ক্রিকেট

  • সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    ঢাকায় মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের শেষদিকে সবাই অপেক্ষায় ছিলো সাদমানের সেঞ্চুরির জন্য। তিন অঙ্ক থেকে মাত্র চার রান দূরে ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। পরে আবার শুরু হলেও ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ফলে অপেক্ষা বেড়ে গেল ৩১ বছর বয়সী ওপেনারের শতকের।

    আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে।

    দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৯ রানে তানজিদ হাসানকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। এরপর সাদমান ও মুমিনুল হকের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফিরলে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ও শান্তর জুটি বড় হয়নি। ৪২ বলে ১৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

    ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন সাদমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    চা বিরতির পরও রান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন দুজন। তবে ক্র্যাম্পের কারণে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। পরে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান দুইটি এবং সিলস একটি উইকেট পেয়েছেন।

  • অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেন নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন ভারতের অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে একের পর এক রেকর্ড গড়লেন বাঁহাতি ওপেনার। তার সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত।

    এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

    শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে কিউই বোলারদের দিশেহারা করে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন এই ওপেনার। অভিষেকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন ১৯ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীও। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

    ভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল রেকর্ডময়। মাত্র ২.২ ওভারে ৫০ রান তুলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম দলীয় অর্ধশতকের যৌথ রেকর্ড গড়ে তারা। এরপর মাত্র পাঁচ ওভারেই একশ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে ভারত। পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৮ রান। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহ।

    অভিষেকের সেঞ্চুরিও রেকর্ডের তালিকায় নতুন সংযোজন। ৩৫ বলে শতক পূর্ণ করে ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি। এর আগে গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায়ও রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে আছেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি শতক আছে শুধু রোহিত শর্মা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের, দুজনেরই পাঁচটি করে। আর সব ধরনের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে অভিষেকের সেঞ্চুরি এখন ১১টি। এ তালিকায় তার ওপরে আছেন বাবর আজমের ১৩টি ও ক্রিস গেইলের ২২টি সেঞ্চুরি।

    এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ফিন অ্যালেন ১৯ বলে ৪০ এবং বেভন জ্যাকবস ২৩ বলে ৩৯ রান করেন। তবে তাদের গড়া ১৯৮ রানের পুঁজি ভারতের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি।

  • বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান তারকা ফখর জামান

    বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান তারকা ফখর জামান

    পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান আগামী বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নিজেদের সেরাটা দেব। আশা করি ট্রফি আবার পাকিস্তানে ফেরত আনতে পারব।’

    ২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো শিরোপা জিততে পারেনি পাকিস্তান। তবে আগামী বছর বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান।

    বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন জানিয়ে পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান বলেন ‘আইসিসি ট্রফি জেতার জন্য আমাদের উপরে চাপ রয়েছে। বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা কাটানোর ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’

    তারকা এই ওপেনার আরও জানান, ‘দীর্ঘ দিন আইসিসি ট্রফি না জেতার কারণে মানুষ হতাশ হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা দেখেছি যে, ভালো খেললে সমর্থকদের ভালোবাসা এবং সমীহ পাই। তবে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠার চেয়ে ট্রফি জিতলে গোটা দেশ যে ভাবে উদ্বেল হয়ে ওঠে, তা পুরো আলাদা অনুভূতির।’

    বর্তমানে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে এই সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়ে এই তারকা ওপেনিং ব্যাটার বলেন, ‘বিশ্বকাপে দল গঠনের প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করতে হবে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার, বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামছে।’

  • বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের কথা মনে আছে? বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

    ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন।

    তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। জবাবে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন শেবাগপুত্র।

    আজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।ইনস্টাগ্রাম

    তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৮ রান। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

    সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ নেন ২ উইকেট। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে।

    বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই মানসিকতারই ছাপ। ১৪৩ বলের ইনিংসে শুধু চার ও ছক্কা থেকেই তুলেছেন ১২৪ রান।

    অবশ্য আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে পেতে পারতেন ফিফটিও। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তরুণ এই ওপেনার।

    দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের।

  • পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    শেষ পর্যন্ত একা লড়াই চালিয়ে গেলেন হাসান নাওয়াজ। তবে অন্যরা তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারায় চিন্তা করতে হয়নি ভারতকে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল।

    নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাওয়াজ। শিবম দুবের করা ইনিংসের শেষ বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেলেন ৯৬ রানের ইনিংস।

    ৫১ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কা মারেন নাওয়াজ। ফাইনালে পাকিস্তানের সুখস্মৃতি হয়ে থাকল কেবল তাঁর সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে উসমান খানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাওয়াজ। চতুর্থ উইকেটে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ৮৭ রান যোগ করেন। ২২ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করে সাইম বিদায় নেন।

    সাইম ফিরলেও নাওয়াজের ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত ছিল। আব্দুল সামাদ ও শান মাসুদকে নিয়ে কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর ঝড় কেবল দলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ২৩ রান করেন মাজ সাদাকাত। অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও দুবে দুটি করে উইকেট নেন।

    জোড়া ফিফটিতে বড় পুঁজি পেয়েছিল ভারত। ২৮ বলে অভিষেক শর্মার অবদান ৬১ রান। ৫১ রান করেন তিলক ভর্মা; ২২ বল খেলেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে তিলক ও দুবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৬৯ রান তোলে ভারতকে ২০০ পার করা সংগ্রহ এনে দেন। দুবে ২৭ ও আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়েল ও মিনহাজ দুটি করে উইকেট নেন। ৩ ওভারে মিনহাজ ২৫ রান দিলেও দানিয়েলের খরচ ৪৩ রান। সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান দিয়েছেন সাইম আইয়ুব।

  • ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের শোচনীয় ৩-০ টেস্ট হার এবং দল নিয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ও সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। ম্যানচেস্টারে এক দাতব্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজমের নেতৃত্ব এবং তার ‘অজ্ঞতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?

    বাবার আজমের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরেই মূলত আকরামের এই ক্ষোভের সূত্রপাত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের টসের সময় বাবরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, দল থেকে হঠাৎ সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে দেয়া এবং কোচ বরখাস্তের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে তার কি মতামত। উত্তরে বাবর জানান, এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না এবং বিষয়টি তার কাছেও সম্পূর্ণ নতুন।

    আর এই কথাটিকেই একহাত নিয়েছেন আকরাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “টসের সময় বাবরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোচ ও বোলিং কোচকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আপনি কি মনে করেন?’ সে তখন বলেছে, ‘আমার কোনো ধারণা নেই।’ তাহলে তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?”

    আকরাম আরও বলেন, দলের নেতা যদি নিজের জায়গা থেকে শক্ত না থাকেন এবং বোর্ডের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, তবে পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তার মতে, পরিস্থিতি যখন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছিল, তখন দ্বিতীয় টেস্টের পরেই বাবরের উচিত ছিল টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়া।

    ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করায় সাবেক ক্রিকেটাররা সাধারণত বোর্ডের চেয়ে অধিনায়কের ওপরই দায় বেশি চাপাচ্ছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডের সঙ্গে অধিনায়কের এই চরম যোগাযোগহীনতা পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবে?

  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি।

    আফগানিস্তান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয় বলে এই ম্যাচও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও মূল দল নিয়েই আফগানদের বিরুদ্ধে লড়বে টাইগাররা।

    আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট, যা আফগানদের হোম টেস্ট।

    নাহিদ রানা এই ম্যাচে খেলবেন না, তিনি মাঠে ফিরবেন ১০ অক্টোবর। সে হিসেবে এই টেস্ট খেলা হচ্ছে না। মূলত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে তাকে ফিট পেতেই কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার কথা রয়েছে নাহিদের।

    বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকেও। অমিত হাসান এই সিরিজের দলে নেই। তবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জাকের আলী অনিককে।

    এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে থাকা ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন টেস্ট দলে। সে কথা ভেবে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে আরব আমিরাতে টেস্ট দলের সাথে যাবেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।

    একনজরে বাংলাদেশের স্কোয়াড

    নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।

  • ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    পাকিস্তানে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন দেশটির সাত সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ।

    তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খানের বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

    চিঠিতে তারা আরও জানিয়েছেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তারা কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। সেটি পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয় বলেই মনে করেন তারা। তবে কারও আটক অবস্থায় তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, ‘রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, আটক থাকা যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয়।’

    ইমরান খানের পক্ষে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকাদের এটাই সর্বশেষ উদ্যোগ। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, বর্তমানে ইমরানের চিকিৎসা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মান পূরণ করছে না।

    ওই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত চিকিৎসক বোর্ডকে ইমরানের নিজস্ব চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর এসেছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল করা সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই চালু রাখা হয়। তৃতীয়ত, চিকিৎসা পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের পক্ষে প্রথম চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খানও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

    সর্বশেষ চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়করা উল্লেখ করেছেন, ইমরানের ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে তার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ কম থাকা।

    ইমরানের বিষয়টি নিয়ে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।

  • আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমনটি ফুটে উঠেছে।

    গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় আজ মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. একে এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য যে মানুষটি দায়ী তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।

    তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।

    ২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

    সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন- বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।

    যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।

    তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।

    উল্লেখ্য, আইপিএলে রেকর্ড মূ্ল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পাওয়ার পরও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    ঠিক একই কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যায়নি। চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু আইসিসি এতে রাজি হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেয় আইসিসি।

  • ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’

    আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’

    অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।

    জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে আনা এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

    এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমন দাবি করেছেন দলসংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

    গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। দল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল।

    পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেস দিয়ে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

    এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। এমন দাবিও রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, ‘মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।’

  • দল থেকে বাদ পড়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি সালমান আগার

    দল থেকে বাদ পড়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি সালমান আগার

    জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভ আর হতাশাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন সালমান।

    সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের সঙ্গেই ছিলেন সালমান আলী আগা। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েন সালমান।

    প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানের উদ্বোধনী রাউন্ডে মার্কোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে কিংসমেন একাডেমির হয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি। দলের বিপর্যয়ের মুখে (৭২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর) উইকেটে নেমে প্রথম দিনে সেঞ্চুরি তুলে নেন সালমান।

    তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শতকটিকে ডাবল সেঞ্চুরি পরবর্তীতে দুর্দান্ত এক ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই ব্যাটার। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ১৬৯ রান। ফলে এই একটিমাত্র ইনিংসেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি—উভয় মাইলফলক একসঙ্গে স্পর্শ করলেন তিনি।

    জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর সালমানের এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অর্থবহ বার্তায় লিখেছেন, ‘বেসিক বা মৌলিক জায়গায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল নেই। মাঝে মাঝে এটি জরুরি; কখনো অহংকার করতে নেই। শুরুটা বিনয়ী ছিল, শেষটাও সেভাবেই হবে।’

    সালমান আগা পাকিস্তানের ২৩তম ব্যাটসম্যান যিনি ফার্স্ট ক্লাসে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন।

  • ১৪৯ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের ‘রাজা’

    ১৪৯ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের ‘রাজা’

    নামই তার ‘রাজা’। ইংলিশ ব্যাটারদের সামনে অভিষেকেই মোহাম্মদ রাজাউল্লাহ রীতিমতো রাজত্ব করেছিলেন। ব্যাট হাতে যেন সেটাকেও ছাড়িয়ে গেলেন। এমনই সব কীর্তি গড়েছেন, যা টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে আর নেই একটিও।

    প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে একে একে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতির ঝড়ের সঙ্গে এমন উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলোচনায় এনেছিল। কে জানত, তিনি আরও বড় বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছিলেন তার ব্যাটের আড়ালে?

