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

  • শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে  শনিবার দেশের সব ব্যাংক খোলা থাকবে

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার দেশের সব ব্যাংক খোলা থাকবে

    দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসডিএডি) মো. আব্দুল মান্নানের সই করা এক সার্কুলারে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর পরিবর্তে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।

    তবে ছুটির মধ্যেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অনুযায়ী, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর আগে গত ৭ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক দিনের অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পূর্বনির্ধারিত ছুটির তালিকায় ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ছিল। পরে ২২ অক্টোবরও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

    ফলে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    তবে এ অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয় করতে ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ওই দিন ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসও খোলা থাকবে।

  • তিন মাসে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

    তিন মাসে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাত থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল সরকার। ফলে ওই সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সরকারের। অন্যদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে চাপে রয়েছে বেসরকারি খাত। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আবার চালু প্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে। এজন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তখন সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল।

    এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

    চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসেই এর প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

    বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের কোনো সময়েই এনবিআর এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারেনি।

    তিনি আরো বলেন, আগামীতে সরকারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপ আরো বাড়বে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে ন্যূনতম ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ভর্তুকির ব্যয়ও বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো গেলেও তা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।

    জাহিদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ায় আপাতত বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের ঋণের সুদের হার কমে আসায় ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের ঋণের সুদহার আমানতের সুদহারের চেয়েও কমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

    এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এ সময় লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।

  • আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

    আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে বাংলাদেশের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি এবং বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্যাংক খাতের সংস্কার, পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্কের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সাথে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় পাওয়া তথ্য ও অগ্রগতির ভিত্তিতে আজকের বৈঠক হয়েছে। বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় নিলে দেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে মনে করছে আইএমএফ। তবে কিছু বিষয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ আছে। অনেক বিষয়ে আমরা একমত। এরই মধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পর্যবেক্ষণ থাকাটাই স্বাভাবিক। আমাদেরও বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।’

    নতুন কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরো বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা নিয়ে আইএমএফ সন্তুষ্ট। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার।

    ব্যাংক খাতের পুনঃমূলধনীকরণ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ, করব্যবস্থা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈঠকের আলোচনা ভালো হয়েছে এবং অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহ রয়েছে।

    বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফ প্রশ্ন তুলেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় যেসব শর্ত থাকবে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলবে। কিছু বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হতে পারে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় সংস্থার সাথেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সংস্থার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

    সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৌশল না থাকলে আলোচনা এত দূর এগোত না। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনা অব্যাহত থাকলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সাথে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

  • বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পেতে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পেতে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

    মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    আমির খসরু বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

    তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

    বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

    মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

  • জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে: বাণিজ্য মন্ত্রী

    জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে: বাণিজ্য মন্ত্রী

    বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহজ ব্যবসা পরিচালনা, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা করবে।

    রোববার সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন্নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

    দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, অটোমোবাইল, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, পাটশিল্পকে প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

    বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে কাফকোর আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনেও নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে মারুবেনির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি অফশোরিং খাতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

    এ ছাড়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ, টয়োটা গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী যেকোনো জাপানি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানো এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।

  • বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে  ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি স্বাক্ষর

    পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পার্ল রুমে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং স্বাক্ষর করেন।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) পক্ষে ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বোর্ডের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আফরোজা সুলতানা।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিউবোর সদস্য (বিতরণ) মো: আ: বাছিদসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, দুর্গম জনপদ এবং প্রত্যন্ত এলাকায় জ্বালানি সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন এ অঞ্চলের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

    এ প্রেক্ষাপটে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও কমিউনিটির ক্ষমতায়ন প্রকল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এডিবির ঋণ সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে জ্বালানি উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ঋণ, অনুদান এবং কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতেও সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থায়ন ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

  • ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগবে : গভর্নর

    ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগবে : গভর্নর

    ব্যাংক খাতকে ব্যাপক ‘আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি’ থেকে পুনরুদ্ধারে পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান।

    শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    আর্থিক খাতের অর্থপাচার ও অনিয়মের ব্যাপকতা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তিনি যখন গভর্নরের দায়িত্ব নেন, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গিয়েছিল।

    আর্থিক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে সরকার দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দিতে পারত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করতে পারত।

    ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য সঙ্কটের জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়।’

    মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘লুটেরা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। এটি সাধারণ চুরি নয়; এটি ছিল লুটপাট।’

    গভর্নর আশ্বস্ত করে বলেন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সাথে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

  • দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ

    দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ

    বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

    শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ অভিমত তুলে ধরেন তিনি।

    ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক এই সম্মেলনে এশিয়ায় বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও ‘অক্সফাম ইন এশিয়া’ যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।

    ‘অর্থনৈতিক সমতায় অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, করোনা মহামারি এবং আগের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর উপস্থাপনায় উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হন।

    সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান। ফলে যাঁদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

    নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মসংস্থানের এই দুটি অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো দারিদ্র্য বিমোচনকে আরও টেকসই করতে পারে।

    সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি অর্থ সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি অর্থ প্রদানের এই ব্যবস্থাকে ‘জিটুপি’ বলা হয়।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক নোপফল উইটভোরাপং, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জন স্যামুয়েল এবং অক্সফাম এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইন বিভাগের প্রধান মুস্তাফা তালপুর।

  • স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করল বাজুস

    স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করল বাজুস

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

    এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

  • ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

    বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রকল্প।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আজকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (৭টি):

