ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Brahmanbaria district

  • বিজয়নগরে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার, চাচাতো ভাই আটক

    বিজয়নগরে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার, চাচাতো ভাই আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নিখোঁজের দুদিন পর আজিম (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাইকে আটক করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমোড়া গ্রামের বড় পুকুর নামক স্থানের পুকুরের ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মৃত আজিম ওই গ্রামের আলী আজগর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আজিমের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি মরহুম হাসেম মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিখোঁজ হন আজিম। নিখোঁজের দিন ভোরে আটক রফিকুলের সাথে মোবাইলে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই আজিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোমবার রাতে রফিকুলের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধ পান স্থানীয়রা। পরে বাড়ির পাশের বড় পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে ঝোঁপ থেকে আজিমের লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরের ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

    বিজয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র সরকার জানান, জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬) নামে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন।

    শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৌরভ দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা। তবে নিহত অপরজনের ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

    এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বাসের কমপক্ষে ১৫ যাত্রী। এদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, গত শুক্রবার রাতে রংপুর থেকে দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয়। শনিবার সকালে বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেড়তলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে যায়।

    তিনি আরো জানান, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফ ও সৌরভের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    কসবায় শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে পিস্তল দেখিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা রাতেই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত দেলোয়ার একই গ্রামের বাসিন্দা।

    থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি পিস্তল বের করে ভয় দেখান এবং জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, সিএনজিটি কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষিকা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর প্রায় এক মাসের সম্পর্ক ছিল। শিক্ষিকার রাগ কমাতে তাঁকে নিয়ে সিএনজিতে করে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। অপহরণের অভিযোগটি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে শিক্ষিকা দেলোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করে কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে সিএনজিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

    ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ১০ বসতঘর ভস্মীভূত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ১০ বসতঘর ভস্মীভূত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আগুনে পুড়ে ১০টি বসতঘর ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এতে ১৪টি পরিবারের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানায়, সকালে গ্রামের আলফাজ মিয়ার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ১০টি ঘরই পুড়ে যায়। এসব ঘরে বসবাস করা ১৪টি পরিবারের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।‘ এ,আর

  • নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে মিম (৭) নামে মাদরাসাপড়ুয়া এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রাম থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশু মিম বিদ্যাকুট গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রী মিম শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সোমবার বিকেলে বিদ্যাকুট বড় বাড়ির পুকুরপাড়ের ঝোপে শিশু মিমের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠায়।

    নিহত শিশুর বাবা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার শিশু মেয়েটা এভাবে চলে যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারছি না।

    নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    নিখোঁজের এক দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলল কিশোরের লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের এক দিন পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে মো: শাকিল (১৪) নামে এক কিশোরের লাশ পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের লংকামোড়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে লাশটি পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।

    নিহত শাকিল আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে।

    পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও বিজিবি জানায়, শাকিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সে নিখোঁজ ছিল। শনিবার রাতে লংকামোড়া এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

    বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, লাশটি সীমান্তের ভারতীয় অংশে থাকায় বিজিবি, বিএসএফ ও দুই দেশের পুলিশের মধ্যে আলোচনার পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভারতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    তিনি জানান, শাকিল কিভাবে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে পৌঁছাল এবং তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    নিখোঁজ কিশোরের লাশ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে উদ্ধারের ঘটনায় আব্দুল্লাহপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে শোক নেমে এসেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের এ মালেক কনভেনশন হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক মোহাইমেন।

    ইসলামী ছাত্রশিবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সজিব মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, জেলা জামায়াতের আইসিটি সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক রাজিফুল হাসান বাপ্পী, প্রচার সম্পাদক মো: রুকন উদ্দিন ও জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়া ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবনের এ অর্জন ভবিষ্যতের পথচলায় কাজে লাগাতে হবে। শুধু অ্যাকাডেমিক সাফল্য নয়; মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

  • ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ২৪ টন সার উদ্ধার

    ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ২৪ টন সার উদ্ধার

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ২৪ টন সার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এসব সার উদ্ধার করেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ২০০১/এমপি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ৯ টন টিএসপি সার ও সাড়ে ১৪ টন ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।