    তিনি যখন ব্যাট হাতে নামছেন দলের দ্বিতীয় ইনিংসে, তখনও পাকিস্তানের ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে চাই ২ রান। এ অবশ্য খুব বড় বিষয় নয়, তবে তখন টেল এন্ডারদের ২টি উইকেট বাকি আর; এ বিষয়টাকে যখন মাথায় রাখবেন তখনই মনে হবে, এ তো স্রেফ দুটো ইয়র্কারের ব্যাপার!

    পাক ইনিংসের যবনিকাকে স্রেফ ২টি ইয়র্কারের ব্যাপার বনে যেতে দেননি রাজাউল্লাহ। জশ টাংকে ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করেছিলেন। সে ছক্কাতেই পাকিস্তান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ায়।

    এরপর শুরু হয় তার ‘শো’। সব মিলিয়ে ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ৪৩ বলে ফিফটি করেছেন। অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে এর চেয়ে দ্রুততম ফিফটি নেই আর একটিও। শেষমেশ তিনি থামেন ৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে। এই ইনিংস পাকিস্তানকে স্রেফ ইনিংস হারের লজ্জা থেকেই বাঁচায়নি, ১২৯ রানের লিড এনে দিয়ে জয়ের ক্ষীণতর একটা আশাও এনে দিয়েছে বৈকি!

    পাকিস্তান শেষমেশ কী করবে, সেটা পরে দেখা যাবে। তৃতীয় দিনে যা করেছেন রাজা, তাই তাকে তুলে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। অভিষেকে ৯ ছক্কা, এমন কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাস দেখেছে আর একবার মোটে। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি হাঁকিয়েছিলেন সমান সংখ্যক ছক্কা, তবে সেটা ছিল নেপিয়ারে, নিজেদের ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষের মাঠে অভিষেকে এমন কীর্তি ক্রিকেটের ১৪৯ বছরেই আর কখনো দেখা যায়নি।

    মজার বিষয় হলো, রাজাউল্লাহর এই কীর্তির সাক্ষী ছিলেন খোদ সাউদি নিজেই। অবসরপ্রাপ্ত এই কিউই পেসার এখন ইংল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে এজবাস্টনে আছেন।

    ছক্কার রেকর্ড হয়েছে জুটিতেও। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে তার এই জুটিতে এসেছে ১০টি ছক্কা। ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনো শেষ তিন ব্যাটার মিলে এই সংখ্যক ছক্কা হাঁকাতে পারেননি। Advertisement

    https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&us_privacy=1—&gpp_sid=-1&client=ca-pub-9589667218503970&output=html&h=280&slotname=3643708405&adk=3439397580&adf=4180579246&pi=t.ma~as.3643708405&abgtt=6&w=713&fwrn=4&fwrnh=100&lmt=1789214037&rafmt=1&format=713×280&url=https%3A%2F%2Fwww.jugantor.com%2Fsports%2F1153427&fwr=0&fwrattr=true&rpe=1&resp_fmts=3&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&uach=WyJXaW5kb3dzIiwiMTkuMC4wIiwieDg2IiwiIiwiMTUyLjAuNzk3Ny44MyIsbnVsbCwwLG51bGwsIjY0IixbWyJDaHJvbWl1bSIsIjE1Mi4wLjc5NzcuODMiXSxbIk5vdD9BX0JyYW5kIiwiMjQuMC4wLjAiXSxbIkdvb2dsZSBDaHJvbWUiLCIxNTIuMC43OTc3LjgzIl1dLDBd&dt=1789214033260&bpp=1&bdt=187&idt=0&shv=r20260909&mjsv=m202609040101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D1a7f6e138809f0f5%3AT%3D1779707906%3ART%3D1789213986%3AS%3DALNI_Mbdnfm9CTohjCA6cnSNejdWnmiIhg&gpic=UID%3D0000142f5f330211%3AT%3D1779707906%3ART%3D1789213986%3AS%3DALNI_MZGlbJTVJyn4lV3l90SxwMXTEhcmg&eo_id_str=ID%3D22ac888cdf6df72a%3AT%3D1779707906%3ART%3D1789213986%3AS%3DAA-AfjYnqjpzr37wZfWlR8Ewh7O-&prev_fmts=0x0%2C160x600%2C713x280%2C300x600%2C320x100&nras=1&correlator=6864940804687&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=6&u_h=1080&u_w=1920&u_ah=1032&u_aw=1920&u_cd=24&u_sd=1&dmc=16&adx=532&ady=2964&biw=1858&bih=869&scr_x=0&scr_y=0&eid=95399630%2C95400774%2C95373848&oid=2&pvsid=6792218395388050&tmod=42049829&uas=1&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.jugantor.com%2Fsports&fc=1920&brdim=20%2C68%2C20%2C68%2C1920%2C0%2C1889%2C964%2C1873%2C869&vis=1&rsz=%7C%7CoEebr%7C&abl=CS&pfx=0&fu=128&bc=31&plas=245x588_l%7C273x588_r&bz=1.01&ifi=6&uci=a!6&btvi=4&fsb=1&dtd=245

    ৯টি ছক্কায় ইংল্যান্ডের মাটিতে এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০২৩ অ্যাশেজে লর্ডসে ১৫৫ রানের ইনিংস খেলতে গিয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই রেকর্ডেও গতকাল ভাগ বসিয়েছেন রাজা।

  • তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

    তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

    ক্রিকেটে কিছু সংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়। তিন নম্বর যেমন।

    ওপেনারদের পরেই নামতে হয় বলে নতুন বলের পরীক্ষা থাকে, আবার প্রথম উইকেট পড়লেই দলের ইনিংসের ভার এসে পড়ে কাঁধে। এই জায়গায় তাই ব্যাটসম্যানকে কখনো ধৈর্য ধরে ধাক্কা সামাল দিতে হয়, কখনো আবার দ্রুত রান তুলে ব্যাটিংয়ের সুরটা বেঁধে দিতে হয়। ডন ব্র্যাডম্যান, ভিভ রিচার্ডস, রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা—এমন কিংবদন্তি সব ব্যাটসম্যান ওয়ান ডাউন বা তিন নম্বর পজিশনের গুরুত্বটা আরও ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    সেই গুরুত্ব এখনো আছে। টেস্ট ক্রিকেটে গত তিন বছরে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার চোখে পড়বে। বাংলাদেশের মুমিনুল হক যেন ‘৩’ সংখ্যাটা নিজের সমার্থক করে নিয়েছেন। গত তিন বছরে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের রানের হিসেবে তিনি আছেন ঠিক তিন নম্বরেই। তাঁর ওপরে আছেন শুধু ইংল্যান্ডের ওলি পোপ ও নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ টেস্টে ২৬ ইনিংসে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মুমিনুল। ৪০.৭৯ গড়ে করেছেন ৯৭৯ রান। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে আটটি ফিফটি। অর্থাৎ ২৬ ইনিংসে নয়বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। মুমিনুলের চেয়ে যাঁরা ভালো করেছেন, সেই দুজনের মধ্যে পোপের রান ৩৮ ইনিংসে ১৩৬৯, পাঁচ সেঞ্চুরি তিন ফিফটি আর উইলিয়ামসনের ৩০ ইনিংসে ১৩৬০ রান, পাঁচ সেঞ্চুরি দুই ফিফটি। অর্থাৎ পঞ্চাশ ছোঁয়ার দিক থেকে এ দুজনের চেয়েও এগিয়ে মুমিনুল। তবে পিছিয়ে পড়েছেন বেশির ভাগ ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে না পারায়।

    তিন নম্বরের এই হালচাল বিশ্লেষণের কারণ মারনাস লাবুশেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর পজিশন সামলানো এই ব্যাটসম্যান বেশ কিছু দিন ধরে ধুঁকছেন। গত তিন বছরে ৪৩ ইনিংসে তাঁর গড় মাত্র ২৪.৬৯। অন্তত ২০ ইনিংস খেলেছেন, এমন ৫৬ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে খারাপ গড় মাত্র তিনজনের। দুজন আবার অবসরেও চলে গেছেন।

    এই তিন বছরে তিন নম্বরে যাঁরা ব্যাট করেছেন (শীর্ষ ১০), তাঁদের মধ্যে একমাত্র লাবুশেনেরই কোনো সেঞ্চুরি নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেই যেমন তিন ইনিংসে আউট হয়েছেন যথাক্রমে ১, ৩১ ও ৪ রানে। লাবুশেনের এমন হাঁসফাঁস দেখে রিকি পন্টিং তো বলেই দিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার এখন তিন নম্বরের জন্য অন্য কাউকে খোঁজা উচিত।

    তবে নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি। তিন টেস্টের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরের দলে রাখা হয়েছে লাবুশেনকে। ২০১৮ সালের কুখ্যাত ‘শিরীষ কাগজ’ কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তিন নম্বরে খেলতে যে ধার লাগে, যে ভার সইতে হয়, তা নতুন কারও কাঁধে তুলে দেওয়ার ঝুঁকি নেননি নির্বাচকেরা। তিন নম্বর পজিশন বলে কথা!

  • আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন সালমান আগা, ইমাম–উল–হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁদের কেউ ভালো ফর্মে নেই। রিজওয়ান সিরিজের চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তাঁর শট নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা হয়।

    ইমাম তো চোটের কারণে লর্ডস টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামেননি। সেই চোট নিয়েও পিসিবির সন্দেহ আছে। সালমান টেস্টে সর্বশেষ ৫ ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। অথচ এই সালামানই হেডিংলি টেস্টে বাবর আজমের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লর্ডসে ছিলেন না একাদশে। এরপর তো স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন।

    পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাঁদের আচরণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমনকি এ দুই ক্রিকেটারকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতে পারে। পিটিআই জানিয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সালমানকেও কমিটির সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরেই নাকি তাঁদের আচরণজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

    ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত যাওয়া অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। আগে সাদা বলের দলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন।

    বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছেন, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই পাঠানো হয়েছে। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’ তৃতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তান দলে এসেছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া, রাজউল্লাহ, সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।

    নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এএফপি

    এদিকে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    এরই মধ্যে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    মিসবাহর পদত্যাগের আগে নির্বাচক কমিটিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বোর্ড।

    শুধু নির্বাচক কমিটিই নয়, নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়েছে পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে কেন নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল নির্বাচনের নীতিতে কী ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও জানতে চেয়েছে বোর্ড।

    পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল-হক চোটের ইস্যুতে চাপে আছেন এএফপি

    ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন হতে পারে। একটি সূত্রের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড সফরের পর নতুন নির্বাচক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’

    এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজের পরও দায়িত্বে থাকতে পারেন হেসন। তাঁকে স্থায়ী প্রধান কোচ করার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ডের এই কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।

  • বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার সেই তালিকায় অধিনায়ক বাবর আজমের নামও উঠছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ।

    টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর সাত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে ছাঁটাই করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিসবাহ উল হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও পিসিবির পরবর্তী নজরে থাকতে পারেন বলে খবর এসেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বাবরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিসিবির দল পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, বাবরই কি হতে যাচ্ছেন পরবর্তী টার্গেট।

    রশিদ লিখেছেন, ‘যদি দলকে রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন পাঠানো হলো? গ্যারি কারস্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে নির্বাচনের ক্ষমতা কেন কেড়ে নেওয়া হলো? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই তো বরখাস্ত করা উচিত ছিল—তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো? বাবর আজম কি পরের টার্গেট?’

