ক্যাটাগরি আওয়ামী লীগ

  • গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    রাজধানীর গুলশানে শুক্রবার দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল বের করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
    গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান- ১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের করার চেষ্টা হয়। তখন পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ছুড়তেও দেখা গেছে।
    ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

  • আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোটবোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’

    ভারতকেও খেসারত দিতে হবে

    তার অভিযোগ, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি এও বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার কথায়, কোনও সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। (আমি তো) বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

    দেশটা আমার

    সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কি বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সেজন্যই বলেছি, আমি চলে যাব। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন? দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কী করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে অনুকূল অবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, এটা ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন। তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলেন।

    আমি দেশের মানুষের কাছে যাব

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

    ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে

    ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব। আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।

    তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেয়া হয়েছে। যত জঙ্গী, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। আমার সময় তো একটামাত্র (সন্ত্রাসী) ঘটনা ঘটেছিল। ৪৬০টি থানা লুট হলো। পোড়ালো। পা বেঁধে বেঁধে ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

    তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছি

    ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস। তাছাড়া এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।

    বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।

    তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

    জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

    পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

  • কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন সরকারের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন।

    আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই পলাতক।

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শাস্তি দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলায় সাত আসামিরই অপরাধ গুরুতর। তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দিয়ে এই সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাই। যেন এমন রাজনীতিবিদ দেশে আর জন্ম না নেন।’

    ষষ্ঠ দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে প্রথমেই আইনি দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এরপর শুরু করেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

    এর আগে, ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। টানা পাঁচ কার্যদিবসে পর্যায়ক্রমে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

    প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আসামিরা। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধে আহ্বান জানানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনাসহ কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় বেশ কয়েকটি ফোনালাপও। একইসঙ্গে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কয়েকজন আসামির ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২৮ জন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

  • কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। সেখানে যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

    এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

    এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা…..কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

    এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

    শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

  • আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে দুদেশের সরকার।

    প্রতিটি স্তরে যুব সমাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।

    তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি।

    একই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানায়, ঘরে বসে যেন যুব ও নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

  • নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।

    প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি?
    নানক: দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আপনি আত্মগোপনে রয়েছেন। জীবনে কি এটাই প্রথম আত্মগোপন?
    নানক: অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে। ১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া। অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা, সেদিন যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বাংলাদেশ বা স্বাধীনতা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি…তখন থেকে কিন্তু আমাদেরকে আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে। আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি। আবার আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় ঘর ছাড়া, দেশের কথা মনে পড়ে? বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
    নানক:
    সত্যি কথা বলতে কী—আমরা কর্মী পাগল মানুষ তো। কখনো কখনো আমার বুকটা ফেটে যায়। ১৯৭১ সালে আমি একেবারে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রন্ট ফাইট করেছি। একটা আদর্শিক যুদ্ধ করেছি। সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে। ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে। তখন তো প্রশ্ন জাগেই, আমি বেঁচে ছিলাম কেন? বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না! তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি। ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে। গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই। এটা মনে পড়ে। আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম। আমি দুই বছর যাবত যেতে পারছি না। মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না। এগুলো নিয়ে কোনো দুঃখ নেই। দুঃখ আমার একটি জায়গায়। ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে—তারা বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী। বাংলাদেশটাকে এখনো মানতে পারেনি। ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।

    প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
    নানক:
    ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)। নেত্রী যখন চলে আসলেন। আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়। যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল। বলল যে, স্যার অমুকে ফোন করছে। তখন একটু বোধদয় হয়ে আমি ধরলাম। তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি। এই আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি। ইউজ করার টেলিফোনগুলো ফেলে দিলাম। এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে। ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান। আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত। সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে। কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।

    প্রশ্ন: ১৬ আগস্ট কি কলকাতায় এলেন?
    নানক:
    না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম। শিলং থেকে আমি চলে আসলাম মালদাহতে। বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।

    প্রশ্ন: নেতাকর্মীদের বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে আসার কারণে অনেকেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। আপনি একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?
    নানক:
    ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত। আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।

    প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
    নানক:
    আমরা তো বিশ্বাস করি—যেকোনো চাপ বাংলাদেশের এই কচুপাতার পানির মতো যারা টলটলায়মান, সেই সরকারের কতখানি চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে? এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।

    প্রশ্ন: সরকার এবং দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে। মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
    নানক:
    আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।