    ১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প।

    ২. রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    ৩. রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প।

    ৪. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প।

    ৫. সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প।

    ৬. সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    ৭. গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়) (২য় সংশোধন) প্রকল্প।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প।

    রেলপথ মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ (রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ) প্রকল্প।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (২টি):

    ১. ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে ২য় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

    ২. থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (১টি):

    ১. রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।

    এছাড়া সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক কমিটিকে অবহিত করা হয়, যা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। এটি হলো—জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প।

  • বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খোলা যাবে: বাংলাদেশ ব্যাংক

    বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খোলা যাবে: বাংলাদেশ ব্যাংক

    মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি (আইবিএ)-এর ফরেন লোন/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।

    অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবা মূল্য পরিশোধেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

    অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকবে।

    এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ঋণচুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে, ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি স্থিতি রাখা যাবে না।

  • দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে: বিশ্বব্যাংক

    দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে: বিশ্বব্যাংক

    একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরো কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরো সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার জরুরি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিও থমকে গেছে। বিশেষ করে নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

    সংস্থাটি বলেছে, বর্তমানে সবচেয়ে দরিদ্র প্রায় অর্ধেক পরিবারই কোনো না কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তার একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরো উন্নত করা গেলে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

    বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন আরো কার্যকর করা এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা হলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে। এতে একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

    এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিকভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকিও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে এসব সুবিধা কারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে সীমিত সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন। তাই আরো সংবেদনশীল ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

    এদিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে থাকতে পারে। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণও অত্যন্ত দুর্বল। ২০২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে প্রয়োজনীয় খাতে সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

    ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার চিত্রও উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি থাকলেও ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    তবে অর্থনীতির বহির্বিশ্বমুখী খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচির গতি বাড়ানো গেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং আরো বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • ক্যাশবিহীন লেনদেন গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা শুরু: গভর্নর

    ক্যাশবিহীন লেনদেন গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা শুরু: গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে।

    নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে দেশে ক্যাশবিহীন লেনদেন বা ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম বাংলা কিউআর সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলা কিউআর ব্যবহারে তাদের উৎসাহিত করেন।

    গভর্নর বলেছেন, এরই মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু হয়েছে। গত তিন মাসে এ মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে।

    মতিঝিলে প্রচারণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে শুধু প্রযুক্তি সুবিধা চালু করাই নয়, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

    এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এতে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দ্রুত বাড়বে।

    আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বলেন, দিন দিন বাংলা কিউআরের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা যায়। গত ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য-রেকর্ড ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। বাংলা কিউআর নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কেনাকাটায় ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।

  • ঢাকা সফরে আসছে আইএমএফ

    ঢাকা সফরে আসছে আইএমএফ

    অর্থনীতির চাপ সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের বড় প্যাকেজের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, দুর্বল রাজস্ব আদায়, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং বাজেটের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন অর্থায়ন নিশ্চিতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার।

    এর অংশ হিসেবে আইএমএফ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ পেতে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত। এর আগে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে।

    অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ১৫ দিনের সফরে ঢাকায় আসছে আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন আইএমএফ প্রতিনিধিরা। সিরিজ বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে আইএমএফ। এনবিআরের পাঠানো রাজস্ব পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল ও কর্মপরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে কোন কোন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হবে, করজাল কীভাবে সম্প্রসারণ করা হবে এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এনবিআরের প্রতিবেদনে নেই। এ কারণে প্রতিবেদনটিকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করেনি আইএমএফ। তাই মিশন ঢাকায় আসার আগেই রাজস্ব পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে। এজন্য এনবিআরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কীভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াবে, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছিল আইএমএফ।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর পর্যালোচনা প্রতিবেদন সংস্থাটির কাছে পাঠায়। তবে এতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত থাকলেও আগামী অর্থবছরের রাজস্ব কৌশল যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

    এনবিআরের প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আগামী অর্থবছরে বাড়তি রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নেই। নতুন রাজস্বের সম্ভাব্য খাত চিহ্নিত করা, নতুন করদাতা শনাক্ত করা, করজাল সম্প্রসারণে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং ডিজিটাল অটোমেশনের সময়সীমা—এসব বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় আইএমএফ প্রতিবেদনটি নিয়ে অসন্তোষ জানায়। এ বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তাদের মতামত জানানো হয়েছে।

    ফলে মিশন আসার আগে রাজস্ব পরিকল্পনার ঘাটতি পূরণ করাই অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থ বিভাগের আসন্ন বৈঠকে নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, কর ফাঁকি কমানো, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনের মতো বিষয়কে পরিকল্পনায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো পরিকল্পনা নিয়ে আইএমএফের কোনো অসন্তোষ আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ব্যাংক খাতেও সংস্কারের চাপ

    এবারের আলোচনায় ব্যাংক খাতও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফের আগের অবস্থানই বহাল রয়েছে। গত জুলাইয়ে ঢাকায় সফর শেষে আইএমএফ বলেছিল, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে চাপ এখনো বেশি। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছিল সংস্থাটি।

    জ্বালানি ভর্তুকি নিয়েও আলোচনা

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। আইএমএফের জুলাইয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উচ্চ পণ্যদাম ও সরবরাহ বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও বৃদ্ধি করেছে। তাই আর্থিক জায়গা তৈরি করতে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় নজর

    আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে সামনে রেখে আইএমএফের কাছে ৪৫০-৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছে চাওয়া হবে বাজেট সহায়তাসহ জ্বালানি, খাদ্য, ব্যাংকিং ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে অর্থায়ন। ঋণের দরজা খুলতে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। সামনে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানোর মতো সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসতে পারে।

    সরকারের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে আইএমএফের সঙ্গে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করা। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতে প্রথম কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতিতে অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ কাজ করছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ওই বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের এজেন্ডা চূড়ান্ত করবে অর্থ বিভাগ। এতে রাজস্ব আদায়, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ভর্তুকি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যউপাত্ত দেওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও নতুন অর্থায়নের প্রস্তুতি রয়েছে। বাজেট সহায়তার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও সার আমদানি, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু মোকাবিলায় অর্থ চাওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় অঙ্কের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।

    জানা গেছে, নতুন কর্মসূচিতে সরকার শুধু বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার দিকেই নজর দিচ্ছে না; বরং ঋণের পাশাপাশি অর্থনীতির সংস্কার কাঠামো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ব্যাংককের বৈঠকে মূলত ঋণের আকার, সংস্কারের রূপরেখা ও অর্থছাড়ের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমার দেশকে বলেন, নতুন করে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সংস্কার কার্যক্রম দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আইএমএফ। কিন্তু সরকারের সংস্কারে তেমন গতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনবিআরের পৃথকীকরণে অগ্রগতি নেই। শুধু ঋণ পেলেই বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটবে না, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি।

    তিনি বলেন, নতুন ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যবহার হবে এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কীভাবে বাড়ানো হবে—এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

  • ভরিতে ১৬৯১ টাকা কমল স্বর্ণের দাম: বাজুস

    ভরিতে ১৬৯১ টাকা কমল স্বর্ণের দাম: বাজুস

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। স্বর্ণের এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।

    স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

  • স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে

    স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে

    ডলারের তেজ আর বন্ডের সুদের হার বাড়ায় বিশ্ববাজারে ফের কমেছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে টানা এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে লাভহীন এই মূল্যবান ধাতু।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ ডলারে নেমে এসেছে। সবমিলিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। এছাড়া মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৬২ ডলারে ঠেকেছে।

    বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বলেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড এখনো কঠোর নীতিতে অটল থাকায় বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত আশা করতে ভয় পাচ্ছেন। সামনে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারের দুর্বলতা ফেড কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা ও চড়া সুদের হারের কারণে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।

    বিশ্ববাজারের মতো অন্য ধাতুর অবস্থাও ভালো নয়। রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে, যা সার্বিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারকে সাপ্তাহিক লোকসানের মুখে ফেলেছে।

    এদিকে এর প্রভাব দেশের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার

    অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার

    চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিসেম্বর প্রান্তিকের ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে সরকারের অর্থের চাহিদা বাড়ছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

    এর মধ্যে চলতি বছরই অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। জুলাই, ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুলাইয়ে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে। এছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের ভাতা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    তবে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

  • সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার

    সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার

    গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে আগস্টের তুলনায় রেমিট্যান্স ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। তবে বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার হার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে এর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ভিসা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ির কারণে নতুন কর্মী যাওয়ার গতি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়াও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলছে।

    বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের একই ছয় মাসে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। চলতি বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।

    ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বৈধ চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার ও সরকারের নগদ প্রণোদনা রেমিট্যান্সকে এখনো উৎসাহিত করছে। ফলে মাসভিত্তিক প্রবাহ কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    টানা চার মাস ধরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। জুলাই ও জুন মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল যথাক্রমে ২৮৬ কোটি ও ২৮২ কোটি ডলার। তবে এর আগে টানা ছয় মাস দেশের প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার বা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টানা চার মাস প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও এটিকে এখনই বড় ধরনের পতন বলা ঠিক হবে না। কারণ, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—চার মাসেই প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি এসেছে। বরং কয়েক মাসের অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবাহের পর প্রবাসী আয় এখন কিছুটা স্বাভাবিক বা মৌসুমি পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

    গতকাল বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, স্বস্তির বিষয় হলো রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈদেশিক খাতে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হারও আমদানি করা পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

  • জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

    জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

    জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    আদেশে বলা হয়, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি।

    এ অবস্থায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন এখনো ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি, তাদের জন্য সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন অবশ্যই ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

    জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

  • সেপ্টেম্বরে ২৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার

    সেপ্টেম্বরে ২৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার

    চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

    গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর একদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ৮৪৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৪৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।

    এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

  • ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশ রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশ রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

    মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর সাথে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বর্তমান অবস্থা, ব্যাংক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নীতি সুদহার নয় দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এবারই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে আগের ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণার ব্যবস্থা থেকে সরে এসে অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে দ্রুত সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি হলো।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো: হাবিবুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং দেশী-বিদেশী ঝুঁকি এখনো রয়েছে। এ কারণে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে নীতি সুদহার নয় দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমলেও তা স্থায়ীভাবে মূল্য স্থিতিশীলতার পর্যায়ে ফিরে আসার যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই সতর্ক মুদ্রানীতি অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

    ডেপুটি গভর্নর জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় নীতি সুদহার নয় দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। একইসাথে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) সুদহার ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) সুদহার সাত দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।

    এর আগে, গত ২ আগস্ট থেকে নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে নয় দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কয়েকটি ঝুঁকি বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্রপথে বাণিজ্যে সম্ভাব্য বিঘ্ন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব এবং জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা।