    তিনি আরও জানান, ট্রাকে থাকা সারের কাগজপত্র তল্লাশি করে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল। উদ্ধার করা সারসহ ট্রাকটি আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জমি নিয়ে বিরোধে যাতায়াতের পথে বেড়া

    জমি নিয়ে বিরোধে যাতায়াতের পথে বেড়া

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের বাড়ির যাতায়াতের পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারটির সদস্যরা দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। তাঁদের শৌচাগার ও নলকূপ ওই বেড়ার বাইরে আছে।

    ঘটনাটি উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কর্মকারপাড়ার। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিবেশী রফিক মিয়ার পরিবারের লোকজন ৯ আগস্ট তাঁদের বাড়ির দরজার সামনে ও উঠানের পথের ওপর বাঁশের বেড়া দেন। এতে তাঁদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শৌচাগার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নলকূপটি টিন ও ময়লা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা মন্টু কর্মকার ২০০৩ সালে তাঁর চাচাতো ভাই উত্তম রায়ের কাছ থেকে সাবেক ১৮৯৭ দাগের ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি বায়না দলিলমূলে কেনেন। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি সদস্য আশিকুর রহমানের মাধ্যমে জমি কেনার দলিল সম্পাদন করা হয়। এতে উত্তম রায় স্বাক্ষর করেন। মন্টুর দাবি, তিনি জমির দাম বাবদ ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আগেই উত্তম চলে যাওয়ায় দলিলটি নিবন্ধন হয়নি।

    দলিলে উত্তম স্বাক্ষর করলেও সেটি নিবন্ধন হয়নি। অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতেই আমি আদালতে মামলা করেছি। এখন রফিক মিয়ার লোকজন বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়েছে। মামলা ও বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

    পরে ২০১৭ সালে একই জমি সৌদি আরবপ্রবাসী রফিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন উত্তম। বিষয়টি জানার পর মন্টু গত এক বছরের মধ্যে দুই দফায় আদালতে মামলা করেন। এর পর থেকেই দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

    এই জায়গা প্রথমে মন্টু কিনছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তাউস মিয়া বলেন, পরে উত্তম একই জায়গা রফিকের কাছে বিক্রি করেছেন। আরেক বাসিন্দা সুজন পাঠান বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় সমাধান হয়নি।

    মন্টুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ৯ আগস্ট দিনের বেলায় তাঁদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁরা ঘরে ফিরতে পারলেও বেড়া সরানো হয়নি। ঘরের দরজার সামনে প্রায় ২০ ফুট এবং উঠান থেকে বের হওয়ার পথে প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

    মন্টুর পরিবারের সদস্য সুবর্ণা কর্মকার বলেন, দিনের বেলায় শৌচাগার ব্যবহারের কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে রাতে পাশের পুকুরপাড়ে যেতে হচ্ছে। খাবার পানির জন্যও প্রতিদিন কলস নিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

    মন্টু কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলিলে উত্তম স্বাক্ষর করলেও সেটি নিবন্ধন হয়নি। অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতেই আমি আদালতে মামলা করেছি। এখন রফিক মিয়ার লোকজন বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়েছে। মামলা ও বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

    তবে রফিক মিয়ার স্ত্রী জানাহারা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা নিজেদের জায়গায় বেড়া দিয়েছেন। মন্টুর জায়গায় বেড়া দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। হামলা-মামলা করলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

    জমির আগের মালিক উত্তম রায় বলেন, মন্টু জালিয়াতি করে তাঁর কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ওই জমি রফিকের কাছে বিক্রি করেছেন। মন্টুর সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও দাবি করেন তিনি।

    হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, উত্তম রায়ের কাছ থেকে মন্টু কর্মকার জায়গা কিনেছেন বলে তিনি শুনেছেন। মন্টুর কাছে দলিল বা বায়নাপত্রও রয়েছে। পরে একই জায়গা রফিক কিনেছেন বলেও শুনেছেন। উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন।

    নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও হরিপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, উত্তমের কাছ থেকে জায়গা কেনা হলেও দলিলটি নিবন্ধন হয়নি। মন্টুর লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বাঁশ ও টিনের বেড়ার কিছু অংশ সরিয়ে দিয়েছে। উভয় পক্ষকে থানায় বসে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও কেউ আসেনি।