    প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা। কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
    নানক:
    না আমরা বুঝতে পারিনি—এ কথা আমি স্বীকার করবো না। আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন। উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’। ড. ইউনূস আমার বিরুদ্ধে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না। দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। দলকে উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। সতর্ক করেছেন। দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে। কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে। কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে। আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন। আমি ফোন করেছি প্রধানমন্ত্রীকে। বলেছেন হল ছেড়ে দাও। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও। খবরদার কোনো সংঘাতে যাবা না। আমি চাই না কোনো লাশ পড়ুক। কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন। ৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না! অবশ্যই ছিল। আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত। উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম। আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন। গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ। গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো। ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ। আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী। আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম। সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো। সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।

    প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?
    নানক:
    অনেক অনেক হয়ে যেত। আমরাও কি ছেড়ে দিতাম? নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না। একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম। উনি রক্তপাত চাননি। আমরা কি না পারতাম! দিস ইজ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না। সম্ভব হয় নাই। আপনি কালকে ভোট দেন, একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আসুক। একটা একশ পারসেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন দিক—যদি আমরা টু থার্ড মেজরিটি না পাই…..প্রমাণ হোক জাতিসংঘ বাহিনী আসুক। এসে নির্বাচন করুক। যদি আওয়ামী লীগ টু থার্ড মেজরিটি না পায়—তাহলে আমরা নাকে খত দিয়ে সবাই একসঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

    প্রশ্ন: কেন ভারত? ওয়াশিংটনে জয় রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে রয়েছেন বা উনার লন্ডনেও একবার যাওয়ার কথা হচ্ছিল যে, লন্ডনেও চলে যেতে পারেন। তিনি ভারত কেন ?
    নানক:
    ভারতের ওপর দায়-দায়িত্ব যেটা দিতে চায়—এটি তো সঠিক না। তারা ভারতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কারণে, এসএসএফ-এর অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসার সবাই মিলেই তো তারা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। কাজেই এখানে ভারতের কী করার ছিল।

    প্রশ্ন: ভারতের তরফ থেকে এই অপারেশনটা লিড কে করেছিল? আপনাদের কাছে কি খবর আছে?
    নানক:
    আমি এটা এখন বলতে পারছি না।

    প্রশ্ন: শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে?
    নানক:
    হ্যাঁ

    প্রশ্ন: কেমন আছেন তিনি?
    নানক:
    আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো আছেন উনি। আমি অনেক কৃতজ্ঞ ভারত সরকারের প্রতি। যে নিরাপত্তা ওনাকে দেয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলই দেয়া হচ্ছে। আমরা যখন জিজ্ঞাসা করি—ইভেন এখনো টেলিফোনে যখন জিজ্ঞাসা করি আপা কেমন আছেন, নেত্রী কেমন আছেন? আমি ভালো আছি তোমরা ভালো আছো কিনা তাই বলো। আমার নিয়ে তোমরা চিন্তা করবে না। বিশ্বাস করেন আপনাকে বলছি—আমি এমনটা খুব রিসেন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেন জানো না, এই দুই বছরে আমার (হাসিনা) শুধু দু’দিন নাকে সর্দি লেগেছিল! এই দু’দিনের সর্দি লাগা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমার একটি ঔষধও খেতে হয় নাই। ইনশাআল্লাহ। দোয়া করো তোমরা সবাই।

    প্রশ্ন: কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে। শীর্ষ নেতারা নাকি সেখানে বৈঠক করেন। খবর বেরিয়েছিল। এটা কি সত্য?
    নানক:
    বিভিন্ন খবর বের হয়। এগুলা মুখরোচক।

    প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর?
    নানক:
    না না এর কোনো ভিত্তি নেই। হ্যাঁ আমাদের যদি কেউ একটু জায়গা দেয় যে, এখানে এসে বসেন আপনারা। মাঝে মাঝে আইসেন। আমরা যাব না? আমরা তো যাবই। আমরা তো একটা জায়গা পেলে আমরা তো একটু সময় কাটানোর জন্য, অক্সিজেন নেয়ার জন্য যেতেই পারি। কিন্তু অফিস বলতে কোনো জিনিসের অস্তিত্ব নাই এখানে।