    এর আগে পিসিবির ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের অধিনায়কত্ব ছাড়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন রশিদ। তাঁর মতে, দলের একাধিক ক্রিকেটার ও কোচকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাবরের উচিত ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।

    এই প্রসঙ্গে রশিদ বলেন, ‘বাবরের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দলের অর্ধেক ক্রিকেটারকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতাম। তুমি একজন পুতুল অধিনায়ক হয়ে গেছ। নেতা আর অধিনায়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।’

    বাবরের কড়া সমালোচনা করে রশিদ আরও বলেন, ‘তোমরা সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠিয়েছ। ইমামের বিষয়টি আমি বুঝতে পারি, সে চোট পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও ছয়জন ক্রিকেটারকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তোমরা তোমাদের কোচ, তোমাদের মেন্টরকে ফিরিয়ে দিয়েছ। যে কোচ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছিল, তাকেও সরিয়ে দিয়েছ। উমর গুলকেও ফিরিয়ে দিয়েছ। তুমি তোমার দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছ না। তোমার কোচকে এক পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তুমি নীরবে বসে আছ। এতে বোঝা যায়, পিসিবির সবসময় একজন পুতুল অধিনায়কই প্রয়োজন।’

  • না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের ভেতর দুবার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ালেন তামিম ইকবাল। প্রথম দফায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তামিম। এরপর গতকাল আরও এক দফা তাদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন বিসিবি সভাপতি। কারণ হিসেবে যদিও বলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর কথা, তবে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে না পারার ক্ষতি পোষাতেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত।

    বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল না হওয়া এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অবনমন না থাকা ও সুপার লিগ না থাকায় দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সেই ক্ষতি খানিকটা পূরণ করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তামিম অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর আগেই এসেছে আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা— এবার ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ গত মৌসুমের চেয়ে শতভাগের চেয়ে বেশি ম্যাচ ফি বাড়ল ক্রিকেটারদের, সেটিও কোনো ম্যাচ না খেলেই!

    আনুপাতিকভাবে বেড়েছে বিসিবি আয়োজিত ৫০ ও ২০ ওভারের ম্যাচের ম্যাচ ফিও। তামিম বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।’

    সীমিত ওভারের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে বিসিবি এনসিএল টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে আয়োজন করে থাকে, তবে তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিসিএলের প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট এবং এনসিএল টি- টোয়েন্টিকে এক ছাতার নিচে এনে নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালু করার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

    বিপিএল না হওয়ার ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) দেনদরবার করেছে বিসিবির সঙ্গে। বছর দুই আগে তামিম নিজেও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক কমিয়েও বিপিএলটা আয়োজন করার, অথচ এ বছর কেন এত আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া। তামিম বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিই হয়নি আগের বিপিএলে, তাদের কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি বা চেক কিছুই জমা নেই বিসিবির কাছে। আমি ফারুক ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম বিপিএল করার জন্য অনুরোধ করতে, এটা যেমন সত্যি; তেমনি সত্যি হচ্ছে কয়েকদিন পর আমি আবার গিয়ে বলেছি দুটি দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি না দিতে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রাজশাহী। এরপর আপনারাই দেখেছেন কী অবস্থা হয়েছে।’ শুধু আর্থিক লোকসান এড়াতেই যে বিসিবি এ বছর বিপিএল আয়োজন করা থেকে বিরত আছে, ব্যাপারটা তা নয়, ‘আমরা শুধু যে আর্থিক ক্ষতির কারণে বিপিএল করছি না, তা নয়। যদি মাঠে খেলাটা ভালো হতো, খেলোয়াড়রা ঠিকঠাক টাকা পেত, হোটেলগুলো তাদের টাকা পেত, যারা যানবাহন সরবরাহ করেছে তারা টাকা পেত, তাহলে ক্ষতিটা মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কিছুই যেখানে ঠিক নেই, সেখানে কেন এই টুর্নামেন্ট আমাদের তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামাতে হবে?’

    তামিমের যুক্তির সঙ্গে ক্রিকেটাররাও একমত হয়েছেন, কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার যেন উপকৃত হয়, সেটা বেছে নিয়েছি।’

    বিপিএল স্থগিত রাখা নিয়ে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং তামিমের ঘোষণা— এ দুইয়ের ভেতর কোনো যোগসূত্র আছে নাকি ব্যাপারটা নিতান্তই কাকতালীয়, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারী কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ৯৬ ঘণ্টার ভেতর ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বেড়ে গেল।

  • ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ নাম তো এমনি এমনি বসেনি পাকিস্তানের নামের সঙ্গে। মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও (পিসিবি)। কোচ আসেন, কোচ যান। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি তোপ দাগলেন পিসিবির নির্বাচকের ওপর।

    প্রায় দুই বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হলেও গিলেস্পি যেন তা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কারণ, পিসিবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকলেও আট মাসেই শেষ হয়ে যায় সম্পর্ক। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের কোচ হয়ে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন। একই সময়ে (২০২৪ সালের এপ্রিলে) গ্যারি কারস্টেন পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন মাত্র ছয় মাস দায়িত্বে থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন।

    হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর পাকিস্তান দলে চলছে টালমাটাল অবস্থা। নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ উল হক। আকিব এরপর নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্র ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’-কে আজ গিলেস্পি বলেন, ‘আকিব জাভেদ সম্প্রতি এসে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক সাদা বলের কোচ গ্যারি কারস্টেন এবং আমাকে দায়ী করেছেন। আকিব গত দুই বছর ধরে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন। অথচ আমরা সেখানে ছিলামই না।’

    পাকিস্তান দলের বাজে অবস্থায় কারস্টেন-গিলেস্পির ওপর দায় চাপানোর কোনো মানেই বের করতে পারলেন না গিলেস্পি। আকিবকে দায়ী করে গিলেস্পি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তারপরও কোনোভাবে তিনি (আকিব) বলছেন, সবকিছুর জন্য আমরা (গিলেস্পি-কারস্টেন) দায়ী। এর কোনো মানে হয়? আমার মনে হয়, আকিব জাভেদের নিজের দিকে আয়নায় তাকানো উচিত।’

    হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে তারা হেরেছে ১৯৪ রানে। টানা দুই ম্যাচে ভরাডুবির পর টেস্টের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ড সফররত দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই সাত ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানও। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের দলে যুক্ত করা হয় পাঁচ ক্রিকেটারকে।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জন্য খারাপ লাগছে গিলেস্পির। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আমার খারাপ লাগছে। এটা তাদের জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের কোনো নির্বাচনী কৌশলই নেই। বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে।’

    বাবর প্রথম টেস্টে খেলতে না পারায় সালমানকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বাবর অধিনায়ক হয়ে ফেরায় সালমান একাদশ থেকেই বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তো তাঁকে ফেরত পাঠানো হলো দেশে। গিলেস্পি বলেন, ‘সালমান আলী আগা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকেই বাদ পড়ল। তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের সঙ্গে আসলে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এটা স্পষ্ট।’

    হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্বে থাকছেন মাইক হেসন। অ্যাশলে নফকে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।

  • সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক এখন স্মৃতি মান্ধানা

    সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক এখন স্মৃতি মান্ধানা

    স্মৃতি মান্ধানার ব্যাট যেন এক অন্য ইতিহাস লিখলো। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন ভারতের এই মারকুটে ওপেনার। স্মৃতি পেছনে ফেলে দিলেন কিংবদন্তি মিতালী রাজকে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মেগ লানিংকে টপকে নারী ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মুকুটও নিজের মাথায় পরে নিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

    এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মান্ধানা। মাত্র ৬৪ বলে চোখ জুড়ানো ১২৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি। ১৪টি চার এবং ৭টি ছক্কায় সাজানো এই ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হংকং গুটিয়ে যায় মাত্র ৫৬ রানে, আর ভারত পায় ১৩৭ রানের বিশাল এক জয়।

    এই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির সুবাদেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান্ধানার মোট রান দাঁড়ালো ১০,৮৮০তে। এর আগে ১০,৮৬৮ রান নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন ভারতেরই আরেক গ্রেট মিতালী রাজ। এছাড়া এটি ছিল মান্ধানার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৮তম শতক, যা তাকে ছাড়িয়ে গেছে মেগ লানিংয়ের রেকর্ডকে।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে মান্ধানা বলেন, ‘যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলাম, ঠিক কত রান করেছি বা কোন রেকর্ড ভাঙছি-সেটি আমার জানা ছিল না। তবে পেছনের দিকে তাকালে বলব, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটি দিন। মিতালী সব সময়ই একজন কিংবদন্তি এবং রোল মডেল। আমরা সবাই তাকে দেখেই বড় হয়েছি। তাই রানসংগ্রাহকের তালিকায় তাকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা এমন কিছু, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।’

    ভারতের এই তারকা ব্যাটার আরও বলেন, ‘মেগ লানিং এবং মিতালী রাজ-খেলার এই দুই গ্রেটকে দেখেই আমরা বড় হয়েছি। ব্যাটার হিসেবে তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। আজ তাদের ছাড়িয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।’

    স্মৃতির এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুভেচ্ছা জানান খোদ মিতালী। তিনি লেখেন, ‘যথেষ্ট প্রাপ্য ছিল, স্মৃতি। একজন তরুণ খেলোয়াড় থেকে তোমাকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে উঠতে দেখেছি। আমার রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোমার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়াটা এমন এক মুহূর্ত, যা আমাকে সত্যিই গর্বিত করেছে। তোমার ব্যাট থেকে আরও রান ও মাইলফলক আসুক। এভাবেই এগিয়ে যাও!’

    ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মান্ধানার। চলতি এশিয়া কাপে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ৩০ বছর বয়সী এই ওপেনারের সামনে এবার ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত।

  • ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ২০২৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এক ম্যাচের সেই সিরিজটি হবে লর্ডসে। ম্যাচ শুরুর ৮ মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এই টেস্টের টিকিট বিক্রি!

