ক্যাটাগরি ভোলা

Bhola district

  • লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার লালমোহনে নিখোঁজের পর খাল থেকে মো: ফরহাদ (১৪) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব পাশের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ফরহাদ পাশের চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (ভূঁয়ার হাট এলাকা) মো: বশির উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লালমোহন থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ভোলায় পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার সদর উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাপ্তা ও আলীনগর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশু হলো বাপ্তা ইউনিয়নের ভোটের ঘর এলাকার ব্যবসায়ী শফিকের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ও আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (১)।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দুই শিশুই নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাদের দেখতে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর ও ডোবায় খোঁজ করলে পানিতে শিশু দু’টির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুর ও ডোবার পানিতে শিশু দু’টির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে নজরুল ইসলাম মনজু (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনার বুকে জেগে উঠা বাসন চরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম বদিউজ্জামানের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কৃষক মনজু নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

    পরে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, বজ্রপাতে কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু নিহত হওয়ার ঘটনায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ চর ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করায় কৃষকরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা বজ্রপাতের সময় কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এবং বজ্রপাত সহনশীল তাল গাছে লাগানোর দাবি জানান।

  • উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডে জনৈক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মামুনকে (২৫) রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করেছে মো. শামিম নামে এক যুবক।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে মামুনের পরিববার জানায়, আহত কলেজ ছাত্র মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসেবা দেওয়া হয়।

    আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়মানিকা ১নং ওয়ার্ডের জনৈক এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন পাশের এলাকা কুড়ালিয়া ৪নং ওয়ার্ডের মো. রুহুল আমিন বাড়ইয়ের ছেলে মো. শামিম। ওই স্কুলছাত্রী ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মামুনের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে হওয়ায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন।

    ওই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন পর মামুনকে একা পেয়ে শামীম রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী কায়দায় রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। আহত শিক্ষার্থী মামনুকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসা শেষে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

    মামুন বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এ হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপার আহত কলেজছাত্র মো. মামুন বলেন, পাশের এলাকার শামীম আমাদের বাড়ির ওপর ভাতিজি স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। ওই ঘটনায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে আমি প্রতিবাদ করি। ওই সময় ছেলেটি স্কুলছাত্রীকে আর বিরক্ত করবে না বলে পারিবারিকভাবে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ঘটনার সমাধান হয়। এ ঘটনার জের ধরে মো. শামীম বাড়ইসহ অনেকে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য বুধবার রাতে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।

    আহত মামুন আরও বলেন, আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

    এ ব্যাপার হামলাকারী শামীমের ভাই আব্দুস সালাম জানান, আমি ঢাকায় আছি। আমার ভাইকে আগে মারধর করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক এ ঘটনায় মীমাংসের চেষ্টা করছি।

    এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • তজুমদ্দিনে ক ভবন উদ্বোধন

    তজুমদ্দিনে ক ভবন উদ্বোধন

    ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় শম্ভু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উর্ধমুখি একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। এসময় তিনি বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারও উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান অতিথি হিসেবে ভবনটি উদ্বোধন করেন।

    এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামালউদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সেসিপ’ প্রকল্পের আওতায় একতলা ভবনটির উপর দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের

    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।

    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।


    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।


    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।


    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।


    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • লালমোহনে ভাঙারি গুদামে আগুন ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

    লালমোহনে ভাঙারি গুদামে আগুন ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

    ভোলার লালমোহন উপজেলায় ভাঙারি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে লালমোহন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারকাচারি মিয়ার হাট সড়ক সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে গুদামের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রতন ও দুলাল পরিকল্পিতভাবে তার ভাঙারি গুদামে আগুন দিয়েছে। আগুনে গুদামে থাকা সব মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে করে আমার প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রতন ও দুলাল বলেন, শত্রুতা থাকতেই পারে। তাই বলে কারো দোকানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজ আমরা করিনি। তারা অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

    লালমোহন ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার খোরশেদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে।

  • ভোলা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি জামায়াত

    ভোলা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি জামায়াত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় নির্বাচনী জোট ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন- দৌলতখান) আসন নিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিকে দিলেও সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় নির্বাচনী জোট ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন- দৌলতখান) আসন নিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিকে দিলেও সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী।

    তবে ওই জোটের অন্য শরীক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বহুল আলোচিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের সাথে নির্বাচনী লড়াইয় করবেন একই জোটের (১০ দলীয় জোটের) দুই প্রার্থী। তারা হলে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফজলুল করিম ও এলডিপির মোকফার উদ্দিন চৌধুরী।

  • ভোলায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ভোলায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করছে।

    সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে জিন্নাগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির একদল নেতাকর্মীর সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আহত জামায়াত কর্মীদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা কাজী হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কর্মী জামাল উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা করছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রথমে জামাল উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে আমাদের অন্যান্য কর্মীরা পুলিশকে জানিয়ে আহতকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতাকর্মীরা আবারও হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার ঘটনায় প্রশাসন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মালতিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    উত্তরে ভোলা সদর। দক্ষিণে লালমোহন। মাঝখানে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা। যুগের পর যুগ ধরে যথাযথ চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার বাসিন্দারা। চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক ভবনসহ রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা। রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি নামেমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেলে না যথাযথ চিকিৎসা।

    সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। ফলে ক্ষুব্ধ তারা।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোলা জেলা অফিসের তথ্য মতে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩০টি ও নার্সের পদ রয়েছে ৩৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন টিএসসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের শুন্য পদ রয়েছে ২৫টি ও নার্সের ২৩টি।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন রোগী। অন্যদিকে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩০ শয্যা নিয়ে। গত ১৫ দিনে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ও বহিঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই নারী-শিশু,জ্বর ঠান্ডাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জরুরি বিভাগ, ভেতরে খসে পড়া অবস্থায় রয়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির ভেতরে একপাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষ, অপরপাশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ, সেখানেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বসছেন তারা।

    পুরোনো ভবনটির পেছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে নির্মিত আরেকটি ১৯ শয্যার ভবন। অতিরিক্ত রয়েছে আরও ১১টিসহ মোট ৩০টি বেড। ওপর তলায় চলছে আন্তঃবিভাগ ও নিচ তলায় বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। আন্তঃবিভাগের অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে,নেই অপারেশন থিয়েটার। অন্যদিকে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

    বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে হয়
    আমার স্বামী গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরে। ছেলে-মেয়ে লইয়া (নিয়ে) ৫ জনের সংসার। স্বামী ছাড়া আর কেউ কামাই (আয়) করার নাই। ছোডো পোলাডার ৫ দিন ধইরা জ্বর-ঠান্ডা, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আইন্না (এনে) ভর্তি করাইছি। হাসপাতালে ভর্তির পর একবার ডাক্তার আসছিল, এক নজর দেইখা গেছে, এরমধ্যে আর আসেনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে চান না। আমরা গরিব মানুষ, অন্য কোথাও পোলারে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সামর্থ্য নাই, কি করব? এভাবেই ঢাকা পোস্টের কাছে অভিযোগ করছিলেন চিকিৎসাধীন শিশু মো. ওসামার মা মাইমুনা।

    প্রায় একই অভিযোগ রোগী রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, আমাদের টাকা থাকলে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতাম না, বরিশাল বা ঢাকা যেতাম চিকিৎসার জন্য।

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য ষাটোর্ধ্ব মোতাহার হোসেনকে তার স্বজনরা এনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতরা রোগীর স্বজনদের রোগীর ইসিজি করানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন নেই জানান তারা।

    মোতাহারের স্বজনরা বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি নেই। যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন থাকতো তাহলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো না। সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করাতে পারলে কম টাকা লাগে। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও নেই।

    ক্ষুব্ধ বোরহানউদ্দিনবাসী
    স্থানীয় বাসিন্দা মো.শফিউল্লাহ, মো. বশার ও আমজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক বসবাস করি এ উপজেলায়। বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসা নেবে সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, কথায় কথায় এখান থেকে রোগীদের ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই। ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামেমাত্র চিকিৎসা সেবা চলে।

    নানা অসুবিধায় রোগীর স্বজনরা প্রায় সময়ই ক্ষিপ্ত হয়ে নার্সদের সাথে অসদাচরণ করে বলে আক্ষেপ করে জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্পা বেপারি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে নার্স সংকট, বেড সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ নার্স সংকটের সমাধান করলে আমরা আরও ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারতাম।

    বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে চিকিৎসক-নার্স ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আন্তঃবিভাগ বহিঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। এটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আন্তঃবিভাগের সকল রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি আধুনিক ভবনও প্রয়োজন। এসব সমস্যায় সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

    যা বলছেন ভোলার সিভিল সার্জন
    আগামী ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা.মু.মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুইমাসের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ হবে। নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা শুন্য পদে যোগদান করলে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্স সংকট কেটে যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ তাই সেখানে বেড স্থাপন করা সম্ভব না। ১৯ বেডের ভবনে ৩০ বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক্সরে মেশিন অকেজো, টেকনোলজিস্ট নেই, সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্ট না হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং সেখানাকার বাসিন্দারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে অতিদ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও বাসিন্দারা।