ব্যাংক ও বীমা

  • দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, ডুবছে দুই প্রাইভেট ব্যাংক

    দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, ডুবছে দুই প্রাইভেট ব্যাংক

    পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেঘনা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের হাতে। আর মিডল্যান্ড ব্যাংক ছিল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর মেঘনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী। মিডল্যান্ড ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসীন হন একই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর থেকে ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ আরো বেড়েছে।

    জানা যায়, ২০১৩ সালে চালুর সময় উজমা চৌধুরী ছিলেন মেঘনা ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা। ব্যাংকটি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই ব্যাংকটি উজমা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে।

    অন্যদিকে আহসান খান চৌধুরীও ২০১৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় উদ্যোক্তা ছিলেন । মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ তার স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন উজমা চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬০ শতাংশ।

    এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীকে কল করা হলে তিনি আমার দেশ-এর প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন। পরে কল দিলেও আর রিসিভ করেননি। ব্যাংকটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

    এদিকে আহসান খান চৌধুরী মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬৭ শতাংশ।

    ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও এমডি ইমতিয়াজ ইউ আহমেদকে ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

    ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, একই পরিবারের দুই ভাই-বোন দেশের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো সব সময়ই খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। এর আগেও এসব চিত্র দেখা গেছে।

  • এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

    এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

    গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেশিরভাগই সাইফুল আলমের (এস আলম) জন্মস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া

    কর্মীদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি ৩,৯৯১

    জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

    তবে ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানায় পরিবর্তনের পর ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে ৮,৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে ওই সময় ব্যাংকটি তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’ বলে যুক্ত করা হয়।

    তবে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সাধারণত নিয়োগ বিধিমালায় এ ধরনের ধারা রাখা হয়, যাতে জরুরি মুহূর্তে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে লেটারাল এন্ট্রির এক-দুটি পদ বা কারিগরি পদে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু ওই ধারা নতুন করে সংযোজন করে ব্যাংকের প্রবেশনারি এন্ট্রি পদে ছয় হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, যা খুবই অস্বাভাবিক।

    নতুন যুক্ত করা ওই ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কথা বলা হলেও’ ব্যাংকটির ওই সময়কার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কখনো বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল না। বরং ওই সময় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই যে পরিমাণ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

    নিয়োগের অর্ধেকই পটিয়ার

    এস আলমের নিয়ন্ত্রণের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ছিল ৮,০৯৯ জন। এর মধ্যে ৫,১৪৮ জনই এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার। মূলত নিয়োগের বিজ্ঞাপন না থাকার কারণেই চট্টগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই জেলা থেকে উচ্চহারে নিয়োগের কারণে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেধাবী ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

    এস আলমের বাসায় সিভি সংগ্রহ

    বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়। জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসে বিভিন্ন ধরনের বক্স রাখা হতো। ওই সব বক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’, ‘ডিপ্লোমা’ ইত্যাদি লেখা থাকত। পরে পছন্দের প্রার্থীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। পরে প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে।

    প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগে নিয়ম লঙ্ঘন

    ইসলামী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে শুধু ২৪তম ব্যাচেই কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ প্রার্থীর তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে এসব প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। ওই পরীক্ষায় ৭৬৩ জন অংশ নেন। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু এই নম্বর পান মাত্র ৩৬ জন। পরে পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এতে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন। এর বাইরে লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এসব প্রার্থীর সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন চাকরিতে যোগ দেন।

    এছাড়া নিয়ম ভেঙে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২,২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারকে (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও। এসব পদে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যথাক্রমে ২,৮২৮ জন ও ৫০১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এছাড়া লেটারাল এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের লক্ষ্য করা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৬৪ জনকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের সবাই সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু ভাইভা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানান। দুই প্রার্থী কোনো ভাইভাও দেননি বলে জানানো হয়। তাদের কেউ কেউ সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশে (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি) এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে সিভি জমা দেন। সেখানে ভাইভা দেন এবং যোগদানপত্রও সংগ্রহ করেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

    ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতিতেও অনিয়ম

    ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যোগদানের আগে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত থাকলেও মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি ডিএমডি হন।

    এছাড়া আরেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন ২০ বছরের বিপরীতে মাত্র ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি হন। একই সঙ্গে ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা।

    যা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর নীতিগত পরিবর্তনগুলো শুধু একটি গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক বাড়তি সুবিধা দিতে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগের জন্য লিখিত ও ভাইভা নেওয়া এবং যোগ্যতার নম্বর হিসেবে ৫০ শতাংশ পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

    জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি জড়িত নয়। এটি ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    ৪৬৮৫ জনকে চাকরিচ্যুত

    ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনায় চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। নিরীক্ষায় এস আলমের সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের চিত্র উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

    তবে এই পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

    এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করে।

    ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট ৫,৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল আছেন।

    অন্যদিকে ৪,৯৭২ জন ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এদের মধ্যে কিছু কর্মী পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। পাশাপাশি তারা কর্মবিরতি পালন, সড়কে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ আনা হয়।

    ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে। বোর্ডের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ৪,৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘তাদের নিয়োগের বৈধতা-অবৈধতার বিষয় বিবেচনা করে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। সে সময় যে প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে তাদের পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাপার এবং প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা

    রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সচেতন গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে যায়।

    পরে তারা আবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফিরে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের সড়কে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত নারী-পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাতা মাথায় দিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। চাকরি পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

    কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুতরা।

    সচেতন গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

    চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের এক দফা দাবি তারা চাকরি পুনর্বহালের চাই।

    ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবি, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপ কোনো পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে অনেকে মূল সনদ ছাড়াই চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেশির ভাগ কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেননি। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা চাকরি হারান।

  • সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে গিয়ে একটি ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের জন্য আর আটকে থাকতে হবে না বিনিয়োগকারীকে। ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে। এ জন্য জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালু হয়েছে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে আজ মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব এখন তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাস্তবায়িত স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বলছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর এন্ট্রির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি হ্রাস পাবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজও কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।

    ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহক সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮,০০০ নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব যাচাই কার্যক্রম।

    পূর্বে অনলাইন সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই হুবহু সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়া হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপ বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

    নতুন ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে। প্রথমে দেখা হবে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়বে।

    এভিএস দুই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় ব্যাংক হিসাব যাচাই হবে। আবার কেনার পর বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একইভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা হবে।

    অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনকে আরো নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেনে ভুল কমবে এবং গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ সঠিক সময়ে দ্রুত ও নিরাপদভাবে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।

  • ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা সামান্য বেড়েছে। ডলারের সরবরাহ ঠিক রাখতে ১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সোমবার ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সায়।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

    জানা গেছে, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এবং চাপ কমে আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডলার কেনা শুরু করে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি বিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে জ্বালানি তেলজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে ওই মাসে রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে।

    আমদানি ব্যয় বাড়ার বিপরীতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে বিক্রি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আহত ৫৫

    ইসলামী ব্যাংকের সামনে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই গ্রুপের সদস্যরা আহত হন।

    গ্রাহক ফোরামের ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি নুর উন নবী মানিক বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।’

    তিনি জানান, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

    অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের ২৫ জনের ওপর হামলার দাবি করেন তাদের একজন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।’

  • পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

    পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

    পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছাড়াই চলছে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডির পদ শূন্য তিন মাসের বেশি সময় ধরে। অথচ আইন অনুযায়ী এই পদ শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে পূরণ করার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে এতদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে ব্যাংকটি। দুপক্ষের দ্বন্দ্বে এসব নিয়োগ আটকে আছে বলে জানা গেছে। এতে করে ব্যাংকটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।

    এদিকে, এস আলমের সময় করা নিয়মের কারণে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডিসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও আটকে আছে।

    বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানতে চাইলে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বলেন, ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ নেই। আমি পর্ষদের একটা অংশ মাত্র। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদের প্রয়োজন হয়।

    ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন এভাবে চললে ব্যাংকের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা আরো বাড়তে পারে। তাই দেশের চলমান সংকটে ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে পদত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এরপর জুনের শুরু থেকেই ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। গ্রাহকদের বিক্ষোভ, আন্দোলন ও আমানত তুলে নেওয়ার কারণে ব্যাংকটি তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়।

    সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুন ব্যাংকটির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে দেয়।

    একই দিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে। এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে ব্যাংকটির যাবতীয় সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    নিয়ম ভঙ্গ তবু এমডি নিয়োগ দিচ্ছে না

    এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত এমডি পদও প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে শূন্য। এর আগে ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান দায়িত্বে ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল তৎকালীন বোর্ড তাকে ছুটিতে পাঠায়। ছুটি শেষ হলেও তিনি ব্যাংকে যোগদান করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন।

    এরপর আর নতুন করে নিয়মিত এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অথচ ব্যাংক কোম্পানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, এমডির পদ দীর্ঘসময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতেও বর্তমান পর্ষদে দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকে এমডি পদ শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এমডির সার্বিক দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ। তবে এমডি পদে তিন মাসের বেশি কোনোভাবেই শূন্য রাখা যাবে না। তিন মাসের বেশি শূন্য থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে।

    শীর্ষ কর্মকর্তাদের মেয়াদ শেষ, হচ্ছে না নবায়ন

    সরকারি চাকরিবিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর পর্যন্ত। আর ৬৫ বছর পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকতে পারে।

    তবে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান করা হয়। এতে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

    বর্তমানে ওই ব্যবস্থা বহাল থাকায় একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়া কর্মকর্তারা পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন করলেও তাদের বিষয়ে বর্তমানে পর্ষদের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদারের চাকরির মেয়াদ গত ১১ সেপ্টেম্বর, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুর রহমানের চাকরির মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের বিষয়ে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আটজনকে পুনর্নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকটি। যদিও এসব পর্যায়ে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন নিলেই হয়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে তা পাঠানো হয়েছে।ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেসব পরিকল্পনা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বাস্তবায়ন শুরু করে। এতে ব্যাংকটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

    তবে নতুন পর্ষদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাংকে আবারও অস্থিরতা শুরু হলে ব্যাপক আকারে আমানত উত্তোলন হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নিয়ে ব্যাংক টিকে থাকার চেষ্টা করে। বর্তমানে উত্তোলন থামলেও নতুন করে ব্যাংকের ব্যবসা-বাণিজ্য অগ্রগতি নেই বললেই চলে। শুধু আমানত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটি তো একটি ব্যাংকের মূল কাজ হতে পারে না।

    অন্যদিকে, যারা ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে তাদের মেয়াদ শেষ হলেও বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে ব্যাংকটি নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

    করপোরেট গ্রাহকদের সিদ্ধান্তেও স্থবিরতা

    ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না।

    কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, আমার চারটি গার্মেন্টের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

    ব্যাংকটির করপোরেট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বড় করপোরেট গ্রাহকদের ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়মিত প্রক্রিয়ায় এগোলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। ঋণ নবায়ন, সীমা বাড়ানো, নতুন ঋণ সুবিধা, বড় অঙ্কের আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের অস্থিরতার খবর নানা মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে যাচ্ছে। এতে করে এলসি খোলায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও এমডি থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু এখন সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

    উদ্যোগ নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    ইসলামী ব্যাংকের আগের পর্ষদ তিন মাস আগে ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন বোর্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যাংকটির বোর্ড দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

    পর্ষদ ও এমডির নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, তিন মাসের বেশি এমডি পদ শূন্য থাকার নিয়ম নেই। শূন্য হলে প্রশাসক বসানোর নিয়ম। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌক্তিক কারণ থাকলে সেটি বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এখন যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের লোক রয়েছে, তাই প্রশাসক দেওয়া ঠিক হবে না।

    তিনি আরো বলেন, পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়ার জন্য যোগ্য লোক খোঁজ করা হচ্ছে। সেটি পেলেই পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দেওয়া হবে।

    আর্থিক সূচকও নিম্নমুখী

    অন্যদিকে, নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্যাংকের আমানতে। আমানত ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে আসে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকায়।

    অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের হিসাবেও। প্রথম ছয় মাসে পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায়। ব্যাংকের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে আছে খেলাপি ঋণ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায়। এটি ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫২ শতাংশ এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন। যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই নিয়ে মোট ৯৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।

    আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ও দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। কিন্তু নয় বছরেও রিজার্ভ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

  • খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আলটিমেটাম

    খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আলটিমেটাম

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণের উচ্চঝুঁকিতে থাকা ২৯ ব্যাংকের জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আর যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেগুলোকে ১০ শতাংশের নিচে নামানোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (এএমসি) কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    গত ১২ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে ২৯ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কারণ, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ, পুনঃতফসিল করা ঋণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে ।

    গভর্নর আরো নির্দেশনা দিয়েছেন, ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে টক্সিক (খারাপ) অ্যাসেট রেখে অনাদায়ী সুদকে আয় হিসাবে দেখিয়ে কোনো লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না। বারবার পুনঃতফসিল করা ঋণ এক্সিট সুবিধা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) অথবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করতে হবে। দীর্ঘদিন বিরূপ মানে থাকা শ্রেণিকৃত ঋণ অবলোপনের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান সার্কুলারের আওতায় থেকেই খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এজন্য কোনো ওয়ান-টু-ওয়ান সার্কুলার দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে মূলধন বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকের

    যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গভর্নর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

    জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবর রহমান বলেন, গভর্নর খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও নমনীয়তা (ফ্লেক্সিবিলিটি) দিয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনাদায়ী ঋণ দ্রুত আদায় এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিচ্ছন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, শুধু বড় ঋণ নয়; কৃষি, পল্লী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছেও পৌঁছাতে হবে। তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ঋণ পরিশোধে উৎসাহিত করতে হবে। এ বিষয়ে গভর্নর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদকেও এ উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে এমডিরা আন্তরিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ সহযোগিতা করে না। তাই বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য গভর্নরের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    যে ২৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি

    গত মার্চ শেষে দেশের ২৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭৩.৯৪ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৯৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৮৪ দশমিক ৪৮শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ৪৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ, সোনালী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৮৫শতাংশ এবং পদ্মা ব্যাংকের ৯০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

    এছাড়া এসবিএসি ব্যাংকের ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ, বেসিক ব্যাংকের ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের ৩৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংকের ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ

    , এবি ব্যাংকের ৫৪ শতাংশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৬৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণ কমানো এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এ কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মোট খেলাপি ঋণ

    ব্যাংকিং খাতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের হার। গত বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

    দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ

    চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। তুলনামূলকভাবে ভারতের খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ভুটানে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

    কেন বাংলাদেশ শীর্ষে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছিল, যা এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণের নিয়ম কঠোর হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে। নবায়ন করা অনেক ঋণ আদায় হচ্ছে না। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বহু ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে এবং সামনের দিনগুলোয় এটি আরো বাড়তে পারে।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার গঠনের সময় দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছেন, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে।

    জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও বহুল সমালোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ঋণচিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ। একই ভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে। এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সরকারি খাতের অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের আইএফআইসি, ইউসিবি, এনআরবিসি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে

  • ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহকসেবা মাস’ শুরু

    ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহকসেবা মাস’ শুরু

    ‘কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ের অগ্রযাত্রায় গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ‘গ্রাহকসেবা মাস’ শুরু করেছে। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মজনুজ্জামান।

    অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যাংকের সব জোনপ্রধান, শাখাপ্রধান ও উপশাখা ইনচার্জ ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রেমিট্যান্স গ্রাহকেরাও নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহণ করছেন। যেসব গ্রাহক হিসাব বন্ধ করে অর্থ উত্তোলন করেছিলেন, তাদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে এসেছেন। এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবর্তন আমাদের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

    তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

  • ডলার বেচে সোনা কিনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

    ডলার বেচে সোনা কিনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

    আগামী এক দশকে ডলারভিত্তিক রিজার্ভ কমানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেখা যাচ্ছে, ডলার রিজার্ভ বাড়ানোর চেয়ে কমানোর বিষয়ে আগ্রহী বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারা এখন সোনাসহ অন্যান্য মুদ্রায় রিজার্ভ বাড়াতে চায়।

    এমন প্রবণতা এই প্রথম দেখা গেল বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অফিশিয়াল মনিটারি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ফোরাম (ওএমএফআইএফ)।

    এমন সময় এই জরিপের ফল প্রকাশিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের নানা পথ খুঁজছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছেই।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এই জরিপ চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে পরিচালিত হয়। এতে বিশ্বের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশ নেয়। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম ডলার রিজার্ভ কমানোর প্রবণতা বাড়ানোর প্রবণতা ছাড়িয়ে গেল।

    বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, এটি তার আরেকটি বড় ইঙ্গিত। এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে ডলারের ব্যবহার কমে যাওয়া। ফলে মুদ্রাটির চাহিদা ও মূল্য—উভয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

    মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজের তথ্যানুসারে, গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের হিস্যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    ওএমএফআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ডলারে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের চেয়ে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই বেশি প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকা, তা–ও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে এখনো ডলারের আধিপত্য আছে, নিকট ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। গত ৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৮ শতাংশই ডলারে রয়েছে।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ডলারনির্ভরতা কমিয়ে ইউরো ও চীনের রেনমিনবির দিকে ঝুঁকছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, রেনমিনবি রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক।

    অন্যদিকে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউরোর ব্যবহার আগের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত বছর যেখানে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ, এবার তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদে ইউরো রিজার্ভ বাড়াতে চায় ২৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক, গত বছর যা ছিল ২২ শতাংশ।

    ডয়েচে বুন্দেস ব্যাংকের বাজারবিষয়ক মহাপরিচালক কারস্টেন স্ট্রোবর্ন প্রতিবেদনে বলেছেন, ২০২৫ সালে ইউরোভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া গ্রিন বন্ডের (এমন একধরনের ঋণপত্র, যার মাধ্যমে তোলা অর্থ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।) প্রধান মুদ্রা এখন ইউরো।

    এ ছাড়া বিকল্প মুদ্রা হিসেবে সিঙ্গাপুরি ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার ওন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রান্ডের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

    সোনার চাহিদা বাড়ছে

    ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সোনার চাহিদা বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা সোনায় বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, যদিও গত ১ বছরে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    বাস্তবতা হলো বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে এখন সোনার হিস্যা সবচেয়ে বেশি। টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে সোনা কেনা এবং গত দুই বছরে দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার ফলে রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডকে (ট্রেজারি) ছাড়িয়ে গেছে সোনা।

    ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশ ছিল সোনা, ১ বছর আগে ছিল যা ছিল ২০ শতাংশ। এই সময়ে রিজার্ভ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারির হিস্যা ২৫ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশে স্থির আছে।

    ওএমএফআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনার কৌশলের মূল ভূমিকায় এখন সোনা।

    জরিপে ৫১ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণ হিসেবে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় যা ১১ শতাংশ বেশি।

  • আজ বন্ধ থাকবে ব্যাংকের লেনদেন

    আজ বন্ধ থাকবে ব্যাংকের লেনদেন

    ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফশিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধু প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হবে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জুলাই এবং ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। এ দুই দিনে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ রেখে ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

  • ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়ন পদ্ধতি ক্যামেলস রেটিং ব্যবস্থা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকি ও ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন করতে কম্পোজিট রিস্ক রেটিং (সিআরআর) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিস্ক বেসড সুপারভিশন (আরবিএস) বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোর অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতদিন ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা, আয়, তারল্য এবং বাজার ঝুঁকির সংবেদনশীলতা—এ ছয়টি সূচকে একটি ব্যাংকের অতীত ও বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ক্যামেলস রেটিং করা হতো। ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড ছিল এই পদ্ধতি।

    ক্যামেলস রেটিংয়ে ব্যাংকগুলোকে এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত স্কোর দেওয়া হতো। এর মধ্যে এক মানে সবচেয়ে ভালো এবং পাঁচ মানে সবচেয়ে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক। এই রেটিং পুরোপুরি গোপন রাখা হতো। কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছেই তা জানানো হতো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যামেলস পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল—এটি মূলত ব্যাকওয়ার্ড লুকিং বা অতীতভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা। অর্থাৎ, কোনো ব্যাংক গত তিন বা ছয় মাসে কী ধরনের ব্যবসা করেছে কিংবা তাদের আর্থিক প্রতিবেদনের অবস্থা কেমন ছিল, তার ভিত্তিতেই রেটিং নির্ধারণ করা হতো। ফলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক সংকটে পড়ার ঝুঁকি থাকলেও তা এই রেটিংয়ে আগেভাগে ধরা পড়ত না।

    এর পরিবর্তে চালু হওয়া কম্পোজিট রিস্ক রেটিং (সিআরআর) হবে ফরওয়ার্ড লুকিং বা ভবিষ্যৎমুখী মূল্যায়ন পদ্ধতি। এটি শুধু ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থাই মূল্যায়ন করবে না, বরং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং সেই ঝুঁকি মোকাবিলার মতো আর্থিক সক্ষমতা ব্যাংকটির আছে কি না, তাও আগাম মূল্যায়ন করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ক্যামেলস ও অন্যান্য সমান্তরাল রেটিং ব্যবস্থা চালু থাকলে কাজের পুনরাবৃত্তি হয়, তদারকি কর্মকর্তাদের সময় নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দুই পদ্ধতির ফলাফলে অমিল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পুরো তদারকি প্রক্রিয়াকে আরো সমন্বিত ও কার্যকর করতে ক্যামেলস রেটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন তদারকি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেও বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়েছে। তদারকি ও অভিযোগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করে ১৭টি নতুন ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ গঠন করা হয়েছে এবং আগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ নথিতে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেমন—ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক, পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংক এবং ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ক্যামেলস পদ্ধতির পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী ঝুঁকিভিত্তিক রেটিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সিআরআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যাংকে বড় ধরনের সংকট তৈরির আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আগাম সতর্কবার্তা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিগন্যাল হিসেবে কাজ করবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের তদারকি আরো কার্যকর হবে এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    নতুন এই কাঠামোকে দূরদর্শী বলে মনে হলেও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, এর সাফল্য কাঠামোর ডিজাইনের চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করার সদিচ্ছার ওপর বেশি নির্ভর করবে।

    ক্যামেলস রেটিং মূলত তার নির্ভরযোগ্যতা হারিয়েছিল। কারণ অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ লুকিয়ে, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) না রেখে এবং মূলধন ঘাটতি বজায় রেখেও তদারকি সূচকগুলোয় কৃত্রিমভাবে ভালো ফলাফল দেখাত। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যামেলস রেটিং মূল্যায়ন করত এবং তারা এসব কারসাজির বিষয় জেনেও চুপ ছিল। পাশাপাশি এসব কারসাজির বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই বারবার ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন ও মূলধন সংরক্ষণের শর্ত শিথিল করে দিয়েছে। নামমাত্র ডাউন পেমেন্টে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দিয়ে এবং পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পরও বড় কোনো জরিমানা না করে নীতিগত ছাড় দিয়ে আসছিল। এসব ছাড়ের কারণে আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোও তাদের প্রকৃত অবস্থার চেয়ে নিজেদের অনেক বেশি ভালো হিসেবে জাহির করার সুযোগ পেত, যা তদারকি রেটিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলত।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই দুর্বলতাগুলো আরো স্পষ্টভাবে সামনে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যেই দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৬০ শতাংশের সমান।

  • বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

    বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে।

    অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে।

    বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেক ইউরিয়া। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে।

    প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এ অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।

    বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই সহায়তা দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

  • ব্যক্তি ঋণের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যক্তি ঋণের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    ব্যক্তিগত ঋণ ও দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য কেনার ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ ধরনের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৮ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এর আগে এ ঋণের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

    বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘কনজিউমার ডিউরেবলস’ বা দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ঋণসহ পার্সোনাল লোনের বর্ধিত সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কনজিউমার ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশনের সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৮ বছরের বেশি হবে না।

    একই সঙ্গে দেশীয় মোটরযান শিল্পের বিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে অটো লোনের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত অটো লোন নিতে পারবেন। তবে ইলেকট্রিক, হাইব্রিড ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

    এ ছাড়া এসব পরিবেশবান্ধব ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণ-ইকুইটি অনুপাতও শিথিল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারবে। অন্যদিকে সাধারণ অটো লোনের ক্ষেত্রে আগের মতোই সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।

    সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, কনজিউমার ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় ঋণ প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হতে পারবে না—এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশনাও বাতিল করা হয়েছে।

  • ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

    ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবলমাত্র একটি গতানুগতিক ধারার ব্যাংক নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক যেই অবদান রেখেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পতিত এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর জোনের বাছাইকৃত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ আরো বলেন, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য আদর্শিক লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকার দল ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী সেই ভূমিকা রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্যামপুর জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক ও কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

    আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন, কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন, যাত্রাবাড়ী থানা আমির মাওলানা সাদিক বিল্লাহ প্রমুখ।

  • ব্যাংক খাতে  খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

    ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

    মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে সব সময়ই পুরো খাতে মুনাফা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। এর মানে আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেয়া হয়েছে, সে তুলনায় ঋণ থেকে আয়ে পরিমাণ কম হয়েছে। আগের বছর ২৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার নিট সুদ আয় হয়েছিল। অবশ্য সুদ বহির্ভূত আয় ২০২৪ সালের ৬৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছর বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ৪৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের কর-পূর্ববর্তী লোকসান ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। আর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের আমানত জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই জমা পড়ে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।
    এতে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ ৪১% বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২,৭৬৩ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁ বাংলাদেশি ১৫২ টাকার বেশি।

    একইসঙ্গে, এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
    এর আগে, ২০২১ সালে রেকর্ড ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। যেটি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের প্রতি ফ্রাঁ বাংলাদেশের ৯৫ টাকার সমান ছিল। সেই হিসেবে সেখানকার ব্যাংকে ওই বছর বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা; যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ। কিন্তু গত বছর আমানতের উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর রেকর্ডের ঠিক নিচে অবস্থান করছে।

    এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালের ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
    তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।

    অর্থনীতিবিদরা জানান, আশা করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার কমবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই হিসাব প্রমাণ করে অর্থ পাচার কমেনি। এটি অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনছে না। এখন দেখার বিষয় বর্তমান সরকার অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেয়। তা না হলে অর্থ পাচার থামবে না।

  • উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

    উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

    উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ার এবং ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে অনুমোদন করা হয়।

    সম্প্রতি উত্তরা ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই লভ্যাংশ অনুমোদিত হয়। বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সভায় লভ্যাংশের পাশাপাশি ব্যাংকের লাভ–ক্ষতির হিসাবসহ ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উত্তরা ব্যাংক এসব তথ্য জানিয়েছে।

    ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। এতে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ইফতেখারুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মো. আবুল হাশেমসহ পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    উত্তরা ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি এই ব্যাংকের শেয়ারের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত ছিল, অর্থাৎ বাড়েওনি, কমেওনি।

    ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তরা ব্যাংকের ২৫০টি পরিপূর্ণ অনলাইন সুবিধাসংবলিত শাখা এবং ৫১টি উপশাখা রয়েছে।

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ বা আমানত ২০২৫ সালের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’-এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সিএইচএফ), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি ইতিহাসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ আমানত ছিল।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির মূল কারণ বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমা অর্থের বড় উল্লম্ফন। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমার পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ ফ্রাঁ, ২০২৫ সাল শেষে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ২৭ লাখ ফ্রাঁ। অর্থাৎ মোট জমার ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক।

    অন্যদিকে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বা একক গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২৪ সালের ১ কোটি ২৬ লাখ ফ্রাঁর বিপরীতে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ফ্রাঁ। তবে সুইস ব্যাংকের এই বার্ষিক রিপোর্টে শুধু বৈধ ও অফিশিয়াল হিসাবের তথ্যই আসে, ফলে বহুল আলোচিত কালো টাকা বা পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ কত, তা এই হিসাব থেকে জানার সুযোগ নেই।

    কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধে ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) বা স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় প্রথা চালু করেছে সুইজারল্যান্ড। এর আওতায় গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) বিশ্বের ১০১টি দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক অ্যাকাউন্টের তথ্য বিনিময় করেছে।

    তবে ওইসিডি গ্লোবাল ফোরাম অন ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন ফর ট্যাক্স পারপাসেস ২০২৬-এর মে মাসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এই অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) চুক্তিতে সই করেনি।

    দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

    সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ভারতের, প্রায় ৩২০ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তবে গত বছরের তুলনায় তাদের জমার পরিমাণ ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের জমার পরিমাণ কমলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের জমার পরিমাণ ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের।

  • জাহাজের ভাড়া পরিশোধে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    জাহাজের ভাড়া পরিশোধে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশীয় শিপিং খাতের সক্ষমতা বাড়াতে লিজ নেওয়া জাহাজের ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত শিপিং কোম্পানির লিজ নেওয়া জাহাজের ভাড়া বাবদ বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, এত দিন এ সুবিধা শুধু স্থানীয় কোম্পানির লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এখন একই ব্যবস্থা সমুদ্রগামী জাহাজের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লিজ ভাড়ার অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে—লিজ নেওয়া জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং জাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দেশে আনতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো এবং দেশের শিপিং খাতের সক্ষমতা জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য।

    খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য জাহাজ লিজ নেওয়া সহজ হবে। এতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • ব্যাংক খাতে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান

    ব্যাংক খাতে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    ব্যাংক খাতের আর্থিক দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে প্রধান সব সূচকের ওপর। কয়েকটি ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও তা যেন ধোপে টেকেনি। প্রথমবারের মতো পুরো খাতে বড় লোকসান হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে সব সময়ই পুরো খাতে মুনাফা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫-এ এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। এর মানে আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় ঋণ থেকে আয়ে পরিমাণ কম হয়েছে। আগের বছর ২৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার নিট সুদ আয় হয়েছিল। অবশ্য সুদবহির্ভূত আয় ২০২৪ সালের ৬৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছর বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ৪৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের কর-পূর্ববর্তী লোকসান ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। আর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

    আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে ব্যাংকভিত্তিক লাভ-লোকসানের তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সরকার প্রকাশিত ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও তথ্যাবলি’ বইয়ে প্রতিটি ব্যাংকের সব সূচকের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সে অনুসারে নিট লোকসানের শীর্ষে থাকা ১০ ব্যাংক এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার লোকসান করেছে। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো।

    গত বছর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিট ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ৩১ হাজার কোটি, এক্সিম ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯০৯ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। লোকসানে এর পরের অবস্থানে থাকা এবি ব্যাংকের ৩ হাজার ৭০৬ কোটি, আইএফআইসির ২ হাজার ৫৬১ কোটি, ন্যাশনালের ২ হাজার ৪৩০ কোটি, প্রিমিয়ারের ৯৯৩ কোটি এবং পদ্মা ব্যাংকের ৯৩০ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে।