    আগামী বছরের ২৮ মে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট। এই ম্যাচের এখনো বাকি প্রায় ৮ মাস। তবে এরই মধ্যে টেস্টের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

    লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই টিকিট বিক্রির খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘লর্ডসে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সাধারণ দর্শক ব্যালট এখন উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে সমর্থকরা ‘হোম অব ক্রিকেটে’ হতে যাওয়া গ্রীষ্মকালীন ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

    লর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সাধারণ দর্শকের জন্য বরাদ্দ ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই বছরের নভেম্বরের শুরুতে সফল আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের তালিকাভুক্তদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। প্রথম ধাপের সফল আবেদনকারীদের জন্য টিকিট কেনার নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। ১০ ডিসেম্বর সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু করবে লর্ডস।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মিরপুরে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০১০ সালে। ওই সফরেও লর্ডসে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ঐতিহাসিক এক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

  • ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

    ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

    সরকারি হস্তক্ষেপের বিরূপ প্রভাব পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) ওপর। নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজকস্বত্ব হারিয়েছে লঙ্কানরা। ভেন্যু বদলে আগামী বছরের শুরুতে এই টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে ভারতে। আয়োজকস্বত্ব হারানোয় শ্রীলঙ্কার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

    বর্তমানে এসএলসি একটি সরকার-নিযুক্ত রূপান্তরকরণ কমিটির মাধ্যমে চলছে। শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিরর সূত্রের মাধ্যমে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসএলসি কমপক্ষে ২ কোটি ডলার রাজস্ব হারাতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি সমাধান এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বোর্ড নির্বাচন আয়োজন না করা হলে শ্রীলঙ্কার আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা কয়েক মাস আগেই আইসিসি এসএলসিকে দিয়েছিল বলে লঙ্কান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

    তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।

    আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। শ্রীলঙ্কা আয়োজকস্বত্ব হারালেও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা।

    ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।

  • হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তখন ম্যাচে লড়াই করাটাই কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিনে বদলে গেল পুরো চিত্র। ব্যাট হাতে একাই যেন ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। আগের দিনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেখানেই থামেননি হৃদয়। চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের ওপর আধিপত্য ধরে রেখে দলকে নিয়ে গেলেন প্রথম ইনিংসে লিডের পথে। যে মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই মাঠেই গড়লেন নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে অবিশ্বাস্য এক ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

    হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাকেরÑ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।

    এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিনের অবদান ১৭১ বলে ৮৭। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করে স্বাগতিকরা। সেই বিশাল স্কোরের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৩৭১/৬। সেখান থেকে শেষ দিনে হৃদয়ের ব্যাটে গল্পটাই বদলে গেল।

  • ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে ১০৩ রানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। পর পর দুই টেস্টে লজ্জার হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) টার্গেটে আছেন টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ।

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এবার ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার পর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম লিখেছিল, ৫০ বছরে জঘন্যতম পাকিস্তান দল। শুধু দল নয়, এর দায় ক্রিকেট বোর্ডেরও নেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।

    জিও নিউজকে লতিফ বলেছেন, ‘সকলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কথা বলছে। ৫০ বছরে এটা জঘন্যতম ক্রিকেট দল। একদম ঠিক কথা। কিন্তু কেউ তো এখনকার ক্রিকেট বোর্ডের কথা বলছে না। ৭০ বছরে জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড।’

    পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘কেউ তো বলছে না, এই বোর্ডেরই নির্বাচক কমিটি ও কোচেরাই এই জঘন্য দল বেছে নিয়েছে। তাহলে আসল দায় কাদের। সকলেই জানে, কে পাকিস্তান ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না। এই দলের জেতার ক্ষমতাই নেই। একের পর এক টেস্ট হারবে।’

  • ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    তিন বছর ধরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাবেক ক্রিকেটারের মুক্তির দাবিতে এবার সরব হয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    সম্প্রতি ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে যৌথ চিঠি পাঠান ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। গত ২৪ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।

    এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলুক, তিনি (ইমরান খান) কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবেন? আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ভালো নয়।’

    ইমরানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনও নাকচ করে দেন ৬৯ বছর বয়সি এই সাবেক ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো শত্রুতা বা ঝগড়া ছিল না।’

    ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার স্মৃতি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে ছিলাম। পরে পাকিস্তান দলে আমি তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। আমরা একসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের দারুণ একটি সময় কাটিয়েছি।’

    সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘তিনি কারও না কারও সন্তান। প্রায়ই ভাবি, কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছেন। আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতাম। পাকিস্তান ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

    যদিও অবসরের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতীতে ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন মিয়াঁদাদ, তবু তিনি মনে করেন, দেশের জন্য ইমরানের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

    মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা অবশ্যই ভুল। কিন্তু তিনি একজন জাতীয় বীর। আমি চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছেও আমার আবেদন রয়েছে। হয়তো আমি সবকিছু বলার অবস্থানে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি—তিনি আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। আমরা একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন সৎ মানুষ।’

    সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই প্রার্থনা—সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হোক। এর বেশি আর কী বলব? আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি হৃদয়ের গভীরতা থেকেই এসব কথা বলছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি এবং দেশের পতাকা বহন করেছি। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সেগুলোর অবসান হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের প্রশ্নে ইমরান কারও চেয়ে কম নন। আমরা মাঠে লড়েছি পাকিস্তানের জন্যই। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। এখন সময় এসেছে এই অধ্যায়ের ইতি টানার।’

  • সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

    সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

    আব্দুল গাফফার সাকলাইন সোজা অফ ড্রাইভে মারলেন চার। সাকলাইনের এই চারটা কেবল চারই নয়। ডারউইনে আজ এই চারে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তিনি। নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইককে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) একাদশ।

    ডারউইনে আজ নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ১০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ এইচপি। তাতে করে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল এইপি। ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ হারে এইচপি ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে এখন এইচপি। দুই ও তিনে থাকা অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ও ভিক্টোরিয়া সিএ উভয়েরই পয়েন্ট ৮।

    চার ও পাঁচে থাকা নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইক ও হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমিরও পয়েন্ট ৬। শুধু অ্যাডিলেড ও ভিক্টোরিয়ার ১০ পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু এই দুই দলই ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচ খেলেছে। ৯ দলের মধ্যে সবার নিচে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি। ৫ ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটিতেই হেরেছে তারা। দুই পয়েন্ট নিয়ে আটে অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটাল টেরিটরি। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় ও সাতে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড এ ও নেপাল।

    ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ এইচপি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে। তাতে উইকেটও হারিয়েছে। ৪.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয় এইচপি। আরিফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সোহান ১০ ও ২২ রান করেছেন। তৃতীয় উইকেটে এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও সাব্বির রহমান ৩৪ রানের জুটি গড়েন।

    দশম ওভারের তৃতীয় বলে শামীমকে (১১) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রেলি মার্ক। চতুর্থ উইকেটে এরপর সাব্বির ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর গড়েন ৩৫ রানের জুটি। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টম মেনেজিস। ৩৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করেন সাব্বির।

    সাব্বির ফেরার পর সাময়িক ধস নামে এইচপির ইনিংসে। ৩ উইকেটে ১১০ রান থেকে মুহূর্তেই ১৬.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রানে পরিণত হয় শুক্কুরের দল। শুক্কুর ও এসএম মেহেরব ১৭ ও ৮ রান করে বিদায় নেন। জিততে যখন চার রান বাকি, সেই মুহূর্তে আউট হন সামিউন বাশির রাতুল। ৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৪ রান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে রাতুলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মেনেজিস।

    এমন অবস্থায় ম্যাচ শেষ করতে বাংলাদেশ এইচপির লেগেছে কেবল এক বল। ১৯তম ওভার করতে আসা ওয়েস অ্যাগারকে প্রথম বলে ডট দেন সাকলাইন। দ্বিতীয় বলে চার মেরে এইচপির ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন সাকলাইন। সাব্বিরের ৪৭ রানই বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। মার্ক, মেনেজিস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নর্দার্ন টেরিটরি অধিনায়ক হামিশ মার্টিন। আগে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রান করে দলটি। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন জর্ডান সিল্ক। এইচপির মোহাম্মদ রুবেল ৪ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন রাতুল, রাকিবুল হাসান, মেহেরব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

  • ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

    দলে ফেরানো হয়েছে পেস বোলার নবীন উল হককে। ডান কাঁধের চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। দলে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাইয়ের মতো পেসার। অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও।

    দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবকেও। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোতের মতো নিয়মিত ক্রিকেটারেরাও আসছেন ভারতে। প্রথম উইকেটরক্ষক হিসাবে দলে রয়েছেন রহমাউল্লাহ গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে রয়েছেন নুর রহমান।

    এসিবির সিইও নাসিব খান জানিয়েছেন, ভারসাম্যযুক্ত দল নির্বাচন করা হয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং, স্পিন বোলিং-জোরে বোলিং, অভিজ্ঞতা-তারুণ্য সব কিছুরই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলি হবে ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর।

    আফগানিস্তান দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবিন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোত।

    রিজার্ভ: ইজাজ আহমেদজাই, শহিদুল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক।

  • সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে দাপট অব্যাহত বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি)। ডারউইনে গতকাল তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়াকে। এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় পেল এইচপি। পয়েন্ট টেবিলেও তারা আছে শীর্ষে। শুরুতে ব্যাট করে ভিক্টোরিয়া গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে এইচপি লক্ষ্যে পৌঁছে ১৬ বল হাতে রেখে।

    ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল এইচপি। সেখান থেকেই হালটা ধরেন শামীম হোসেন ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। দুজন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৮৩ রানের জুটি। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৩২ বলে ৪৩ করে ইরফান ফিরলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন শামীম। ৩৩ বলে ২ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান প্রথম ওভারে ফিরেছিলেন ০ রানে। জিশান আলম ১১ ও আরিফুল ইসলাম করেন ১৫।

    এর আগে মোহাম্মদ রুবেল ১৫ রানে ৪টি আর রাকিবুল হাসান ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন ১৩১ রানে। সর্বোচ্চ ৪৯ করেছিলেন অধিনায়ক স্যাম হার্পার।

    বাংলাদশ প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল নেপালকে। দ্বিতীয় ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনস একাডেমিকে হারায় ৩ উইকেটে। সেই ম্যাচে ৪৫ বলে ৫৯ রান করেছিলেন হারিয়ে যেতে বসা সাব্বির রহমান। গতকাল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য করতে পারেননি তেমন কিছু। আউট হয়ে যান ১৪ বলে ৫ রানে।

  • নেপালকে উড়িয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

    নেপালকে উড়িয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

    টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। মোহাম্মদ রুবেলের স্পিন ও জিসান আলমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে সহজেই জয় পায় টাইগাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার মারারা ওভালে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এইচপি। ব্যাটিংয়ে নেপালের হয়ে কুশল ভুর্তেল ছাড়া আর কেউ সুবিধা করতে পারেনি। ত্রিত রাজ দাস, অধিনায়ক অনিল সাহ, পবন সররফ, কুশল মাল্লা ও লোকেশ বম–– এই ৫ জন ব্যাটারের কেউ ই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেনি। এর ভেতর অনিল ও পবন কোনো রান না করেই ফেরেন।

    টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পরে নেপাল। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে সাদাব আলমকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ভুর্তেল। ৩২ রানের জুটি গড়ার পর ১১ রান করে সামিউন বসিরের বলে আউট হন সাদাব। একই ওভারে রানআউট হন নারায়ণ যোশি।

    ৪৬ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর রিজান ধকলকে নিয়ে সম্মানজনক সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যান ভুর্তেল। ২৯ রান যোগ করার পর রুবেলের বলে ইরফান শুক্কুরকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ভুর্তেল। ৩ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ৪০ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। রিজান ১০ রান করে রানআউট হন।

    শেষ উইকেট বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে ১০০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় নেপাল। বিপিন খাতরি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে ও আকাশ চাঁদ ৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ১৮ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া বসির, রোহনাত দৌল্লাহ বর্ষণ ও রিপন মণ্ডল ১ টি করে উইকেট পান।

    জবাবে খুব সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন জিসান। তৃতীয় ওভারে ৭ রান করে সাদাবের বলে আউট হন হাবিবুর রহমান সোহান। এরপর আরিফুল ইসলামকে নিয়ে ৫৮ বল হাতে রেখেই দলকে জয় এনে দেন জিসান। ২৯ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। ৩টি চার ও ৪টি ছয়ে প্রায় ১৮০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেন এই ওপেনার। আরিফুল অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।

    বাংলাদেশ এইচপির পরবর্তী ম্যাচ হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমীর বিপক্ষে আগামীকাল।

  • লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের মালিক হয়েছে পাকিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলীয় রান শূন্য থাকা অবস্থায় প্রথম উইকেট হারিয়েছে তারা।

    প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ওপেনার আজান ওয়াইসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ওলি রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে—ইমাম-উল-হক কোনো রান না করেই জফরা আর্চারের শিকার হন। টেস্টে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো নতুন কিছু নয়, তবে একই ম্যাচে দুই ইনিংসেই এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে পাকিস্তানই এখন সবার ওপরে। দলটি মোট সাতবার একই টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ৫ বার, অস্ট্রেলিয়া ৪ বার, ভারত ২ বার এবং নিউজিল্যান্ড ১ বার।

    হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চরম। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৫ রানে। বিপরীতে ইংল্যান্ড এক ইনিংসেই সংগ্রহ করে ৪০৬ রান। ফলে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা।

    পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ৫/৫১।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুতেই আর্চারের বলে ইমাম-উল-হক শূন্য রানে ফিরলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর শান মাসুদ কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। আবদুল্লাহ শফিকও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

    এরপর জশ টাং পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন। সাউদ শাকিলকে ফেরানোর পর একই ওভারে শান মাসুদ ও সালমান আগাকে সাজঘরে পাঠিয়ে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দেন।

    মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে রবিনসনের আঘাত অব্যাহত থাকে। পরে গাস অ্যাটকিনসন রিজওয়ানের ইনিংস শেষ করেন এবং ৩৮তম ওভারে আর্চার শেষ ব্যাটারকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

    প্রথম ইনিংসেও পাকিস্তান ইংলিশ পেসারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। রবিনসন ৫/৫১ এবং জশ টাং ৫/৪৬ নিয়ে পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে দেন। জবাবে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে। হ্যারি ব্রুক ৯১, জর্ডান কক্স ৭৩, জো রুট ৬৬ এবং ড্যান লরেন্স ৫১ রান করেন।

  • ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন অজি পেসার। তবে তার আগুনে বোলিংয়ের দারুণ জবাব দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

    ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন শরিফুল। দিন শেষে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুলও।

    ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১০১ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।

    শরিফুলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস একসময় ১৪৮ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয়। নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই মিচেল স্টার্ককে আউট করে নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে নেন শরিফুল। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি।

    এর আগে দ্বিতীয় সেশনেও দুই দলের মোট সাতটি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর চা-বিরতির আগেই অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে। শরিফুলের জোড়া আঘাতে মাত্র ৪১ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে পালটা চাপে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটিও ভাঙেন শরিফুল।

    এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই ভালো বোলিং করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ। জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার করেন মাত্র ৮ রান।

    এরপর অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলেই ট্র্যাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র ২২ রান করে ফেরেন অজি ওপেনার। এরপর চার বলের ব্যবধানে মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করেন শরিফুল। ৯ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন লাবুশেন। ফলে ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

    এর আগে স্টার্কের তাণ্ডবে মাত্র ৬৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। এরপর বল হাতেও শুরু থেকেই কার্যকর ছিলেন তিনি।

    শেষ সেশনে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে স্মিথ ও গ্রিনের জুটি ভাঙেন শরিফুল। স্মিথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে আউট দিলে রিভিউ নেন স্মিথ, কিন্তু আম্পায়ার্স কল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফিরতে হয় অজি ব্যাটারকে। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

    এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ২৭ রান যোগ হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে আউট হন ক্যারি।

    এরপর দ্রুত ব্যাটিং ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় তারা। শরিফুলের পরের ওভারে বেউ ওয়েবস্টার গোল্ডেন ডাকে ফেরেন। এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল। নতুন ব্যাটার কামিন্সের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১ রান।

    সবশেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ককেও নিজের ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে দুর্দান্ত এক বোলিং পারফরম্যান্সের পূর্ণতা দেন শরিফুল ইসলাম।

  • ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবর পেলেন শান্ত-হাসানরা

    ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবর পেলেন শান্ত-হাসানরা

    প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়ের পথে অজিদের পাত্তা না দিয়ে রীতিমতো দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে সফরকারীরা। সেটার প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত র‍্যাঙ্কিংয়ে। আইসিসি হালনাগাদকৃত সবশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদরা।

    মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাড়ে তিন দিনই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অতিথিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়াকে হাতের নাগালে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান; ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার তিনি।

    দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এ যাত্রায় ২৮৪ রানে অলআউট হয় তারা। এই ইনিংসে হাসানের শিকার ৩ উইকেট। সবমিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই পেসার। ঐতিহাসিক এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এবার বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় সুখবর পেলেন হাসান।

    ২৬ ধাপ উন্নতি করেছেন হাসান। ৫০৩ রেটিং নিয়ে ৩৮ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ এগিয়ে ৩৪-এ উঠে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অলরাউন্ডারের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ৬৫২ রেটিং। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। মূলত তাঁর স্পিন ঘূর্ণিতেই বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেটারই সুফল পেলেন মিরাজ।

    প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। সফরকারীদের এই বড় ইনিংসের ভীত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করার পথে ১০১ রান এনে দেন এই ওপেনার। ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪ ধাপ এগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ৮৮ নম্বরে আছেন তানজিদ। সে ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৮৪ রানে আউট হন শান্ত। ৯ ধাপ উন্নতি করে ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

    ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংসে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ ও ৩০* রান। ৫ ধাপ এগিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক। বর্তমানে ৩১ নম্বরে আছেন তিনি। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও উন্নতি করেছেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৯ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ উন্নতি করা সাদমান ইসলাম আছেন মিরাজের ওপরেই।

    অবনতি হয়েছেন লিটন দাসের। ৫ ধাপ পিছিয়ে ২৮ নম্বরে নেমে গেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

  • অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড। ম্যাট রেনশ ডাক পেয়েছেন তাঁর জায়গায়। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য দলে এই একটি পরিবর্তনই এনেছে অস্ট্রেলিয়া।

    ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসে ২৩ ও ০ রানে আউট হন ওয়েদারাল্ড। তখন থেকেই দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেকরা। গত মৌসুমে অ্যাশেজসহ ছয়টি ম্যাচ খেলে ২০.৩৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২২৪ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে তাঁর ব্যাটিং কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সময় ব্যাটিং কৌশলে এ পরিবর্তন আনলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো ইনিংসেই থিতু হতে পারেননি ওয়েদারাল্ড।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দুই লাইনের বিবৃতিতে ওয়েদারাল্ডের বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিরিজের আগে দুই টেস্টের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার ১৩ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়।

    জেক ওয়েদারাল্ড এএফপি

    ডারউইনে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ওয়েদারাল্ডের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন, ‘জেকের শরীরের অবস্থান ও নড়াচড়ার ধরনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ছোট পরিসরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সমালোচনা করা বা তা কতটা টেকসই হবে, সেটি বিচার করা সব সময়ই কঠিন।’

    বাংলাদেশের সিরিজের আগে, চলতি বছরের শুরুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসেন ৩১ বছর বয়সী ওয়েদারাল্ড। এই সিরিজের আগে দুটি টেস্টই খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই ওপেনার, ‘দুটি ম্যাচ খেলার এবং রান করার ভালো সুযোগ সামনে, চার ইনিংসে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। না পারলে ভাগ্য অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।’

    ম্যাট রেনশ এএফপি

    ২০২৩ সালের পর প্রথম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় আছেন রেনশ। ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে অনুশীলনের পর এ সিরিজের জন্য স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ছিলেন। গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে তিনটি সেঞ্চুরিসহ তাঁর গড় ছিল ৪৯.৯০ এবং অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলে সুযোগ পেয়ে প্রতিভার ছাপ রাখেন।

    টেস্টে ৩০ বছর বয়সী রেনশর ব্যাটিং গড় ২৯.৩১। এই সংস্করণে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৭ সালে। চলতি সিরিজে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি আছে রেনশর।

    এ পরিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালের শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর মোট সাতজন ওপেনার ব্যবহার করল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া উসমান খাজাকে বাইরে রেখে এ হিসাব করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দলে থিতু ছিলেন খাজা।

    দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
    ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড, জস ইংলিশ ও স্কট বোল্যান্ড।

    সর্বশেষ অ্যাশেজে সফল হওয়ায় ট্রাভিস হেড ওপেনারের ভূমিকায় খেলছেন। সেই সিরিজে পার্থ টেস্টে খাজার চোটের পর হেডকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়। স্টিভেন স্মিথ, নাথান ম্যাকসুয়ানি, স্যাম কনস্টাস, মারনাস লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকে ওপেনিংয়ে নামিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

    আগামী শনিবার শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

  • টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আছে বাংলাদেশসহ ৭টি দল। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা সমীকরণ।

    পয়েন্টের শতাংশ অনুযায়ী শীর্ষে থাকা দুটি দল টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কার সামনে কী অঙ্ক তা দেখে নেওয়া যাক।

    ১) অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৮৪, পয়েন্টের শতাংশ ৭৭.৭৮)

    সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বাকি আর ন’টি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলেই ফাইনালে ওঠার পাকা প্যাট কামিন্সদের।

    ২) দক্ষিণ আফ্রিকা (পয়েন্ট ৩৬, পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০)

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকারও বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তার মধ্যে ছ’টি জিততে হবে টেম্বা বাভুমাদের।

    ৩) নিউজিল্যান্ড (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৭২.২২)