  • জলকন্যার বুকে গোলাপি আলপনা

    জলকন্যার বুকে গোলাপি আলপনা

    ফিচার

    জলকন্যার বুকে গোলাপি আলপনাবর্ষার প্রচ্ছদ পেরিয়ে যখন রূপসী বাংলার আকাশে শরতের অমল ধবল মেঘের খেয়া ভেসে বেড়ায়, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তর-পূব সীমান্তের এক অখ্যাত জলাশয় রূপ নেয় কোনো এক অলৌকিক চিত্রপটে। চোখের সীমানা ছাড়িয়ে যেখানেই দৃষ্টি যায়, শুধুই সবুজের সমারোহ আর তার বুক চিরে উঁকি দেওয়া অজস্র অমলিন পদ্ম। প্রভাত ও গৌধুলীর স্নিগ্ধ রোদ যখন কালচে জলের বুকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন হাজার হাজার গোলাপি ও শ্বেতপদ্ম শিশিরবিন্দু ধারণ করে যেন প্রকৃতির এক অনুপম রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করে।

    আখাউড়ার সীমানা ঘেঁষা ঘাঘুটিয়া ও মিনারকুটের এই জলাভূমি এখন আর কেবল জলের আধার নয়, রূপসী বাংলার এক প্রাণবন্ত কাব্যগ্রন্থ।

    প্রতি শরতেই প্রাকৃতিকভাবেই এই বিলে ফুটে ওঠে শত শত পদ্ম। সাম্প্রতিককালে রূপপিপাসু পথিক ও আলোকচিত্রীদের কল্যাণে এ যেন এক জনাকীর্ণ স্বর্গে পরিণত হয়েছে। ভোর হতে না হতেই বিলের শান্ত জলরাশি জেগে ওঠে গুঞ্জন আর মুগ্ধতার গুঞ্জরণে। পলিমাটির সুবাস, জলজ উদ্ভিদের তীব্র আকুলতা আর পদ্মের মৌ মৌ গন্ধ মিলেমিশে বাতাসকে করে তোলে সুবাসিত। সুদূর দিগন্ত থেকে ভেসে আসা বালিহাঁস, পানকৌড়ি আর গাঙচিলের কিচিরমিচির সেই সৌন্দর্যকে দেয় এক অনন্য ছন্দ ও সুর।

    ভোরের প্রথম আলো থেকে গৌধুলী লগ্ন পর্যন্ত ফুটতেই বিলের ঘাটে বাঁধা ডিঙ্গি নৌকাগুলো রূপসী কূলের পানে ছুটে চলে। মেহগনি বা সাল কাঠের নৌকায় বসে যখন কেউ বিলের বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন তিনি ভেসে যাচ্ছেন সময়ের কোনো অচিন মায়াপুরে। জলের সমতলে মাথা তুলে থাকা এক একটি পদ্মফুল যেন এক একটি রহস্যময় রোমাঞ্চ। কোনোটি সবেমাত্র কলি মেলে হাসছে, কোনোটি আবার পূর্ণাঙ্গ পাপড়ি মেলে সূর্যের প্রথম রশ্মিকে আলিঙ্গন করছে। কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলে তরুণ পদ্মের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হয়, আকাশের মেঘ আর মাটির জল একাকার হয়ে গেছে এক অলৌকিক মায়াজালে।শহরের যান্ত্রিক কোলাহল, ইট-কাঠের নির্জীব চার দেওয়াল আর ব্যস্ততার আত্মাহুতি থেকে মুক্তি পেতে হাজারো গৃহকাতর মানুষ ছুটে আসেন এই নিভৃত স্বর্গে। তারা জলের ছোঁয়া নেন, পদ্মের পাপড়ির কোমলতায় খুঁজে পান আত্মিক শান্তি। কেউবা নিঃশব্দে অনুভূতির ছবি আঁকেন মনের ক্যানভাসে, কেউবা ক্যামেরার লেন্সে বন্দী করেন ক্ষণিকের অমরত্ব। তরুণদের কোলাহল, প্রবীণদের মুগ্ধ নিঃশ্বাস আর শিশুদের কলকাকলিতে শান্ত জলধি হয়ে ওঠে মুখরিত।