    চরম দুরবস্থার মধ্যেও কয়েকটি ব্যাংক রেকর্ড মুনাফা করেছে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি গত বছর এক হাজার ৫৮১ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে। এ ছাড়া সিটি ব্যাংক এক হাজার ৩০৬ কোটি, পূবালী ব্যাংক এক হাজার ৭৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ৯১০ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংক ৮৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছর ১৬টি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পেরেছিল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা কাটাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে এসব ঋণ বিতরণ হলে ঋণ আদায় বেড়ে দ্রুত ব্যাংক খাতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা উপায়ে ঋণ নিয়মিত দেখানো হতো। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে খেলাপি ঋণের আসল চিত্র সামনে আনতে শুরু করায় পুরো খাতের চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল। বিশেষ পুনঃতপশিলের কারণে শেষ তিন মাসে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমে গত ডিসেম্বরে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নামে। মোট ঋণের যা ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। মূলত লুকানো খেলাপি ঋণ সামনে আনাসহ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরো খাতের খারাপ অবস্থা সামনে এসেছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পুনঃতপশিল করা হয়। এর পরও ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। মোট ঋণের যা ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। ব্যাংকগুলোকে যেখানে মোট ঝুঁকিভিত্তিক ঋণের সাড়ে ১২ শতাংশ মূলধন রাখার কথা। গত বছর শেষে তা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    চরম দুরবস্থায় পড়া ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণার নিয়ম কঠোর করেছে। গত বছরের নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার মূলধন কিংবা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক যত মুনাফাই করুক, লভ্যাংশ দিতে দেওয়া হয়নি। এই নিয়মে এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এবার পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে ওই ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হলেন আশিকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হলেন আশিকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ব্যাংকটির নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

    রোববার (১৪ জুন) তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

    আশিকুর রহমান ১৯৯৯ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং সুপারভিশন, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট (সিবিএসপি), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও এসএমই বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এলায়েন্স ফর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসনের (এএফআই) জেন্ডার ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স কমিটিতে ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে ‘ভাইস চেয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত দক্ষতার অংশ হিসেবে তিনি ‘দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ থেকে ডিএআইবিবি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে কম্পিউটার এপ্লিকেশন্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী গ্রামে তার জন্ম।

  • ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহ-ভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের প্রচেষ্টা চলছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে একটি সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    এ সময় তিনি গ্রাহকদের কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে, সমস্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

    ‘পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    গত রোববার (১৪ জুন) ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর বিধান অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারী এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরো ঘোষণা করেছে যে, ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বোর্ডের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি পৃথক পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ অনুমোদন করেছে যা প্রতিষ্ঠানটিকে চলমান তারল্য সঙ্কট মোকাবেলা করতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

  • আরো ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    আরো ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরো ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। তবে পাওয়া অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হুসাইন।

    সোমবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি।

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলেও জানান আলতাফ হুসাইন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আতঙ্কে যারা আমানত তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।

    গ্রাহকদের আস্থা ফেরার ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত এমডি। তিনি জানান, দেশের একটি বড় শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজড) সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।

    আলতাফ হুসাইন বলেন, এই প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। নতুন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থাপনা কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হুসাইন বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সাবেক চেয়ারম্যান একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। সাবেক চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ লক্ষ্যেই ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করে যাচ্ছে।

    এদিকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

    একই সঙ্গে তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে।

    ইসলামী ব্যাংকের নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগিরই আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্য বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

    আমানতকারীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যান। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন।

  • গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

    গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। রোববার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংকের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের হালনাগাদ অবস্থা গভর্নরকে অবহিত করতেই এই সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছে।

    বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব)। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যাংকের দুজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)।

    তিনি জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদল ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি গভর্নরকে অবহিত করবেন।

  • সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    টাকার সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি আবার চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, নগদ টাকার চাহিদা বেশি তৈরি হয়েছে। টাকা জমা নেই বললেই চলে, সবাই টাকা তুলতে চাইছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাখা বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসে।

    ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন চলছে।

    জাতীয় সংসদেও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক।

    আজও অবস্থান কর্মসূচি

    আজ সকালে চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে একদল গ্রাহক। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

    শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ আছে, এতে সহায়তা করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংক পরিচালনা করছেন। এখন ইসলামী ব্যাংকের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি, নামে–বেনামে যার বড় অংশ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।

  • ইসলামী ব্যাংকের  আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু নিয়মকানুন ও টুলস আছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’

    শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ অস্বীকার করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ই মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমরা কোনো বদলি বা প্রমোশনের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’

    তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। এরপর থেকেই ব্যাংকের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    তবে ব্যাংকটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ছিল ৯৩ শতাংশের মতো, যা মার্চে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে। নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

    ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘ওয়ান থার্ড ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এই রকম একটা ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধান করছি।’

    দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা না পাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়ে গভর্নর জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন।

  • ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য

    ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের বড় গরমিল পাওয়া গেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে একটি বড় অংশের কোনো হদিস নেই। তবে ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম।

    মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেসব টাকার কোনো হদিস নেই।

    তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে এই খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিতরণকৃত এই ঋণের সিংহভাগই আদায় হচ্ছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে মাত্র ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছর শেষে এই খাতের ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সাল শেষে ছিল ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্প শুরুর পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়া হয়েছে।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, কাজি শায়রুল হাসানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার ও চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসানকে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

    চিঠিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী আবেদুর রহমান সিকদারকে নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন

    গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন


    ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম, লুটপাটের অভিযোগ এবং ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, গাংনী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অতীতে যেসব অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধন থেকে গ্রাহকরা ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি করে লুট হওয়া অর্থের সমন্বয়, এস আলম যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

    বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ ও দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে চাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

    ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে চাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের যোগদানের উদ্দেশ্যে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকেছিল ব্যাংকটি। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে সেই সভাটি হয়নি। তবে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অনলাইনে সভা করার অনুমতি নিয়েছেন। সেটিও গ্রাহকদের চাপে করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে অনলাইনে এমডিকে সভা করার চাপ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    সোমবার বিকেলে এমডির অফিসে অবস্থান করে দেখা গেছে, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এমডিকে অনলাইনে সভা করার জন্য বলে। তবে এর প্রতিবাদে গ্রাহকেরা এমডির কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত সভাটি করতে পারেনি ব্যাংকটি।

    সেখানে গ্রাহক ফোরামের নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ও ডিবির কর্মকর্তারা অনলাইনে সভা করার জন্য এমডিকে চাপ প্রয়োগ করছেন। ঠিক একইভাবে ২০১৭ সালে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল। তাদের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে তারা ঘোষণা দেন।

    ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন বলেন, গ্রাহকদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার পরও অনলাইনে বোর্ড মিটিং থেকে বিরত থেকেছি।

  • আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে

    আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে

    আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

    ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন

    সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।

    পুলিশের লাঠিচার্জের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

    এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

    তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসি (পেট্রোল) মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের একাংশ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

  • ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    রোববার (১ জুন) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের দাবি ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে বহু আমানতকারী আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের আপত্তিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারীদের উদ্বেগ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

  • আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা

    আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে টানা সাত দিনের ছুটিতে দেশের ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকলেও বিশেষ প্রয়োজনে আজ মঙ্গলবার সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকছে। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এই শাখাগুলোতে অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। আর গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

    গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এই বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

    এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ছুটির ধারাবাহিকতায় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে টানা ছুটির মধ্যেও পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এ ছাড়া দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে আগের মতোই সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু থাকবে। ঈদের ছুটির সময়ও (ঈদের দিন ছাড়া) আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা পাবেন।

  • পদত্যাগ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

    পদত্যাগ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

    ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। রোববার তিনি পরিচালনা পর্ষদ বরাবর পদত্যাগ করার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে তা জমা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে গত বছরের জুলাইতে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগ করার পর ব্যাংকের নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে বসেন জুবায়দুর রহমান। তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও পান। ১০ মাস পর আজ তিনিও পদত্যাগ করেছেন।১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এম জুবায়দুর রহমান। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি করেন।

    তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক এবং ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোকোনিতে অধ্যাপনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়, আরবানা শ্যাম্পেইন এবং রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    অধ্যাপক জুবায়দুর রহমান ঢাকার জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (জুমস)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। বিশ্ব ব্যাংকের এই সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির বিভিন্ন দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে স্বতন্ত্র উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

  • একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    অর্থ ও বাণিজ্য সবাদঃ

    ব্যাংকের একক গ্রাহকের ঋণসীমার শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে একটি ব্যাংক একজন গ্রাহককে মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফান্ডেড ঋণ দিতে পারবে। আগে যা ছিল ১৫ শতাংশ। তবে কোনো অবস্থাতে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দু’টো মিলে ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি ব্যাংকের বৃহৎ ঋণের পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ২০২৮ সাল পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে কনভার্সন ফ্যাক্টর ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো মোট নন-ফান্ডেড ঋণের ২৫ শতাংশ হিসাব করে তাদের বৃহৎ ঋণ সীমা নির্ধারণ করতে পারবে। এই সুবিধা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এরপর ধাপে ধাপে কনভার্সন ফ্যাক্টর বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের বিধান পুরোপুরি কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, একজন গ্রাহক একটি ব্যাংকের মূলধনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে ২৫ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ফান্ডেড ও ১০ শতাংশ নন-ফান্ডেড। আগে কেউ ১৫ শতাংশের বেশি ফান্ডেড ঋণ দিতে পারতো না। এখন কেউ চাইলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে নন-ফান্ডেড কোনো ঋণ দিতে পারবে না। যদি কেউ ২০ শতাংশ ফান্ডেড নেয় তখন ৫ শতাংশ নন-ফান্ডেড দেওয়া যাবে।

    উদহারণ তিনি আরও বলেন, আগে নন-ফান্ডেড ১০০ টাকার এলসি ৫০ টাকা ধরে ফান্ডেড ঋণে কনভার্ট করা যেতো। এখন তা ২৫ টাকা ধরে করতে পারবে। এটার বিভিন্ন ধাপ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহৎ ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের কত শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে সেটি পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ৩ শতাংশ পর্যন্ত একটি ব্যাংক তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দিতে পারে। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ। একইভাবে বর্তমানে ৩ শতাংশের বেশি কিন্তু ৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪৬ শতাংশ বৃহৎ ঋণ দেয়া যায়। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে সেক্ষেত্রে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪৬ শতাংশ।

    বর্তমানে ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেয়া যায়। পুনর্নির্ধারিত নিয়মানুসারে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম বা সমান শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে। এছাড়া বিদ্যমান সার্কুলার অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে সেক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেয়ার বিধান ছিল। নতুন নিয়মে ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৮ শতাংশ।

    বর্তমানে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে একটি ব্যাংক তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দিতে পারে। আর নতুন নিয়মানুসারে ২৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ৩০ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৪ শতাংশ। আর শ্রেণীকৃত ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি থাকলে সেক্ষেত্রে বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে যা-ই হোক মোট বৃহৎ ঋণের পরিমাণ যেকোনো সময়ে ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হবে না। আগে যা ছিল ৪০০ শতাংশ।

  • ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

    ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন

    দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধ বা অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ঋণের অর্থ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারেনি।অমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

  • ডেফারেল সুবিধা নিয়ে মুনাফায় ১১ ব্যাংক, লোকসানে ৮টি

    ডেফারেল সুবিধা নিয়ে মুনাফায় ১১ ব্যাংক, লোকসানে ৮টি

    দেশের ব্যাংক খাতে গত বছর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ কারণে অনেক ব্যাংক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় ১৯টি ব্যাংককে দুই লাখ ৬৩ হাজার ২১০ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধা নিয়ে ১১টি ব্যাংক কৃত্রিমভাবে মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। মুনাফা দেখালেও এসব ব্যাংক অবশ্য লভ্যাংশ দিতে পারেনি। অন্যদিকে ডেফারেল সুবিধা পেয়েও আটটি ব্যাংক বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে। ব্যাংকগুলোর ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোকে ডেফারেল সুবিধা দেওয়া হয়, যাতে বছর শেষে তারা আর্থিক প্রতিবেদন তুলনামূলক ভালো দেখাতে পারে। যদিও এ সুবিধা এক বছরের জন্য দেওয়া হয়, বাস্তবে অধিকাংশ ব্যাংকই কোনো বছর সেই ঘাটতি সমন্বয় করতে পারেনি। বছরের পর বছর এ ধারা চলছে। এই সুবিধা না পেলে ব্যাংকগুলোর মূলধনের ওপর চাপ বাড়ে এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হয়।

    নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের মানভেদে শূন্য দশমিক ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যাংক তা সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে ঘাটতির অর্থ ব্যাংকের মূলধন থেকে সমন্বয় করা হয়। ফলে মূলধন কমে যায়। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো প্রভিশন ঘাটতি রেখে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দিতে পারে না। এ দুই সমস্যা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে ডেফারেল সুবিধা ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়ে লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগে ১৬টি ব্যাংক এই সুবিধা নিয়ে লভ্যাংশও দিয়েছিল। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সেই সুযোগ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    জানা গেছে, প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়ে যেসব ব্যাংক ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে, তারা ২০২৪ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত নতুন নীতিমালাও জারি করে। সেখানে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তারা কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত ২০২৫ সমাপ্ত বছর থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে গত বছর প্রায় ৩৪ ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

    ডেফারেল সুবিধা নিয়ে মুনাফায় ১১ ব্যাংক

    প্রভিশন ঘাটতির বিপরীতে ডেফারেল সুবিধা নিয়ে ১১টি ব্যাংক নিট মুনাফা দেখিয়েছে। জানা গেছে, গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের রূপালী ব্যাংক ১৪ হাজার ১৪ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পেয়েছে। এরপর ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়েছে ছয় কোটি টাকা। আগের বছর মুনাফা ছিল ১১ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকও ডেফারেল সুবিধা নিয়ে মুনাফা দেখিয়েছে। ব্যাংকটি ১৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার সুবিধা পাওয়ার পর ২০২৫ সালে ৫৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ৯২৫ কোটি টাকা।

    ইসলামী ব্যাংক ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ৮৮ হাজার কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পেয়েছে। অস্বাভাবিক হারে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিপুল পরিমাণ সুবিধা নেওয়ার পরও ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়েছে মাত্র ১৩৬ কোটি টাকা। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চার হাজার ৯৯৮ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নিয়ে ২০২৫ সালে ৮৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। আগের বছর ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৭৬ কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক তিন হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ৮২ কোটি টাকা থেকে কিছুটা কম।

    এছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতির বিপরীতে দুই হাজার ১৬১ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পেয়েছে। সুবিধা নেওয়ার পর ২০২৫ সালে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ১২২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এ মুনাফা ছিল ৬৪ কোটি টাকা। এনআরবিসি ব্যাংক এক হাজার ছয় কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পাওয়ার পর নিট মুনাফা হয় ১৩ কোটি টাকা। সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক এক হাজার ২৩ কোটি টাকার সুবিধা নিয়ে গত বছর নিট মুনাফা হয়েছে মাত্র ৭০ লাখ টাকা। আগের বছর মুনাফা ছিল ১১ কোটি টাকা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পাঁচ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নিয়ে ২০২৫ সালে ২৩ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তা ছাড়া এনআরবি ব্যাংক গত বছর ১৮০ কোটি টাকা সুবিধা নিয়ে ১৩ কোটি টাকা এবং ওয়ান ব্যাংক এক হাজার ২০২ কোটি টাকা ডেফারেল নিয়ে ২১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