    প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন নিউ জ়িল্যান্ডের সামনে রয়েছে আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলে আরও এক বার ফাইনালে উঠবে তারা।

    বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৪) বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৫) ভারত (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৪৮.১৫)

    শুভমন গিলদের বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তাঁদেরও অন্তত সাতটি টেস্ট জিততে হবে। নইলে আরও এক বার ব্যর্থ হতে হবে ভারতকে।

    ৬) শ্রীলংকা (পয়েন্ট ২০, পয়েন্টের শতাংশ ৪১.৬৭)

    বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিততে হবে তাদের। ড্র করতে হবে দু’টি। একটির বেশি টেস্ট হারলেই শ্রীলঙ্কার সুযোগ শেষ।

    ৭) ইংল্যান্ড (পয়েন্ট ৩৮, পয়েন্টের শতাংশ ২৪.৩৬)

    বাকি সব টেস্ট জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তবেই তাদের ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

    এই সাত দেশের নিজেদের মধ্যে খেলা রয়েছে। ফলে এক দল জিতলে অপর দল হারবে। তাই পরিসংখ্যান প্রতি ম্যাচের পরেই বদলে যাবে।

  • এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    সেই কবে ১৮৮২ সালের ওভালে গিয়ে প্রথমবার ব্রিটিশ সিংহকে খাঁচায় পুরেছিল অসিরা, আর বুক চাপড়ে দ্য স্পোর্টিং টাইমস লিখেছিল ইংরেজ ক্রিকেটের ‘মৃত্যুসংবাদ’। কল্পনায় সেই মৃতদেহ দাহ করে ছাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছে বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন সাংবাদিক রেজিনাল্ড শার্লি ব্রুকস। সেই থেকেই তো ছাই-ভস্মের সেই অ্যাশেজ সিরিজ। দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের বাইশ গজে আজ কি তবে ক্যাঙারু-বধের পর অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও নিজেদের ক্রিকেটের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করবে?

    ডেভিড হুকস (ইনি সেই ভদ্রলোক, যিনি কিনা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেছিলেন– এক দিনের টেস্টের জন্য সবাই প্রস্তুত হও) বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ঠিক এই হাহাকারটাই করতেন। অথচ কী আশ্চর্য, মাররা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো শোরগোল হলো না, কোনো আগাম দামামা বাজল না; অথচ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ মহাকাব্যে ঘটে গেল এক নিঃশব্দ রূপান্তর-পর্ব!

    কোনো সমঝদার বাংলাদেশি চাইলে ডারউইনের এই পুণ্যমাটি মুঠোভরে দেশে নিয়ে আসতেই পারেন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে সেই প্রত্যাশার কথা রাখতেই হাসিতে সম্মতি দিয়েছেন। এই শতাব্দীর পাকিস্তান যা পারেনি, আধুনিক ক্রিকেটের কোনো শ্রীলঙ্কান মায়াজাল যা করতে পারেনি, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অসি মুলুকে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত থাকার পর মাত্র এক সপ্তাহের আমন্ত্রণে এসে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেটাই করে দেখাল! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই টেস্টে হারাল। পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ করে বাঘেদের এই জিগীষা দেখে আজ ডারউইনের গ্যালারি ছাড়িয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সুকান্তের সেই লাইনগুলো খুব মনে পড়ছে– ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়: জ্বলে-পুড়ে মর ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ডারউইনের সবুজগালিচায় আজ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন সেই অবিনাশী স্পর্ধার এক মহিমান্বিত উপাখ্যানই লিখে গেল!

    কোথায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের মগজে বসে থাকা ক্রিকেটের এক নম্বর রাজাধিরাজ অস্ট্রেলিয়া, আর কোথায় তলানির নবমতম স্থানে ধুঁকতে থাকা এক লড়াকু বাংলাদেশ! বোদ্ধাদের ক্রিকেটীয় খেরোখাতায় এই ম্যাচের ফলাফল তো টসের আগেই একতরফা লিখে রাখা হয়েছিল। অসম, অসমঞ্জস্য এবং অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ। হয়েছেও অবশ্য তাই– অসম লড়াইয়েই জিতেছে বাংলাদেশ, প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে; অসমঞ্জস্যও হয়েছে– সেখানে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর দিয়ে চার শতাধিক(৪২৬) রান তুলেছে বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন দিনের অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ– অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসানরা। যদিও এই জয়টিকে কেউ কেউ ‘আপসেট’ বলছেন। কিন্তু যেভাবে পুরো টেস্টের এগারো সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন শান্তরা, তাতে আপসেট বলাটা অসম্মানের মতোই।

    টেস্টটি শুরু হওয়ার আগেও অসি মিডিয়া দুদিন, না তিন দিনে তা শেষ হবে– প্যাট কামিন্সের কাছে জানতে চেয়েছিল। অতিথিদের নিয়ে একটা অবজ্ঞা ছিল তাদের মধ্যে। সেই জেদেই কিনা ট্রাভিস হেড-স্টিভ স্মিথদের অস্ট্রেলিয়াকেই কিনা সাড়ে তিন দিনে স্রেফ মুড়ি-মুড়কির মতো শাসন করল শান্তর বাংলাদেশ! হাসান মাহমুদের সেই সুইং আর মিরাজের ঘূর্ণিজালে যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যাঙারুদের দর্প, ডারউইনের আকাশ-বাতাস তখন সাক্ষী থাকল এক নতুন মহাজাগরণের। কোনো অলৌকিক মোজেজা বা ফ্লুক নয়; সাড়ে তিন দিন ধরে ক্রিকেটের কুলীন রাজাদের এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া– তা তো আসলে বাঘেদের এক পঞ্জরীভূত লড়াকু মানসিকতা এবং ক্রিকেট ইতিহাসের তীব্রতম এক বৈপ্লবিক বিবর্তনের নাম! তা ছাড়া এটি অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ দল খেলেছে বলেও জয়ের মাহাত্ম্য হালকা করা যাবে না। ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্মিথ, গ্রিন, ক্যারি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন– রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ী দল এটা।

    ম্যাচের মাঝে অসি পেসার হ্যাজেলউড অসহায়ের মতো স্বিকারক্তি দিয়েছিলেন এই বলে যে বাংলাদেশের এই দলের অনেক ক্রিকেটারের ভিডিও তাদের কাছে ছিল না। তারা অনেকটা অচেনা ছিল ! টেস্টের এক নম্বর দলের কেউ যখন এই কথা বলে তখন তার পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। নয়তো তারা যে বাংলাদেশকে নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেটা বোঝা যায়। তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অথচ তারা ডারউইনে এসেই ছিল দুই দিন আগে। ব্রিজবেনে দলের কেউ কেউ একসঙ্গে হলেও ক্যাম্পটি বেশি দিনের ছিল না। হয়ত তারা বাংলাদেশের নাম ভেবেই ধরে নিয়েছিল অত পড়ালেখার দরকার নেই। এমনও হতে পারে তারা পড়ে এসেছিল মুশফিক, তাসকিনদের মতো ক্রিকেটারদের, কিন্তু টেস্টের পরীক্ষায় এসেগেছে হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যারা কিনা প্রায় দুই বছর ধরে এই সিরিজের জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তাদের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কাউন্ট খেলার সেই অভিজ্ঞতাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন এই ম্যাচে।

    ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সেই যে বাঁধভাঙা কান্না, কিংবা ২০০৭-এর ত্রিনিদাদে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে পরাক্রমশালী ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি—বাঙালির আবেগের মণিকোঠায় এদের স্থান চিরন্তন। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৯ সালে খোদ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উইন্ডিজদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই মহাকাব্য, কিংবা ঘরের মাঠে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়—সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখুন, সেগুলোর কোনটির মূল্য কিন্তু এক রত্তি কম নয়! প্রতিটি জয়ই ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে, তখনকার চড়াই-উতরাইয়ের বাস্তবতায় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একেকটি ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন।

    মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ২০২২ সালে সেই বিখ্যাত টেস্ট জয় কিংবা ২০২৪ রাওয়ালপিন্ডির বুক চিরে ইতিহাস ছিনিয়ে আনা—সবকিছুকে এক লহমায় ম্লান করে দিল ডারউইনের এই ৯ উইকেটের জয়। একে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ জেতা বললে ক্রিকেটের ব্যাকরণকে অপমান করা হয়; এটি আসলে বাইশ গজের এক নিঃশব্দ, নির্মম সাম্রাজ্য-খর্বতার উপাখ্যান! দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যে ক্রিকেটীয় অস্পৃশ্যতার দেয়াল তুলে লাল-সবুজকে নিজেদের আঙিনায় ঢুকতে দেয়নি অজিরা, সিডনি–মেলবোর্নের মতো স্টেডিয়ামে আমন্ত্রন না জানিয়ে ডারউইনের মতো পার্কে খেলতে ডাকার মতো অবজ্ঞাকে পায়ে মারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্তরা।

    ডারউইনের এই মহাকাব্যিক বিজয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিটাই চিরতরে বদলে গেল; এখন থেকে লাল-সবুজের এই দলটিকে সবাই সমীহ আর পরম সম্মানের চোখে দেখবে। এতকাল যারা বাংলাদেশকে কেবলই ‘কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়া’ হোম-টিম কিংবা অঘটন ঘটানো কোনো ক্ষণস্থায়ী দল হিসেবে ভাবত, তাদের সেই পুরনো চশমাটা আজ ভেঙে চুরমার। বিশ্ব ক্রিকেটের কুলীন প্রধানদের ডেরায় গিয়ে, তাদেরই পাতা ফাঁদে তাদের ধুলিসাৎ করে শান্তর দল প্রমাণ করল—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ব্রাত্য বা করুণাপ্রার্থী দল নয়, বরং বাইশ গজের এক নতুন পরাশক্তি। ডারউইনের সবুজ গালিচায় আজ যে সম্মানের রাজমুকুট বাঘেরা মাথায় পরল, তা ক্রিকেট বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিল এক পরম স্বীকৃতি ও চিরস্থায়ী কৌলিন্য।

  • ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশংসা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরাজ বলেন, ‘যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখেছি। আজ আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে।’

    গিলক্রিস্ট বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান মিরাজ। ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

    গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’

    মিরাজের মত গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। ‘এমন একজন কিংবদন্তি যখন আমাদের দল সম্পর্কে এত ভালো কথা বলেন, তখন নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’

  • ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ রোববার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

    টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

  • অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।

    ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…

    ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়

    বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়

    দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়

    পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়

    নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়

    ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়

    শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি

    জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি

    বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।

    তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

  • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    ২৩ বছরের পুরোনো গল্পটা এবার বদলে দিল বাংলাদেশ। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এতদিন জয় বা ড্র ছিল অধরা, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ডারউইনে হারিয়ে ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের পরিস্কার এবং শক্তিশালী একটা বার্তা।

    ম্যাচের তৃতীয় দিনেই জয়ের ভিতটা শক্ত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর শুধু শেষ পেরেকটা ঠোকার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। ছোট্ট সেই পথ পেরোতে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন শূন্য রানে।

    তাতে অবশ্য জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। সাদমান ইসলামকে পাশে নিয়ে মুমিনুল হক ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটা শেষ করেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ ৯ উইকেটে। মুমিনুলের ব্যাটে জয়সূচক রান আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট পুরো বাংলাদেশ দল আনন্দ উদযাপনে আত্মহারা। মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণে প্রবাসীরা তখন গলা ফাটাচ্ছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে।

    এই জয়ের নায়ক বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ ইনিংসে চাপের মুখে স্পিন কতটা ভয়ংকর হতে পারে। হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট। দুই ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি তাদের ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বড় পুঁজি এনে দিতে পারেনি। ২৮৪ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার লড়াই।

    সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল তারা। বাংলাদেশ সেখানে নয় নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সেই বিশাল ব্যবধানকে মাঠে মুছে দিল শান্তর দল। ডারউইনের চারদিনে বারবার মনে হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নয়, ক্রিকেটটা খেলছে বাংলাদেশই।

    প্রথম দিন প্রথম বল থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয়নি তারা। অথচ সিরিজ শুরুর আগে শান্ত বলেছিলেন, ম্যাচটাকে পঞ্চম ও শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়াই পঞ্চম দিনে যেতে পারল না!

    ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ফেরা যে ইতিহাস হয়ে যাবে, হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি টেস্ট জেতেনি। তারা বদলে দিয়েছে নিজেদের গল্পও।

    এবার সেই গল্পে লেখা থাকবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বাংলাদেশ পারে।

    দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। সামনে আরও একটি টেস্ট। ইতিহাসের দরজা একবার খুলেছে। এবার সেটি আরও বড় করে খোলার পালা।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮, লায়ন ১৫; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৬, তাসকিন ১/৬৬, তাইজুল ১/৫১, ইবাদত ০/৩৮)

    বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০, সাদমান ২৫, তানজিদ ০; হ্যাজলউড ১/৫, স্টার্ক ০/১৫, লায়ন ০/২৩)।

    ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

    ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ।

  • পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    ম্যাচটা চতুর্থ দিনে যাবে কি না সংশয় হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গিয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে যাওয়ার সম্ভাবনা যে খুবই কম, আজ এই বিশ্বাস নিয়েই ঘরে ফিরে গেছেন ডারউইনের দর্শকেরা।

    ‘বিশ্বাস’ বলাটা কি ঠিক হলো! অস্ট্রেলিয়ানরা তো নিশ্চিতভাবেই চাইবে টেস্টটা শেষ দিনে যাক। তাহলেই তাদের মানসম্মান কিছুটা বাঁচার সম্ভাবনা থাকবে। চতুর্থ দিনে শেষ হওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেটা তো আসলে বাংলাদেশের পক্ষে! কাল টেস্ট শেষ হওয়া মানে তো বাংলাদেশেরই জয় আসলে।

    ভাবতে একটু অন্য রকমই লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট যেন চতুর্থ দিনে শেষ হয়ে যায়, সেই পালে হাওয়া দেওয়া দলটির নাম বাংলাদেশ! আর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া মনেপ্রাণে চাইছে যেন তা না হয়। কাল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটা যেন এতটাই লম্বা হয় যে শেষ দিনেও অন্তত লড়াইটা করা যায়।

    টেস্টের আয়ু নিয়ে এই আলোচনার কারণটা ডারউইন টেস্টে স্কোরকার্ডের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে। আজ তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে এখনো পিছিয়ে ৬৭ রানে। এর আগে টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় ২২৮ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চের পরপর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৪২৭–ই এখনো সর্বোচ্চ।

    সকালের সেশনে টেল এন্ডারদের নিয়ে দারুণ ব্যাট করেন মিরাজ

    বাংলাদেশের লিড ২০৬ অতিক্রম করার পর থেকেই ইতিহাসের পাতা চোখ রাঙাতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়াকে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসেই যে কখনো ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থাকা ম্যাচে জেতেনি তারা! অর্থাৎ ডারউইনে জিততে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানে পিছিয়ে থাকার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার রেকর্ড গড়তে হবে তাদের।

    কিন্তু তৃতীয় দিনে শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে উইকেট হারাতে শুরু করল, তাতে রেকর্ডটা নতুন করে লিখতে একটু কষ্টই হওয়ার কথা তাদের। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ এবারও কাঁপিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিকদের শুরুটা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোল্ড করেছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে এবং ট্রাভিস হেডকে ১১তম ওভারে। হাসানকে কাট করতে গিয়েছিলেন হেড। কিন্তু শরীরের কাছাকাছি থাকা বলটা ব্যাটে লেগে ভেঙে দেয় স্টাম্প।

    ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার ভরসা তখন মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের তৃতীয় উইকেট জুটি। ৩৬ রানের জুটিতে দুজনই মোটামুটি থিতু হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলাম ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনেকে বোল্ড করে দিলে আরেকবার কেঁপে ওঠে স্বাগতিকেরা। স্মিথ ফিরেছেন আরেকটু এগিয়ে, ৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ডারউইনের প্রেসবক্সে আলোচনা—টেস্টটা চতুর্থ দিনে যাবে তো!

    আবারও হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড ট্রাভিস হেড

    ক্যামেরন গ্রিন তো বটেই, অস্ট্রেলিয়ারও সৌভাগ্য যে তাসকিন আহমেদের একটি বল তাঁর স্টাম্পে লাগলেও বেলস পড়েনি। অবিশ্বাস্যভাবে স্টাম্পে আঘাত করে বলটা ছাড়িয়ে গেছে বাউন্ডারিও! সেই সৌভাগ্য নিয়েই অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে।

    ডারউইন টেস্টটা যে তৃতীয় দিন শেষে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেটির বড় কৃতিত্ব প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের টেলএন্ডের ব্যাটিংয়ের। কিন্তু সেখানে কোনটি বিশেষ? নাথান লায়নকে স্লগ সুইপে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারা ইবাদত হোসেনের বিশাল ছক্কা? নাকি হাসান মাহমুদের ১৪ রান করার ছলে ৯২টি বল খেলে যাওয়া!

    অস্ট্রেলিয়ানরা বলবে—এর কিছুই নয়। ঝামেলা তো পাকিয়েছে আমাদের ফিল্ডাররা। এক সেশনে তিনটা ক্যাচ ফেলে কেউ? তা–ও আবার এক ওভারে দুইটা। ক্যাচ ফেললে টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান কেন, শিশুরাও রান করত পারবে।

    মিরাজের ব্যাটে ভর করে লিড দুই শ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের

    যে যেভাবেই দেখুক, আজ ডারউইন টেস্টের আরও একটি দিনকে শুরু থেকেই বাংলাদেশ করে নিয়েছিল নিজেদের এবং সে কৃতিত্বের প্রায় পুরোটাই টেলএন্ডারদের দারুণ ব্যাটিংয়ের। ১৫৪ বলে মিরাজের ৬৫–কে খুঁটি বানিয়ে সেটাকে চক্কর দিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন আগের দিনের অপরাজিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত।

    কাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল ৮৩.৩ ওভারে, মুশফিকুর রহিমের আউটের পর রান তখন ৬ উইকেটে ৩০৮। মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার। এই সময়ে রান যোগ হয়েছে আরও ১১৮, যার ৭৫–ই এসেছে আজ। এসব কারণেই সম্ভবত হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকের দেখা পেলেও অর্জনটি অস্ট্রেলিয়ানরা ঠিক উদ্‌যাপন করতে পারেনি।

    জুটিগুলোর দিকেও একটু তাকিয়ে দেখুন। মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেটে ৪৬, মিরাজ–তাইজুলের অষ্টম উইকেটে ১৮, মিরাজ–তাসকিনের নবম উইকেটে ৪, এমনকি তাসকিন–ইবাদতের শেষ উইকেটে ৮ রান, যার মধ্যে ইবাদতের ওই ছক্কাটাও আছে।

    মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে টেস্টের তৃতীয় দিনটাও দারুণ কাটল বাংলাদেশের সমর্থকদের

    টুপিখোলা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য টেলএন্ডারদের এই কীর্তিতেই তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পার করে লাঞ্চের পরও ৫ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। হাসান, ইবাদতের কথা তো বলাই হলো, মাঝে এক ছক্কা এক চারে তাইজুলের ২৩ বলে ১৭ আর তাসকিনের দুই বাউন্ডারি মেশানো ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংস দুটির সময়ও মনে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার পেস–বাউন্স খুব একটা ভোগাচ্ছে তাঁদের। হ্যাঁ, তিনটা ক্যাচ পড়েছে প্রথম সেশনে, যার দুটি আবার এক ওভারে।

    কিন্তু তাতে কী! তানজিম হাসান তো আগের দিনই বলে দিয়েছেন, ক্যাচ ধরবে–ক্যাচ পড়বে এসব খেলারই অংশ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া : ১৯৮ ও ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ (স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, লাবুশেন ৩১, হেড ১৭, ক্যারি ৭*; হাসান ২/৩৩, তাসকিন ০/৩৮, ইবাদত ০/৩৮, তাইজুল ১/২৮, মিরাজ ১/২০)। বাংলাদেশ: ৪২৬।

  • তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    ছয় সেশনের মধ্যে কেবল একটিতেই একটু হাসি–আনন্দ করতে পারল অস্ট্রেলিয়ানরা। সেটিও আজ দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের যে পাঁচটি উইকেট অস্ট্রেলিয়া নিতে পেরেছে, এই সেশনেই এসেছে তার তিনটি। এটুকু বাদ দিলে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই।

    একটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস, একটি শতোর্ধ্ব রানের জুটি এবং শতরানের কাছাকাছি আরেকটি জুটি মিলিয়ে বোলিংয়ের মতো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টার।

    বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। নাজমুল শতরানের দেখা পাননি, তবে বাংলাদেশের আরেকটি ভালো দিনে ১২৬ বলে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসেরও আছে বড় ভূমিকা।

    ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে।

    সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল

    নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের ‘শীতে’ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া। জশ হ্যাজলউডের করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে মারতে গিয়ে প্রথম সেশনে মুমিনুল হক কট বিহাইন্ড হয়ে যান ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দিয়ে যান ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই।

    স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং–বান্ধব। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুলের কাজ ছিল আরেকটি বড় জুটির সঙ্গী হওয়া, নিজেও বড় ইনিংস খেলা।

    দুটিতেই সফল বলতে হবে তাঁকে। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি, সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লায়নের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।

    সেঞ্চুরি করে উদ্‌যাপন তানজিদের

    টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। নাজমুলের ফিফটি হলেই তাই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়াতে শুরু করে। ডারউইন টেস্টেও তা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিধিটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই যার শুরু।

    নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সে বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে নয় নাজমুলকে। তাতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি।
    দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশে হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।

    দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার।

    কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষায় থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।

    পাকা ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন হাসান মাহমুদ

    সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের স্লেজিং মনঃসংযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটাতে পারেনি মিরাজ–হাসানের।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। —দ্বিতীয় দিন শেষে।