    ঢাকার গুলশান থেকে আসা মো. নুরুজ্জামান নামে একজন বলেন, এখানকার পরিবেশটি খুব কোমল। আমার পরিবারের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করি সেখানে এক ধরনের চিড়িয়াখানার মতো থাকি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে, পদ্মবিলে নৌকা নিয়ে গিয়েছি মনে শান্তি লাগছে।

    ঢাকার বনস্রী থেকে আসা শাহিদা বেগম বলেন, এই পরিবেশে এত মুগ্ধ যা বলে বুঝানো যাবে না৷ তিনি আরও এই পদ্মবিলে জীবনে প্রথমবার আসলাম ঘুরে দেখলাম অনেক ভালো লেগেছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা তাসমিয়া আক্তার বলেন, এখানে এত ভালো লেগেছে, বাড়িতে যাওয়ার মন মানছে না। পরিবেশটা মুগ্ধ ছড়িয়ে রেখেছে।

    প্রকৃতির এই রূপবদল শুধু যে কাব্যিক তৃষ্ণা মেটায় তা নয়, স্থানীয় জনজীবনের ক্যানভাসেও এঁকে দেয় এক টুকরো সচ্ছলতার হাসি। যে মাঝিরা বর্ষার জল নেমে গেলে কর্মহীনতায় ভোগেন, এই পদ্ম-মৌসুমে তাদের হাতে ওঠে বৈঠা। মৃদু ঢেউয়ের তালে তালে দর্শনার্থীদের বিলের গহীনে নিয়ে গিয়ে তারা উপার্জন করেন দু-মুঠো অন্ন।

    পদ্মবিলের মাঝি মো. শাহআলম মিয়া বলেন এই পদ্মবিলের কারণে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো উপার্জন হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে। আমি দৈণিক ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারি।

    আরেক মাঝি বিল্লাল হোসেন বলেন, পর্যটক এখন প্রতিদিন আসতেছে নৌকা নিয়ে তাদের পদ্ম ফুলের মাঝে নিয়ে যায় তারা অনেক আনন্দ করে। তাদের এই আনন্দ দেখে অনেক ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, এই পদ্মবিলের কারণে বর্ষার মৌসুমে আমরা বেকার অবস্থায় থাকতাম। এখন আর অবসর থাকতে হচ্ছে না এই বিলের কারণে।

    তবে এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে এক আকুল মিনতি। মানুষের অবাধ পদচারণায় অহেতুক ফুল ছিঁড়ে ফেলার উন্মাদনা বিলের স্বকীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্রকৃতির এই অবিনাশী সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা।

    পরিবেশ ও নদী সুরক্ষাবিষয়ক সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, শত শত বছর ধরে প্রকৃতি নিজের নিয়মে এই বিলকে সাজিয়েছে। অযথা ছবি তোলার জন্য বা সাময়িক আনন্দের বশে পদ্মফুল, পদ্মাকাঁট বা ফুলগাছ উপড়ে ফেলবেন না। আপনার ছেঁড়া একটি ফুল বিলের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করে। তিনি আরও বলেন পদ্মবিল অসংখ্য দেশি ও অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্র। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ বজায় রাখুন।

    স্থানীয় মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরী এই পদ্মবিল কেন্দ্রিক সম্ভাবনা ও সার্বিক পরিবেশ রক্ষা নিয়ে বলেন আমাদের মনিয়ন্দ ইউনিয়নের এই সীমান্তঘেঁষা বিলটি প্রকৃতি এক অপূর্ব সাজে সাজিয়েছে। শত শত মানুষ প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসছেন, যা আমাদের পুরো এলাকার জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকার পরিবেশ রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় এবং তারা যেন নির্বিঘ্নে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য স্থানীয়ভাবে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি।

    আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, পদ্মবিলটি আখাউড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বিরল বাস্তুতন্ত্র যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সেদিকে আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি।সবুজের বুকে গোলাপি পদ্মের এই রূপকথা শুধুই এক নৈসর্গিক দৃশ্য নয়, বরং প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক অস্তিত্বের এক মায়াবী সেতু। স্থানীয় প্রশাসনের সদিচ্ছা, পরিবেশপ্রেমীদের সচেতনতা আর দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ যদি এক সুতোয় গাঁথা যায়, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই পদ্মবিল কেবল শরতের ক্ষণস্থায়ী স্বর্গ হয়ে থাকবে না—হয়ে উঠবে প্রকৃতির এক চিরন্তন উদ্যান। গোধূলির আলোয় শান্ত জলের বুকে হেলে পড়া পদ্মগুলো যেন নিঃশব্দে বলে যায়, প্রকৃতিকে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রাখলেই মানুষ খুঁজে পাবে তার কাঙ্ক্ষিত প্রশান্তি।