    তিনি জানান, জুনে নয় দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আট দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। এটি ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূলত খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার কারণেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে।

    আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে সাত দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি নয় দশমিক ৩২ শতাংশে রয়ে গেছে।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশের জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ১৪ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরো কমে দুই দশমিক দুই শতাংশে নেমেছে।

    এই সময়ে শিল্প উৎপাদন দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তাৎক্ষণিক সূচকেও শ্লথগতির চিত্র পাওয়া গেছে।

    ডেপুটি গভর্নর বলেন, ঋণের উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সঙ্কট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দেশী-বিদেশী চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে এখনো বাধাগ্রস্ত করছে।

    তিনি বলেন, মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বা নীতিগত সুদহারের পরিবর্তন বাজারে ঋণের সুদ ও ঋণপ্রবাহে কতটা প্রভাব ফেলছে, সেই সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

    জুনে দেশের খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র চার দশমিক ৭৫ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, এর আগে নীতি সুদহার কমানো হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব এখনো পড়েনি।

    ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি ও অর্থবাজারের সুদহারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ঋণঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

    উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু মুদ্রানীতির পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, মূলধন পুনর্গঠন, সুশাসন জোরদার এবং ঋণ প্রদানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মুদ্রানীতির কার্যকর সঞ্চালন নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

    উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর।

    তিনি জানান, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য নির্দিষ্টভাবে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    এছাড়া কৃষি, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাও জোরদার করা হয়েছে।

    বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ছয় দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আর্থিক হিসাবে নিট অর্থপ্রবাহের কারণে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্য ঘাটতিতে পড়েছে।

    তিনি বলেন, বৈদেশিক খাতে এখনো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করতে এবং আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।

    ডেপুটি গভর্নর বলেন, অর্থনীতির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি পরিচালনা করবে। একইসাথে মূল্যস্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে।

    তিনি বলেন, দেশী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এদিকে বিশ্বব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ছয় শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের পূর্বাভাস চার দশমিক তিন শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ করেছে।

  • বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু

    বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।

    আইএসপিআর জানায়, বিদায়ী সাক্ষাতকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের গঠনমূলক ভূমিকা ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত যৌথ উদ্যোগের পরিধি আরও বেগবান ও সুদৃঢ় হবে।

    বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • টানা তৃতীয় দফা কমল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

    টানা তৃতীয় দফা কমল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফা স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানায় বাজুস।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

    ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন বেড়ে ৭৪৬ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন বেড়ে ৭৪৬ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ছয় দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৫২৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে।

    একইসাথে ডিএস৩০ সূচক এক দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৯৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক তিন দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১০০ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    ডিএসইতে আজ এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৯টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৯টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টির দর বেড়েছে, ২২৪টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৯ টাকা। বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা।

    ক্যাটাগরিভিত্তিক লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০২টি কোম্পানির মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, ১০৯টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে, ৫০টির কমেছে এবং চারটির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১১৮টি কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৩৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে, ২৮টির কমেছে এবং দু’টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইতে আজ চারটি করপোরেট বন্ডের মধ্যে দু’টির দর বেড়েছে ও দু’টির কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজের সাতটির দরই কমেছে।

  • ব্যবসায়ীদের ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে

    ব্যবসায়ীদের ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে

    ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছে সরকার। ফলে আগের নিয়মানুযায়ী ব্যবসায়ীদের আবারো প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

    গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ-সংক্রান্ত খসড়া সংশোধনীর অনুমোদন দেয়া হয়।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের লক্ষ্যে খসড়াটি উপস্থাপন করা হয়।

    খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেয়ার পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

    তবে দাখিলপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা জমা দেয়া যাবে।

    এ ছাড়া সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পাবে।

  • আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    আবারও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম জানানোর কথা জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নতুন মূল্যতালিকায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অর্থাৎ, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

    এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা।

  • বিদেশযাত্রায় বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা বাড়ল

    বিদেশযাত্রায় বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা বাড়ল

    বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে কেনার সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারবেন। আগে টিকিট বিক্রির অর্থ দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকলেই এ সুবিধা পাওয়া যেত। এখন ভিসা থাকলেই এ সুবিধা মিলবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো তাদের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তি করলেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে পরিচালিত ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন শনাক্ত করবে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, এ সুবিধার আওতায় কেনা টিকিটের মূল্য ভ্রমণ কোটার সীমার বাইরে থাকবে। যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন যাচাইয়ের পর গ্রাহকের আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনায় ব্যয় করা অর্থ পুনরায় জমা বা রিফিল করতে পারবে ব্যাংক। তবে এটি গ্রাহকের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আওতাধীন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এ ধরনের লেনদেন নির্ধারিত রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এর ফলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশে স্থানীয় অ্যাকোয়ারিং ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা ব্যবস্থা করার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে অনলাইনে টিকিট বিক্রিও সহজ হবে।

  • আর্থিক ও ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    আর্থিক ও ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    ব্যাংকিং খাতের তদারকি জোরদার, দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার কক্ষে একনেক সভায় এটিসহ বিভিন্ন খাতের ১৫টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামে এ প্রকল্পের অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, সফটওয়্যার, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক সেবায়। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে আসবে। অবশিষ্ট ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের সরাসরি অর্থায়ন বা জিওবি বরাদ্দ এতে রাখা হয়নি।

    পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, তদারকি কাঠামো আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনের কার্যক্রম কার্যকর করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট অর্থের বড় অংশই প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে যাচ্ছে। শুধু আইসিটি সরঞ্জাম কেনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭১১ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কম্পিউটার সফটওয়্যারের জন্য ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ পাঁচ হাজার এবং ডেটাবেজ তৈরিতে সাত কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীতে আরো এক কোটি পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলধন খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭ কোটি ২৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

    প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩,৫৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বরাদ্দ ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে আইডিএর অর্থায়ন ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অংশ তিন কোটি টাকা।

    এছাড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগে মোট ৯৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ব্যক্তিগত পরামর্শকের জন্য ২৯ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেবায় ৬৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প নথিতে দেশের আর্থিক খাতের কয়েকটি বড় দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং পুরোনো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা। কয়েকটি ব্যাংক, বিশেষ করে সরকারি ও ইসলামি ধারার কিছু প্রতিষ্ঠান, তারল্য ও মূলধন সংকটের মুখে পড়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।

    এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো, আমানত বীমা ট্রাস্ট ফান্ডের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

    নথিতে বলা হয়, পুরোনো আইসিটি অবকাঠামো ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে সাইবার হামলা, আন্তঃসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকি এবং অন্যান্য উদীয়মান সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব আমানতকারীদের আস্থা ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে।

  • বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমলেও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বরং সরবরাহ সংকটের কথা বলে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের ভোজ্যতেল।

    বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এপ্রিল-জুন সময়ে এ গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার।

    অর্থাৎ তিন মাসের গড় হিসাবে দাম কমেছে ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

    সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে টনপ্রতি গড় দাম ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। জুন-আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলারে।

    অর্থাৎ গড় দাম কমেছে ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    তবে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ৬ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, পাম তেলের দামও একই সময়ে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

    খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

    পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদর ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচ স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে।

    খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে শুধু টনপ্রতি মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন।

    চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণও নজরদারিতে রাখা উচিত।

  • রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতিতে শক্তিশালী বৈদেশিক খাত

    রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতিতে শক্তিশালী বৈদেশিক খাত

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।

    গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) উদ্বৃত্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬৬১ কোটি ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

    চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ২৪২ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

    এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ারও প্রতিফলন এটি।

    তিনি বলেন, প্রবাসী আয় পাঠানোর আনুষ্ঠানিক মাধ্যমকে আরো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। একই সাথে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট এই ছয় মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক খাতের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে এ রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। আর ২০২৫ সালের আগস্টের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ আগস্টের শেষে ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার।

    সে হিসাবে এক বছরে মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬১৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    এদিকে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

    বিনিময় হারের এ স্থিতিশীলতা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিনিময় হারের ব্যবধান কম থাকলে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হন।

    বৈদেশিক খাতের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সার্বিক লেনদেন ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

    দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবের কিছু ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, যা সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

    বৈদেশিক খাতের এ উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

    এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে সামান্য।

    এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘আমদানি বৃদ্ধির ধরন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল অন্যান্য উপকরণ আমদানির কারণে এ প্রবৃদ্ধি হলে তা অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

    বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়।

    এরপর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বিশেষায়িত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধাসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে সহায়তা করছে। একইসাথে আমদানি ব্যয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপও কমছে।’

    তিনি বলেন, ‘এ প্রবণতা ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক ও তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখা, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর সেবা উন্নত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।’

  • স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

    স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র লক্ষ করা গেছে।

    গতকাল দুপুরে নয়াবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে খোলা আটার দাম ছিল ৪৫ টাকা এবং ময়দা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হয়েছে।

    ময়দার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যে। গত শনিবার থেকে রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে আগের দামে সব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

    সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৮০ থেকে ২০০ এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকলেও নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে।

    ডিমের বাজারে তুলনামূলক বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে ডজনপ্রতি দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ এ সময় ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

    ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। দেড় মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম। সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ এবং খাসির মাংসের দাম ১,২৫০ টাকায় কেজিতে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

    মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বর্তমানে রুই ৪০০ থেকে ৪২০, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০, টেংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    তবে ইলিশের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আকারভেদে রাজধানীর বাজারে ইলিশ ৮৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।

    এদিকে কর-শুল্ক কমানোর সুফলও খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যে কর কমানো হয়। কিন্তু ভোক্তারা জানান, এতে বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম আরো বেড়েছে।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

  • আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

    আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা করা হয়েছে।

    শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাজুস। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

    এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা করা হয়।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই দাম নির্ধারণের এক সপ্তাহ পর আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হলো।

    স্বর্ণের দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা করা হয়েছে।

    ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫৯ দফা কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি। সেদিন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটিই দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক

    মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি)। এ কারণে এখনই নীতি সুদহার পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এমপিসির ১৪তম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

    বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

    পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।

    কমিটি মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অস্থির। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিটি।

    এ পরিস্থিতিতে বর্তমান নীতি সুদহারে এখনই কোনো পরিবর্তন না এনে অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিসি। বিশেষ করে এসব অভিঘাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক (সিপিআই) মূল্যস্ফীতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফিরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ইমাম আবু সায়েদ। এছাড়া এমপিসির সদস্যসচিব ও মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা

    ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা

    প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জোয়ার, বাজারে ডলারের সহজলভ্যতা আর বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের টাকা। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান এখন বেশ শক্ত অবস্থানে। শুধু ডলারই নয়, গত এক বছর ধরে প্রতিবেশী ভারতের রুপিকে পেছনে ফেলে টাকা একটু একটু করে নিজের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে দেশের মুদ্রা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। এরপর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

    এদিকে গত এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা।

    একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।

    তবে এর পেছনে শুধু বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়া কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও বড় একটি কারণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ফলে দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।

  • জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।

    সর্বশেষ বড় ধরনের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

  • ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ

    ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ

    বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গ্রাহক লেনদেন সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    সার্কুলার বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় ওবিইউগুলো নিজ নিজ ডোমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট, অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার ও ওবিইউ এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টারপার্টির সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন করতে পারবে।

    এর ফলে ওবিইউগুলো উপযুক্ত উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ, তহবিলের কাঠামো আরও কার্যকরভাবে সাজানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। বিশেষ করে অনুমোদিত বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে অর্থায়ন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, এসব লেনদেন অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, তহবিলের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বিচক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজনে তুলনামূলক কম ব্যয়ের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ এবং উপযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় বা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • মূল্যস্ফীতি কমছে, বেড়েছে বাজার খরচ

