ক্যাটাগরি বরগুনা

Barguna district

  • তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

    সম্প্রতি তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়ইতলীসহ আশেপাশের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, আমেনা আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • তালতলীতে পিস্তল-গুলিসহ আটক ৫

    তালতলীতে পিস্তল-গুলিসহ আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার তালতলীতে দেশীয় তৈরি একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম গাবতলী গ্রামের লিমন সিকদারের ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গাবতলী গ্রামের রিয়াজ কাজী তার বাসা লিমন সিকদারের কাছে ভাড়া দেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ওই বাসায় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি গোপনে এসে অবস্থান নেন। গত তিন দিন ধরে তারা ছোটবগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের চলাফেরা ও কথাবার্তা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে বুধবার দুপুরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা লিমন সিকদারের ভাড়া বাসায় যান।

    এ সময় বাসার ভেতরে থাকা জিহাদ খান পিস্তল উঁচিয়ে স্থানীয়দের ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা আরো লোকজন জড়ো করে ধাওয়া দিয়ে জিহাদ খান (৩৫), হৃদয় মোল্লা (২৫), অনিক মজুমদার (২৫), লিমন সিকদার (২৮) ও জামাল মল্লিককে (২৭) আটক করেন।

    পরে আটক ব্যক্তিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী লিমন সিকদারের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

    আটক জিহাদ খান নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার কাঁঠালতলী গ্রামের আলম খানের ছেলে। হৃদয় মোল্লা বরগুনা সদর উপজেলার আমড়াঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো: মোকলেচ মোল্লার ছেলে ও জামাল মল্লিক একই গ্রামের শাহ আলম মল্লিকের ছেলে। অপরদিকে লিমন সিকদার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন সিকদারের ছেলে ও অনিক মজুমদার একই গ্রামের সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে।

    তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দেশীয় পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

  • ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

    ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বরগুনার এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল প্যাড জাল করে বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন।

    মামলায় বরগুনা সদরের এসি ল্যান্ড শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এতে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তা শাওন মজুমদার ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর ও সংসদ সচিবালয়ের অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এই জাল নথি ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো স্থানে বদলির চেষ্টা চালান।

    নথিপত্রে দেখা যায়, বরগুনা সদর থেকে শাওন মজুমদারকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। জাল করা ওই ডিও চিঠিতে তাঁর সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করার অনুরোধ করা হয়।

    সংসদ সচিবালয় চিঠিটি পরীক্ষা করার পর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সংসদ সচিবালয় থেকে এমন কোনো চিঠি কখনোই ইস্যু করা হয়নি।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া চিঠিটিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, লেখার ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের মূল অফিশিয়াল রেকর্ডের সঙ্গে মেলেনি। প্রতারণামূলকভাবে সরকারের পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়।

    মামলার বাদী এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে একটি বিস্তৃত ও গভীর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিটির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজনদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    দণ্ডবিধির অধীন জালিয়াতি, ভুয়া নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া চিঠিটির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত লেটারহেড প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ জমা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা  স্ত্রী আটক, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

    স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা স্ত্রী আটক, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

    বরগুনায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার মাকে অবরুদ্ধ করে আটকের দাবিতে লাশ নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী ও তার মাকে আটক করে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক সড়কের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আফাং শিকদার (৪৫) কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামের প্রয়াত খবির শিকদারের ছেলে।

    স্বজনদের অভিযোগ, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন আফাং শিকদার। এর মধ্যেই রাবেয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আফাং ও রাবেয়ার মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

    পরে এ ঘটনা কেন্দ্র করে, শনিবার (১৯ জুলাই) রাবেয়া হত্যার উদ্দেশ্যে তার স্বামীকে ইঁদুর মারার বিষ খাইয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন নিহত আফাংয়ের স্বজনরা। ঘটনার পরদিন রোববার (২০ জুলাই) আফাং শিকদারকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) মৃত্যু হয় আফাং শিকদারের। শনিবার (২৫ জুলাই) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে আনা হলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে রাবেয়া ও তার মাকে আটক করা হয়।

    এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

    নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কাজীবাড়ি গ্রামের মো: মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    জানা গেছে, বাবা ভুট্টো কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে ছেলে রিপন কাজী দুই বছর আগে বাবাকে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেন। এর প্রতিশোধ নিতে বাবা ভুট্টো কাজী গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলেকে মারধর করেন। কিন্তু তাতেও প্রতিশোধের নেশা কাটেনি বাবা ভুট্টো কাজীর। এরপর বাবা তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই নিহত ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী ও চাচাত ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো: রিফাত কাজীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দু’জনের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী তার ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী, ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগী রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীকে নিয়ে ছেলে রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাত ভাই রাজিব কাজী বাজারঘোনা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি কালিবাড়ী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বাবা মিজানুর কাজী, তার ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

    এ সময় রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ রিপন কাজী ও তার আরেক চাচাত ভাই রাজিব কাজী সড়কে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা রিপন কাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সাথে থাকা রাজিব কাজী।

    স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাজিব কাজী গুরুতর আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে পালানোর সময় আটক করে আমতলী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের ওই থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান ওসি মো: মনিরুজ্জামান।

    এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় নিহতের মা আমেনা বেগম মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক স্থানে পৌঁছামাত্রই রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ আমরা সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি দৌড়ে খালে পড়লেও রিপন কাজীকে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, আমার বাবা মিজানুর কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। ভাই রিপন কাজী এর প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অপর দিকে আমার চাচাত ভাই ঢাকা বিমানবন্দরে চাকরিরত সজিব কাজীর পরিকল্পনায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাত ভাই রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই।

