দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

ROME, ITALY - JULY 20: Italian Prime Minister Giorgia Meloni, during the meeting with Portuguese Prime Minister Luís Montenegro (not picured) at Palazzo Chigi on July 20, 2026 in Rome, Italy. (Photo by Simona Granati - Corbis/Corbis via Getty Images)

প্রতিবেদন:

·

ইতালির ডানপন্থি সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার ইতালির প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান হয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত মেলোনির সরকার এ পর্যন্ত ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে তিনি ধনকুবের ও মিডিয়া ব্যবসায়ী সিলভিও বারলুসকোনির একটি রেকর্ড ভেঙেছেন। তবে বিভিন্ন সরকারের অধীনে মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি সময়—প্রায় নয় বছর—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এখনো বারলুসকোনির দখলে।

যুদ্ধের পর প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮০ বছরে ইতালিতে ৬৮টি সরকার গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি সরকার প্রায় ১৩ মাস করে ক্ষমতায় ছিল।

মেলোনির রেকর্ড উদযাপন

মেলোনি ও তার কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই) শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় পুগলিয়া অঞ্চলের বন্দরনগরী বারিতে এই রেকর্ড উদযাপনের আয়োজন করেছে।

প্রায় ৮০টি কোচে করে সমর্থকদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যায় সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মেলোনির।

উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানিও ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কার্যত ২০২৭ সালের ইতালির নির্বাচনের আগে এটি প্রচারণার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মেলোনি সরকার ও সমর্থকদের দাবি

মেলোনি সরকার দাবি করছে, চার বছরের শাসনামলে দেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১০ লাখ। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমেছে এবং ব্যক্তিগত আয়কর ২১০০ কোটি ইউরো (২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) কমানো হয়েছে।

অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে সরকার।

নব্য-ফ্যাসিবাদী শিকড় থাকা দলটির এই প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিশ্বমঞ্চে ইতালির প্রভাব বেড়েছে।

দেশের ভেতরেও একাধিকবার মেলোনির জাতীয়তাবাদী অবস্থানের প্রশংসা করা হয়েছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির শুরুতে অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্পের এই দাবির জবাবে মেলোনি বলেছিলেন, ‘ইতালি কারও কাছে অনুনয় করে না।’ তার এই মন্তব্যে অনেক ইতালীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

মেলোনির সমালোচকেরা

ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এবং তার নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকারকে সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, পরিসংখ্যান তুলে ধরলেও দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে।

তাদের তালিকায় রয়েছে দুর্বল উৎপাদনশীলতা, জনসংখ্যাগত সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াও বড় ধরনের সমালোচনার বিষয়।

মেলোনির সরকারের সমর্থনে আয়োজিত উদযাপনের আগে ইতালির CGIL ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মাউরিজিও লান্দিনি বলেন, ‘মজুরি কি বেড়েছে? না। পেট্রলের দাম বেড়েছে, চাকরির অনিশ্চয়তা বেড়েছে, মানুষ কম অবসরে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগের চেয়ে কম কার্যকরভাবে চলছে।’

বারিতে মেলোনির দলের সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধীরাও শহরের অন্য অংশে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করছে। আয়োজকেরা মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ও অস্ত্রের অর্থনীতি’ এবং ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ তৈরি করার অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের পরিবেশ উসকে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে, অন্যদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার অবস্থান থেকে সরে এসে মেলোনি অতিরিক্ত মধ্যপন্থি হয়ে উঠেছেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও এমন মত রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চি এমনই একজন। তার দল মেলোনির দলের চেয়েও আরও কট্টর ডানপন্থি। অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে ভান্নাচ্চি কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার দল মেলোনির জোটের দুই শরিক—অভিবাসনবিরোধী লিগ ও ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