দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের শূন্যপদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত-ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হার্ডকপিসহ নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সর্বাধিক সমর্থনপ্রাপ্ত দলের নির্বাচনি ইশতেহার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। সেই আলোকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিধায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩-১৬তম গ্রেডের শূন্যপদে উল্লিখিতভাবে জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮-অনুযায়ী পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সব শূন্যপদে (১৩-১৬তম গ্রেড) জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারিসহ আবেদন গ্রহণ করা আছে কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান আরো শূন্যপদের ছাড়পত্র গ্রহণসহ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত আবেদনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে (মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা), সে সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫-অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রনাধীন বেশ কিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩তম গ্রেডের প্রধান সহকারী পদ রয়েছে। কিন্তু, নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮-অনুযায়ী এই পদগুলো ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে, বিধায়, ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী। উচ্চমান সহকারী, সমমান পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্যপদগুলোতে নিজ বেতনে, চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত-ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালকের কাছে হার্ডকপিসহ ই-মেইল-hrm@ld.dghs.gov.bd-এ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।