    মূল্যস্ফীতি কমছে, বেড়েছে বাজার খরচ

    সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমছে, মানে মূল্যবৃৃদ্ধির হার কমছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বাজারের খরচ কমছে না; বরং নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর প্রধান কারণ- মূল্যস্ফীতির হার কমেছে, কিন্তু গত কয়েক বছরে যে উচ্চ মূল্যস্তর তৈরি হয়েছে, তা নিচে নামেনি। ফলে বাজারে নতুন করে দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও আগের বাড়তি দামের ওপরই নতুন দাম যোগ হচ্ছে।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে আগস্টে দেশের সার্বিক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ; অর্থাৎ এক মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু একই সময়ে খাদ্যপণ্যের মাসওয়ারি মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ; অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও বাজারে দামের স্তর কমেনি। আরো উদ্বেগের বিষয়, আগস্টে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশে; অর্থাৎ গড় মজুরি বৃদ্ধির হারও ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির নিচে। এর অর্থ গড়ে মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে সামান্য বেশি হারে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। ফলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
    মূল্যস্ফীতি কমলেই দাম কমে না : অর্থনীতির এই পার্থক্যটিই এখন সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি করছে। ধরা যাক, একটি পণ্যের দাম এক বছর আগে ছিল ১০০ টাকা। এক বছর পর দাম হলো ১০৮ টাকা। তা হলে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ। পরের বছর দাম ১০৮ টাকা থেকে ১১২ টাকা হলে মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। কিন্তু পণ্যের দাম ১০০ টাকায় ফিরে যায়নি; বরং দুই বছরে তা ১২ টাকা বেড়েছে।
    বাংলাদেশের বাজারেও অনেকটা একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে চাল, তেল, ডাল, মাছ, গোশত, মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও আগের মূল্যস্তর বহাল রয়েছে। ফলে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমার যে স্বস্তির কথা বলা হচ্ছে, তা বাজারে গিয়ে অনেক পরিবার অনুভব করছে না।
    এক বছরে কোন পণ্যে কী পরিবর্তন
    টিসিবির বাজারদর বিশ্লেষণেও এই দ্বৈত চিত্র স্পষ্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি সময়ে কিছু পণ্যের দাম কমেছে, আবার বেশ কয়েকটি মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
    সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত টিসিবি-ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছর আগের থেকে মোটা চালের দাম প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ, সরু চাল ১১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মাঝারি মানের চিকন চাল ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি ছিল। দেশী পেঁয়াজ অবশ্য গত বছরের একই সময়ের ১১০-১২০ টাকা থেকে নেমে ৫০-৬০ টাকার আশপাশে এসেছিল; অর্থাৎ পেঁয়াজে বড় ধরনের বার্ষিক স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
    অন্য দিকে টিসিবির পরবর্তী এক বছর মেয়াদি তুলনায় দেখা গেছে, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, মাছ ও গোশতসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে; বিপরীতে পেঁয়াজ, রসুন ও ডিমের মতো কিছু পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। টিসিবি-ভিত্তিক ওই বিশ্লেষণে মোটা চাল, আটা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি, রুই মাছ ও গরুর গোশতে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির কথা উঠে আসে; অর্থাৎ বাজারে এখন একক কোনো প্রবণতা নেই। কিছু পণ্যের দাম কমেছে, কিন্তু পরিবারের মোট খাদ্যঝুড়ির ব্যয় কমার মতো পর্যায়ে তা নামেনি।
    এক বছরের হিসাব ছাড়িয়ে এখনকার বাজার
    রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে পণ্যের দামে আবার নতুন করে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। কয়েক দিন আগেও দাম ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা; অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।
    সবজির বাজারেও একই সাথে বৃদ্ধি ও পতনের প্রবণতা রয়েছে। আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৫ টাকা, টমেটো ১০০, পেঁয়াজ ৫০, করলা ৮০, সাদা বেগুন ১২০ ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকায়। সাদা বেগুন কিছু দিন আগেও ৯০-১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৮০ টাকা ছিল।
    পটোল ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। অন্য দিকে মুলা ৬০ থেকে কমে ৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে কমে ১২০ টাকা হয়েছে।
    লাউ আকারভেদে ৫০-৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং ধনেপাতা প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগে আলু ছয় কেজি ১০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন কেজি ২৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
    মুরগির বাজারে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার ১৮০ টাকা কেজি, যা প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০ টাকা। তবে লেয়ার ও কক মুরগি প্রায় ৩৭০ টাকা কেজি।
    মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা কেজি। বিক্রেতাদের হিসাবে আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। বড় পাঙ্গাশ ২২০-২৫০ টাকা এবং ছোট পাঙ্গাশ প্রায় ২০০ টাকা কেজি।
    এই ওঠানামার মধ্যেই প্রকৃত সমস্যা হলো- একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্য কয়েকটি পণ্যের বৃদ্ধি সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে।
    নিম্নআয়ের পরিবারের বাজেটে কোথায় কাটছাঁট?
    ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালান মনির হোসেন। তার মাসিক আয় প্রায় ১৮ হাজার টাকা এবং ছেলের আয় প্রায় ২৪ হাজার টাকা; অর্থাৎ পরিবারের মোট আয় প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
    বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং খাবারে ২৩-২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রতিদিন বাজারে গড়ে ৭০০-৮০০ টাকা খরচ হয়।
    দেড় মাসে পরিবারের প্রায় ৫০ কেজি চাল লাগে। মাসে প্রায় ছয় লিটার ভোজ্যতেল প্রয়োজন। প্রতি লিটার ২১০ টাকা হিসাবে শুধু তেলেই মাসে প্রায় এক হাজার ২৬০ টাকা চলে যাচ্ছে।
    মনিরের হিসাবে, তিন-চার মাস আগেও নিত্যপণ্যের পেছনে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা কম খরচ হতো। তার বক্তব্যের মূল সঙ্কটটি হলো- আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে।
    এর অর্থ মূল্যস্ফীতি শুধু বাজারের সমস্যা নয়; এটি পরিবারের বাজেট পুনর্বিন্যাসের সমস্যা। খাবারের ব্যয় বাড়লে চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক, যাতায়াত কিংবা সঞ্চয়ে কাটছাঁট করতে হয়। নিম্নআয়ের পরিবারে এ কাটছাঁট আরো দ্রুত ঘটে।
    তেজগাঁওয়ের ক্ষুদ্র টং দোকানদার হাসানের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। দুই-তিন মাস আগে যেখানে সপ্তাহে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় কাঁচাবাজার করা যেত, এখন একই ধরনের বাজারে তার ব্যয় বেড়েছে। তার হিসাবে দুই-তিন মাসে সাপ্তাহিক বাজার খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
    আসল চাপ খাদ্যে নয়, ক্রয়ক্ষমতায়
    মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃত আয় বা ক্রয়ক্ষমতায়। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হলেও জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ; অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
    এই ব্যবধানকে ছোট মনে হলেও নিম্নআয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বড়। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও জ্বালানিতে চলে যায়। উচ্চ আয়ের পরিবারের মতো তারা ব্যয়ের বড় অংশ সহজে সঞ্চয় বা বিলাসী খাত থেকে কমিয়ে সামঞ্জস্য করতে পারে না।
    তাই মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্বস্তি আসতে হলে একই সাথে প্রয়োজন- খাদ্যপণ্যের মূল্যস্তর স্থিতিশীল হওয়া; প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি; সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি; পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যয় কমানো; বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো; এবং আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি।
    বাজারে সমস্যা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়
    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় প্রায়ই আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি ব্যয় ও ভর্তুকির প্রসঙ্গ সামনে আসে। তার মতে, এর পাশাপাশি দেশীয় কাঠামোগত অদক্ষতা, অস্বচ্ছ চুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যাও বিবেচনায় নিতে হবে।
    তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলা না করলে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যচাপ সামাল দেয়া কঠিন। তবে তার দাবি, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ঢাকায় পণ্যের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে- এটি তার একটি অনুমান; এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য পরিমাণগত প্রমাণ ছাড়া এটিকে বাজারদরের নিশ্চিত সম্ভাব্য পতন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
    এ জায়গাটিই নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে কোনো একটি পণ্যের দাম কত শতাংশ বেশি, সেটি জানা জরুরি; কিন্তু সেই অতিরিক্ত দামের কত অংশ উৎপাদন ব্যয়, কত অংশ পরিবহন, কত অংশ পাইকারি-খুচরা মার্জিন এবং কত অংশ অনানুষ্ঠানিক খরচ- সেটি না জানলে প্রকৃত কারণ নির্ণয় কঠিন।
    সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কঠিন
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমলেই বাজারে পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। মৌসুমি পণ্যের দাম, উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেশি থাকতে পারে।
    তার মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
    এ বক্তব্যের সাথে সাম্প্রতিক বাজারচিত্রের একটি সরাসরি যোগ রয়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে, কিন্তু খাদ্যদ্রব্যের মাসওয়ারি মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে; অর্থাৎ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কমলেও মাসের মধ্যে বাজারদর বাড়ার চাপ ছিল।
    সরকারি পরিসংখ্যান বনাম বাজারের অভিজ্ঞতা- দু’টিই সত্য
    এখানে সরকারি পরিসংখ্যান এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্যে আসলে কোনো সরাসরি বিরোধ নেই। বিবিএস বলছে, দাম বাড়ার হার কমেছে। ভোক্তা বলছেন, দাম কমেনি। দু’টি বক্তব্য একই সঙ্গে সত্য হতে পারে।
    মূল্যস্ফীতি হলো দাম বৃদ্ধির হার; এটি সরাসরি বাজারদরের মাত্রা নয়। ফলে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্য ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বরং এর অর্থ এক বছর আগের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো প্রায় ৮ শতাংশের বেশি হারে বেশি।
    আর এই উচ্চ মূল্যস্তর যখন একাধিক বছর ধরে জমা হয়, তখন সামান্য মূল্যস্ফীতি কমে সাধারণ মানুষের জীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি তৈরি নাও হতে পারে।
    সামনে নীতির বড় প্রশ্ন
    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘হার কত’ নয়; বরং কোন পণ্যের দাম কত, কেন বেশি এবং কার আয় কতটা বাড়ছে- এ তিনটি বিষয় একসাথে দেখা।
    টিসিবির বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং তাদের দৈনিক ও গত ৩০ দিনের বাজারদরের তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য শুধু তথ্য প্রকাশ যথেষ্ট নয়। কোন পণ্যে অস্বাভাবিক মার্জিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কোথায় পরিবহন বা মধ্যস্বত্বভোগীর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে- সেগুলোরও ধারাবাহিক অনুসন্ধান দরকার।
    কৃষি বিপণন অধিদফতরের বর্তমান বাজারদর ব্যবস্থাতেও পণ্যভিত্তিক, বাজারভিত্তিক ও সময়ভিত্তিক তুলনার সুযোগ রয়েছে; অর্থাৎ তথ্যের ঘাটতি পুরোপুরি নেই; ঘাটতি রয়েছে তথ্যকে দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে।
    স্বস্তির মাপকাঠি কোথায়?
    একজন নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ হবে তখনই, যখন মাস শেষে হাতে কিছু টাকা থাকবে। বাজার থেকে আগের চেয়ে বেশি পণ্য কেনা যাবে। চিকিৎসা বা সন্তানের পড়াশোনার জন্য ধার করতে হবে না। হঠাৎ ডিম, মাছ বা সবজির দাম বাড়লে পুরো খাদ্যতালিকা পাল্টাতে হবে না।
    সুতরাং মূল্যস্ফীতির ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামা একটি ইতিবাচক পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন হলেও এটিকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাওয়ার সমার্থক বলা যাবে না; বরং বর্তমান বাস্তবতা হলো- মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু উচ্চ মূল্যস্তর রয়ে গেছে; একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও মূল্যস্ফীতির নিচে নেমেছে।
    টিসিবির এক বছরের তুলনাতেও একই দ্বৈত চিত্র- পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যে বড় স্বস্তি, কিন্তু চাল, তেল, ডাল, মাছ-গোশতসহ বহু প্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয়ের চাপ।
    তাই বাজারে প্রকৃত স্বস্তি আনতে শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মূল্যস্তর স্থিতিশীল করা, প্রকৃত আয় বাড়ানো এবং উৎপাদন-সরবরাহ থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলে অদক্ষতা ও অস্বাভাবিক ব্যয় কমানো।
    কারণ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের কাছে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানটি হলো- মাস শেষে বেতন বা আয় থেকে বাজার করার পর হাতে কত টাকা থাকে।

  • সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসছেন ‘প্রগতি’ পেনশন স্কিমে

    সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসছেন ‘প্রগতি’ পেনশন স্কিমে

    সরকারি মালিকানাধীন যেসব কোম্পানির কর্মীরা সরকারের প্রচলিত পেনশন সুবিধা পান না, তাদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

    একই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালু, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনির সুবিধার বয়সসীমা বাড়ানো এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কর্তৃপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর যেসব কর্মী সরকারের সরাসরি পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নেই, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মীর অবসর-সুবিধা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চাকরি বিধি ও নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে; তারা সরকারি সিভিল কর্মচারীদের মতো রাষ্ট্রীয় পেনশন পান না। সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য আলাদা সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে।

    প্রগতি স্কিমে সরকারি কোম্পানির কর্মীরা

    জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মীরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন, যারা সরাসরি সরকারি চাকরির পেনশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত নন।

    তবে কোন কোন কোম্পানির কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন, তার পূর্ণ তালিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    সর্বোচ্চ মুনাফা ১১.৭২%

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

    এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১১.৬১% মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।

    ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চালু হবে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা

    সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে পর্ষদ।

    এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থার জন্য আলাদা বিধিমালা করা হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    ৫৫ বছর থেকে পেনশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা

    ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার প্রস্তাবটি একচুরিয়াল পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

    ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, অন্যান্য দেশের অবসর ও পেনশন ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্পেনে ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যে ৬৬ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হবে।

    নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়স ৮০ বছর

    পেনশনভোগী মারা গেলে তার নমিনির পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, পেনশনভোগীর স্বামী বা স্ত্রী পেনশনভোগীর ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন।

    পাঁচ বছর পর টাকা তুলে বের হওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনায়

    পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাঁচ বছর পর অংশগ্রহণকারী তার জমা করা পুরো অর্থ তুলে নিয়ে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন—এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ড. সুরাতুজ্জামান।

    পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে। ঋণ দেওয়া হলে তাতে অংশগ্রহণকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ঋণের সুদের হারও একচুরিয়াল পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

    স্বাস্থ্যবীমা নিয়েও পর্যালোচনা

    পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হবে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পেনশন তহবিলের আকার আরও বড় হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বিদেশ যাওয়ার সময় পেনশনে অন্তর্ভুক্তির তথ্য

    প্রবাসীদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদেশে যাওয়ার সময়ই তাদের এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হবে।

    এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে জানান ড. সুরাতুজ্জামান।

    এ ছাড়া পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্তির এককালীন ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেনশন তহবিল বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্মের মাধ্যমে অডিট করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।