ময়মনসিংহ নগরে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ওই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

শুক্রবার নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসকের নাম আশিকুর রহমান। এ ঘটনায় শনিবার সদ্য বহিষ্কৃত মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিব নামের তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিকুর রহমান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তার চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। তার স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

আশিকুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তাকে, তার কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

শনিবার মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তালহাজুর চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে আশিকুর রহমান চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি (আশিকুর) সেগুলো করছেন—এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।