    সুবিধা নিয়েও বড় লোকসানে ৮ ব্যাংক

    এদিকে ডেফারেল সুবিধা পেয়েও আটটি ব্যাংক লোকসানে পড়েছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পেয়েও ২০২৫ সালে তিন হাজার ৯৩১ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ২০২৪ সালে লোকসান ছিল তিন হাজার ৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান আরো বেড়েছে। ব্যাংকটির বড় অংশের খেলাপি ঋণ রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে। ওই গ্রুপ থেকে ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির লোকসান বাড়ছে। বেসিক ব্যাংক পাঁচ হাজার ৮২ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নিয়েও ২০২৫ সালে ৮১০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। আগের বছর লোকসান ছিল ৮৬৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ২২৫ কোটি টাকা ডেফারেল সুবিধা পাওয়ার পরও ৭০ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক ১৬ হাজার ২৯০ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পেয়েও ২০২৫ সালে তিন হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির লোকসান ছিল এক হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। আইএফআইসি ব্যাংক ২১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নিয়ে ২০২৫ সালে দুই হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ন্যাশনাল ব্যাংক ১৮ হাজার ৬০৮ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নেওয়ার পরও দুই হাজার ৪২৯ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে। আগের বছর লোকসান ছিল এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক ৯ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পেয়েও ১২৩ কোটি টাকা লোকসান করেছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এক হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ডেফারেল সুবিধা নিয়ে ৪৭৯ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক খাতে প্রকৃত প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ আরো বেশি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত সুবিধার কারণে তা কম দেখানো যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডেফারেল সুবিধা না দিলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি আরো বাড়বে। মূলধন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকগুলোর ব্যয় বেড়ে যায়। কারণ বিদেশি ব্যাংকগুলো মূলধনের সক্ষমতা বিবেচনায় বাণিজ্য করে। মূলধনে ঘাটতি থাকলে বাণিজ্য অর্থায়নের খরচও বেড়ে যায়।

  • রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    ‘নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছি না, দুই বছর ধরে মুনাফাও বন্ধ। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ‘হেয়ারকাট’ বাতিল, পূর্ণ আমানত ও মুনাফা ফেরত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১০ মে) সকালে নগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় জমাকৃত টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, মো: আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো: ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা।

    তারা বলেন, অনেক পরিবার জমি, বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, পেনশন কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় তিন কোটি পরিবারের সদস্য এই সঙ্কটের সাথে জড়িত।

    ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘হেয়ারকাট’ বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে; অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখতে হবে; এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা পূর্ণ মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার করতে হবে।

    বক্তারা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। নিজেদের টাকা তুলতে না পারলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীতেও চট্টগ্রামের মতো ব্যাংক শাখায় তালা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    মানববন্ধন শেষে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

  • কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

    কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদিত সব পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

    নির্দেশনা হলো:

    ১. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে হাট শুরুর দিন হতে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তফশিলি ব্যাংকগুলোর তালিকা এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো। এই হাটগুলো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭/০৫/২০২৬ তারিখের মধ্যে naima.tanzin@bb.org.bd এবং zarrin.tasnim@bb.org.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে। উল্লেখ্য, আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যাদি মনিটরিং করবেন;

    ২. ঢাকার বাইরে যে সকল জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়/প্রধান শাখাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;

    ৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই এমন জেলাসমূহের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও থানা/উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টনকৃত দায়িত্ব অনুযায়ী আপনাদের ব্যাংকের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শাখাসমূহ যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;

    ৪. হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনাকরণ সুবিধা প্রদান করতে হবে;

    ৫. বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদিত হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে;

    ৬. বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে এ বিভাগের (তদানীতন DCMPS) ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জাল নোট: ০১(পুলিশ)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

    ৭. বুথে ব্যাংকের নাম ও তার সাথে ‘জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার/নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে;

    ৮. ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি আপনাদের ব্যাংকের শাখাসমূহে ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে;

    ৯. দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে; এবং

    ১০. পবিত্র ঈদ-উল-আজহা সমাপ্তির পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উপরে বর্ণিত নির্দেশনার সূত্রে আপনাদের কর্তৃক পরিপালিত বিষয়াদির উপর প্রস্তুতকৃত একটি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে এ বিভাগে পাঠাতে হবে।

    এম.কে

  • ইসলামী ব্যাংক থেকে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন

    ইসলামী ব্যাংক থেকে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন

    ইসলামী ব্যাংক সমূহ থেকে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার দাবিতে ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা।ইসলামী ব্যাংক সমূহ থেকে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার দাবিতে ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা।বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সহস্রাধিক শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী গ্রাহক যথাক্রমে অধ্যাপক নুর নবী মানিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আব্দুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান পলাশ প্রমুখ।

    বক্তরা বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ দিতে যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ করা হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ব্যাংক লুটেরা এস আলমের হাতে ইসলামী তুলে দেয়া যাবে না। ব্যাংক লুটেরা এস আলম ও সকল শীর্ষ লুটেরাকে গ্রেফতার এবং দেশীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে একই সাথে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে বক্তরা সরকারের কাছে দাবি জানান।

    এ সময় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা ‘ইসলামী ব্যাংক দখলের পায়তারা বন্ধ করো’, ‘ব্যাংক দখলের কালো আইন বাতিল করো’, ‘এস আলম নো মোর’ – সহ বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন।

    মানববন্ধন শেষে, ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের পক্ষে এক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।স্মারকলিপিতে ‘এস আলম ও তার সহযোগী অপরাধী গোষ্ঠীর পুনঃপ্রবেশ প্রতিরোধ’, ‘পাচারকৃত ও আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার’, ‘ব্যাংক লুটেরাদের দৃষ্টাস্তমূলক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ’, ‘ন্যায্য ও বৈধ মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা’, এবং বিতর্কিত আইনগত সুবিধা বাতিল’- করার ৫ দফা দাবি জানানো হয়।

  • ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

    ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

    ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ব্যাংক সমন্বয় কাউন্সিল। সংস্থাটি জানায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ইরানের সব ব্যাংকের শাখাগুলোতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত নির্দেশের আওতায় রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ব্যাংকের সদর দফতরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

  • ঘোড়াঘাটে ব্যাংক ম্যানেজারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    ঘোড়াঘাটে ব্যাংক ম্যানেজারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত ব্যবস্থাপকের দ্রুত অপসারণসহ প্রশাসনিক শাস্তির দাবিতে আজ বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    সোমবার বেলা ১১টায় ঘোড়াঘাট উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি ঘোড়াঘাট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক শাখা থেকে জনৈক সেবাগ্রহীতার কাছে একটি ভুল লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সম্পর্কে সত্যতা যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ব্যাংক ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান।

    তবে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেন যে, ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন তাদের সাথে চরম কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার আচরণ করেছেন যা পেশাগত মর্যাদাহানির শামিল।উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

    বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, উক্ত ব্যবস্থাপক শুধু সাংবাদিকদের সাথেই নয়, বরং ব্যাংকে আসা সাধারণ মানুষের সাথেও প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। তার এই একগুঁয়েমি ও অপেশাদার মনোভাবে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যাংকের সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।মানববন্ধন চলাকালীন বিক্ষুব্ধ বক্তারা অবিলম্বে উক্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

    তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্মানজনক সমাধান এবং অভিযুক্তের অপসারণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও এলাকার সচেতন নাগরিক এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ব্যবস্থাপকের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

  • মাদারীপুরে ব্যাংক কর্মীর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই

    মাদারীপুরে ব্যাংক কর্মীর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই

    মাদারীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট শাখার সুস্ময় চক্রবর্তী (২৫) নামে এক কর্মীর কাছ থেকে নগদ ২৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার কামালদি ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সুস্ময় বর্তমানে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সুস্ময় চক্রবর্তী টেকেরহাট ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাস্টার এজেন্ট শাখায় ডিএসআর হিসেবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার (গতকাল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন এজেন্ট শাখা থেকে মোট ২৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে পাইকপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা শাখা থেকে ৭ লাখ, আমগ্রাম বাজার থেকে ৭ লাখ এবং টেকেরহাট মাস্টার এজেন্ট থেকে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে মজুমদার বাজার এজেন্ট শাখার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

    পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কামালদি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত সুস্ময়ের গতিরোধ করে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে তার কাছে থাকা ২৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ডাচ্-বাংলা ব্যাংক টেকেরহাট শাখার ম্যানেজার মনতোশ সরকার জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

    রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘তার নাকের সামনে শয়তানের নিঃশ্বাস ধরায় ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়ে টাকার ব্যাগটি তাদের হাতে দিয়ে দেয়। ছেলেটি ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে ছিল, কাউকে কিছু বলার মতো জ্ঞানও ছিল না তার।’

    তিনি আরও জানান, পরে একজনের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুস্ময়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অভিযোগ পেলে ৩২৮ ধারায় মামলা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

  • কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ

    কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ

    হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী, আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, কৃষি এবং ব্যাংক আমানতের সুদ।

    হলফনামায় তাহেরী উল্লেখ করেছেন, তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো ধরনের সম্পদ নেই। এমনকি তার স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ বা ব্যাংক জমার অস্তিত্বও দেখানো হয়নি। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী গৃহিণী—তবে স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদের হিসাবে কৃষি খাত থেকে তাহেরীর বার্ষিক আয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় হয় ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে তিনি পান ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪১ হাজার ২৮৬ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৬ টাকা। এছাড়া নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৯২

    স্থাবর সম্পদের মধ্যে তাহেরীর নামে কৃষিজমি রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ টাকা।

    হলফনামায় আরও বলা হয়, তাহেরীর স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল অন্য কোনো ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র কিংবা নগদ অর্থ নেই।

    ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে গিয়াস উদ্দিন তাহেরী উল্লেখ করেন, তার স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। তবে হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার শ্বশুরবাড়ি

    থাকায় সেখানকার আসন থেকেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

    আইনি বিষয়ে হলফনামায় তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাহেরীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • নওগাঁয় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে আগুন

    নওগাঁয় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে আগুন

    নওগাঁর রাণীনগরে গ্রামীণ ব্যাংকের কচুয়া বাজার শাখা অফিসের গেটের সামনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার গহেলাপুর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    গ্রামীণ ব্যাংক কচুয়া বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার লোটাস হোসেন বলেন, ‌‘ভোরের দিকে উঠে আমরা দেখতে পাই অফিসের সামনের গেটে ধোঁয়া উড়ছে। নাইট গার্ড মজিবর রহমানের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, তেমন কিছুই না। অফিসের সামনে ৪-৫টি বস্তায় কেউ আগুন দিয়েছিল। এরপর সে নিভিয়ে পাশে রেখে নামাজ পড়তে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

    এ বিষয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে আগুনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেখানে রাস্তায় ধোঁয়া উড়ছিল।

  • ফেনীতে রূপালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ১৯ লাখ টাকা উধাও!

    ফেনীতে রূপালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ১৯ লাখ টাকা উধাও!

    ফেনীর সোনাগাজীতে রূপালী ব্যাংকের একই পরিবারের তিন গ্রাহকের হিসাব থেকে তাঁদের অজান্তে ১৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই টাকা ভিন্ন কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। রূপালী ব্যাংকের সোনাগাজীর আমির উদ্দিন মুন্সিরহাট শাখা থেকে এই টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে টাকা ফেরত দিতে পারেনি। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা ব্যাংকের ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপালী ব্যাংকের সোনাগাজীর আমির উদ্দিন মুন্সিরহাট শাখার গ্রাহক আবুল বশরের হিসাব থেকে ৩৩ হাজার টাকা, তাঁর বড় ছেলে মনসুর আলমের হিসাব থেকে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ও ছোট ছেলে ইফতেখার আলমের হিসাব থেকে ৯৫ হাজার টাকা ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখার বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর (ট্রান্সফার) করা হয়।ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক আবুল বশর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার চার ছেলে মালয়েশিয়াপ্রবাসী। আমার একটি ও আমার দুই ছেলের আরও দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানোর ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে। ব্যাংক ম্যানেজার আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, লুট হওয়া ছয় লাখ টাকা ফেরত আনা হয়েছে, যা আদৌ সত্য নয়। আমাকে বিগত এক মাস টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে হয়রানি করা হচ্ছে।’রূপালী ব্যাংক আমির উদ্দিন মুন্সিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) দিদারুল আলম বলেন, ‘তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রান্সফার হওয়া টাকাগুলো অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়েছে। অ্যাপসের লেনদেন হেড অফিস সরাসরি তদারকি করে। এই লেনদেনে আমি বা আমার শাখার কারও দায় নেই। বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে আছে। আমরা থানা-পুলিশকেও এ বিষয়ে সহযোগিতা করছি।’ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা সোনাগাজী মডেল থানায় গতকাল রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান। তবে আজ বুধবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, তাঁরা কোনো জিডি পাননি। তবে প্রতিবেদকের হাতে থাকা জিডির কপিতে সোনাগাজী মডেল থানার ডিউটি অফিসার পদুমুত্তর বড়ুয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, রূপালী ব্যাংক আমির উদ্দিন মুন্সিরহাট শাখায় গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক থানায় অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। তাঁকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি জমা দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকাস্থ আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মি. জঁ ডেনিস পেসমে এর নেতৃত্বে তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ডিভিশনের অর্থ উপদেষ্টা মিস. মেহরিন এ মাহবুব ও অপারেশন ম্যানেজার এমএস গায়েল মার্টিন।

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিকখাতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, টেকসই অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও সামাজিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

  • ৫ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত; দায়িত্বে প্রশাসক

    ৫ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত; দায়িত্বে প্রশাসক

    একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে এসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। ওই ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    আজই ওই সব ব্যাংকের দায়িত্ব বুঝে নেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকেরা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সকালে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এখন থেকে এসব ব্যাংক চলবে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায়। প্রশাসক হিসেবে কোন ব্যাংকে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং তাঁদের কাজ কী হবে, তা ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রশাসকেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে প্রত্যেক আমানতকারীকে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে।

    এদিকে এসব বিষয়ে কথা বলতে আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সংকটে ওই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে একটি ব্যাংক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। আর আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে।

    একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর বর্তমান জমা আছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশ এখন খেলাপি।

    সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা,

    ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি ইউনিয়ন ব্যাংকের। পর্যায়ক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামীর ৯৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামীর ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামীর ৬২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক হিসেবে এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্ব পাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম। সোশ্যাল ইসলামীতে নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিন এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে দায়িত্ব পাচ্ছেন আরেক নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। আর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেমকে।

  • ৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও পোশাক কারখানা

    ৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও পোশাক কারখানা

    সারা দেশে আগামী মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ব্যাংক বন্ধ থাকবে। দিনটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে সরকার ঘোষিত ছুটির দিন হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অব সাইট সুপারভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    বাংলাদেশ সরকার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ২ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে উপলক্ষে দেশের সব অফিস-আদালতের মতোই তপশিলি ব্যাংকগুলোকেও ছুটির আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট সরকারি ছুটির দিন হিসেবে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। অতএব, সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে এবং আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ আগস্ট ২০২৪ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের দমনপীড়ন, ভোট কারচুপি, লুটপাট ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ অবশেষে ক্ষমতা হারিয়েছে। শেখ হাসিনা, যিনি একযুগ ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জনগণের বিজয় হয়েছে, আর বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

    এদিকে শনিবার (২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ জানায় ৫ আগস্ট সব পোশাক কারখানা ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এ ছুটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

  • বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    ল্যস্ফীতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ দশমিক ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ৮ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে এই ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

    গত অর্থবছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাই ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

    মুদ্রানীতি বিবরণী অনুযায়ী, ডিসম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের আনুমানিক প্রবৃদ্ধি হবে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। আর জুনে তা হবে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ।

    এদিকে মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামলে নীতি সুদহার কমানো হবে বলে মুদ্রানীতিতে ঘোষণা দেওয়া হয়।

    গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমছে। তবে এটা আরো কমাতে হবে। আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নামলেই নীতি সুদহারে হাত দেওয়া হবে।