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় ২০ বছর শিকলবন্দি আজাদ, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

    ব্রাহ্মণপাড়ায় ২০ বছর শিকলবন্দি আজাদ, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    একসময় যিনি ছিলেন চঞ্চল ও হাসিখুশি, সেই আজাদ মিয়ার (৪০) জীবনের প্রায় ২০ বছর কেটেছে চার দেয়ালের মধ্যে পায়ে শিকল পরা অবস্থায়। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মুছা মিয়ার ছোট ছেলে আজাদের জীবনের এই করুণ চিত্র দেখা গেছে সরেজমিনে।

    চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আজাদ মিয়া প্রায় ২০ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে একতলা টিনশেড ভবনের একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরে তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘরে কোনো খাট, বিছানা কিংবা বালিশ নেই। উশকোখুশকো চুলের আজাদের পরনে ছিল অপর্যাপ্ত পোশাক। নাম জানতে চাইলে হাসিমুখে নিজের নাম আজাদ এবং বয়স ৪০ বছর বলে জানান তিনি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদের বয়স যখন প্রায় ২০ বছর, তখন পারিবারিক একটি ঘটনার জেরে বাড়িতে কাজ করতে আসা আবদুল লতিফ নামে এক দিনমজুরের সাথে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ওই দিনমজুর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে সংক্রমণের কারণে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয় বলে জানা যায়। এর প্রায় দুই বছর পর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের ঘটনায় আজাদ তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার পর থেকেই আজাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাকে শিকল দিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে গ্রামের একাধিক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে একজন মানুষকে শিকলবন্দি করে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার যথাযথ চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী লোক এমন কয়েকজন বলেন, ‘আজাদের বাবা সরকারি চাকরি করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যও রয়েছে। আজাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সঠিকভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজাদের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই দু’টি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর পর নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছি। একসময় তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকেরা ভালো হওয়ার আশা কম দেখানোর পর আর নিয়মিত চিকিৎসা করানো হয়নি। তবে সম্প্রতি কুমিল্লায় একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়েছে। তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে আগামী মাসে আবার দেখা করতে বলেছেন।’

    সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মনির হোসেন চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র অবগত হলাম। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাব। বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে।

    ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সামাজিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুন্নী ইসলামের সাথে মুঠোফোনে ও খুদে বার্তার মাধ্যমে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

    দীর্ঘ দুই দশক ধরে একজন মানুষকে শিকলবন্দি করে রাখার এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আজাদের প্রকৃত শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী।

  • আশুগঞ্জে সাপের দংশনে গৃহবধূর মৃত্যু

    আশুগঞ্জে সাপের দংশনে গৃহবধূর মৃত্যু

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বিষাক্ত গোখরো সাপের দংশনে আনোয়ারা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার তারুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আনোয়ারা বেগম তারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ মহসিন মিয়ার স্ত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ৭টার দিকে আনোয়ারা বেগম রান্নার জন্য ঘরের এক কোণে রাখা চালের বস্তা থেকে চাল বের করতে যান। এ সময় বস্তার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা একটি বিষাক্ত গোখরো সাপ তাকে দংশন করে। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে বস্তা সরালে সাপটি বের হয়ে পাশের ঝোপঝাড়ে পালিয়ে যায়।

    পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের স্বামী মহসিন মিয়া জানান, সাপ দংশনের পরপরই তিনি ক্ষতস্থানের ওপরের অংশে কাপড় বেঁধে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: মো: শাহীন ভূঁইয়া বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে আসা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে বিষক্রিয়া অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

    আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, বিষাক্ত সাপের কামড়ে তারুয়া ইউনিয়নের এক গ্রামপুলিশের সহধর্মিণীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই ঘরবাড়ি, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের স্থান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদ সরিষার মাঠ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, সেই দৃশ্য মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এই হলুদের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠোপথ। এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে মুগ্ধ করবে। ফসলের মাঠের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদের রূপে মুগ্ধ হতে পারেন যে কেউ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবিনগরে বাঞ্চারামপুর ও বিজয় নগরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। প্রকৃতিতে ছড়ানো সরিষা ফুলের সুবাস আকৃষ্ট করছে সবাইকে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপজেলাজুড়ে এখন সবার নজর কাড়ছে। সবুজের বুকে হলুদের এমন মনোরম দৃশ্যে চোখ এমনিতেই আটকে যায়। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। আর সেই সরিষার হলুদ ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, চাহিদা, সেইসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    গত বছর উপজেলায় উৎপাদিত সরিষার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চলতি বছর কৃষকের মাঝে আবাদের আগ্রহ বাড়লেও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে কৃষি অফিস বলছে, দিন দিন কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কারণে আবাদি জমি কমছে। তবে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা বিচারে চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় সরিষার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

    একটা সময় উপজেলায় কৃষিজমিতে শুধু ধান চাষ হতো। এই ফসল চাষাবাদের মাঝের সময়ে কৃষিজমি ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, গম, ভুট্টা সূর্যমুখী ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পতিত জমিতেও এ ধরনের শস্য উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, সরিষা চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ব্যয় হয় আড়াই তিন হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষা ক্ষেতকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫-৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তবে বেশি কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি করতে পারে।

    গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এ বছরও একই দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

  • সরাইলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালন

    সরাইলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়েছে।

    ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ১১ টায় সরাইল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনাড়ম্বর পরিবেশে দিবসটি পালন কর হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যোগ দেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমীন আক্তার।

    (বিস্তারিত…)

  • বাঞ্চারামপুরে সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    বাঞ্চারামপুরে সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত দক্ষিণ কান্দাপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৬ষ্ঠ ঐতিহাসিক সুন্নী মহা সম্মেলন’।

    বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দরিয়াদৌলতের বালুর মাঠে এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, “বিগত ১৫-১৬ বছর দেশে ধর্মীয় আলোচনা বা ইসলামী সম্মেলন করার ক্ষেত্রে নানা বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়েছে। আজ আমরা উন্মুক্ত পরিবেশে যে ধর্মীয় আলোচনা শুনতে পারছি, তা সম্ভব হয়েছে আলেম-ওলামাদের চোখের পানি ও ত্যাগের বিনিময়ে।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে আলেমদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে আলেমরা কী খুতবা দেবেন, তা লিখিত আকারে ধরিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু আজ আলেমরা স্বাধীনভাবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কথা বলতে পারছেন।”

    যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলে তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি ও নসিহত পেশ করেন। তিনি বলেন, “ওয়াজ মাহফিল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা মাদকমুক্ত থাকব, মাদককে প্রশ্রয় দেব না, নিজেও খাব না এবং কাউকে বিক্রি করতেও দেব না। যেখানেই মাদক, সেখানেই যুব সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

    সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মহসিন এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এইচ জেড শুকরী সেলিম চিসতি। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবুল কালাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাসির এবং এ,বি,এম আলী কাউসার (জামান)।

  • দেশ কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    দেশ কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে তার পক্ষে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মাহমুদুল হাসানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন স্থানীয় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। নেতাকর্মীরা জানান, জনসম্পৃক্ততা ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস এই আসনে একজন শক্তিশালী প্রার্থী।

    কাজী নাজমুল হোসেন তাপস সাবেক ৪ বারের এমপি আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের ছেলে। কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, আমি আশাবাদী দলের জন্য যেই শ্রম দিয়েছি ইনশাআল্লাহ দল আমাকে বিবেচনা করবে।

    উল্লেখ্য: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আইনজীবী এম এ মান্নানকে।

  • নাসিরনগরে তালাবদ্ধ গুদামে আগুন, মালামাল পুড়ে ছাই

    নাসিরনগরে তালাবদ্ধ গুদামে আগুন, মালামাল পুড়ে ছাই

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের গার্লস স্কুল রোডে অবস্থিত নাজিফা এন্টারপ্রাইজ নামের পারটেক্স স্টার গ্রুপের একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে তালাবদ্ধ ওই গুদামে আগুনের ঘটনা ঘটে।