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা দু’জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দু’জন পটুয়াখালী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোবাইল নিহত রিপন কাজীর বাবা মিজানুর কাজীর। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • আমতলীতে খাল খনন কাজের উদ্ধোধন করলেন এমপি অলি

    আমতলীতে খাল খনন কাজের উদ্ধোধন করলেন এমপি অলি

    ‘অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দু’টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় বরগুনার আমতলীতে দু’টি খান খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) ওই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো: মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো: হাসনাইন পারভেজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মাসুম, কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: জালাল উদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: কবির ফকির প্রমুখ।

    সংসদ সদস্য মাওলানা মো: মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ বলেন, ‘অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দু’টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নেই প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।’

    উল্লেখ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ৪ এপ্রিল কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।

    খাল খননে ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী কাজ করবেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটি এ খাল খননে সহায়তা করবেন।

  • বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনার দুটি আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তারা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন: বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহিব্বুল্যাহ এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা বরগুনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মো. মহিব্বুল্যাহ বলেন, ‘১০ দলীয় জোট হওয়ায় এ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনে অংশ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ কারণে দল আমাকে প্রত্যাহার করে তাকে এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আগামীর ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

    বরগুনা-২ আসনের খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসকে বরগুনা-১ আসন দেয়া হয়েছে। এবং বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এ কারণেই ১০ দলীয় জেটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরগুনা-২ আসন থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’


    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘বরগুনা ১ ও ২ আসন থেকে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। বরগুনার এ দুটি আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর বরগুনা-১ আস থেকে ৪ জন এবং বরগুনা-২ আসন থেকে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’

  • ৫ ব্যবসায়ীর ভাগ্য আগুনে পুড়ে ছাই

    ৫ ব্যবসায়ীর ভাগ্য আগুনে পুড়ে ছাই

    রগুনার আমতলীতে আগুনে পুড়ে গেছে ৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

    বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী বাঁধঘাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

    স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো হলো- মোশারফ হোসেনের ছাত্র বন্ধু লাইব্রেরি, খোকন হাওলাদারও ইদ্রিস মোল্লার মোদিম নোহারি দোকান, আবু তাহেরের ওষুধের দোকান ও যুগল বাবুর দোকান।

    ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায়। রাতে খবর পায় দোকানে আগুন লেগেছে। এক টাকার মালামালও বের করতে পারিনি। সব পুড়ে শেষ। আমি এখন নিঃস্ব।

    গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ৪টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    আমতলী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ওয়ার হাউসম্যান মো. হানিফ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, গভীর রাতে আগুন লাগার বিষয়টি জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

  • এক পাঙাস সাড়ে ২৩ হাজারে বিক্রি

    এক পাঙাস সাড়ে ২৩ হাজারে বিক্রি

    বরগুনার পাথরঘাটায় জেলের বরশিতে ধরা পড়েছে সাড়ে ২৩ কেজি ওজনের একটি পাঙাস মাছ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালমেঘা বাজারের স্লুইসগেট এলাকায় রিয়াজ হোসেন নামের এক জেলের বরশিতে এ মাছটি ধরা পড়ে।

    জেলে রিয়াজ হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেই স্লুইসগেটে বরশি পেতে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ পর হঠাৎ বরশিতে শক্ত টান অনুভব করলে বড় কোনো মাছ আটকে পড়েছে বুঝতে পারেন। বরশি টেনে তুলতেই দেখা যায় বিশালাকৃতির এ পাঙাস মাছটি।

    পরে দুপুর ১২টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য স্থানীয় কালমেঘা বাজারে নিয়ে গেলে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রাজু মিয়া কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকা দরে মোট ২৩ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।

    ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বলেন, পাঙাসটির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ঢাকায় দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি সম্ভব বলে আশা করছি। দুপুরেই মাছটি পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

  • বনের গাছ বিক্রির অভিযোগ

    বনের গাছ বিক্রির অভিযোগ

    বরগুনার তালতলীতে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এক বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তার নাম হায়দার আলী। তিনি উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া বিটের দায়িত্বে রয়েছেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর যোগসাজশে প্রায়ই গাছ কাটা হয়। তিনি যোগদানের পর থেকেই বনাঞ্চলে গাছ কাটার প্রবণতা বেড়েছে। গাছচোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। সম্প্রতি নিশানবাড়িয়া বিটের বনাঞ্চল থেকে বড় আকারের পাঁচটি কেওড়াগাছ কাটা হয়েছে।

    কাটা গাছের শিকড় ও পাশের গাছ দেখে ধারণা করা হচ্ছে প্রতিটির দাম ২০ হাজার টাকা করে হবে। সে হিসাবে এক লাখ টাকার গাছ কাটা হয়েছে। বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই সুযোগবুঝে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে বনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই গাছ কাটা হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

    স্থানীয়রা জানায়, হায়দার আলীর বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রতি বছর বনের চরের জমি স্থানীয় জেলেদের কাছে ইজারা দিয়ে হাজার হাজার টাকা লুফে নেন। এমনকি আটক করা জেলের ট্রলার বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কার্যালয়ে যেতে বলেন। পরে কার্যালয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন। তিনি অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন।

    উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। গাছ কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তালতলীর ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) সেবক মণ্ডল বলেন, বিট কর্মকর্তা হায়দার আলীর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি। রেঞ্জ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।