ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

প্রতিবেদন:

·

ক্রীড়া ডেস্ক:

লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের সোফি স্টেডিয়ামটি জমজমাট রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বকাপ ঘিরে মাঠের ভেতরে ও বাইরে ভক্তদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, বর্ণিল আয়োজনে পুরো পরিবেশকে একটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো করে তুলেছে। আর হলিউডের শহর খ্যাত লস অ্যাঞ্জেলেসের এই স্টেডিয়ামের কাছের একটি ভবনে স্পেনের তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে চিত্রিত করে প্রদর্শিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন। তাঁর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, ক্ষিপ্রতা এবং দর্শনীয় গোল করার ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘সিবিএস’ প্রচার করেছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ডের মতো তারকা দ্যুতি ছড়ালেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অন্যতম বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা বার্সেলোনার এ সুপারস্টার এখন পর্যন্ত তাঁর সেরাটা দেখাতে পারেননি। গ্রুপ পর্বে স্পেন যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে, তার কোনোটিতেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন না ফুটবলের এ জাদুকর। তাই তো শেষ বত্রিশে আজ

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ইয়ামাল-শোর অপেক্ষায় পুরো ফুটবল দুনিয়া।

ইতিহাস আর ঐতিহ্যে এই স্পেন দুর্দান্ত। অস্ট্রিয়ার মতো দল বড় বাধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের একটি পরিসংখ্যান যে ইয়ামালদের জন্য ভয়ের কারণ। ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ীদের (ইতালি, স্পেন ও জার্মানি) কেউই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফুটবলের মহাযজ্ঞের কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি স্পেনের সোনালি প্রজন্ম পরপর তিনটি বড় টুর্নামেন্ট (ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০, ইউরো ২০১২) জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে স্পেনকে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আর গত দুটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। লা ফুরিয়া রোজারা অবশ্যই এই ধারা ভাঙতে মরিয়া হয়ে থাকবে। প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর স্পেনও যে আতঙ্কে আছে, তা ফুটে উঠেছে দলটির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজের কণ্ঠে, ‘আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে বর্তমানে যে কোনো দলই যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। আমি মনে করি, আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছি।’স্পেন বর্তমানে ইউরো চ্যাম্পিয়ন। দলটির লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ১৬ বছরের জয়ের খরা কাটানো। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের শুরুটা হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে নকআউটে পা রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলটি। বিপরীতে এই পর্যায়ে আসার পথটি অস্ট্রিয়ার জন্যও ছিল নাটকীয়। গ্রুপ ‘জি’-তে শেষ দিনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি নিষ্প্রাণ এক লড়াই হবে বলেই সবাই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচটি মোটেও তেমন ছিল না; বরং ৩-৩ গোলের এক রোমাঞ্চকর ড্র দিয়ে এটি শেষ হয়। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে সাশা কালাইজিচ যদি হেড থেকে সমতাসূচক গোলটি না করতেন, তবে অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিয়ে নিত। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় এবং আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ ব্যবধানের পরাজয় স্পষ্ট করে দেয় যে তাদের এই যাত্রা কতটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।স্পেনের এই দলটিতে বার্সেলোনার প্রভাবই বেশি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একতাবদ্ধতা এবং ইয়ামালের ওপর ভরসা করছে লা ফুরিয়া রোজারা। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই ইয়ামালকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন স্পেন কোচ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১৯ মিনিট, সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলে একটি গোলও করেছিলেন ইয়ামাল। উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৬ মিনিট। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ২৩ বছর বয়সী উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস উরুগুয়ে ম্যাচে চোটে পড়ায় তাঁকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নেবেন না লুইস দে লে ফুয়েন্তে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচের শুরু থেকেই ইয়ামালকে দেখা যেতে পারে। তাই ইয়ামালের জন্য মঞ্চটা এবার নিজেকে মেলে ধরার।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