    এতে গুদামে থাকা সব মালপত্র, আসবাবপত্র ও অটোরিকশাসহ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানান নাজিফা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক। খবর পেয়ে নাসিরনগর ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নাজিফা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক শেখ সাইফুর ইসলাম জানান, আনুমানিক ভোররাত সাড়ে ৪টার সময় প্রতিবেশী এক দোকানি ফোন দিয়ে জানান, প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে। আগুনে ড‍্যানিশ কনডেন্সড মিল্ক, নুডুলস, পারটেক্স টিস্যু, জুসসহ এই গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের টিম লিডার মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

  • দেশ কসবায় বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    দেশ কসবায় বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকার খেটে খাওয়া ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর তত্ত্বাবধানে কসবা উপজেলার বায়েক শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে নারী-পুরুষসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

    মেডিকেল ক্যাম্পে আগত রোগীদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শীতের তীব্রতা বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পরিচালক খালেদ ইমাম, মাদলা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার জাকির হোসেন, খাদলা ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার শফিউর রহমান, সালদা নদী ক্যাম্প কমান্ডার আলী হোসেন, গাজীসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

  • আখাউড়া সীমান্তে বিএসএফের হাতে যুবক আটক

    আখাউড়া সীমান্তে বিএসএফের হাতে যুবক আটক

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় মুন্না (১৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে আটক হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোরে ঘটলেও বিষয়টি রাতেই জানা যায়।

    আটক যুবক মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা গ্রামের অটো চালক মো. শাহআলম মিয়ারের ছেলে।

    আটক মুন্নার পরিবার জানায়, বুধবার ভোর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, বিএসএফ তাকে আটক করেছে। বিষয়টি তারা আগরতলায় থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন।

    ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, আটক যুবক মুন্না একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। বুধবার ভোরে মুন্না অবৈধভাবে আখাউড়ার বাউতলা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতের অন্তত ৩০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করার সময় বিএসএফ তাকে মাদকসহ আটক করে।

    বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগে জানা যায়, তাকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুন্নাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • আশুগঞ্জ-সরাইল মহাসড়ক নির্মাণব্যয় বাড়ল ১৬৩ কোটি টাকা

    আশুগঞ্জ-সরাইল মহাসড়ক নির্মাণব্যয় বাড়ল ১৬৩ কোটি টাকা

    আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল গোলচত্বর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণে নির্মাণকাজের ব্যয় ১৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৭০৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকে জানানো হয়, আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল গোলচত্বর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজের ব্যয় ১৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৭০৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জানা গেছে, আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পটি ৫ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়।

    ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০১ (পার্ট-১)-এর আওতায় নির্মাণকাজের ভেরিয়েশন অর্ডার-১-এর সংশোধিত চুক্তিমূল্য ৭১৭ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার ১৯৭ টাকার প্রস্তাব করে।

    সওজ কর্তৃক গঠিত অভ্যন্তরীণ ভেরিয়েশন/অ্যাডেনডাম প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ভেরিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা ও আইটেমগুলোর পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে গুলি, আহত যুবক

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে গুলি, আহত যুবক

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় সাগর মিয়া নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাগর মিয়া শহরের ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা আবু সাঈদের ছেলে।

    জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকার খ্রিষ্টিয়ান মিশন মেমোরিয়াল হাসপাতালের দাঁড়িয়ে ছিল সাগর। সেসময় মুঠোফোনে কারো একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ মোটরসাইকেলে ইমন ইসলাম দলবল নিয়ে সেখানে পৌঁছে সাগরের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় শহরের মুন্সেফপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কে এবং কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানতে পারিনি। ঘটনা জানার চেষ্টা করছি।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুকুরে গোসলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ছোট দেওয়ানপাড়া ও হাওলাপাড়া গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে হাওলাপাড়া গ্রামের তাইম কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে গোসল করতে যান। এ সময় ছোট দেওয়ানপাড়ার শাকিল ও শিপনসহ কয়েকজন হাওলাপাড়ার তরুণদের মারধর করে। এরপর রাতের আঁধারে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র, বল্লম ও টেঁটা ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

    সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।