সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রার নদ-নদীতে একশ্রেণীর অসাধু চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নদী ও চরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক আহরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় কপোতাক্ষ নদ, শাকবাড়িয়া নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পাচার হচ্ছে এসব শামুক। ফলে সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য, প্রজনন ব্যবস্থা ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে কয়রা সদরের কপোতাক্ষ নদের গোবরা ও মদিনাবাদ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বোটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে তোলা হচ্ছে শামুক। আহরণকারীরা জানান, মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার ব্যবধানে এক একটি বোট থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার শামুক তোলা সম্ভব। সংগ্রহ করা এই শামুক সন্ধ্যায় গোবরা-মদিনাবাদ সড়ক দিয়ে গোপন আড়তের মাধ্যমে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুধু কয়রা নয়, পাশ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার পশুরতলা, কৈখালী, জয়াখালী ও শাকবাড়িয়া নদীর মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অবৈধ শামুক শিকার। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলেও চক্রটির দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।
এতে শামুক নদীর পানি পরিষ্কার ও চুন-ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে। অনিয়ন্ত্রিত আহরণে নদীর স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হচ্ছে। নদীর তলদেশের মাটির উর্বরতা ও জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। সংকট নিরসনে কেবল মাইকিং বা সাময়িক অভিযানে কাজ হচ্ছে না; পরিবহন ও বাজারজাতকরণের পুরো পথ বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর।
বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নদী থেকে শামুক আহরণ আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি বন বিভাগের অভিযানে বেশ কিছু শামুক উদ্ধার ও জব্দ করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং শামুকবোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছে।
বন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও নির্মল কুমার পাল জানান, জলজ পরিবেশ রক্ষায় এই অবৈধ অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শিগগিরই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান জোরদার করা হবে।