  • আবারও পারভেজের ৫ উইকেট, সিরিজ বাংলাদেশের যুবাদের

    আবারও পারভেজের ৫ উইকেট, সিরিজ বাংলাদেশের যুবাদের

    এক দল বিনা উইকেটেই তুলে ফেলেছিল ৮৯ রান। আরেক দল ৫৮ রান তুলতেই হারায় ৫ উইকেট। তবে আজ রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে জিতেছে দ্বিতীয় দলটিই। দ্বিতীয় দলটির নাম বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩। দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটাও এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

    প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের দলটির জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা শেখ পারভেজ জীবন আজও হয়েছেন ম্যাচসেরা। আগের ম্যাচের মতোই আজও ৫ উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ১৬ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পারভেজ আজ ৮ ওভারে ২৩ রান দিয়েছেন।

    আসলাম খান মালিক ও সাইফ উল্লাহ মালিক মালয়েশিয়াকে উদ্বোধনী জুটিতে এনে দেন ৮৯ রান। ২৫ রান করা সাইফকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পারভেজ। আসলাম এক প্রান্ত ধরে রাখলেও একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানে অলআউট মালয়েশিয়া। নয় নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১০৭ বলে ঠিক ১০০ রান করেন আসলাম। সেঞ্চুরিয়ান আসলামকে বোল্ড করেই পঞ্চম উইকেট পেয়ে যান পারভেজ।

    রান তাড়ায় ৫৮ রানে ৫ উইকেট খোয়ানো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে উদ্ধার করে আহরার আমিন ও দেবাশিস সরকারের ৯২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। দুজনই ফিফটিও পেয়েছেন। ৪১ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ রান করে দেবাশিস আউট হলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন আহরার। ৭৬ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫৭ রান। ৩১.৫ ওভারেই জয় পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    মালয়েশিয়া: ৩৮ ওভারে ১৭৬ (আসলাম ১০০, সাইফ ২৫; পারভেজ ৫/২৩, স্বাধীন ২/৩৬, রাহিন ২/৫২)।
    বাংলাদেশ অ-২৩ দল: ৩১.৫ ওভারে ১৭৭/৭ (দেবাশিস ৫৮, আহরার ৫৭*, ইকবাল ২৬; বিজয় ২/২৩, প্রশান্ত ২/২৬)।
    ফল: বাংলাদেশ অ-২৩ দল ৩ উইকেটে জয়ী।
    সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ অ-২৩ দল ২-০-তে এগিয়ে।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেখ পারভেজ।

  • ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    জাতীয় দলের হয়ে ঘরের মাঠে বিদায়ী সিরিজ খেলার আশা প্রকাশ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর সেই সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ নেই। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘তার দেশে ফিরে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই দেশ ছাড়েন। ওই সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আমিনুল হকের ভাষ্য, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে যে অবস্থানে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে সরে গিয়ে যখন রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নিয়েছেন, তখন আমার মনে হয় না তার দেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে। দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

    ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন সাকিবকে মূলত একজন ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর সেই অবস্থান বদলেছে। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এবং অন্য সবাই তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন তার ফেরার জন্য কোনো ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। তিনি স্বৈরাচারদের মঞ্চে উঠে তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। তাই তার দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।

    তবে সরকারের সর্বশেষ অবস্থানের পর সাকিবের সেই বিদায়ী সিরিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

  • দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দুশ্চিন্তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের নিয়ে। কিন্তু স্বাগতিকরা দাপট দেখালেন স্পিনে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে অফ-স্পিনার কোরি রকিচিওলি একাই ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন। প্রথম দিনে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। হাঁকান দারুণ এক সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারের ওপর ভর করে ১০৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান। তাতে অতিথিরা পেয়েছে সম্মানজনক স্কোর। মিরাজের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রানের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।

    অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতে তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ দুর্দান্ত বোলিং করে। আক্রমণের মুখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পড়ে যায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে। প্রথম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে চাপে পড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা।

    তার আগে ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সাজঘরে ফেরান হান্নো জ্যাকবস। ওপেনার তানজিদ বিদায় শূন্য রানে। এরপর সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও রানের গতি ছিল বেশ মন্থর।

    অধিনায়ক শান্ত ৫৩ বলে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাদমান করেন ৪৭ বলে ৩১ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (১৬) ও টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান (১৫) উইকেটে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। লাঞ্চের আগেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। যথারীতি শুরুর ছয় ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হন এই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন।

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোরি রকিচিওলি ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। এছাড়া হান্নো জ্যাকবস, জাভিয়ার ক্রোন, ক্যাম্পবেল থম্পসন ও জারসিস ওয়াদিয়া ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬৩/১০, ৭৫.৫ ওভার

    (মিরাজ ১০৯*, শান্ত ৩৭, সাদমান ৩১, মুমিনুল ১৬, সৌম্য ১৬; রকিচিওলি ৬/৮৩, জ্যাকবস ১/২৮, ক্যাম্পবেল ১/২৬ ক্রোন ১/৪৮ ও ওয়াদিয়া ১/২৬)।

  • ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ভারতে দলে সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী ক্রিকেটার। ভারতের নাগপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দলে সুযোগ না পেয়ে ১৭ বছর বয়সী এই নারী ক্রিকেটার আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেয়েটির নাম অদিতি চৌখান্ডে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর বাড়ি মহারাষ্ট্রের আকোলায়। ভালো মানের ক্রিকেট প্রশিক্ষণের জন্য দুই বছর ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে নাগপুরে বসবাস করছিলেন। সেখানে একটি ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি। তাঁর ভাইও একজন পেশাদার ক্রিকেটার।

    গত বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নাগপুরের লক্ষ্মীনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’। চিঠি থেকে পুলিশের ধারণা, দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশাই এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বিদর্ভের দলে নাম না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই ক্রিকেটার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত তদন্তের পর জানা যাবে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ একই ভেন্যু বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। টসে জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    বাংলাদেশ একাদশ
    তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।

  • মাঠেই লুটিয়ে পড়ে ভারতীয় পেসারের মৃত্যু

    মাঠেই লুটিয়ে পড়ে ভারতীয় পেসারের মৃত্যু

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ক্রিকেট মাঠে আবারো ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। খেলার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের তরুণ পেসার সুহেল। ওভার শেষ করে নিজের ফিল্ডিং পজিশনে ফেরার সময় হঠাৎ মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মিরের তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ‘ভালেসা চেনাব প্রিমিয়ার লিগ’-এর একটি ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। জিমখানা কিস্তওয়ারের বিপক্ষে বাদশা ১১ ভালেসার হয়ে খেলছিলেন সুহেল।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দ্বিতীয় ওভার শেষ করার পর জুতার ফিতা বাঁধতে নিচু হন সুহেল। এরপর উঠে দাঁড়ালে কয়েক সেকেন্ড ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে শুরু করলেও অল্প দূর যেতেই আচমকা মাঠে লুটিয়ে পড়েন।

    তাকে পড়ে যেতে দেখে সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা দ্রুত ছুটে আসেন। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর একটি গাড়িতে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়ি মাঠে প্রবেশ করছে।

    তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা সুহেলকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। তরুণ এই ক্রিকেটারের আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় ক্রিকেটাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

  • এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে জিতে সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল।

    আজ রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে প্রথমে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হন তামিম। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

    সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি, তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। যে কারণে তিনিই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা।

    বিসিবি পরিচালক হলেন যারা

    ক্যাটাগরি-১

    ঢাকা বিভাগ: সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ

    চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরী

    খুলনা বিভাগ: শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম

    রংপুর বিভাগ: মির্জা ফয়সল আমীন

    সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

    বরিশাল বিভাগ: মিজানুর রহমান

    ক্যাটাগরি – ২

    তামিম ইকবাল, মাসদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ

    ক্যাটাগরি – ৩

    সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

  • আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আলোকস্বল্পতা থাকলে দিনের আলোতেও এখন টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এ জন্য দুই দলেরই সম্মতি থাকতে হবে। প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশে আজ ভারতের আহমেদাবাদে হওয়া বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি।

    টেস্ট ক্রিকেটে যেন আলোকস্বল্পতার কারণে সময় নষ্ট না হয়, এ জন্য গবেষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপের ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জাপ্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব একসঙ্গে অর্থায়ন করবে।

    আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রধান কোচ পানি পানের বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন। টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দুই ইনিংসের বিরতি ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো, যেমন দিনের শেষ ওভারে কেউ আউট হলে খেলা সেখানেই না থামিয়ে ওই ওভার শেষ করা, বানি হপ ক্যাচ—এসব কার্যকর করা হবে।

    নারী ক্রিকেট নিয়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায়। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে এখন ওই বছরেরই ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ২০২৮ সালের নারী বিশ্বকাপের দল ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল ও স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেললে র‌্যাঙ্কংয়ে পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।

    বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আইসিসি। এই প্রতিনিধিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে ও জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।

    তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও দেবজিৎ সাইকিয়া।

    আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্ব কীভাবে হবে, সেটিও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি। বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে কীভাবে আরও সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের বোর্ড সভায়।

  • আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নাহিদ রানা

    আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নাহিদ রানা

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এপ্রিল মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এই ডানহাতি পেসার মোট ৮ উইকেট শিকার করেন। এর আগের মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিনি সমান ৮ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন।

    এই প্রথমবারের মতো আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেন নাহিদ। এর মাধ্যমে গত বছরের পর আবারও কোনো টাইগার ক্রিকেটার এই সম্মান অর্জন করলেন।

    পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ জানান, নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে আইসিসির মাসসেরা হওয়া তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ঘরের মাঠে এমন সাফল্য সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    সিরিজের শুরুতে প্রথম ওয়ানডেতে কিছুটা খরুচে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এই পেসার। ওই ম্যাচে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট শিকার করেন। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।

  • ৩ ক্রিকেটার নিহত, পাকিস্তানের সাথে খেলবে না আফগানিস্তান

    ৩ ক্রিকেটার নিহত, পাকিস্তানের সাথে খেলবে না আফগানিস্তান

    ক্রীড়া ডেস্ক

    পাকিস্তান-আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত। সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ছে তারা। যার প্রভাব পড়েছে এবার ক্রিকেটেও। পাকিস্তানের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলা থেকে সরে এসেছে আফগানরা।

    পাকিস্তানের বিমান হামলায় একাধিক স্থানীয় ক্রিকেটার নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে আফগান ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাথে ত্রিপক্ষীয় সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা।

    আফগান ক্রিকেট বোর্ড জানায়, ‘আমাদের খেলোয়াড়, নাগরিক ও ক্রীড়া সম্প্রদায়ের ওপর এই আক্রমণ অকল্পনীয়। যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আসন্ন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    উল্লেখ্য, এর আগে এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে আফগানিস্তান দল পাকিস্তান সফরে গেলেও কখনো পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেনি।

    ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো খেলত আফগানিস্তান। কিন্তু দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষের কারণে এটি আর হচ্ছে না। এমনকি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সিরিজও।

    যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।