    প্রশ্ন: ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সংগঠন কীভাবে পরিচালনা করছেন?
    নানক:
    আমি কলকাতায় যে আসলাম—সেদিন থেকেই আমি আমার এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। তাদের সুখে-দুঃখে কষ্ট-ক্লেশের আমি ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমার পুরানো অভ্যাস—সেটা আমি চেষ্টা করেছি। যারা জেলে, গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখা, সুখ-দুঃখের ভাগী হওয়া। এ ক্ষেত্রে আমি না বললে ওর প্রতি অবিচার করা হবে—আমার মেয়েটি, যে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের মা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক, ও খুব বেশি সময় দেয় আমার নির্বাচনী এলাকায়। জেলে যারা গেল, আমাদের কর্মীদের আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। তাদের খোঁজখবর রাখা—এ কাজগুলো করছে। আমি আপনাকে বলতে পারি—আমার নেত্রীর নির্দেশে ইন ঢাকা সিটি, এই ঢাকা-১৩ থেকে উই হ্যাভ স্টার্টেড দ্য পসেশন অ্যান্ড আদার থিংস। অনেক গ্রেপ্তার হয়েছেন। কখনো মিছিল, কখনো ওটাকে বলে মশাল মিছিল। ইউ নো এগুলো করতে গিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    প্রশ্ন: আমার স্পেসিফিক প্রশ্ন—আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডে আপনি অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আপনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আপনি নিজে একজন আইনজীবী। আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি লড়বেন?
    নানক:
    আমি কৌশলগতভাবে লড়ছি, লড়াই করছি আইনগতভাবে।

    প্রশ্ন: এই যে ৯ জনের হত্যার অভিযোগে আপনি অভিযুক্ত এটা কি সত্যি?
    নানক:
    উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপড়ানোর চেষ্টা। যে অভিযোগগুলো আমার কাছে, আমার কাছে আছে—টোটাল মামলার নথি। এর সব জায়গায় বলে গেছে তার নির্দেশে… তার নির্দেশে… তার নির্দেশে…। কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে, ওনাকে দেখেছি। তো সপ্তম আসমানে বসে কে নির্দেশ দিল তাকে? কীভাবে মারা গেল, কার গুলিতে মারা গেল—সেটা তো আমার জানার কথা না। আমি কি ওখানে অস্ত্র নিয়ে গুলি করতে গিয়েছি? এরকম কোনো প্রমাণ আছে? দেখাতে পারবে? বলুক। আইন ও আদালত, বিচারালয় যদি আইনের গতিতে চলে আমি আপনাকে বলতে পারি—যত হত্যা মামলা দিয়েছে ইনক্লুডিং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইসিটি আদালত থেকে শুরু করে। কোনো মামলা টিকবে না। কোনো মামলার অস্তিত্ব থাকবে না।

    প্রশ্ন: আমার দুটো প্রশ্ন খুব সংক্ষিপ্ত। কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় প্রশ্ন-ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন, আপনি ফিরবেন?
    নানক:
    অবশ্যই আমি, আমরা তো ওনার আগে যাব, পৌঁছবো। পৌঁছাবোই।

    প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি আবারও দেখা যাবে জাহাঙ্গীর কবির নানককে?
    নানক:
    বেঁচে থাকলে দেখা যাবে। আমি যাতে মৃত্যুবরণ না করি, দোয়া করবেন।

  • শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনটি করেছিলেন তাপস, অপর প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা। তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়।

    এই কল তাপস করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। কথোপকথন থেকে জানা যায়, তাপস সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

    তাপস তড়িঘড়ি করে বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক শ মানুষ নিশ্চিত হত্যার শিকার হন। আন্দোলনে উত্তাল ঢাকাসহ সারা দেশ। আগের দিন ঢাকায় সরকারবিরোধী ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

    ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একই দিন সকালে সেনা সদরের এক দরবারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে মত উঠে আসে।

    সব মিলিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে তাপস। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে পালান। শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সবাই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। অথচ শেখ হাসিনার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ক্ষমতা প্রয়োগের শীর্ষে। এই পরিবার বা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদমর্যাদা, সংসদ সদস্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্বে থেকে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

    তাঁদের মধ্যে কেবল শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে ততটা পরিচিত ছিলেন না। ব্যবসা করতেন। সেভাবে আত্মগোপনও করেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার পরিবার বা স্বজনদের বাকি সদস্যরা তাঁর সরকারের পতনের আগে ও পরে দেশ ছাড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অধিকাংশের বর্তমান অবস্থান ভারতে। অনেকেই কলকাতার দামি আবাসিক ভবনে থাকছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি, ভিডিও বের হয়েছে।

    হাসিনা পরিবারের সবাই আগেই নিরাপদে ছিলেন

    দেশ ছেড়ে পালানোর আগে হেলিকপ্টার থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নামছেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা

