শিক্ষা ডেস্ক:
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে। ক্লাসরুম এডুকেশন দিতে হবে, ক্রিয়েটিভ এডুকেশন আনতে হবে। শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতেই হবে।
সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের শিক্ষকরা নিজের স্কুলে নিজের ছেলে-মেয়েকে পড়ান না, কতটা আত্মবিশ্বাস কম। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মানসিকতা। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেনো ওই প্রতিষ্ঠান বানাতে পারেন না – এই প্রশ্নটা আপনাকে করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তার মতো আপনারাও সার্ভিসটা দেবেন নাকি? আপনারা ইনহাউজ কোচিং করান। এখানে মোড় দেন টু হান্ট্রেড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান রয়েছেন। আপনারা ইনহাউজ কোচিং না করলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো করবেন। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসির সিলেবাস শেষ হয়েছে, তাদের ইনহাউজ কোচিং করান। তাহলেই রেজাল্ট বাড়বে। সবাই মিলে ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কতজন স্কুলের শিক্ষক আছেন এখানে যিনি নিজের স্কুলেই নিজের সন্তানকে পড়ান? নিজের স্কুলে নিজের ছেলে-মেয়েকে পড়ান না কতটা আত্মবিশ্বাস কম। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মানসিকতা। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেনো ওই প্রতিষ্ঠান বানাতে পারেন না – এই প্রশ্নটা আপনাকে করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছেন? আমি জানি না এভাবে আর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এভাবে সাধারণ জীবন-যাপন করেন কিনা। আপনারা দেখেছেন কিনা। তিনি চান একটি যোগ্য প্রজন্ম। নকল প্রতিরোধ কে করেছিলেন? মিলন নাকি আপনারা? আগামী প্রজন্ম তৈরি কে করেছিলেন। আপনারাই তো করেন। প্লিজ আপনাদের স্কুলে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ান। আপনি কি মনে মনে করেন না, আপনি যেগ্য?
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাতারাতি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। আমি নতুন পদ্ধতিতে গেলাম। আমি বললাম আগেই ট্রের্নিংয়ে যেতে হবে। আমাদের এতো হাজার শিক্ষকে ট্রের্নিং দেয়ার সক্ষমতা নেই। তাই আমি দুই মাস ট্রের্নিংয়ের ব্যবস্থা করলাম। এরপর তারা জয়েন করবেন।
মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। সেটা নিয়েও মামলা, আটকে দেয়। আরে কোথায় যাবো। যেইটা করি সেইটায় মামলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩০ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। আমার নিজেরও কয়েকটা মামলা রয়েছে। আদালত সুদৃষ্টি এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর। প্রতিটি মামলার জট খুলে যাবে। আমরা আস্তে-আস্ত শিক্ষক নিয়োগ শুরু করবো। এনটিআরসিএতে ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছেন। রংপুরের শিক্ষক কচুয়ায় চাকরি করছেন, কুমিল্লার শিক্ষক বরিশালে চাকরি করছেন, তারা সবাই বসে আছেন। যত শিগগির পারি ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করতে, আমরা এগুলো নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করছি।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি ২‘শ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এরমধ্য থেকে আমি আশাকরি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষদের টাকা দেবো। আমাদের শুরুটা করতে হবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