    দেশ ছেড়ে পালানোর আগে হেলিকপ্টার থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নামছেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ছবি: সংগৃহীত

    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে যান ছোট বোন শেখ রেহানা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ রেহানাকে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার পতনের দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা।

    তবে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ রেহানাকে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে পাশে দেখা গেছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে যাওয়ার পর শেখ রেহানা লন্ডন ও ভারতে থাকছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও ছিলেন। তিনি শেখ রেহানার দেবরও।

    শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। সরকার পতনের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও আলোচনা আছে।

    শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জয় নিয়মিত দেশে আসতেন এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তিনি শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন।

    শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের সময় সায়মা ওয়াজেদ দিল্লিতেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। তবে বেতন পান। তিনি কখনো দিল্লি, কখনো দুবাইয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) দেখাশোনা করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি দেশে ও বিদেশে থাকতেন। সরকার পতনের সময় তিনি থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক।

    ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে কাজ করেছেন।

    শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি সে দেশের পার্লামেন্টের সদস্য। টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে খুব একটা আসতেন না। রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি।

    নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই ভারতে

    ২০২৪ সালের বিতর্কিত ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর স্বজনদের আটজন সংসদ সদস্য হন। শেখ হাসিনার আত্মীয়দের মধ্যে ছিলেন তাঁর ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় এবং ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। এ ছাড়া অন্য আত্মীয়রা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশেই ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ভারতে চলে যান এবং বর্তমানে কলকাতায় আছেন।

    শেখ সেলিমের ছেলে ও যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় গেছেন। তিনি নিয়মিত দেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

    শেখ সেলিমের আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের আগেই তিনি দেশ ছাড়েন।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। সরকার পতনের আগের সপ্তাহে তিনি কানাডা থেকে দেশে এসেছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে নানা কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন। সরকার পতনের দিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন পর পরশ ভারত হয়ে কানাডায় চলে যান। এরপর তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন।

    শেখ ফজলুর রহমান মারুফ শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই। রাজনীতিতে তিনি ততটা আলোচনায় ছিলেন না। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানা গেছে।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগেই তিনি ভারতে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি প্রায়ই ভারতের রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগায় যাতায়াত করতেন। সেখানে তাঁর এক মেয়ে থাকেন। তাঁর মেয়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেছেন।

    ভারতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রেস্তোরাঁসহ নানা সম্পদ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তাঁর ছেলে আশিক আবদুল্লাহও বাবার সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। বাবা ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুজন মিলে পুরো বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বরিশালে সক্রিয় ছিলেন সাদিক আবদুল্লাহ। পরে তিনি দেশ ছেড়ে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আছে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে আগুন দেয়।

    শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    আবুল খায়ের আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান বলে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার দুই প্রভাবশালী চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাঁরা দেশেই ছিলেন। পরে তাঁরা ভারতে চলে যান। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি দামি আবাসিক কমপ্লেক্সে তাঁরা বসবাস করছেন বলে খবর বের হয়েছে।

    শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে আছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শম্পাকে গণভবনে শেখ হাসিনার পাশে প্রায়ই দেখা যেত।

    শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেল ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলেন। খুলনার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি আত্মগোপনে আছেন। তবে কোথায় আছেন, তা আওয়ামী লীগের নেতারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

    শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ছিলেন। তাঁর ভাই নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের নেতা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। দুজনই শেখ হাসিনার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তাঁদের ভারতে অবস্থানের তথ্য জানা গেছে।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন।

    মহিউদ্দিন আহমদ, রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক

    গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতারা

    মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, দীপু মনি, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকসহ অনেকে কারাগারে আছেন

    মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, দীপু মনি, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকসহ অনেকে কারাগারে আছেন কোলাজ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন ডজনের মতো সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং ৫০ জনের বেশি সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মারা যান। সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন দিনাজপুর জেলা কারাগারে এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা যান।

    বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহ, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, দীপু মনি, আহমদ হোসেন ও আবদুস সোবহান গোলাপ কারাগারে আছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকও কারাগারে আছেন।

    রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসন পারিবারিক শাসনে পরিণত হয়েছিল। এ সময় জ্ঞাতি–গোষ্ঠী, কিছু ব্যবসায়ী এবং পদধারীরা সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেছেন। সাধারণ কর্মী–সমর্থকেরা কামানের গোলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া দেশে এসে সরাসরি আত্মসমর্পণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবেরোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো ইচ্ছা করলেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দেশে আসতে হলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। আর দেশে পা রাখামাত্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।